Archive for জানুয়ারি, 2012


লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

ভারতের একটি খবর

গত ৮ অক্টোবর ২০১০ তারিখে ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়, শিরোনাম: “মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসি’র কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল”। খবরে বলা হয়: জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষিজমির উপর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রহন যোগ্য হতে পারে না বলে ভারতের কেন্দ্রিয় গ্রীন প্যানেল মধ্যপ্রদেশে ন্যাশনাল থারমার পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এর ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। ভারতের সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি নরসিঙ্গপুর জেলার ঝিকলি ও তুমরা গ্রামের ১০০০ একর জমির উপর একটি ২X৬৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্ট এপ্রাইজাল কমিটি (ইএসি)’র এক সভায় বলা হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত স্থানটি মূলত কৃষিজমি প্রধান এবং এ বিষয়ে প্রকল্পের স্বপক্ষের লোকদের দেয়া তথ্য যথেষ্ট নয়। বলা হয়, “এই স্থানটির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে দো’ফসলি কৃষি জমি, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কমিটি আরো মনে করে, গাদারওয়ারা শহরের এত কাছে এরকম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাঙ্খিত নয়। তাছাড়া, নরমদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য ৩২ কিউসেক পানি টেনে নেওয়াটাও বাস্তবসম্মত নয় যেহেতু রাজ্য সরকার ইতোমধ্যেই আরো অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই নদীর পানি বরাদ্দ দিয়ে বসে আছে।

সূত্র: NTPC’s coal-based project in MP turned down

বাংলাদেশের খবর

বাংলাদেশ ভারত জয়েন্ট ভেঞ্চারে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের (X৬৬০) একটি বিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মান পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে আজ ২৯ জানুয়ারি ২০১২। বিদ্যুতের দাম, কয়লার উৎস নির্ধারণ না করেই এবং কৃষি জমি নষ্ট ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ক আপত্তি উপেক্ষা করেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। রামপাল উপজেলার সাপমারি, কাটাখালি ও কৈগরদাসকাঠি মৌজায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১,৮৩৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: Indo-Bangla power deal today

কোথা থেকে কয়লা আসবে বিদ্যুৎ এর দাম কত হবে অনিশ্চিত

সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার দাবি

  (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র এখন পুঁজির খাঁচায় আবদ্ধ, সবকিছুই মাপা হয় পুঁজির বাটখারায়; প্রেমভালবাসা, লেখাপড়া বা খেলাধুলা, কোনটিই এর বাইরে নয়। আর ক্রিকেট যেহেতু এই অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয়, তাই পুঁজির দালালেরা একে টেনে আনবে এটাই স্বাভাবিক। ক্রিকেট নিয়ে এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে যে এটি নিপীড়িতনিষ্পেশিত, অর্ধাহারেঅনাহারে ভোগা জ্বরাগ্রস্তদের দেশ, বাংলাদেশ

আর এই সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি লগ্নির ক্ষেত্রে ওই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রগুলো জনগণের দেশপ্রেমের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে তাকে গড়ে তোলে উগ্র জাতিয়তাবাদী রূপে; যা তারা বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অবস্থায় নিজেদের তথা ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করে।

যে ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে জনগণের মৌলিক অধিকার সংবিধান সর্বস্ব, যেখানে ফেসবুকের স্ট্যাটাসে সাজা হয়, যেখানে গণমুক্তির কথা বললে আসে ক্রসফায়ারের ছোবল, যেখানে সাম্রাজ্যবাদসম্প্রসারণবাদের দালালী হয় রাষ্ট্রীয় কর্তব্য, যেখানে আছে তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র, যেখানে আছে বিশ্ববিদ্যালয় রূপী দালাল তৈরীর কারখানা, যেখানে মিডিয়া তোষামোদে ভরপুর; সেখানে যারা মনে করেন ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেই দেশে জাতীয় পুঁজির বিকাশ ঘটবে, দেশ তরতর করে উন্নতির জোয়ারে ভেসে যাবে, দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়ে গিয়ে তালগাছের আগায় ওঠবে; তারা মূলতঃ অন্ধকারে পথ হাতরাচ্ছেন, যে পথের ঠিকানা তাদের অজানা

