Archive for ডিসেম্বর, 2015


আর কতজন আইলানকে মরতে হবে?

লিখেছেন: অজয় রায়

aylan-1তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে পড়ে রয়েছে সিরীয় শিশু আইলান কুর্দির নিথর দেহ। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে ধুয়ে দিচ্ছে তার মুখ। বাবামায়ের সঙ্গে ইউরোপের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় তিন বছরের ছোট্ট ছেলেটি। এই ছবি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এদিকে, ইউরোপের কোথাও সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া টপকানোর চেষ্টা করছেন শিশু কোলে ঘরছাড়া মা। আবার কোথাওবা শরণার্থীদের উপর লাঠি চালাচ্ছে পুলিশ। বইছে রক্তের স্রোত। অসহায় বাবামায়ের কোলে শিশু কেঁদে চলেছে। নিষ্ঠুর পৃথিবীর এই রকম সব ব্যাপারস্যাপার কিছুতেই সে বুঝে উঠতে পারছে না। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লাল সবুজ পতাকার গল্প

.

bird-of-freedom-liquid-abstract-art-fluid-painting-3সকল বাঁধার দেয়াল ডিঙিয়ে একটা স্বপ্ন বেড়ে উঠবার খবর যখন চাউর

তখন মগজ ফুটছিল কংসের

আর জন্তুগুলো নাচতে নাচতে ধেয়ে এলো ইস্পাত নলের আগুন ঝরিয়ে

আর অরক্ষিত গোলায় আগুন

আর জানোয়ারগুলো হয়ে উঠল জানোয়ার জানোয়ার (বিস্তারিত…)


সংঘ পরিবারের শিক্ষানীতি

লিখেছেন: নীলিম বোস

non-net-fellowship-protest-1ইতিহাস, শিল্পসংস্কৃতি, আমাদের সমগ্র সত্তাকেই নিজের ভাবনায় রাঙ্গিয়ে নেওয়াটা ফ্যাসিবাদের পুরনো কৌশল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেকার অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা এটা জেনে এসেছি। দেখে এসেছি। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে মিথ্যা অহংকার ও অলীক গৌরবের ভক্তিরসে ভাসিয়ে না দিলে ফ্যাসিবাদের পক্ষে তার অভিষ্ঠে পৌঁছানো কোনোদিনই সম্ভব নয়। আর সেটা যদি হয় ভারতের মতো দেশ তবে আরো প্রয়োজন হয়ে পড়ে এই কাজটা। কারণ এই দেশে আজো কমবেশি ৮০ শতাংশ মানুষ দিনে ২০ টাকার ওপর বেঁচে থাকেন, পুষ্টি সূচকক্ষুদা সূচকের মতো রাষ্ট্রপুঞ্জের মানব উন্নয়ন সূচকগুলিতে ভারত পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলির সমতূল্য অবস্থানে রয়েছে(কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্থানের পরে)। এরকম একটি দেশের মানুষদের সামনে রাতারাতি ‘আচ্ছে দিন’ নিয়ে আসার বা দেশটাকে ‘সুপার পাওয়ার’এ পরিনত করার খুড়োর কলটি দিয়ে আকৃষ্ট করতে গেলে ফ্যাসিষ্ট শাসকের কাল্পনিক ও অবাস্তব উজ্বলতার অতিতের রঙে আমাদের চারপাসকে ঢেকে দেওয়াটা খুবই দরকার। ফ্যাসিষ্ট সংঘ পরিবারের কাছে গৈরিকীকরণ হলো সেই দরকারকেই পূরণ করার একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই বিজ্ঞান কংগ্রেস থেকে ইতিহাস সংসদ, গৈরিকীকরণের সুনামী আছড়ে পড়ছে বারবার। তবে গৈরিকীকরণের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটি অবশ্যই শিক্ষাক্ষেত্র। হিটলার একসময় বলেছিলেন Let me control the school text books, 3rd reich will rule for the next 20 years without any internal threat.” ঠিক এই কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রটি সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র গৈরিকীকরণের। এই গৈরিকীকরণ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক মধ্যযুগীয় উল্লাসের মধ্যে। যার থেকে ফুটে বেরোয় সামন্ততান্ত্রিকতা। আর ঐ মধ্যযুগীয় উল্লাসের পেছেনেই থাকে শিক্ষার বেসরকারিকরণের চাল। কারণ ফ্যাসিবাদ মানেই রাষ্ট্রের সাথে কর্পোরেশনের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’। আর বেসরকারিকরণ ছাড়া বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির মুনাফা বৃদ্ধির রাস্তা বন্ধ। তাই শিক্ষার বেসরকারিকরণ চলে গৈরিকীকরণের সাথে হাতে হাত ধরে। (বিস্তারিত…)