Archive for অক্টোবর, 2011


লিখেছেন: কল্লোল মোস্তফা

আরো একটি গোপন চুক্তির অন্ধকার বাংলাদেশের জনগণের সামনে। টিইসিএফ অর্থাৎ Trade and Economic Cooperation Forum (TECF) নামের এই চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে গত ২৩ অক্টোবর জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করার জন্য বলেছেন: “দেশের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন ফোরাম (টিইসিএফ) চুক্তি হচ্ছে” , যদিও জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য আসল প্রয়োজনীয় কাজটি অর্থাৎ চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা ও অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ধারা উপধারা নিয়ে গণ আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করার কাজটি করতে তিনি বা তার সরকার ভুলে গেছেন! অবশ্য সরাসরি না বললেও চুক্তিটি যে প্রায় ১০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দিতে চাওয়া টিফা(TIFA-Trade and Investment Framework Agreement) চুক্তিরই ছদ্ম নাম সেটা তার এই কথা থেকেই স্পষ্ট: “তাড়াহুড়ো করে এ চুক্তি করা হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে এর প্রক্রিয়া ও এ সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে(সূত্র:) মুশকিল হলো মুহিত সাহেব দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে পরীক্ষানিরীক্ষা করার কথা বলেছেন যে চুক্তিটির কথা সেই টিফা চুক্তির খসড়াও কিন্তু জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হয়নি কখনই। টিফা নিয়ে তর্কবিতর্ক যেটুকু হয়েছে তা সম্ভব হয়েছে টিফা চুক্তির একটা ষ্ট্যান্ডার্ড ফরমেট যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করে বলে যেটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই দেখা যায়(সূত্র:) এবং একই সাথে বাংলাদেশের সাথে প্রস্তাবিত টিফা চুক্তির ২০০৫ সালের ভার্সনের একটা কপি bilaterals.org ওয়েবসাইটে ফাস হয়ে যাওয়ায়।(সূত্র:)

টিইসিএফ যে আসলে টিফাই সে বিষয়ে পত্র পত্রিকাতেও খবর বেরিয়েছে। গত ২৬০৭২০১১ তারিখে প্রথম আলো লিখেছে : “প্রায় ১০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রূপরেখা চুক্তিটি (টিফা),শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। এর বদলে টিইসিএফ করা হচ্ছে টিফার আদলেই। টিফা নামটি যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকলেও নতুন নামের প্রস্তাবটি দিয়েছে বাংলাদেশই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।”(সূত্র:) বাহ! টিফা চুক্তির যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক সেগুলো না পাল্টে বা সেগুলোসহ টিফা স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী মার্কিন স্বার্থ দেখার জন্য কি চমৎকার ফন্দি এটেছে: নামটাই পাল্টে ফেল, নামে কিবা আসে যায়! আশ্বস্ত হওয়ার মতই ব্যাপার! টিইসিএফ বা টিফা যাই বলি না কেন, চুক্তির ফাস হওয়া ২০০৫ সালের খসড়া ধরেই আমারা এখানে আলোচনা করতে বাধ্য যেহেতু সর্বশেষ খসড়াটি প্রকাশিত নয়। অবশ্য সাম্প্রতিক খসড়ার নাম কিংবা ভেতরের শব্দবাক্য চয়ন ইত্যাদি যাই হোক, তাতে টিফা/টিইসিএফ সংক্রান্ত আমাদের আলোচনায় তাতে সমস্যা হওয়ার কোন কারণ নেই কারণ যুক্তরাষ্ট্র টিফা’র একটা সাধারণ ফরমেট বজায় রাখে যে ফরমেটের মূল ধারাগুলো এ পর্যন্ত যে ৬১ টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র টিফা স্বাক্ষর করেছে সেগুলোর ক্ষেত্রে মোটামুটি একই রকমের। আর আমাদের আলোচনাও মূলত ঐ সাধারণ বা কমন ধারাগুলোকেই কেন্দ্র করে। তার আগে নাম, শব্দের ব্যাবহার ইত্যাদি নিয়ে সরকারি আপত্তিগুলো নিয়ে একটু কথা বলা দরকার। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: রাজীব নন্দী

