Archive for নভেম্বর, 2011


লিখেছেন: ফেরারী সুদ্বীপ্ত

দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১১” বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। খবরটা শুনে অনেকেই উৎফুল্লিত হয়েছেন বিশেষ করে দেয়ালের মালিকরা, কারণ বাড়ির সীমানা প্রাচীরের গায়ে লাল বা কালো হরফে কোন নেতা নেত্রীর অন্ধ স্তবগান আর লিখিত হবে না। অমুক গ্রুপের তমুক গুণ্ডামাস্তানদের মুক্তি চেয়ে আর কেউ সৌন্দর্য বর্ধনকারী সফেদ দেয়াল কলুষিত করবে না। দেয়ালের রক্ষণাবেক্ষণকারী আনন্দে বগল বাজাবেন, কারণ শাস্তির ভয়ে আর কেউ রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি দেয়াল লিখবে না, কেউ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দেয়ালে নেতানেত্রীর স্তব শ্লোক রচনা করবে না। পরিচ্ছন্ন শহরের বিশাল অট্টালিকার সৌন্দর্যের দ্যুতি ম্লান করে দেওয়ার দুঃসাহস আর কারো রইল না। আর কষ্ট করে মালিককে আবার লিখতে হবে না “দেয়ালে পোস্টার আর চিকা মারা নিষেধ”। দারোয়ানরা দিব্যি আরামে ঘুমাতে পারবেন আর কতিপয় নিশাচর দেয়াল লিখনকারীর হাত থেকে দেয়ালটা এবার রাষ্ট্রের আইনই রক্ষা করবে। সর্বোপরি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন । কারণ দেয়াল লিখন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ছাত্রনেতাদের কাছে শো কজ নোটিশ পাঠাতে পাঠাতে তারা ক্লান্ত।

বলা হয় মানুষ দেয়াল বানায় তার আত্মরক্ষার জন্য। এটি তার আত্মগৌরবের নিদর্শন, মানুষের চিরায়ত ইপ্সিত ব্যাক্তিগত সম্পত্তির সীমারেখা নির্দেশকারী, পারস্পারিক অবিশ্বাস আর শত্রুতার প্রতীক, ভেদাভেদের নির্ণায়ক, হয়তো বা তার নিজের বলয়ে নিজে বন্দী হওয়ার এক উদ্ভট বাসনা। ব্যক্তি বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আর রাষ্ট্র তৈরি করে সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে কাঁটাতারের বেড়া। এটি সফেদ দেয়াল নয়, এখানে লেখা যায় না, তবে কেউ অযাচিত ভাবে প্রবেশ করতে চাইলে রক্ত দিয়ে লিখতে হয় অক্ষরহীন ভাষাহীন অদৃশ্য নির্মম মৃত্যুগাথা। (বিস্তারিত…)


বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ

তারিখঃ২৯১১২০১১

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিপিআই-(মাওইস্ট) এর কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য কমরেড কোটেশ্বর রাও কিষেণজিকে ঠান্ডা মাথায় ও নৃসংশভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

ভারত রাষ্ট্র কর্তৃক সাজানো ‘এনকাউন্টার’এ মহান মাওবাদী নেতা, শহীদ কমরেড কোটেশ্বর রাও কিষেণজিকে ঠান্ডা মাথায় ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ২৯১১২০১১ তারিখ, মঙ্গলবার, সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে ঘরোয়াভাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সভাপতি শিপন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইফতেখারুল ইসলাম শিপলু, সম্মানিত সদস্য রফি আহমেদ চঞ্চল, দপ্তর সম্পাদক আবু সুফিয়ান বক্‌সী, শিক্ষাগবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শিহাব ইশতিয়াক সৈকত প্রমুখ। বক্তারা বলেনসকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মুক্তির জন্য, জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কমরেড কিষেণজি হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। সেই সাথে বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন মানুষকে। কিন্তু শীর্ষনেতাদের মধ্যে কমরেড আজাদ, কমরেড মাহাতো’র পর তিনিও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের স্বীকার হলেন। মৃত্যুর পূর্বে আটকাবস্থায় তাঁর উপর নির্যাতন চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। সেই সাথে বক্তারাএই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্রজনসাধারণকে স্বোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

