Archive for এপ্রিল, 2020


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে) রাশিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তাতে বিপ্লবী কমিউনিস্টরা নিশ্চয় দ্বিমত করবেন না। তবে বলশেভিক বিপ্লব নিয়ে কথা বলার সময় একটা বিষয় অনেকেই এড়িয়ে যান যে, এরপর ১৯২২ সাল পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সেখানে চলমান ছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। এমন এক পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণকাজ একরৈখিকভাবে চলমান ছিল না। আর এক পশ্চাৎপদ সমাজে এই বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় পশ্চাদপসরণও ওই বিপ্লবেরই অংশ। কিন্তু তা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে কমিউনিস্ট বা বামপন্থী নামধারী কেউ কেউ এ বিপ্লবকে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে এক কথিত বিশুদ্ধ সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছেন। সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক উপাদান বিদ্যমান ছিল, তারা সেটাকেই মুখ্য হিসেবে তুলে ধরে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবএর তত্ত্ব ফেরি করছেন। আর তাই একটা নির্ধারিত বিষয় নিয়ে নতুন করে লেখার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও, কেন আমরা বলশেভিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বলছি, তা স্পষ্ট করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বলশেভিক বিপ্লবের ঘটনাবলী, তৎকালীন সময়ে রাশিয়ার আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিপ্লব পরবর্তী পুনর্গঠনকালে পার্টি গৃহীত কার্যক্রমে আলোকপাত করার চেষ্টা থাকবে এ লেখায়। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী থেকে আমরা কৃষিপ্রধান দেশে সমাজতন্ত্রের পথে প্রাথমিক পুনর্গঠন সম্পর্কে ধারণা পেতে সক্ষম হই। যা এই বিপ্লবের ধরণ সম্পর্কেও আমাদের সম্মক ধারণা প্রদান করে। আর এ ক্ষেত্রে কমরেড ভ্লাদিমির লেনিন ও বলশেভিক পার্টির বক্তব্যকেই মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ধরা হয়েছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কমিউনিস্ট পার্টি কোনো দাতব্য সংস্থা বা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নয়। বিপ্লবী রাজনীতি আর চ্যারিটি এক নয়। অথচ ইদানিং দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ রাজনীতি আর চ্যারিটিকে গুলিয়ে ফেলছেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো বিদ্যমান ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা, জনগণের সামনে শোষকদের উন্মোচন করা, দাবি আদায়ে আন্দোলনসংগ্রাম পরিচালনা করা, গণঅধিকার কায়েম করা। কোনো দাতব্য সংস্থা নিশ্চয় এমনটা করবে না! দাতব্য কর্মসূচি রাজনীতির একটি অংশ মাত্র, সমগ্র নয়। সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে; কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন না হয়ে সেটা কেবল আংশিকভাবেই করা সম্ভব। ভিক্ষা দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যে কেউ তা করতে পারেন; কিন্তু ভিক্ষা কেন চাইতে হবে, একটা উন্নত সমাজে কেন ভিক্ষুক থাকবে?- এ প্রশ্ন তোলাটাই বিপ্লবী রাজনীতির কাজ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কোভিড১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। উৎপাদনসরবরাহভোগের পুঁজিবাদী চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকার মানেসবার উপার্জনই থমকে যাওয়া। তবে এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সেই খেটে খাওয়া মানুষগুলো, যাদের শ্রমেঘামেরক্তে গড়ে ওঠে সম্পদের পাহাড়। ইতিমধ্যে সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। গত ৫ এপ্রিল সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন; যা জিডিপির .৫২ শতাংশ। এখন প্রশ্ন হলো প্রণোদনায় কত শতাংশ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের স্বার্থের প্রতিফলন দেখা যায়? (বিস্তারিত…)