ছেলেটি ছুটছে। মুখে ঘাম। সুরে চটুল শিস। হাতে সদ্য ভাঙা আম গাছের লাঠি। হাত দশেক উঁচু গাছটি থেকে মাত্র নেমে এলো। খেয়াল করলাম, ছেলেটি যখন গাছ থেকে নামছে তখন প্রাণ ভয়ে উড়াল দিয়েছে খান চারেক কাক।

বাগানের অন্য প্রান্তে, অন্য গাছে তখন আরেক অভিনব তরুণ মরিয়া হয়ে কাকের বাসা থেকে ডিম নিতে ব্যস্ত। পাল্টা আঘাতে কাকও যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছাড়বার নয়। পাকড়াও করতে চাইছে তরুণকে। গাছের মগ ডালে বসা কাক পরাস্ত হল। নিচে তরুনটির বান্ধবীর হাততালি। তবে কি বান্ধবীর মন পেতেই কাকের ডিম বড্ড জরুরি ছিল তরুণের!

না। দিনভর হুল্লোড় সেরে এই তরুনতরুনীর দল যখন হাতে বইকাগজকলম নিয়ে কী জানি নোট করছে আর কাকের বাসার খোঁজে নিরন্তর ঢিল ছুড়ছে তখন বুঝতে বাকি নেই এর নাম ‘কাক গবেষণা’। আজ থেকে বহুকাল আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাকের বংশবৃদ্ধি সংক্রান্ত জরিপ/গবেষণা কাজ চলছিল। কথা বলছিলাম এমন একজনের সাথে যিনি সেদিন আগ্রহী দর্শক হিসেবে ছিলেন গবেষকদের ঘিরে থাকা কৌতুহলীদের দলে।

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী এলাকা থেকে কাকের সন্তানের মুখে আহার তুলে দেয়ার একটি বিরল মুহুর্ত

এতকিছু থাকতে কাক কেন? (বিস্তারিত…)


অল্টারনেটিভ পাঠচক্র [Alternative Study Circle (ASC)]

শাসকশ্রেণীর রংবেরঙের জোড়াতালির গণতন্ত্র, ধ্বজাধারী সুশীলদের মেকি গণতন্ত্র, জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা সামন্ততন্ত্র, তথাকথিত মুক্তবিশ্বমুক্ত গণতন্ত্রের নামে বেনিয়া করপোরেট পুঁজিতন্ত্র এবং বেশুমার ভোগবাদী খেয়োখেয়ির এই বিটকেলে সমাজে বাঁচতে হলে লড়াই করে বাঁচতে হবে। এখানে বিকশিত হতে হলে, পাহাড়প্রমাণ বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে গেলে সেই উঁচু করতে চওয়া মাথায় নানা জটিল হিসেব ধারণ করতে হবে। আমরা এমনই এক জটিল দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্ত সমাজে বসবাস করি, যেখানে প্রতিনিয়ত শ্রেণীসংগ্রামের আগুনে পুড়ে পুড়ে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়। আমাদের বলতে আমরা বোঝাতে চাইছি বিশাল নিপীড়িত জনসাধারণকে। সেই বিশাল নিপীড়িত জনসাধারণের কাতারে নিজেদের মিশিয়ে দিতেই আমাদের এই চেষ্টা। এর আগে বহুবার আমাদের অগ্রজরা একাজ করেছেন। কেউ সফলভাবে করেছেন, কেউবা মাঝ পথে গিয়ে থেমে গেছেন, কিংবা প্রথভ্রষ্ঠ হয়েছেন। আমরা সেই সব ইতিহাস ঐহিত্য মাথায় রেখেই নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে নিজেদের একীভূত করতে চাই। আমরা জানি কাজটি মোটেই সহজ সরল নয়। এর প্রতিটি বাঁকেই ওৎ পেতে আছে হাজারো সমস্যা, প্রশ্ন এবং বিভেদবাধার দেয়াল। এবং আমরা এও জানি ওই দুর্গম বিভেদের পাহাড় টপকানোর যে ব্রত আমাদের, তার প্রেরণা মহান সর্বহারা শ্রেণীর মুক্তির আলোকবর্তিকা মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদ। এটাই আমাদের পাথেয়। আমাদের উলব্ধি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: রাজীব নন্দী