বার্তা প্রেরক

দপ্তর সম্পাদক


লিখেছেন: মনজুরুল হক

ঠান্ডা লড়াই শেষ। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছে। দরকষাকষির শেষ সুযোগটাও হাতছাড়া হয়েছে। ভালোমন্দ মিলিয়ে বিশ্বের একক পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ, শুধু যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়ে বিশ্ব নতুন এক তথাকথিত মুক্ত বিশ্ব পেয়েছে তাই নয়, সেই সাথে বিশ্বের সকল বিষয়ে খবরদারি আর শাসনশোষনের একক ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হয়েছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মৃতপ্রায় পুঁজির অতিকায় ম্যামথ নতুন করে জন্ম নিয়ে বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের যে অন্যতম আকাঙ্খা আর অভিলাষ ছিল সমাজতন্ত্রের মৃত্যু কামনা এবং সমাতান্ত্রিক বিশ্বের পতন, সেই মৃত্যু বা পতন ত্বরান্বিত করতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করত। সোভিয়েতের পতনের পর এখন সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলনসংগ্রামকে ধূলিস্মাৎ করতে, পদদলিত করতে। ‘চিরকালের শত্রু’ সোভিয়েতের পতনের পর বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েও যখন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে আর কখনোই সমাজতন্ত্রের ‘ভূত’ জেগে উঠবে না. তখন সাম্রাজ্যবাদ নতুন এক ‘খেলা’ আবিষ্কার করে! এই খেলার নাম ‘গণতন্ত্র রপ্তানি’।

কোনো দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই সে বিচারের চেয়েও সাম্রাজ্যবাদের কাছে জরুরী হচ্ছে সেই দেশে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে কিনা? সেই অঙ্কুরিত বীজ চারা হয়ে বেড়ে উঠছে কিনা? সেই চারা মহীরূহ হয়ে উঠছে কিনা? এই সূত্রমতে তারা যেখানেই অমন বীজের অঙ্কুরোদগম দেখেছে, সেখানেই হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যেহেতু বিশ্ব এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে করদবিশ্ব, তাই কাউকে বলেকয়ে কিংবা ছলাকলার আশ্রয়টুকুরও দরকার পড়ছে না। সোজাসাপ্টা কথা; যাকেই বিপজ্জনক মনে হবে তাকেই তুলে এনে হত্যা করা। কোনো ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই। স্রেফ মার্কিন সাম্রজ্যবাদের পাচাটা তাবেদার হও, নইলে মৃত্যু। এমন এককেন্দ্রেীক বিশ্ব চরাচরে কমিউনিজম তো দূরের কথা, কোথাও গণতন্ত্র কার্যক করতে চাইলেই মৃত্যু। নির্ঘাৎ অপমানজনক মৃত্যু। এই ‘সূত্রমতে’ যে সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বেঁচে থাকছেন, তারা তাদের আয়ু নিয়ে বাঁচছেন না। বেঁচে আছেন শুধু মাত্র দাসত্বের উপহার হিসেবে! ধরে নেয়া যায় বিশ্বের ছোটবড় প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কোনো না কোনো অর্থে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালী করছে। কেননা হিসেবটা সোজা। হয় দালালী করো, নইলে মৃত্যুবরণ করো। এর মাঝামাঝি যা আছে তার নাম সমঝে চলা। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা তাই করছে। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

প্রাককথন

কমরেড কিষানজী

সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ, ওরফে বিমল, ওরফে রামজী, ওরফে ‘কিষানজী’ ()। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক শোকের দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্তা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াইসংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড….. (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সত্যজিত দত্ত পুরকায়স্থ

