Archive for অক্টোবর, 2018


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

প্রচলিত সাংবিধানিক নিয়মে পাঁচ বছর ঘুরে আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলো। চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। সেই সঙ্গে জনমনে আবারও শঙ্কামৃত্যুর মিছিল এবং নির্বাচনী সহিংসতারও। সরকার, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল, অথবা নির্বাচনপন্থী কথিত বাম দলগুলোর প্রচারণায় মনে হতে পারে, যেন নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র! পাঁচ বছর পর পর ভোটগ্রহণ আর তাতে শাসক নির্ধারণের মানেই জনগণের গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র শ্রেণীনিরপেক্ষও নয়। নির্বাচন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বিষয়টি হলোআমরা কোন ব্যবস্থায় নির্বাচনের কথা বলছি! (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মণ্ডল

শুধু মাত্র বিজেপির চক্রান্ত হিসেবে দেখলে বা বাঙালি অসমীয়া হিন্দু মুসলিম আত্মপরিচয়ের নিরিখে দেখলে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অফ সিটিজেন্স বা এনআরসি সমস্যায় অবস্থান গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু চাপা পড়ে যায় গভীর সমস্যা। যার সমাধান সহজ নয়। তবে যারা যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মেহনতি জনতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাদের পক্ষে এটা খুবই জটিল এক সময়। কারণ এ ক্ষেত্রে লড়াইটা শোষক বনাম শোষিতের নয়, লড়াইটা শোষিত জনগণের নিজেদের মধ্যে। একদিকে অসমীয়া বোরো ও অন্যান্য আদিবাসীরা, অন্যদিকে রাষ্ট্রহীন হতে চলা লাখ লাখ মানুষ। দার্শনিক মাও সেতুঙ মনে করতেন যে, শোষিত জনগণের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শত্রুতামূলক নয়, কিন্তু সঠিক সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে এ দ্বন্দ্বের মীমাংসা না হলে তা শত্রুতামূলক দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। আর শোষিত মানুষের মধ্যে শত্রুতা শোষকের ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক হাসির জন্ম দেয়! (বিস্তারিত…)