লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরেই নকশালবাড়ি আন্দোলন ও কমরেড চারু মজুমদারের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছেনতিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বরাবরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন, রাজনৈতিক লাইনের নিরিখে মূল্যায়ন করেননিযদিও বদরুদ্দীন উমর লেনিনস্তালিনের নাম ব্যবহার করে শোধনবাদী রাজনীতির চর্চা করেন; তথাপি তিনি ও তাঁর সংগঠন (মুক্তি কাউন্সিল) বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে লেখায় বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গীতে ভ্রান্তি নিয়ে আলাপ করা হবেকেননা এই ভ্রান্ত দৃষ্টি দিয়েই তাঁর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার জুন ২০১৮ সংখ্যায় তিনি নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা ভাস্কর নন্দীর (যিনি পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বিপ্লবী পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) স্মরণে লেখা একটি প্রবন্ধে কমরেড চারু মজুমদারকে (সিএম) যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমণ করেছেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে, কথিত নির্ভুল বিপ্লবের তত্ত্বের সাগরে গা ভাসিয়ে . সিএমকে মূল্যায়ন করেছেন নিছক বিলোপবাদী দৃষ্টিতে Read the rest of this entry »

Advertisements

বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলন

জাতীয় কমিটি

তারিখ: ১৩ জুলাই ২০১৮

সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলামুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদবিরোধী নয়াগণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগতান্ত্রিক বিপ্লব বেগবান করুন” ও “সমাজতন্ত্রকমিউনিজমের লক্ষ্যে মার্ক্সবাদলেনিনবাদমাওবাদের আদর্শে সজ্জিত হোন” এই স্লোগানকে ধারণ করে বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলনের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার ঢাকাস্থ শিশু কল্যা পরিষদ মিলনায়তনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন নয়াগতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি কমরেড জাফর হোসেন ও সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সমন্বয়ক কমরেড বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। কাউন্সিল কমরেড আহনাফ আতিফ অনিককে সভাপতি করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।”

সে অনেক বছর আগের কথা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন মহান শিক্ষক আমাদের বোকাবুড়োর গল্প শুনিয়েছিলেন। সে গল্প শুনে এদেশে এক বোকাবুড়ো শুরু করেছিলেন পাহাড় সরানোর কাজ। তাঁর ডাকে হাজার হাজার দেবদূত এসেছিলেন এ কাজে অংশ নিতে। তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন কখনো পুলিশের গুলিতে; কখনো জেলের অন্ধুকুঠুরিতে; কখনো শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে। কেউ কেউ জীবনের দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন কারান্তরালে। তাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ পাহাড় সরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। আজ তাঁরা গাইতিকোদাল নিয়ে ‘হেই সামালো’ হেঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন পাহাড় সরানোর কাজ।

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বয়স নয় নয় করেও বিরানব্বইচুরানব্বই বছর হয়ে গেলো। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নকশালবাড়ির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্রযুবদের মধ্যে যে আলোড়ন তুলেছিল, তা এক কথায় বললেঅভূতপূর্ব। আত্মত্যাগের এ যেন এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সেই বোকাবুড়ো। কি ছিল তাঁর আবেদনে, যা শুনে হাজার হাজার ছাত্রযুব ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে, ঘরবাড়ি, পরিবারপরিজন ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই পাহাড় সরানোর মহাযজ্ঞে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন সরকারের কাছে তার রিপোর্ট পেশের পর থেকেই শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য, শিক্ষার সংকট ইত্যাদি বিষয়ে গত দুই বছরে কিছু লেখালেখি হয়েছে। যদিও এই লেখালেখি পরিমাণগত ও গুণগত মানের দিক থেকে যথেষ্ট নয়।

শিক্ষানীতি নিয়ে একটি উল্লেখ্যযোগ্য প্রকাশনা হলো বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান এর শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংকট প্রসঙ্গে পুস্তিকাটি। গত বছরের জুলাই মাসে এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করে বাসদএর ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

খালেকুজ্জামান বাসদএর আহ্বায়ক, তারা দাবি করেন যে বাসদই এদেশের একমাত্র প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক দল। সে কারণেই এই বিপ্লবী রাজনৈতিক দলটির শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী পর্যালোচনার দরকার হয়ে পড়েছিল। এই প্রবন্ধটিতে সেটাই করা হয়েছে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল শামছ্ বিল্লাহ