বাংলাদেশ, এই নামটির বিবর্তন সম্পর্কে সম্রাট আকবরের সভারত্ন আবুল ফজলের মতে “বঙ্গ” শব্দের সাথে “আল” যুক্ত হয়ে এই দেশের নাম হয়েছে বাঙ্গাল বা বাঙ্গালা, আজকের বাংলা বা বাংলাদেশ। কিন্তু এই আল শব্দের অর্থ কি? এদেশে আছে ক্ষেতের পর ক্ষেত, তাই এক ক্ষেত যাতে আরেক ক্ষেতের সাথে মিশে না যায় তার জন্য জমির চার পাশে থাকে আল। আল বলতে বাঁধ কেও বুঝায়। এদেশ বৃষ্টিবর্ষাবন্যার দেশ, তাই এখানে দরকার হতো অসংখ্য বাধের। এই অগনিত বাধের কারণেই এদেশের নাম হয়েছে বাঙ্গাল বা বাঙ্গালা। আর এখন সারা দেশে আলোচনার বিষয়ও কাকতালীয়ভাবে একটি বাঁধ, যা আমাদের জন্য একটা ক্ষতিকর ভবিষ্যত ডেকে আনতে যাচ্ছে। এই বাধের নাম টিপাইমুখ বাঁধ।

সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলী এবং সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ

টিপাইমুখ বাঁধ

সিলেট জেলার জকিগঞ্জের অদূরে অমলশিদ সীমান্ত পয়েন্ট থেকে সরাসরি মাত্র ১০০ কিলোমিটার উজানে ভারতের মনিপুর রাজ্যের চোরাচাঁদপুর নামক স্থানে যেখানে বরাক ও টুইভাই নদী মিলিত হয়েছে সেখানে টিপাইমুখ বহুমুখী জল বিদ্যুৎ প্রকল্প নামে ৫০০ ফুট উঁচু, সাম্প্রতিক প্রাপ্ত তথ্যমতে ১৬২.৮০ ফুট উঁচু ও ১৫০০ ফুট দীর্ঘ, সমুদ্রপৃষ্ট হতে ১৮০ মিঃ উঁচু এক বিশাল পাথরের বাঁধের এক বিশাল পাথরের বাঁধের নকশা প্রণয়ন, চুক্তি স্বাক্ষর সহ প্রাথমিক সকল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করেছে, যার ফলে প্রায় ৩০০ বর্গ কিঃ মিঃ এলাকা ১৫ বিলিয়ন ঘন মিটারের এক বিশাল জলাধারে পরিণত হবে। এতে মোট ৬টা বিদ্যুত ইউনিট থাকবে, যা থেকে মোট ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত তৈরী হবে (প্রত্যেকটা ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন)। এছাড়াও তারা এই বাধের ৯৫ কিঃমিঃ উজানে ফুলেরতলে একটা ব্যারেজ নির্মান করবে। (বিস্তারিত…)


COMMUNIST PARTY OF INDIA (MAOIST)

CENTRAL COMMITTEE

Press Release

November 25, 2011

Condemn the brutal murder of Comrade Mallojula Koteswara Rao, the beloved leader of the oppressed masses, the leader of Indian Revolution and CPI (Maoist) Politburo member!

Observe protest week from November 29 to December 5 and 48-hour ‘Bharat Bandh’ on December 4-5!!