গ্লোবালাইজেশন নামক শোষণের ফলে এখনকার কোন পুঁজিই একক পুঁজি নয়, সকল পুঁজিই এখন সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি, তা ভূমিদস্যু শাহ আলমের বসুন্ধরাই হোক, ঋণ খেলাপী সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো বা লতিফুরের এসেম্বলিং কারখানা। এই পুঁজিকে কেউ কেউ জাতীয় পুঁজির অগ্রপথিক রূপে স্বীকৃত করতে চাইলেও তা যে কেবলই রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজী, তা কারো অজানা নয়। তারা জাতীয় পুঁজির চরিত্রের সাথে এই ফরিয়া আর সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির মিল কোথায় পেলেন? কোন পুঁজি, নির্দিষ্ট কোন দেশে নিজের জানান দিলেই কি তাকে সে দেশের জাতীয় পুঁজি বলতে হবে? আর যদি তারা এটাই বলতে চাইছেন, তাহলে তারা কেবলই জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেন, পরোক্ষভাবে দালালী করছেন সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদের(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

এক

৬ বলে আট রান দরকার প্রতিপক্ষের, হাতে দুই উইকেট, তারা জিতলেই অমলেশের ক্যারিয়ার শেষ। এই সত্যটা সে বিলক্ষ জানে, ৩৩ বছরের পরিণত জীবনে এই কথাটি এখন আর কারো বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। গত দুই ট্যুরেই দল জঘন্য খেলেছে, তার নিজের ব্যাটেও রান নেই, আর দীর্ঘদিন ধরেই জমে উঠা বোর্ড পলিটিক্স তাকে শ্বাস ফেলার সামান্য জায়গাটুকুও দিচ্ছেনা। টানা আড়াই বছর ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এটা ছয়মাস আগে বোর্ডের সদস্যপদ পাওয়া অনেকেই মেনে নিতে পারেনা এটাও অমলেশকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তার নিজের ব্যাটেও রান নেই, তাই সহজেই লোকে বিস্মৃত হয়েছে এই অমলেশ সেন আড়াই বছর ধরে কি দুর্দান্ত প্রতাপে তার দলকে প্রতিটি টুর্নামেন্টেই সফল করে এসেছে। এই জনপদের ধরণটাই এমন, সহজেই সব কিছু অনায়াসে বিস্মৃত হয়, তাই বোধহয় তাদের বোকা বানিয়ে রাখাটা যতটাই সহজ ঠিক ততটাই কঠিন এদের কাছে কাউকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা। নাইলে কি এই অমলেশ মিত্রকে ……. থাক সে কথা, ড্রিংক্স চলছে, তা শেষ হলেই ‘মারো অথবা মরো’ ওভারের শুরু। ভাবতে ভাবতে সে শর্ট মিড উইকেট থেকে এগোতে শুরু করলো, প্রথম বল।

নিজ চোখে বিশ্বাস করতে পারলোনা সে, অফ স্ট্যাম্পের একটু বাইরের বল, লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান মিস করেছে কিন্তু সাথে উইকেট কীপার সেলিমও মিস করেছে। এক রান বাই হয়ে এখন স্ট্রাইকে সেট ব্যাটসম্যান, সন্দেহ জাগলো অমলেশের। তবে কি? সন্দেহটাকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলো সে। সে নিজে কি জানেনা সন্দেহ কতটা ভয়ংকর? তার সমস্ত ছেলেবেলাই তো এর বিষবাষ্পে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলো, মা কিরণময়ীর প্রতি তার পাষন্ড বাপটার সন্দেহই তার মাকে বাঁচতে দেয়নি বলে এখনো মনে করে সে। নিজের জীবন দিয়েই অনুভব করেছে বলেই মৃত্যুর আগে শেষ সময়ে কিরণময়ী ছেলেকে বলে গিয়েছিলেন কখনো যেন কারো উপরে সন্দেহ না করে, কিন্তু সর্বদা মাতৃআজ্ঞা পালন করা অমলেশ এখন তা পারছে কই? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

বন্ধুবরেষু তোমাকে বলেছিলাম একদিন মনে আছে ?

