Archive for ডিসেম্বর, 2011

যৌথ ঘোষণা :: “কমিউনিস্টদের ঐক্যের জন্য দরকার সংশোধনবাদ ও মধ্যপন্থাকে পরাজিত করা”

Posted: ডিসেম্বর 26, 2011 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

যৌথ ঘোষণা

কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য দরকার হচ্ছে সংশোধনবাদ ও মধ্যপন্থাকে পরাজিত করা!

দুনিয়ায় স্বতস্ফূর্ত শ্রেণীসংগ্রামের জাগরণ উন্মোচন করে দিয়েছে নেপালে প্রচণ্ডবাদী সংশোধনবাদের আত্মসমর্পণবাদী বিশ্বাসঘাতকতা আর বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন, রিমএর নেতৃত্বকারী ভূমিকার অবলুপ্তি।

এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) [সিপিএন (এম)] রিমের সদস্য হয়েও মাওবাদী নামে মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে পুরোনো প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার কর্মকে বর্জন করার সংশোধনবাদী প্লাটফরম আঁকড়ে ধরে, গণযুদ্ধকে বর্জন করে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণকে নিরস্ত্র করে, ইতিমধ্যে জয় করা গণক্ষমতার ঘাঁটিগুলোকে ভেঙে দিয়ে এবং তার নিজ গণমুক্তি বাহিনীকে শোষকদের প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীতে বিলীন করে এবং চুড়ান্ততঃ সংশোধনবাদী মশাল পার্টির সাথে একীকৃত নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) [ইউসিপিএন (এম)]-তে একীভূত হয়ে এবং অন্য সকল সুবিধাবাদী পার্টিসমূহের সাথে আপোষে এসেছে ভূস্বামী, বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদের শ্রেণী একনায়কত্বকে রক্ষা করতে এবং জনগণের ওপর এদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে।

একইভাবে, এটাও স্বতঃপ্রমাণিত যে, সিপিএন(এম)-এর সংশোধনবাদ ও বিশ্বাসঘাতকতার সামনে নীরব থেকে রিম কমিটি আন্তর্জাতিক নেতৃত্বকারী কেন্দ্রের ভূমিকা থেকে বাস্তবে অব্যাহতি নিয়ে রিমের সম্মানকে ক্ষুন্ন করেছে। রিমের ভেতরে সুবিধাবাদী ধারাগুলোকে সহাবস্থানের অনুমতি দিয়ে, লাইনগত সংগ্রামকে বেঠিক উপায়ে বিধি নিষেধের বেড়াজালে আঁটকে, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন (আইসিএম) ও বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণীর কাছে আলোচনাসমূহকে গোপন করে সে বিশ্ববিপ্লব ও কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের বড় ক্ষতি করেছে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: রাজীব নন্দী

পাঠক, ‘যৌবনদীপ্ত’ শব্দটি খেয়াল করেছেন?

ভালো করে খেয়াল করে দেখুনশব্দের ঠিক মাঝে লুকিয়ে আছে একটি চঞ্চল শব্দনদী!

বাংলাদেশের নদী তার যৌবনদীপ্ত স্বভাব হারাচ্ছে। আমি বিগতযৌবনা ‘তিতাস’। আমি মরা নদীর সর্বশেষ নমুনা।

বাংলার সকল কোলাহলজুড়ে লেপ্টে থাকা নামটি কী? বলতে দ্বিধা নাই তার নাম ‘নদী’। নিজের খেয়ালে হুড়মুড় ছুটে চলার মুহূর্তে হঠাৎই থমকে তাকিয়ে থাকি। আমি তিতাস। আমার সপির্ল গতি, ছলো ছলো ফেনিল জল, কুলু কুলু ধ্বনি আজ লগ আউট হওয়ার দশা। শুনতে যদি ভীষণ ইচ্ছা, তবে শোন এই মরা নদীর কাহিনী।

তিতাস একটি খুন হয়ে যাওয়া নদীর নাম! ছবি: নিলয় দাশ

ওহে মানুষ! তোমরা প্রকৃতির মানসপুত্র, তোমাদের শাসকের চোখে আমি কেবলই নদী নই, নই দুরন্ত জল। আমি ভারতকে সড়ক সুবিধা দেয়ার একমাত্র মাধ্যমও। সমুদ্রের মহাসংগীতের মূর্চ্ছনায় আমার অভিযাত্রা থমকে গিয়ে আমি ভারতকে দিলাম আমার সবটুকু।