November 24, 2011 would remain a black day in the annals of Indian revolutionary movement’s history. The fascist Sonia-Manmohan-Pranab-Chidambaram-Jairam Ramesh ruling clique who have been raising a din that CPI (Maoist) is ‘the biggest internal security threat’, in collusion with West Bengal chief minister Mamata Banerjee, killed Comrade Mallojula Koteswara Rao after capturing him alive in a well planned conspiracy. This clique which had killed Comrade Azad, our party’s spokesperson on July 1, 2010 once again spread its dragnet and quenched its thirst for blood. Mamata Banerjee, who had shed crocodile’s tears over the murder of Comrade Azad before coming to power, while enacting the drama of talks on the one hand after assuming office, killed another topmost leader Comrade Koteswara Rao and thus displayed nakedly its anti-people and fascist facet. The central intelligence agencies and the killer intelligence agencies of West Bengal and Andhra Pradesh chased him in a well planned conspiracy and killed him in a cowardly manner in a joint operation and now spreading a concocted story of encounter. The central home secretary R.K. Singh even while lying that they do not know for certain who died in the encounter, has in the same breath announced that this is a big blow to the Maoist movement. Thus he nakedly gave away their conspiracy behind this killing. The oppressed people would definitely send to grave the exploiting ruling classes and their imperialist masters who are day dreaming that they could wipe out the Maoist party by killing the top leadership of the revolutionary movement. (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সত্যজিৎ দত্ত পুরকায়স্থ

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদী বিধৌত এই দেশে অসংখ্য নদনদী জালের মতো ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে ২৩০ টি নদীতে বিভক্ত হয়ে আবার বিভিন্ন জায়গায় একত্রিত হয়ে সাগরে পড়েছে, যার মধ্যে ৫৪ টি নদীর উৎপত্তিস্থল ভারত। এসব নদনদীর উপর এদেশের অগণিত মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভরশীল। নদীর বয়ে আনা পলিমাটি এদেশের জমিকে উর্বর করে তুলে। তবে বিভিন্ন কারণে এসব নদনদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রায় পুরোটাই মানব সৃষ্টি। এর মধ্যে নদী ভরাটড্রেজিং না করা, নাব্যতা হ্রাস, এমনকি পলিথিনের স্তরও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী বুড়িগঙ্গানদীর তলদেশে ১০ ফুট পলিথিনের স্তরও রয়েছে।

টিপাইমুখ বাঁধ

এছাড়াও রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কর্তৃক বিভিন্ন নদীর উজানে বিভিন্ন উদ্দেশ্য বাঁধ নির্মাণ যার অন্যতম সুরমার উজানে টিপামুখ বাধ। যার মূল উদ্দেশ্য নদীর স্রোতকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীর যে জায়গায় স্রোত বেশি, নাব্যতা বেশী সেসব জায়গায় আড়া আড়ি বাঁধ দেয়া হয়। এসব বাঁধ থেকে বিশাল এলাকা জলমগ্ন হয়, গ্রীন হাউজ গ্যাস উৎপত্তি হয়, উপকূলে ক্ষয় দেখা দেয় আর কোনো কারণে যদি বাঁধ ভেঙ্গে যায় তাহলে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটা খুবই স্বাভাবিক; যেমন১৯৭৫ সালে চীনে এই রকম দুটি বাঁধ ভেঙ্গে মারা যায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব হ্রাসের কৌশল উদ্ভাবন বিষয়ক প্রতিবেদন, ২০০৯ থেকে জানা যায় যে, ২০০৯ সালে বিশ্বে প্রায় ৩০০ টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, এতে বাস্তুহারা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ কোটি মানুষ, প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলারের সম্পদহানী ঘটেছে। এর প্রভাব বেশী এশিয়ায়। বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ বিপর্যয় কবলিত দেশের মধ্যে ৯টি দেশ এশিয়ায় অবস্থিত। বিশ্বে বন্যায় যত মানুষ মারা যায় তার ৭৫% চীন, ভারত এবং বাংলাদেশে (তথ্যসুত্র : সারা বিশ্ব, দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ মে, ২০০৯)। ইতোমধ্যে ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরগামী প্রায় সকল নদী থেকে জল প্রত্যাহার করছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