আচ্ছা, কেউ যদি বলে নাভী ব্রাহ্মী গাছের পাতার শরবত খেলাম; আহা, অসাধারণ! সর্পগন্ধা গাছের সবুজ পাতা চিবুন; তরতাজা হতে কতক্ষণ! লাল টুকটুকে ফলটির আচার খান; কলেরা, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ দৌড় দিবে শরীর থেকে। কানাইডিঙ্গার আচার? সে তো দারুণ!

কেমন শোনাবে তখন?

হ্যাঁ, অবাক শোনালেও শোনাতে পারে। সারা দেশজুড়ে একসময় এই সব বৃক্ষ, লতা, গুল্ম নিজেদের সংসার গেড়েছিল ঝোপঝাড়ে। গরিবহতদরিদ্র মানুষজনরাই ছিল যাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সুখেদু:খে সাড়া দিয়ে একে অপরকে টিকিয়ে রাখতো ওরা। নিম্নবর্গীয় মানুষের প্রাথমিক বলি আর চূড়ান্ত চিকিৎসা বলি সবখানেই ছিল ভেষজই ভরসা। কারণ এসব উদ্ভিদ ঘর থেকে দুই পা ফেলেই সংগ্রহ করে সেরে নেয়া যেতো সরলজটিল সব রোগ।

কিন্তু আজ কোথায় সেই ঝোপঝাড়? কোথায় সেই ঔষধি বনায়ন?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসর বীজ কেন্দ্র ও নার্সারি দেশবাসীকে সুখবর দিচ্ছে। নিবিড় পরিচর্যায় এখানে বেড়ে উঠছে বিপন্নপ্রায় ভেষজ উদ্ভিদ নাভী ব্রাহ্মী, জাফরান, সর্পগন্ধা, দাদমর্দন, কুরুচ, পনিয়াল আর কানাইডিঙ্গা। স্বাস্থ্য সচেতন দেশবাসীর জন্য যিনি রীতিমত বৈদ্যশাস্ত্র খুলে বসেছেন তিনি ইনস্টিটিউটেরই অধ্যাপক নার্সারী ও বীজ কেন্দ্রের পরিচালক ড. কামাল হোসাইন।

নার্সারিতে ড. কামাল হোসাইন স্যার

(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যে একটা আশা একসময় ছিল, তা পূরণ হওয়ার পর থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টাকে খুব উৎকট মনে হচ্ছে।সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ক্ষেত্ররাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শুধু নয়,সবার উপরে অধিষ্ঠিত এই উলঙ্গ রাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত সামান্য কিছু ঘটনার দর্শক হিসেবে বেঁচে যাওয়ার আক্ষেপ থেকেও এই বিতৃষ্ণা।

কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।গত বছর থেকে বিভাগীয় পদ্ধতির পরিবর্তেইউনিট ভিত্তিক পরীক্ষানামে শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।এবারো কোন কোন ইউনিট এর পরিসরভিত্তিক সামান্য পরিবর্তিন আনা হয়েছে।এই পরিবর্তিত কৌশল কে প্রশাসন তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তির জায়গা থেকেইফলদায়কহিসেবে জায়েয করার চেষ্টা করে।একটা উদাহরণ টানার চেষ্টা করি, গত বছর ই১ এবং ই২ নামে দুটো ইউনিট ছিল যাদের প্রতিটি ফর্মের মূল্য ছিল ৩৩০ টাকা করে।আবার এখন ই১ ও ই২ কে এক করেবানানো হয়েছে।এইইউনিট এর ফর্মের মূল্য ৯৩৫ টাকা।অর্থাৎ, আগে যে ছাত্র ৩৩০ টাকা দিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত ইউনিট এ পরীক্ষা দিতে পারতো, এখন ঐ পূর্বের ই১ ইউনিটের অন্তর্গত বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে তার খরচ হবে ৯৩৫ টাকা।এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ করে প্রশাসনের বক্তব্য টা এরকম যে, ছাত্রছাত্রীদের মন এত ছোট না।মহামান্য ভিসির মতে,‘‘গরীবদের উচ্চশিক্ষার দরকার নাই।’’ এভাবেই প্রশাসন প্রমাণ করে যে তাদের কৌশল কতটাফলদায়ক(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