কি জানি কোন খেয়ালে এক প্রবাসীপাগল কবি দেশে ফেলে আসা নদীকে স্মরে কলম ধরেছিলেন

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদদলে,

কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণামিটে কার জলে”

আজকের কোন বঙ্গীয় কবি প্রবাসে মন মজে এমন স্নেহের তৃষ্ণা স্মরে বিহ্বল হবেন না। অন্তত আমার মতো মরা তিতাসকে নিয়ে তো নয়ই।

কোথাকার কোন রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন

মানুষের কত কীর্তি, কত নদী, গিরি, সিন্ধু, মরু

কতনা অজানা জীব, কতনা অপরিচি তরু’। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

[কমরেড কিরণ, ভাইস চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় কমিটি, ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (মাওবাদী); সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন পার্টির ভেতরে চলমান ২ লাইনের সংগ্রাম, নতুন সংবিধান রচনা, নেপালী কংগ্রেসের মতো প্রতিক্রিয়াশীল সংসদীয় দল এবং সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ প্রসঙ্গে।]

প্রশ্ন: গত দুই বছর যাবৎ জাতীয় সংবিধান রচনা এবং নেপালি কংগ্রেসের মতো ডানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীলদেরবাধার অভিজ্ঞতা; অতীতের ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতে আপনি একে কিভাবে বর্ণনা করবেন?

কমরেড কিরণ

কমরেড কিরণ: গণপরিষদে আমাদের গত দুই বছর এবং নেপালি কংগ্রেস সহ সংসদের অন্যান্য দলগুলোর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই জটিল ও তিক্ত। এই পুরো প্রক্রিয়ায়দুটি পরস্পর বিপরীত ধারার তীব্র মতাদর্শগত সংগ্রাম বিদ্যমান ছিল: পিএলএকে একটি সম্মানিত, গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে একীভূত করে একটি নতুন জাতীয় সেনাবাহিনী গঠিত হবে, নাকি তাদের নিরস্ত্র করে আত্মসমর্পণ করানো হবে; গণমানুষের সংবিধান কি সামন্তবাদ বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হবে, নাকি সামাজিক পদমর্যাদা অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক সংবিধান রচিত হবে। এই সংগ্রামে আমাদের পার্টি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই ভাবে বিভিন্ন সমঝোতা ও চুক্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি গুরুতর দুই লাইন সংগ্রাম সংঘটিত হচ্ছে।

প্রশ্ন: ভারতে আপনাদের বন্ধু, ভারতীয় মাওবাদীরা তৎকালীন বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পরাস্ত না করেই আপনাদের সংসদীয় পথে হাঁটার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আপনার পার্টি বুর্জোয়া রাষ্ট্রের বিধানসভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র যন্ত্রকে পুনর্বিন্যাস করতে চেয়েছে। অতীতচারণপূর্বক আপনি তা কিভাবে দেখেন?

কমরেড কিরণ: আমাদের দল পুরনো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে একটি নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনযুদ্ধ শুরু ও তা পরিচালনা করেছে। তা সত্ত্বেও এই কাজ পূর্ণ না করে আমরা আপস করেছি এবং রাষ্ট্র পূনর্গঠনকারী এক নীতি গ্রহণ করেছি। আমরা একে আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং বাধ্যবাধকতা হিসেবে মেনে নিয়েছি। ভারতীয় মাওবাদীদের আমাদের দল সম্পর্কে সংশয়ী হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আগামীদিনে আমাদের দলের অনুশীলনের মাধ্যমেই ভারতীয় কমরেডগণের সন্দেহের প্রাসঙ্গিকতা বা ন্যায্যতা সম্পর্কে সঠিক উত্তর দিতে হবে(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

প্রসঙ্গঃ সারা বাংলা ছাত্র সংসদ

১৯৯১ সাল থেকে ভারতে গ্লোবালাইজেশনের হাওয়া বইতে থাকায় আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় আরো দ্রুতগামী হয়েছে। গত দশকের মাঝামাঝি থেকে এই হাওয়া ঝড়ে পরিণত হয়। কর্মী সংকোচন, বেসরকারীকরণ, গণহত্যাসহ গ্লোবালাইজেশনের একাধিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে ‘মরূদ্যান’ বাংলায়। আক্রমণ যত তীব্র হয়েছে, জনগণ তত বেশি করে আন্দোলনে নেমেছে, ঘটে গেছে একের পর এক গণআন্দোলন। ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই সময়টাকে গণসংগ্রামের পূনর্জাগরণ বলা যেতে পারে।