প্রাতঃভ্রমনের জন্য বের হতেই গৌতম সাহেবের মন ভালো হয়ে গেলো।

এমনিতেও বর্তমানে তার মনমেজাজ অসম্ভব ভালো। পরপর দুইটা ছবি তার ব্লকবাস্টার হিট হয়েছে, টানা তিনটা ফ্লপ ছবির পরে তাকে সবাই বাতিলের খাতাতেই ফেলে দিয়েছিলো। সকল ছবিবোদ্ধারাই বলে দিয়েছিলেন যে গৌতম চৌধুরী বাতিল মাল। তার আর সাধ্য নেই প্রতি শুক্রবারে সিনেমার টিকেট কাউন্টারে দাঁড়ানো দর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর। সেই সময় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনেক টানাহেচড়া করেছিলো মিডিয়া। এক ডেব্যুট্যান্ট নায়িকার সাথে তাকে জড়িয়ে সে কি রসালো কেচ্ছা, ১২ বছরের বিয়েটাই ভেঙ্গে যেতে বসেছিলো তার। কিন্তু গত ২ মাসে পরপর ২টা ব্লকবাস্টার হিট ছবিই সব ফিরিয়ে এনেছে আগের অবস্থায়। আবারো গৌতম চৌধুরী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চোখের মণি, আবারো তাকে ঘিরেই সকলের মনোযোগ। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটা অনুষ্ঠানের অতিথির তালিকাতে তার নাম সবার আগে লেখা হয় এটাও তিনি জানেন। নিজের ব্যক্তি জীবনেও স্বস্তি ফিরে এসেছে, স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য যা ছিলো, তাও এই দুটি ব্লকবাস্টার ছবির বদৌলতে ধুয়েমুছে গেছে। বাসায় তিনি আবারো প্রেমময় স্বামী, স্নেহময় পিতা। এমত অবস্থায় সকালে ফুরফুরে মেজাজে প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে পড়াই যায়, ইশ কতদিন যে প্রকৃতিকে ভালোভাবে দেখা হয়নি। দুই মাস আগেও কি সময় পার করেছেন চিন্তা করে গা কাঁটা দিয়ে উঠলো তার।

এই যে মশাই, কখন থেকে ডাকছি শুনছেন না?

তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন, দেখলেন গড়ের মাঠের ফুটপাথ দিয়ে হালকাপাতলা একজন মানুষ হেঁটে আসছেন। তাকে গৌতম সাহেব ঠিক চিনতে পারলেন না, দূর থেকে চেনা যাচ্ছেনা। যখন গৌতম সাহেবের সামনে এসে সেই মানুষ দাঁড়ালেন তখন তার মনে হল কি হত মানুষটার ডাক না শুনতে পেলে!! (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

কমরেড বাদল

সাম্রাজ্যবাদ এবং সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামে আজ আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। সংবাদ সম্মেলনের এই মূহুর্তটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে আমরা শুধু মন্তব্য করব না, বরং আমরা আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। এই সমাবেশ ঐতিহাসিক, কারণ তা একত্রীত হয়েছে সম্প্রসারণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। আমরা আজ দালালদের রুখে দেওয়ার জন্য, তাদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। অবশ্যই, ১লা নভেম্বরের রাত এক ঐতিহাসিক কালো রাত। এই কালো রাত সামন্তবাদী, সাম্রাজ্যবাদী আর সম্প্রসারণবাদী ও তাদের দালালদের জন্য ছিল নিঃসন্দেহে এক আনন্দদাযক রাত। আর একই সাথে এই রাত শহীদ ও আহতদের পরিবার এবং সর্বহারা শ্রেণীর জন্য যেন কষ্ট আর দুঃখে ভরা এক অভিশপ্ত রজনী। তাসত্ত্বেও আগ্নেয়গিরি সমান দুর্দশা আর কষ্টের মাঝে উৎপন্ন গগণবিদারী মুক্তির আওয়াজ নিয়ে আজ আমরা উপস্থিত।