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

রাফায়েল ল্যামকিন। এই ভদ্রলোকের বাড়ি ছিল পোল্যান্ডে। পেশায় ছিলেন আইনজীবী। এই ভদ্রলোক প্রথম genocide বা গণহত্যা শব্দটির প্রবর্তন করেন। সময়টা ছিল ১৯৪৪ সাল। উল্লেখ্য তখন পর্যন্ত গণহত্যা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় নি। তিনি দুটি শব্দ থেকে এই শব্দটি তৈরি করেন। একটি হলো গ্রিক শব্দ genos যার অর্থ পরিবার বা গোত্র বা দল। আরেকটি শব্দ হলো ল্যাটিন শব্দ cide যার অর্থ মেরে ফেলা। এই শব্দটি তিনি তার লেখা বই Axis Rule in Occupied Europe: Laws of Occupation – Analysis of Government – Proposals for Redress অন্তর্ভুক্ত করেন। এই শব্দটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সাধারণত গণহত্যা বলতে কোনো জাতিকে পুরোপুরি মেরে ফেলা বা ধ্বংস করা নয় বরং সেই জাতির কোনো অংশকে মেরে ফেলা বা মেরে ফেলতে চাওয়াকেই বোঝায়। এটার উদ্দেশ্য হতে হবে বিভিন্ন জাতির নিজস্বতা, জীবনধারা ধ্বংস করার বা ঐ নির্দিষ্ট জাতিকে মুছে ফেলার একটা সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি। এটা হতে পারে কোনো জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, জাতীয়তাবোধ, ধর্ম ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে; রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পার্থক্য সৃষ্টি করা বা ঐ জাতির কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, আত্মমর্যাদা, এমনকি ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব জীবনধারা পর্যন্ত ধ্বংস করা। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: শাহীন রহমান

ভূমিকা

সাধারণ অর্থে একটি উন্নত দেশ কর্তৃক অপর একটি বা একাধিক অনুন্নত দেশের উপর আধিপত্য বা সাম্রাজ্য বিস্তারকে সাম্রাজ্যবাদ বলা হয়। পররাজ্য গ্রাস ও লুণ্ঠন করে পদানত রাখার ব্যবস্থা হলো সাম্রাজ্যবাদ। উন্নত একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সেই রাষ্ট্রের পুঁজিপতি বা বুর্জোয়াদের দ্বারা অন্য একটি দেশ ও তার জনগণের উপর শোষণশাসন কায়েম করাই সাম্রাজ্যবাদ। পুঁজিবাদের বিকাশের গোড়ার দিকে কতিপয় পুঁজিবাদী দেশ এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তারা অনুন্নত ও প্রাক পুঁজিবাদী বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক তথা সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের পদানত ও পরাধীন করে। সেইসব দেশের ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামাল নিজেদের দখলে নেয়। এমনকি পরাধীন দেশগুলিকে নিজেদের প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে নিয়ে আসে দখলকারী দেশগুলি। পুঁজিবাদের উদ্ভবের পরে কতিপয় উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের এই পররাজ্য দখল ইতিহাসে উপনিবেশবাদ রূপে পরিচিত। এই উপনিবেশিক কর্মনীতি দ্বারা বিভিন্ন অনুন্নত, পশ্চাদপদ দেশগুলি উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির। বিভিন্ন উন্নত পুঁজিবাদী দেশের পুঁজিবাদের বিকাশে এই উপনিবেশিক শোষণশাসন লুণ্ঠনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদকে (colonialism) এক করে দেখা হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উপনিবেশবাদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক তথা সামরিক অভিযানের ভূমিকাই মুখ্য। Read the rest of this entry »


শব্দমালার বিন্যস্ত স্রোতধারায় আন্দোলিত মনোভূমি

লিখেছেন: নীরা নাজ তারিন

কোনো বই পড়তে গিয়ে কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, আপনার জন্যই এটি লেখা হয়েছে? অথবা কখনো কি মনে হয়েছে, আপনাকে নিয়েই রচিত হয়েছে বইটির কোনো কোনো অংশ? আমার সাম্প্রতিক পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনাদের, কখনও কখনও লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টিতে সক্ষম হন। পাঠককে টেনে নিতে সক্ষম হন এক আন্দোলিত মগ্নতার অচেতন বাস্তবতায়। সমস্ত হৃদয়জুড়ে তার শব্দের সুরধারা অবিরাম ঢেউ খেলে যেতে পারে। পড়ে শেষ করার আগ পর্যন্ত ছেড়ে উঠতে কোনোভাবেই মন সায় না দিতে পারে। পড়তে শুরু করতেই বইটি আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে এক মোহাবেশে। এমনকি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কিংবা অসংখ্য পাঠেও একে আপনার গানের মতো লাগতে পারে, যা আপনি শুনে যেতে পারেন বিরক্তিহীন নিরন্তর।