সিঙ্গুর থেকে শুরু, তারপর নন্দীগ্রাম, ভাঙ্গরসহ একাধিক জায়গায় জমি বাঁচাবার আন্দোলন, কালোবাজারির বিরুদ্ধে আন্দোলন, পরবর্তীকালে আত্মমর্যাদা, বিকল্প উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর আন্দোলনলালগড় আন্দোলন গড়ে উঠে। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল ছাত্ররা। জনগণ ‘নেতা’দের থেকে ছাত্রদের বেশি বিশ্বাস করে। তাই ২০১১ এর আগে বাম ফ্রন্ট সরকার গরীব, নিপীড়িত মানুষের আন্দোলনকে নারকীয়ভাবে দমন করার সাথে সাথে নিপীড়িত গণমানুষের আন্দোলনের সমর্থক, প্রচারক ছাত্রদের উপর একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, আক্রমণ করেছে। আর এই হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্ররা বারবার কলকাতার রাজপথে নেমেছে, পুলিশের সন্ত্রাস তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ফাঁস করেছে একের পর এক সরকার ও রাষ্ট্রীয় দালাল মিডিয়ার অপপ্রচার। এর জন্য তারা গ্রেপ্তার হয়েছে, মার খেয়েছে ভাড়াটে গুন্ডাদের হাতে।

কিন্তু ২০১১ এর পর বাম ফ্রন্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতার সরকারের সময়ও অবস্থার কোন পরিবর্তন হলনা। বাম ফ্রন্ট আমলের মতই এই সরকারের সময়েও ছাত্ররা পথে নেমেছে ভোটের প্রতিশ্রুতিমত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, নিজের দেশের জনগণের উপর সামরিক অভিযান বন্ধের দাবী, সিঙ্গুর এ জমি ফেরত এর দাবী, পুলিশের সন্ত্রাস বা বিশ্ববিদ্যলয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ জানাতে। পুরনো বাম ফ্রন্ট আমলের মতো এ আমলেও ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আর গ্লোবালাইজেশনের নীতিগুলোকে বিনা বাধায় প্রয়োগ করতে গেলে আগে ছাত্রদের মুখ বন্ধ করা প্রয়োজন; তাই শুরু হয়ে গেল হুমকি দেয়া। এবার একেবারে সংগঠনপ্রতিষ্ঠানের নাম ধরে ধরে মূখ্যমন্ত্রী হুমকি দিলেন ছাত্র সংগঠনগুলোকে, সেই সাথে অধ্যাপকদের। ‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে মাওবাদী যোগাযোগ’, ‘মাওবাদীদের সাহায্য’ ছাড়াও মেয়েদের ‘ইজ্জত, অপহরণ’, ‘পুরুলিয়ার হোটেলে শুধুমাত্র খেয়ে এক লাখ টাকা বিল!!!’, অপহরণ, খুন সহ একাধিক কিছু সুলভ মিথ্যা অভিযোগ আনেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল মোস্তফা

দ্বিখন্ডিত তিতাস- ছবি: নিলয় দাশ

নিজ চোখেই দেখে এলাম নদীর উপর দিয়ে অভিনব ডিজিটাল রাস্তা। এখন থেকে নদীর উপর ব্রিজ আর খালের উপর কালভার্ট নির্মাণের কোন দরকার নেই। পদ্মা সেতু’র আলাপ বাদ। কারণ সহজ বুদ্ধি পাওয়া গেছেনদী কিংবা খালের উপর ইট, বালু, সিমেন্টের বস্তা ফেলে পানি চলাচলের জন্য নীচে কয়েকটা কংক্রীটের পাইপ বসিয়ে দিলেই হলো, কয়েকশো টনি লরি চলাচল শুরু করে দেয়া যায়। তাতে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধা পেলে, স্রোত থেমে গেলে, দুই পাশের পানির উচ্চতার তারতম্য হলে অথবা মৎস কিংবা নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কিছু যায় আসে না বরং “বন্ধুত্ব” রক্ষা হয়। এইভাবেই আশুগঞ্জ থেকে আখাউরা পর্যন্ত রাস্তার নির্মিত সেতু ও কালভার্টের নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদী ও তার খালগুলোর উপর দিয়ে বাইপাস রাস্তা তৈরী করে আগ্রাসী প্রতিবেশী ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ নদীর বুকের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে, যতই রাস্তার নীচ দিয়ে কংক্রীটের পাইপ বসানো হউক, নদী আর “একটি নদী” থাকেনা, “দুইটি খাল” হয়ে যায়, নদী মরে যায়, খাল মরে যায়। এমনিতেই আধমরা তিতাস এই রাস্তাগুলোর ফাঁসে তার খালগুলোসহ একেবারে খুন হয়ে গেছে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের প্রিয় তিতাস এখন একটি খুন হয়ে যাওয়া নদীর নাম, ভারতকে ট্রানজিট দিতে গিয়ে বাংলাদেশের নতজানু শাসকশ্রেণী তাকে খুন করেছে। দুনিয়ার আর কোন দেশের শাসক শ্রেণী এইভাবে নিজ দেশের নদীখালের মাঝখান দিয়ে বাধ নির্মাণ করে আরেক দেশের মালামাল পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে বলে আমাদের জানা নাই, যেটা বাংলাদেশের নতজানু শাসকশ্রেণী ভারতের মালামাল পরিবহনের জন্য করেছে! (বিস্তারিত…)


