Archive for ডিসেম্বর, 2017


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

গুজরাট বিধানসভার একটি আসনে তরুণ দলিত নেতা জিগনেশ মেভানি জয় লাভের পর বেশকিছু বিক্ষিপ্ত বক্তব্য চোখে পড়ছে। এ নিয়ে কোনো কোনো কমরেডের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্তাকারে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করাটা জরুরি মনে করছি।

প্রথম কথা হলোজিগনেশ মেভানি কী কমিউনিস্ট?

যদি তিনি কমিউনিস্ট না হয়ে থাকেন, তবে বিপ্লবী কমিউনিস্টদের তাকে মিত্রশক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। এখন পর্যন্ত জিগনেশ তার কথা অনুযায়ী কাজ করেছেন, সমঝোতা করেননি। সামনের দিনগুলোই বলে দেবে জিগনেশ কোনদিকে যাচ্ছেন। এখনও সে সময় আসেনি।

জিগনেশ যে প্রশ্নগুলো একজন দলিত হিসেবে উত্থাপন করছেন, তা বিপ্লবীরা আগেই করেছেন। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা ভিন্ন। সেই বাস্তবতা থেকেই পরিস্তিতির বিশ্লেষণ করাটা জরুরি। (বিস্তারিত…)

Advertisements

(নেসার আহমেদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক গ্রন্থ ক্রসফায়ার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থেকে)

জামিলা আক্তার

নেসার : আপনার নামটা আগে বলুন।

জামিলা : জামিলা আক্তার। আমার বড় ভাই ছিলেন। আমরা দাদা বলতাম। উনি আমাদের পরিবারের সবাইকে ভীষণ আদর করতেন।

নেসার : আপনার বড় ভাইয়ের নামটা বলুন?

জামিলা : উনার আসল নাম আমি ঠিক বলতে পারব না। সমিরদা নামে ডাকতাম। একদিন উনি আমার বাসায় বাচ্চাদের জন্য কিছু খাবারদাবার আনছেন। তখন আমি বলছি যে, দাদা এগুলার দরকার কী? উনি বলছেন যে, এগুলা তোমার জন্য না। এগুলা আমার ভাতিজিভাতিজার জন্য। তিনি আমাদের পরিবারের লগে এমন আপন ছিলেন যে। তাছাড়া, খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নিতে পারতেন তিনি। তার মধ্যে আন্তরিকতা ছিল খুব বেশি।

নেসার : আপনার সাথে রাজনীতি নিয়ে কথা হতো কি তার?

জামিলা : না। আমি সময়ও পাইতাম না। ব্যস্ত থাকতাম সব সময়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নীলিম বসু

মননের দিক দিয়ে আমি হতাশাগ্রস্ত,

আর ইচ্ছার জোরে আশাবাদী।আন্তোনি গ্রামসি

আকস্মিক ধাক্কা অনেকটা প্রশমিত এখন। রাগ আর যন্ত্রণা কমা উচিত নয়, কমেওনি আশা করি। প্রাথমিক ধাক্কায় অনেকেই আমরা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) সরাসরি আক্রমণ করা দরকার বলে গলা ফাটিয়েছি। যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে তার। কিন্তু যারা মাঠে নেমে কাজ করার চেষ্টা করেন, তারা জানেন যে, বিষয়টা কতোটা কঠিন। আরএসএস রণবীর সেনা নয়, যে তাকে প্রত্যক্ষ আক্রমণ জনসমর্থন পাবে।

একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। কোনো এক মফস্বল অঞ্চলে যে মানুষটি সবার প্রতিদিনের প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন, সৎ মানুষ হিসেবে সবার কাছে প্রিয়। তার সাথে একটু গভীরভাবে মেলামেশায় জানা গেলো তিনি আরএসএস কর্মী! সমস্যাটা এই জায়গায়। আরএসএসএর সামাজিক ভিত্তি এক সময়ের কমিউনিস্ট কর্মীদের মতো! আরো সমস্যা হলো বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এবং ভারতজুড়ে বেশিরভাগ জায়গাতেই কমিউনিস্ট কর্মীদের সামাজিক ভিত্তি খুব কমে গেছে, বা নেই; যার ওপর দাঁড়িয়ে আরএসএসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া সম্ভব। সেটা না থাকলে আরএসএসকে প্রত্যক্ষ আক্রমণ করতে গেলে বিষয়টা ব্যাকফায়ার করার সম্ভাবনা থাকছে বিশালভাবে। কিছু তথ্য দেওয়া যাক, আরএসএসএর সামাজিক ভিত্তি নির্মাণের কাজগুলো নিয়ে। এইবার বন্যার সময় আরএসএসএর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) রিলিফ ক্যাম্পের জোয়ারে ভাসিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা, বিভিন্ন নামে আরএসএস রক্তদান শিবির থেকে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প চালিয়ে চলেছে প্রতি মাসেই, সান্ধ্য স্কুল, স্পোর্টসও রয়েছে নিয়মিত কাজের মধ্যে। আর এসবের সাথেই মিশে রয়েছে সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এই সমস্ত সামাজিক কাজকর্মের মধ্য দিয়েই প্রচার করা হচ্ছে প্রধানত কয়েকটি বিষয়, ) রামের পুরুষোত্তমত্ত্ব; ) ব্রাক্ষণ্যবাদী চতুর্বর্ণ ব্যবস্থা; ) অহিন্দু, মূলত ইসলাম বিদ্বেষ; ) মোদি হিস্টিরিয়া। আর এই প্রচার বাঁধা থাকছে আদর্শ ভারতীয়ত্বের ন্যারেটিভে।
(বিস্তারিত…)


শ্রেয়সী দাশ

২০১৭ সালে গণতন্ত্রের এপিটাফে যোগ হলো আরো এক প্রস্তর খণ্ড। কেন গণতন্ত্রের এপিটাফ বললাম, সে কথা পরের আলোচনায় থাকছে ডিসেম্বর জি.ডি. বিরলা নামে এক কর্পোরেট স্কুলে বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষ করলো দুজন শিক্ষক। ভারতেধুনিক শিক্ষার ইতিহাসে তা এক লজ্জাজনক ঘটনা। ভারতীয় নাগরিক এবং সর্বোপরি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এ লজ্জা রাখার জায়গা নেই। এ যেন ২০১২ সালে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি। (বিস্তারিত…)