অবরুদ্ধ গণমাধ্যম

আমাদের দেশে গণমাধ্যম কতটুকু গণমানুষের আর তা কতটুকু স্বতন্ত্র বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম তা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু সম্প্রতি প্রস্তাবিত সম্প্রচার আইন২০১১ এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বস্তুত, এই আইন জারী হলে দেশের সরকারীবেসরকারী সকল সম্প্রচার মাধ্যম প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের কুক্ষিগত হবে। যদিও বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধান দল আওয়ামী লীগের ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের ১৯তম দফায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, “ সকল প্রকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতান ও তথ্যপ্রবাহের অবাধ চলাচল সুনিশ্চিত ও সংরক্ষণ করা হবে।” কিন্তু তারা যে গণমাধ্যমকে স্বাধীন করতে কতটা সচেতন (!) তা গত পৌনে তিন বছরে বিভিন্ন প্রিন্ট/ইলেক্ট্রনিক/অনলাইন মাধ্যম, এমন কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধের মাধ্যমে আমাদের বেশ ভালভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল মোস্তফা

সাম্রাজ্যবাদী আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সাথে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর বন্ধুত্বের নাটক যখন তুঙ্গে, যখন তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে নামতা জপার পরও “বন্ধু পানি দিলনা” বলে আফসোসের জিগির উঠেছে, যখন কাটাতারের ঘেরাওয়ের মধ্যে বসে ট্রানজিটের মাধ্যমে রাস্তাবন্দর ভাড়া খাটিয়ে “বেশ্যা অর্থনীতি”র বেসাতি চলছে তখন “সুখবর” পাওয়া গেল বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ নদী সারীগোয়াইনের উজানে বাধ বানানো শেষ করে এনেছে। গত কয়েকদিন ধরে এই বাধ নিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে, কয়েকটি দৈনিক এবং অনলাইনে খরবও প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু শাসক গোষ্ঠীর তাতে কিছু যায় আসে বলে মনে হয় না, তারা টিপাইমুখ বাধের মতোই “বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু করা হবে না” জাতীয় ভারতের আশ্বাস বাণী শুনতেই আরাম বোধ করেন। আসলে এরা বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করছে, ভারতের কাছে আশ্বাস বাণী পাওয়ার আগেই আশ্বস্ত হয়ে বসে আছে, কারণ এটাই এই শ্রেণীর জন্য লাভজনক।

সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া সারীগোয়াইন বা হারি গাঙ নদীর উতপত্তি ভারতের মেঘালয় পর্বতে। জৈন্তাপুরের লালখাল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের আগে মাইনথ্রু(MYNTDU) নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। এই মাইনথ্রু নদীতেই মেঘালয়ের লেসকা অঞ্চলে “মাইনথ্রু লেসকা হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্রেজক্ট” নামে ১২৬ মেগাওয়াটের(৪২*+ ৪২*) একটি জলবিদ্যুত প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে ভারত।

সূত্র: Myntdu Leshka St-I H.E. Project

http://meseb.nic.in/leshka.htm

মানচিত্রে সারী উজানে মাইনথ্রু-লেসকা বাধের অবস্থান

২০০২ সালে উদ্বোধন হওয়া এই প্রকল্পটি চলতি সেপ্টম্বর মাসেই চালু হওয়ার কথা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: তারিক মাহমুদ