আমাদের জন্ম, বেড়ে উঠা, কর্ম, মৈথুন সবই বেশ্যাপাড়ায়

সময় যায়, আমরাও উঁচু তলার বেশ্যাপাড়াতে উঠে যাই,

শুনে আঁতকে উঠবেনা নিশ্চিত জানি, তুমি অন্ধ নও বলেই।

কি কারনে তুমি নিজেকে নির্বাসিত বলতে বুঝিনি তখন

আজ যখন বুঝি তখন আমি দ্বীপান্তরিত, এ হতোই একদিন,

বেশ্যাপাড়াগুলো বিদ্রোহী সহ্য করেনা, বিদ্রোহ সহ্য করেনা,

সেগুলো ভালোবাসে হিপোক্রেসির পুনরুৎপাদন, তাকে চুমু খায়।

আনুগত্যে ভালোবাসায় সেখানে বাস করতে করতে তারা হয়ে উঠেছে

স্যুট টাই, ব্র্যান্ডেড শাড়ি সালওয়ার পরা একেকজন বেশ্যা। (বিস্তারিত…)


মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: চেয়ারম্যান, পেরুতে সংশোধনবাদের প্রবক্তা কে?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো:ইউনিটি’ বলে একখানা পত্রিকা, যা প্রকাশ করে বা করতো সোভিয়েত সংশোধনবাদের দালাল তথাকথিত পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চাঁচাছোলা সংশোধনবাদী নেতা যোরগে দেল প্রাদোযিনি ‘সময় সাপেক্ষ বিপ্লবী’ বলেও পরিচিত। দ্বিতীয়তঃ জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা। দ্বিতীয় জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা।

এল দিআরিও: আপনি কি মনে করেন পেরুর জনগণের মধ্যে সংশোধনবাদের প্রভাব থাকায় পেরুর বিপ্লব বিঘ্নিত হচ্ছে?

চেয়ারম্যান গনজালো: যদি আমরা লেনিনের শিক্ষা এবং চেয়ারম্যান মাও যার উৎকর্ষ সাধন করে গেছেন এবং বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন, তা গ্রহণ করে থাকি – তাহলে দেখতে পাই সংশোধনবাদ নামক বুর্জোয়াদের এই দালাল সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিরাজ করে তাদের মধ্যে বিভাজনের বিষ ছড়ায়। এরা কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। এরা ট্রেড ইউনিয়নে ভাঙ্গন ধরায় এবং গণআন্দোলনকে টুকরো টুকরো করে বিপর্যস্ত করে।

সংশোধনবাদকে ক্যান্সার রোগ বলা চলেতাই এই রোগকে নির্মমভাবে ছেঁটে ফেলা দরকার। তা না হলে বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। লেনিনের কথায় বলতে গেলে সারসংক্ষেপে বলতে হয়আমাদের দুটো জিনিসের উপর লক্ষ রাখা দরকার তা হচ্ছে আক্রমণাত্মক বিপ্লবী কর্মকাণ্ড আর সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রাম। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌরভ ব্যানার্জী

বিপ্লব আমায় তুলেছে গড়ে

জন্মক্ষণ থেকে তারি হাত ধরে

হেঁটেছি এতটা দূর

আরও কিছু পথ চলা আছে বাকি

কিছু স্বপ্ন দিয়ে গেছে ফাঁকি

দিয়েছে সাহস, ঢেলেছে প্রাণে প্রাণ

আর অফূরন্ত যৌবন

তারই ছোঁয়ায় তারারা আজও নীল

আর রক্তের রঙ লাল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

শহীদ আসাদ

কোন কোন মৃত্যু ইতিহাস হয়ে যায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে জনস্রোতের উদ্বেল জোয়ার আনে। আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদ, যিনি আসাদ নামেই সর্বাধিক পরিচিত, তাঁর মৃত্যু এমনি এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানে। আসাদ এবং ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থান এক অখন্ড সত্বা।

এই বিপ্লবী ১৯৪২ সালের ১০ জানুয়ারী নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ধুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা আবু তাহের। তিনি ছিলেন হাতিরদিয়া সাদত আলী হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হেডমাষ্টার। আসাদের মাতার নাম মতি জাহান খাদিজা খাতুন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আসাদ ছিলেন চতুর্থ। ১৯৬০ সালে আসাদ শিবপুর হাই স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করে সিলেটের এম.সি কলেজে (মুরারী চাঁদ কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে ওই কলেজ থেকে আই.এ পাশ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অনার্সসহ বি.এ ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৬ সালে বি.(অনার্স) এবং ১৯৬৭ সালে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।