অবশ্যই, সাম্রাজ্যবাদ এবং সম্প্রসারণবাদের দালালেরা হুইস্কির বোতল ভেঙে, তাদের মণিবদের পা চেটে আর আনন্দ উল্লাসে সেই রাত কাটিয়েছে। কিন্তু, তাদের এই সুখ গণমানুষ ও তাদের স্বপ্নের সামনে জলের বুদবুদের মতোই ক্ষণস্থায়ী। কারণ আমরা এখানে তাদের এই সুখের মরীচিকা গুড়িয়ে দেওয়ার জন্যই জমায়েত হচ্ছি।

এটি সেই রাত যে রাতে নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)’কে নিরস্ত্র করা হয় এবং কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পূর্বেই যোদ্ধাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়। অতএব, এটি পিএলএ (গণবাহিনী) সৈনিক, শ্রমিক শ্রেণী এবং মুক্তিকামী মানুষের জন্য কালো রাত। এটি নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক! তবে, এই দুর্ভাগ্য তার সাথে এক ঝড় নিয়ে এসেছিল, যা ছিল সর্বহারা শ্রেণীর আগামীদিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। শ্রমজীবীদের এই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবেই সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের পদলেহী দালালদের ক্ষণিকের এই পরিতোষকে ধূলোয় গুড়িয়ে দিবে। (বিস্তারিত…)


মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: আমরা এবার অন্য প্রশ্নে চলে আসছি। আচ্ছা সর্বহারার মতাদর্শ বলতে আমরা কী বুঝি এবং সমাজজীবনে আজকের দিনে এটা কী ভূমিকা পালন করছে? মার্কস, লেনিন ও মাওএর ধ্রুপদী চিন্তা বলতে পিসিপি কী বোঝে?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো: আগামীদিনের এবং এই যে ঝঞ্ঝামুখর দিনগুলোতে আমরা হাঁটা চলা করছিআমরা দেখতে পাচ্ছি সর্বহারার মতাদর্শ অত্যন্ত বেশি গুরুত্ব অর্জন করে বহু বহু দূর এগিয়ে গেছে। যদিও বিষয়টি আমাদের প্রত্যেকেরই জানা তবুও যে বিষয়টির ওপর আমি প্রাধান্য আরোপ করছি তা হচ্ছে শ্রেণীবিভক্ত সমাজে সব থেকে অগ্রগামী শ্রেণীর তত্ত্ব ও প্রয়োগের ভূমিকা। বিশ্বের সর্বহারা সংগ্রামের ফসল হচ্ছে সর্বহারার মতাদর্শ। এটা পড়লে আমরা অনুভব করি সর্বহারা শ্রেণীর আবির্ভাবের আগে শ্রেণীসংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারার অধ্যয়ন ও অনুধাবনের প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষকদের সেই বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কথাযে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এই সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে, তা বোঝবার জন্য উন্নত স্তরের পড়াশুনা ও মননশীলতা দরকার। এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, মার্কসের যুগান্তকারী সৃষ্টি সর্বহারার মতাদর্শ, আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনে মানুষ আজ সমৃদ্ধ, এমন একটা সম্পদ যা মানুষ আবার কবে লাভ করবে কে জানে। বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর এমন একটা বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ মানবজাতি বিশেষ করে আমাদের শ্রেণী তথা জনগণ কারায়ত্ত করেছে যেটা তত্ত্ব ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে একটা হাতিয়ার হয়ে উঠেছে যার সাহায্যে পৃথিবীটা পাল্টে দেয়া দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেছে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছিযে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন এবং যে মন্তব্য তিনি করেছিলেনসেইসব মন্তব্য সত্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। মার্কসবাদ নিয়ত সমৃদ্ধ হয়ে মার্কসবাদলেনিনবাদএ পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে এর মার্কসবাদলেনিনবাদমাও সেতুংএর চিন্তায় উত্তরণ হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি এটাই একমাত্র মতাদর্শযা গোটা দুনিয়াকে পাল্টে দিয়ে বিপ্লব ঘটাবে। (বিস্তারিত…)