আমার নোট:ভারত’ দক্ষিণ এশিয়ার এক পরাক্রমশালী রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভঙ্গুর অবস্থার পর এবং মার্কিন ভারত আঁতাত আরো সুদৃঢ় হওয়ার পর, এখন ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানো মত কোন দেশ এই অঞ্চলে নাই। তার শাসক গোষ্ঠী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক শক্তি জোরে ‘ভারত’কে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেব প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধ পরিকর। আর এর ভেতরেই চলেছে এক বিরামহীন দু:সহ পরিস্থিতি, কৃষকদের ক্রমাগত আত্মহত্যা। ঘটনাটি দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে কিন্তু সরকারের কোন পদক্ষেপ নাই, মিডিয়াগুলোর কোন চেতনা নাই; তারা বরং ‘গ্রেট ইন্ডিয়া’র স্লোগান তুলে দেশটির নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদকে চাপা দিতে বদ্ধপরিকর। এই বিষয়ের উপরে করা ডকুমেন্টারি “নিরোস গেস্ট” সম্পর্কে ফেসবুক বন্ধু ‘মনজুরুল হকে’র নোটটি বহু দিন আগেই পড়েছিলাম। তারপর ডকুমেন্টারিটি দেখার পর অত্যন্ত অসহায় বোধ করেছি শাসক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষরে বিচ্ছিন্নতার ভয়াবহ পরিণতি দেখে। তারপর ঘটনাক্রমে হাসান জাফরুল বিপুল ভাইয়ের কাছে থেকে এই সাক্ষাৎকারটি অনুবাদের দায়িত্ব লাভের মধ্যে দিয়ে এটি সম্পাদিত হয়। অনুবাদের কার্মে বন্ধু শাফায়েত নূরের সাথে আলাপচারিতা এবং সহায়তার কথা মনে রেখে এই নোটে তাকেও স্মরণ করছি। শাসক, শোষক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিরুদ্ধে এটি প্রচার ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস হিসেবে লেখাটি আরো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশে এখানে শেয়ার করলাম।

আমরা যদি ভারতের কৃষকদের আত্মহত্যার দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাব গত ১৬ বছরে আড়াই লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ৩০ মিনিটে একজন করে কৃষক আত্মহত্যা করছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

গত ৩ মার্চ ভারতের ব্যাঙ্গালোর এর আই আই সায়েন্স সিটিতে প্রথম প্রদর্শনী হয়ে গেল বিখ্যাত তথ্যচিত্র ‘নিরোর অতিথিরা’র। ছবিটির অফিসিয়াল ট্রায়ালকে বাধাগ্রস্ত করতে কর্ণাটকের সরকার কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে গত এক দশক ধরে ভারতের কৃষকদের সঙ্গে কি আচরণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতের বিখ্যাত সব মিডিয়া টাইকুনেরা! এই ছবিটির নামকরণেও বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন শত শত চাষী আত্মহত্যা করছে, তখন সরকারের এবং মিডিয়ার ধারণায় সে সব কেবলই ‘নিরোর বাঁশী’র সুর! আর সেই ব্যঙ্গশ্লেশকে অবলম্বন করেই ছবিটির নাম হয়েছে ‘নিরোর অতিথিরা’ বা “Niro’s Guests”