তো যে বইয়ের কথা বলছি, চূড়ান্ত অর্থে তা যেন জীবনের দালিলিক উপস্থাপনা। সেই বইতে জীবন আছে, মানুষ আছে, প্রকৃতি আছে, আছে রাষ্ট্রের বিধিব্যবস্থা আর একুশ শতকের প্রযুক্তি। আছে অভিজ্ঞতার প্রেরণায় চিনে নেওয়া পরিবর্তনের নিশানা। আমাদের সচেতন মন কিংবা গহীন অবচেতন, আমাদের জীবনমননমৃত্যু, সর্বোপরি আমাদের দৈনন্দিন যাপন; সবই যেন মিশে আছে ওই বইয়ের শব্দমালায়। লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টি করেছে, গানটা তাই গল্প হয়ে গেছে। গল্পটা যেন আমারই কোনো বিগত স্মৃতি। বিগত সেই স্মৃতি আমাকে সংযুক্ত করে সপ্রশ্ন জীবনের সংলগ্নতায়। এখানেই শিল্প আর জীবন সম্মিলিত হয়। শিল্প সেখানে আমার কথা বলে, আপনার কথা বলে, তাদের কথা বলে, সবার কথা বলে। Read the rest of this entry »


স্পর্ধা

——–

ঘাতক, তোমার প্রতিবন্ধক,

মারণযজ্ঞ, আইনি খড়্গ,

শাসন খেয়াল, নিষেধ দেয়াল,

যুদ্ধবিকার, সবুজ শিকার,

হাতের শেকল – করতে বিকল

যুদ্ধরত, সমুদ্যত

কাস্তে ধরা সংগ্রামী হাত

তরতাজা প্রাণ। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

[এখানে ৫ বাম দল নামক যে রাজনৈতিক জোটটির কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হয়েছে সেই জোটটি আর নেই, আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে মিলে তারা গঠন করেছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। তবে বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে ৫ বাম দল ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বলা চলে, এ হলো নতুন বোতলে পুরনো মদ। পর্যালোচনাটি ২০০৬ সালে তৈরী করা হলেও এর প্রয়োজন তাই ফুরিয়ে যায়নি। কিছুটা পরিমার্জন করে হাজির করা হলো।লেখক]

৩ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ৫ বাম দল তাদের ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। জাতীয় গণফ্রন্ট, বিপ্লবী ঐক্য ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি- এই চারটি দল মিলে ২০০২ সালে ৪ বাম দল নামে একটি জোট গঠন করে। অন্তর্ভুক্ত দলগুলির সংখ্যা গুণে রাজনৈতিক জোটের নামকরণ অবশ্য নতুন নয়। আশীর দশকে বুর্জোয়া নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও ৭ দল এই দুটি জোটে বামপন্থীদের প্রধান প্রধান সবকটি দলই অন্তর্ভুক্ত ছিল। সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বাসদ (খালেকুজ্জামান), বাসদ (মাহবুব), শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল এরা ছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দলে। ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ (এখনকার জাতীয় গণফ্রন্টের পূর্বসূরী) ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলে। ১৯৮৬র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৫ দল ভেঙে গিয়ে জাসদ, দুই বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল ৫ দল নামে বামপন্থীদের ‘নিজস্ব’ রাজনৈতিক জোট গঠন করে। ৫ দল বামপন্থীদের জোট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে। ৯০ দশকের শেষার্ধে বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর উদ্যোগে গণফোরাম, গণতন্ত্রী পার্টি ইত্যাদি মিলে গঠন করা হয় ১১ দল। আর ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ এই ১১ দলকে হজম করে নিয়ে গঠন করে ১৪ দলীয় জোট। সুতরাং দল গুণে জোটের নামকরণের এই অদ্ভূত কায়দাটা এদেশে বুর্জোয়াদেরই আবিষ্কার। এতে করে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের সাথে ‘কমিউনিস্ট’ ‘সমাজতন্ত্রী’ বা ‘শ্রমিক’ পার্টিসমূহের ঐক্যে মস্ত সুবিধাই হয়। Read the rest of this entry »