The sudden death of the General Secretary of the Workers Party of Korea, the President of the Democratic People’s Republic of Korea, the Chairman of the National Defense Commission and Supreme Commander of the Korean People’s Army has stunned us. At this distressing moment we, on behalf of the whole party ranks and the entire oppressed Nepalese people, express our heartfelt condolence to the Workers Party of Korea and the entire Korean people. We believe the Workers party of Korea will be able to go along the path that President Kim Jong Il had charted for the prosperity and national sovereignty of the Korean People and as well develop and strengthen further the deep relations established under his leadership with the oppressed nations and people of the world.

Badal

General Secretary

Unified CPN (Maoist)

Kiran

Vice Chairman

Unified CPN (Maoist)

(Courtesy: The Next Front)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

গত ১৬ ডিসেম্বর বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষার্থী সুরমার শাখানদী চেঙ্গেরখালে নৌকাভ্রমনে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়লে সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রদ্বয় দীপঙ্কর ঘোষ অনিক ও খায়রুল কবীর নিহত হন, যাদের লাশ পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শনিবার সকালে চেঙ্গেরখাল থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশ গ্রহণ করার সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়ের অবিস্মরনীয় বানী ‘ডুবুরীর কোন দরকার নেই, মরা বাহাত্তর ঘন্টার পর এমনিতেই ভেসে উঠবে!!!’ এবং সহকারী প্রক্টর ফারুক উদ্দীনের লাশের সামনে সিগারেট ধরানো এবং পরবর্তীতে সাধারণ ছাত্রদের ‘রাজনীতি বিমুখতা’কে কাজে লাগিয়ে শাসকসশ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ছাত্র সংগঠনটির বিষয়টিকে ঘিরে আন্দোলনকে ‘অরাজনৈতিক’ মোড়কে দেখিয়ে স্তিমিত করার দূরভিসন্ধীর বিষয়টি নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা জরুরী ঠেকেছে,বিধায় তা নিয়ে লিখতে বসলাম।

অনিক ও খায়রুল'এর নিথর দেহ

এ কথা অনস্বীকার্য যে যেকোন ইস্যুতেই গনআন্দোলন কখনোই ‘অরাজনৈতিক’ হতে পারেনা, তা সম্ভবও নয়, কেননা আন্দোলনের প্রতিটা ইস্যুই স্পষ্টত বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর আওতায় এবং যেই ক্ষমতা বিদ্যমান শাসকশ্রেণীর কুক্ষীগত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবলীলায় হত্যার বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করলে তা অবশ্যই ‘অরাজনৈতিক’ হওয়া আরো সম্ভব নয়। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হত্যার বিষয়টিকে ‘অরাজনৈতিক’ হিসাবে দেখতে শিখলে কিংবা সেভাবে ধরে নিলে প্রকৃতপক্ষে অবলীলায় শিক্ষার্থীদের হত্যার বিষয়টিকেই অনুমোদন করা হয়। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের যেই তিন দফা দাবী ছিলো সেগুলা হলো:

১। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

২। লাশের প্রতি অবমাননার দরুন ফারুক স্যারকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৩। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। (বিস্তারিত…)


আমরা এখন কি করছি এবং কি করতে চাই

মোঃ শাহীন

[নোটঃ লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন কর্তৃক প্রকাশিত পার্টির মতাদর্শগত তাত্ত্বিক মুখপত্র লালঝাণ্ডার তৃতীয় প্রকাশ, সংখ্যা, আগস্ট ২০০০ সংখ্যায় এবং পাঠ্যসূচি২ এ। – সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি।]