ছবিটির বিষয় বস্তু ভারতের প্রায় দুই লাখ কৃষক, যারা গত দশ বছরে আত্মহত্যা করেছে। কেন আত্মহত্যা করেছে? কারণ তারা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, কষ্টার্জিত ধারের টাকা লগ্নি করে যে ফসল উৎপাদন করে তার বাজার মূল্য পায় না। ধার করা টাকা শোধ দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এভাবে গত দশ বছরে ভারতে প্রায় দুই লাখ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে! চকচকে ঝকঝকে শত শত চ্যানেলে এই খবর আসেনি। তেমনভাবে আসেনি কোনো প্রিন্ট মিডিয়াতেও। ঠিক সেই সময় ‘দ্য হিন্দু’ সংবাদপত্রের মফস্বল বিষয়ক সম্পাদক পি সাঁইনাথ একেবারে প্রান্তিক চাষীদের ভেতরে গিয়ে খবর সংগ্রহ করে তা ছাপিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। তার পরও সরকার তার সেই রিপোর্টকে আমলে আনেনি। এতে করেও পি সাঁইনাথ হতদ্যোম হয়ে পড়েননি। তিনি একের পর রিপোর্ট লিখে গেছেন, আর সেই সব রিপোর্টের শেষে তিনি একটি বার্তা সমাজকে জানাতে থেকেছেন, আর তা হলো-‘আমরা ভারতকে এই রূপে দেখতে চাই না।’ (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল মোস্তফা

আগাছা ছাড়াই, আল বাধি, জমি চষি, মই দিই,/বীজ বুনি, নিড়োই, দিনের পর/দিন চোখ মেলে রাখি শুকনো আকাশের দিকে। ঘাম ঢালি/খেত ভ’রে, আসলে রক্ত ঢেলে দিই/নোনা পানি রুপে; অবশেষে মেঘ ও মাটির দয়া হ’লে/খেত জুড়ে জাগে প্রফুল্ল সবুজ কম্পন/খরা, বৃষ্টি, ও একশো একটা উপদ্রব কেটে গেলে/প্রকৃতির কৃপা হ’লে একসময় মুখ দেখতে পাই থোকা থোকা সোনালি শস্যের..”(তৃতীয় বিশ্বের একজন চাষীর প্রশ্নহুমায়ুন আজাদ)

এই বাজারি যুগে শুধু কৃষকের রক্তঘাম ঢালা শ্রম আর প্রকৃতির কৃপা হলেই চলে না, বীজ কোম্পানির উপরও নির্ভর করতে হয় ফসলের সোনা মুখ দেখতে। গত বোরো মৌসুমে ভূমিহীন কৃষক আজগর আলি ৩ একর জমি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ২৫ হাজার টাকা ধার করে দেশী উফশী জাতের বীজের তুলনায় ৮/১০ গুণ বেশি দামের চীনা হাইব্রিড ঝলক ধানের চাষ করেছিলেন। কৃষি অধিদপ্তরের স্থানীয় মাঠকর্মীদের কথা শুনে এবং স্থানীয় কেবল টিভিতে আমদানী কারক কোম্পানি এগ্রোজি’র (http://www.agro-g.com/news_details.php?nid=9) দেয়া বিজ্ঞাপন দেখে আজগর আলী আশা করেছিলেন দেশী জাতের চেয়ে বেশি ফলন ক্ষমতার এই হাইব্রিড ঝলক ধান(এগ্রোজি ১) পাকলে চাষের খরচ, মহাজনের ঋণের সুদআসল দিয়ে থুয়ে অন্তত ১০০ মণ ধান তার লাভ হিসেবে থাকবে। প্রতিমণ ৮০০ টাকা করে হলে এভাবে ৮০ হাজার টাকা তার হাতে আসার কথা। এটাই তার সারা বছরের খোরাকী জোটাবে। কারণ আজগর আলী যে অঞ্চলের মানুষ সেই নোয়াখালির বেশির ভাগ জমিই কয়েক যুগ ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যাক্রান্ত হওয়ায় কেবল বোরো মৌসুমেই আবাদ যোগ্য। কিন্তু আজগর আলীর মতো এরকম অসংখ্য কৃষকের চাষ করা সাধের হাইব্রিড ঝলক ধান নষ্ট হয়ে গেছে, ধান পোক্ত হওয়ার আগেই শীষ শুকিয়ে গেছে। একদিকে মহাজনের কাছ চড়া সুদে নেয়া ঋণের বোঝা আর অন্যদিকে পরিবারের খোরাকি যোগারের অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে তাদের।

(বিস্তারিত…)