ছোট বেলা থেকেই প্রতিবাদী আসাদ স্কুল ও কলেজ জীবনে পুরোপুরি রাজনৈতিক অঙ্গনে জড়িত না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই রাজনীতিতে আসাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং জননেতা আঃ হামিদ খান ভাসানীর অনুসারী হন। এরপর রুশচীন আন্তর্জাতিক মহাবিতর্কের প্রক্রিয়ায় আসাদ বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে যুক্ত হন। ধারণা করা যায়, এ সময়েই তিনি ইপিসিপি (এমএল)-এ যোগদান করেন। অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্রনেতার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ছাত্র সংগঠনে যুক্ত থাকা অবস্থায় অল্প দিনের মধ্যেই ঢাকা হলের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। (বিস্তারিত…)


CPI (Maoist) Press Release, January 13, 2012 :: Revolutionary greetings from CPI (Maoist) to the friends of Indian Revolution and well wishers

Comrades and Friends,

On 24 November, 2011 the Indian revolution lost its great leader and the oppressed masses of India lost their most reliable servant. November 24 would remain a dark day in the history of the Indian revolution. On July 1, 2010 the Indian ruling classes had murdered our Politburo member and spokesperson Comrade Azad. Within one and a half years, another Politburo member Comrade Koteswarlu (who is popular among the people and party ranks as Kotanna, Prahlad, Ramji, Kishenji and Bimal) was caught alive in a covert operation, tortured inhumanly and was killed in a fake encounter. In India which claims to be the largest democracy in the world, the feudal and comprador bureaucratic bourgeois ruling classes, with the support of the imperialists, particularly the US imperialists, are trying to suppress the democratic, national liberation and revolutionary movements with iron heel. Particularly, since 2009 they are carrying on an unjust war on the people in the name of ‘Operation Green Hunt’. They are shamelessly violating even the constitution and the laws formulated by themselves and are killing people, activists and leaders of the movement. They are unsuccessfully trying to justify all their unlawful murders in the name of a lie named ‘encounter’ tracing the footsteps of the British colonial rulers. Now it is an established fact that ‘encounter’ anywhere in India means a conspiratorial murder by the state. (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সত্যজিত দত্ত পুরকায়স্থ

উৎসর্গঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের লড়াকু সহযোদ্ধা বন্ধুদের।

.

১৮৩০ সালে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে জুলাই বিপ্লবের সম্পাদন কালে কলকাতার কয়েকজন ছাত্র এক গভীর রাতে নবনির্মিত অক্টরলনি মুনমেন্টের চুড়া থেকে ইংরেজদের পতাকা নামিয়ে উড়িয়ে দেয় ফরাসী বিপ্লবের সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতার তেরংগা ঝান্ডা। এই ঘটনা পরবর্তীকালে এই উপমহাদেশের ছাত্রসমাজ কিংবা সার্বিক স্বাধীনতা আন্দোলনে কতটুকু ভুমিকা পালন করেছিল তা বলা একটু কঠিন। তবে এই ঘটনাকেই এই উপমহাদেশে ছাত্র আন্দোলনের আতুড় ঘর বলা চলে। পরবর্তীকালে কলকাতার হিন্দু কলেজের শিক্ষক হেনরী লুই ডিভিয়ান ডিরোজিও’এর হাত ধরে উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে উপমহাদেশের প্রথম ছাত্র সংগঠন “একাডেমিক এসোসিয়েশন”। এরপর ইয়াংবেংগল এবং তাদের পত্রিকা পার্থেনন এই উপমহাদেশের ছাত্র সমাজের রাজনৈতিক মনন বিকাশে অবদান রাখে।

.

সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অংগীভুত ছাত্র সংগঠনের ক্রিয়া কলাপের নিমিত্তে আমাদের কিছু নাগরিক ক্রিয়া কলাপের প্রতিক্রিয়া হিসাবে এই লেখা। সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের ফলে ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় ঐতিহ্য নিয়ে আর লিখলাম না, অনেকে নাখোশ হতে পারেন। একের পর এক ক্যাম্পাস অস্থির। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ছিল উচ্চ মনন এবং আগামীর নেতা তৈরীর, সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজ ক্ষমতার পালা বদলে জন্ম দিচ্ছে লক্ষন সেন আর বখতিয়ার খলজীর। এক পক্ষ সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে আর অন্যরা পিছনের দরজা দিয়ে পালায়। সন্ত্রাসের অর্থনীতি, মনস্তত্ব, জনসংযোগ সবকিছুর কেন্দ্র এখন বিশ্ববিদ্যালয়। এক সময় ইউরোপের শক্তিমান দেশগুলো নিজেদের শক্তি পরীক্ষার জন্য তুর্কি খলিফার শাসনাধীন বলকান অঞ্চল কে বেছে নিত। এতে লাভ হতো এই যে, যুদ্ধে যে পক্ষই জয় লাভ করুক, নিজেদের দেশের লোকজন, শিল্পবাণিজ্য যুদ্ধের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে যেত। আজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন না কোন ভাবে আমাদের রাজনৈতিক দল সমূহের বহুপাক্ষিক শক্তি পরীক্ষার “বলকান অঞ্চল”। জাবিতে জুবায়ের হত্যাকান্ডসহ সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেই তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে, ২০০৮১০ এই সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে মোট সংঘাত ২৪২ টি, নিহত ১৬, আহত ৪ হাজারেরও বেশী, মোট ৮০ টি শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ। এখন আমরা যদি এর পিছনের কারণগুলো খুজে বের করবার চেষ্টা করি তাহলেই এর স্বরুপ আমাদের কাছে দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে উঠে। (বিস্তারিত…)


কমরেড চারু মজুমদার

ভারতের বুকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ। ১৯৬৭ সালের বসন্তে ভারতে গণযুদ্ধের সূচনা করেন কমরেড চারু মজুমদার। গড়ে ওঠে মাও চিন্তাধারার পার্টি সিপিআই (এমএল)। এই পার্টি ও গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে চারু মজুমদারকে লড়তে হয়েছিল সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে, চালাতে হয়েছিল এক ক্ষুরধার সংগ্রাম মধ্যপন্থার বিরুদ্ধে। তিনি বলেনঃ

“…পার্টির মধ্যে দুই লাইনের লড়াই রয়েছে এবং থাকবে। ভুল লাইনগুলোর নিশ্চয়ই আমরা বিরোধিতা করবো এবং পরাজিত করবো। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে মধ্যপন্থার বিরুদ্ধে। মধ্যপন্থা এক ধরণের সংশোধনবাদ, মধ্যপন্থা সংশোধনবাদের জঘন্যতম রূপ। অতীতে সংশোধনবাদ বিপ্লবীদের হাতে বারবার পরাজিত হয়েছে এবং প্রতিবারই মধ্যপন্থা এই লড়াইয়ে জয়ের ফলকে কব্জা করেছে এবং পার্টিকে সংশোধনবাদের পথে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের ঘৃণা করতে হবে মধ্যপন্থাকে। নির্বাচন বয়কটের প্রশ্নে নাগি রেড্ডি বলেছিল, ‘হ্যাঁ, আমরাও এটা মানি কিন্তু বয়কট বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের এবং বিশেষ সময়ে প্রজোয্য। যেখানে কোনো লড়াই নেই, সেখানে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।এই হলো নাগি রেড্ডির লাইন, এই হলো মধ্যপন্থা। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়েছি এবং নাগি রেড্ডিকে আমাদের সংগঠন থেকে দূর করে দিয়েছি। সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছিল, ‘সোভিয়েত নেতারা সংশোধনবাদী কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী হবে কী করে? একচেটিয়া পুঁজির সে বিকাশ কোথায়?’ এরা হচ্ছে মধ্যপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি এবং লড়ে আমাদের পার্টি থেকে তাদের বের করে দিয়েছি। তখন মধ্যপন্থীরা তুললো ট্রেড ইউনিয়নের প্রশ্ন এবং যখন কৃষকের ওপর নিভর করে সশস্ত্র শ্রেণীসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে তখন আওয়াজ তুলল শ্রমিকশ্রেণী ভিত্তিক পার্টি। এইসব প্রশ্নে অসিত সেন কোম্পানীর সঙ্গে আমরা লড়েছি এবং তাদের পার্টি থেকে দূর করে দিয়েছি। তাই আমাদের শুধু সঠিক ও বেঠিক লাইনের মধ্যে পার্থক্য দেখলেই চলবে না, মধ্যপন্থীর অবস্থানকেও আমাদের বার করতে হবে ও তাকে চূর্ণ করতে হবে। (বিস্তারিত…)