আমরা এখন বিপ্লবী শ্রেণী সংগ্রামের উচ্চতম রূপ বিপ্লবীযুদ্ধের অনুশীলন করছি। যার অর্থ হচ্ছে আমরা এখন সর্বহারা সহিংস বিপ্লবে নিয়োজিত রয়েছি। এক্ষেত্রে আমাদের লাইন হচ্ছে শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার লাইন। এর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা পূর্ববাংলার নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই।

আমাদের লাইন ও তার অনুশীলন অর্থাৎ সংগ্রাম, দুটো পরস্পর বিপরীত দিকের একত্ব দ্বারা গঠিত।

এর একটি দিক হচ্ছে, শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে পার্টির মধ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার জন্য, এবং এই রাজনীতিকে দেশব্যাপী সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে বাস্তবায়নের নেতৃত্ব প্রদানে পার্টিকে সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের পার্টিসংগঠনের মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা ও বিকশিত করার লাইন ও সংগ্রাম।

এর আরেকটি দিক হচ্ছে, শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার প্রদর্শিত মাওবাদী বিপ্লবীযুদ্ধের রাজনীতিকে দেশব্যাপী পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত করার জন্য পার্টির নেতৃত্বে সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে প্রচেষ্টা চালানোর লাইন ও সংগ্রাম। যার অর্থ হচ্ছে প্রধানত বিপ্লবীযুদ্ধের সংগ্রাম ও বিপ্লবীযুদ্ধের সংগঠন তথা বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করার লাইন ও অনুশীলন।

আমাদের লাইন ও অনুশীলনের বৈপরীত্যের একত্বের মধ্যে এখন প্রধান দিক হচ্ছে পার্টিসংগঠনের মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা ও বিকশিত করা। এবং অপ্রধান দিক হচ্ছে দেশব্যাপী পার্টির নেতৃত্বে সংগ্রামিকসাংগঠনিকভাবে বিপ্লবীযুদ্ধ ও বিপ্লবী বাহিনীকে পুনরায় গড়ে তোলা ও তাকে বিকশিত করা।

আমাদের লাইন ও অনুশীলনের বিকাশের প্রক্রিয়াতে পরবর্তীকালে আজকের প্রধান দিকটি পরিবর্তিত হবে অপ্রধান দিকে এবং আজকের অপ্রধান দিকটি পরিবর্তিত হবে প্রধান দিকে। (বিস্তারিত…)


মূল লেখা: বার্নার্ড ডি’মেলো

অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

কিষানজী লড়েছিলেন একটা উন্নত পৃথিবীর জন্য

একটি সাজানো এনকাউন্টার, যেখানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) [সিপিআইমাওবাদী]’এর পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ‘কিষানজী’কে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে, পশ্চিমবঙ্গঝাড়খন্ড সীমান্ত থেকে ১০ কিমি দূরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়; সেই হত্যাকাণ্ডকে “সাচ্চা এনকাউন্টার” দেখানোর জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (যিনি পশ্চিমবঙ্গের গৃহমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বেও নিয়োজিত), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব আর.কে. সিংহ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থরা উঠে পড়ে লেগেছেন। প্রধান প্রধান গণমাধ্যম সমূহ সাংবাদিকতা পেশা শিকেয় উঠিয়ে সরকারী অসত্যতার সঙ্গে ধর্ম বিশ্বাসে তাদের দুষ্কর্মে সহায়তা দিচ্ছে উন্মুক্তভাবে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে তাঁর মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি এখনো অজানা রয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০১১ তারিখে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র ‘অভয়’ কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আটক করার পর কিষানজীকে হত্যা করা হয়।”

নৃশংসতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের চিত্র

বিপ্লবী তেলেগু কবি ভারাভারা রাও ‘কিষানজী’কে তাঁর জন্মস্থান অন্ধ্রের করিমনগর জেলার পেদ্দাপল্লী গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘কিষানজী’র ভাইজীর সাথে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন; তিনি বলেন: “গত ৪৩ বছরে আমি তথাকথিত এনকাউন্টারের নামে অনেক নিহতের মরদেহ প্রত্যক্ষ করেছি, কিন্তু এর মতন একটিও ছিল নাশরীরের এমন একটি জায়গা বাদ নেই, যেখানে ক্ষত ছিল না।” পোস্টমর্টেমের পূর্বে কিষানজীর মরদেহ প্রত্যক্ষ করা সিআরডিও (কোঅর্ডিনেশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস অর্গানাইজেশন)’এর কর্মীদের ভাষ্য মতে, “মাথার পিছনদিকের মস্তকের অংশ এবং মস্তিষ্ক ছিল না; ডান চোখ অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে এসেছিল; নিচের চোয়াল বলতে কিছু অবশিষ্ট ছিল না; মুখমণ্ডলে চারটি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল; গলায় ছুরি চালানোর চিহ্ন সুস্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয়; হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং কাঁধের নিচে ২টি গুলির ক্ষত দেখা যায়; বাম হাতের তর্জনীর একতৃতীয়াংশ উপড়ে ফেলা হয়; লক্ষ্য করা যায় কতগুলো গুলি ফুসফুস ভেদ করে চলে যায়; ডান হাঁটুতে গভীর ক্ষত করা হয়; বামপায়ের পাতা ছিল সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ; শরীরের সামনের দিকে ৩০টিরও বেশী ব্যায়োনটের আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। যখন গুলি, ছুরিকাঘাত, পুড়ে যাওয়ার মতো অসংখ্য ক্ষত কিষানজীর সারা শরীরে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে (!) তার পরিধেয় শার্টপ্যান্টে ক্ষত স্থানের অংশে কোন দাগ লাগেনি।” (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনও ‘কিষানজী’র আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি)

উপড়ে ফেলা আঙ্গুল

(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ফেরারী সুদ্বীপ্ত

আমরা শুরু করতে পারি জহির রায়হানের “হাজার বছর ধরে” উপন্যাস দিয়ে। উপন্যাসের একটি চরিত্র আবুল যে তার বউ হালিমাকে পিটিয়ে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করত। বউ পেটানোর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট অজুহাত আবুলের দরকার হত না, শুধু রশীদের বউ যদি একবার কানে কানে গিয়ে বলত যে হালিমাকে সে পরপুরুষের সাথে হাসাহাসি করতে দেখেছে অমনি মাথায় রক্ত উঠে যেত আবুলের। উপন্যাসে আমরা দেখি অবশেষে মৃত্যুই হালিমাকে আবুল নামক পিশাচের হাত থেকে চিরমুক্তি দেয়। উপন্যাসটি আবহমান গ্রাম বাংলার প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপনের একটি বিশ্বস্ত চিত্র।

উপন্যাসের পাতা থেকে প্রসংগত আমরা এবার চোখটা রাখি সমকালের আয়নায়, রুমানা মঞ্জুর নামে একজন নারীর দিকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই পরিচয়টা আমার কাছে মূখ্য নয়। তিনি একজন আটপৌরে গৃহবধু যিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন, সন্তানের মা হয়েছেন, এবং অশিক্ষিত আবুলের মত তার স্বামী সাঈদ তাকে কারণে–অকারণে প্রহার করতেন। তার নির্মম সৌভাগ্য হালিমার মত তাকে মরতে হয়নি, তবে চিরতরে হারিয়েছেন দুটি চোখ। আবুলের মত সেই দিন সাঈদেরও মাথায় এসেছিল তার বউ পরকীয়ায় লিপ্ত।

এই আমাদের দেশ, যেখানে শিক্ষিতঅশিক্ষিত, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে পিএইচডি ধারী গবেষক, আমলা থেকে ব্যবসায়ী প্রত্যেকে নিজের স্ত্রীর উপর ষোল আনা কতৃত্ব বজায় রাখার জন্য সদা উদগ্রীব।এই একটা জায়গায় গিয়ে শিক্ষিত সাঈদ আর অশিক্ষিত আবুল তার শ্রেণী ব্যবধান ঘুচিয়ে এক কাতারে সামিল হয়। নিজের পুরুষতান্ত্রিক ইগোটাকে রক্ষা করার জন্য বউয়ের সাথে কুকুর বেড়ালের মত ব্যবহার করতে হবে, কারণেঅকারণে বউয়ের উপর হাত তুলতে হবে, সবসময় হুংকার মেরে বুঝিয়ে দিতে হবে আমি তোমার স্বামী। আমাদের শিক্ষিত সমাজ থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ স্ত্রীর কাছে সামন্তাতান্ত্রিক প্রভু সেজে বসে থাকতে একধরনের মর্ষকামিতার সুখ লাভ করে। (বিস্তারিত…)