লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

১৮ আগস্ট খাগড়াছড়িতে নিহত হলেন সাত জন আদিবাসীএর আগে ১৪ আগস্ট চার জন আদিবাসীকে অপহরণেপর জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। অপহরণের প্রতিবাদে ১৮ আগস্ট ছিল ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) নেতৃত্বে সমাবেশ। ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত সংগঠনের অফিসে জড়ো হচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে একদল বন্দুকধারী তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নিহত হন ছয় জন। আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিসিপির (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) নেতা তপন চাকমা। তিনি বেশ অগ্রসর চিন্তা ধার করতেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক মহলেও আন্তরিক এ নেতা বেশ পরিচিত ছিলেন।

নিশ্চিতভাবেই এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। যা শুরু হয়েছে বহুদিন আগেই। পাহাড়ে বিদ্যমান অশান্তির মূলে রয়েছে সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে তারা পাহাড়ে অঘোষিত সেনা শাসন জারি রেখেছে। আর সেখানে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া এ হামলা যে সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। কারণ দুদফায় হামলা করেছে সন্ত্রাসী চক্র। স্বনির্ভর বাজারে বিজিবি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের সামনেই কিভাবে হামলা চালালো সন্ত্রাসীরা? বিজিবি ও পুলিশ কেন কোনো অ্যাকশন নিলো না? এ প্রশ্নগুলো পাহাড়ি জনগণ তুলছেন। প্রশ্নগুলো যৌক্তিক এবং অতীতের ধারাবাহিকতায় এটাও যে সেনা মদদপুষ্ট, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না!

তপনদের রক্ত বৃথা যাবে না

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই সেনামদদে পাহাড়িদের মধ্যে বিভক্তি ও সংঘাতের রাজনীতি চলমান রয়েছে। পাহাড়িদের মধ্যে ডিভাইড এন্ড রুল তত্ত্বের প্রয়োগ করা হয়েছেপাহাড়িদের হাতে পাহাড়িদের হত্যা করিয়ে পাহাড়ের শক্তিকে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেয়া এ নীতির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি ইউপিডিএফের নেতৃস্থানীয় সংগঠক মিঠুন চাকমাকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১০ মাসে একের পর এক হামলাপাল্টা হামলার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ লাশের মিছিল নতুন করে ভাববার বাস্তবতা সামনে এনেছে। পাহাড়ের সংগ্রামকে সারসসংকলন না করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। প্রকৃত বন্ধু শত্রুদের সম্পর্কে নতুন করে না ভাবতে পারলে সংগ্রাম বারবার বিপর্যয়ের দিকেই ধাবিত হবে। আমরা হারাবো আন্তরিক নেতৃত্বকে। যারা প্রকৃতই পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে লড়াই করতে এসেছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। মুক্তিযুদ্ধে এদেশের বাঙালি জনগণের সাথেই পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরাও অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে রাষ্ট্র তাদের কিছুই দেয়নি। জনগণের নূন্যতম মৌলিক অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, বিদেশের কর্তৃত্বহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, শোষণ মুক্তির কোনোটা পূরণ হয়নি। এখানে কখনো সোভিয়েতের, কখনো আমেরিকার আবার কখনো বা ভারতের অথবা চীনের মদদে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।

যে বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তির লড়াই করেছে, সেই দেশের কথিত স্বাধীন সরকার ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশেসকল জাতিসত্তার মানুষকে বাঙালি বানাতে চেয়েছিলেন। অন্যান্য জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি। ১৯৭২ সাল থেকেই পাহাড়ে জাতিসত্তাসমূহ লড়াই চালিয়ে আসছে। পাহাড়ে বাংলাদেশের সকল সরকার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। লোগাং, লংগদু থেকে শুরু করে অসংখ্য গণহত্যা পাহাড়ে সংগঠিত হয়েছে। পাহাড়ের প্রশ্নে এদেশের শাসকশ্রেণীর সকল অংশের ভূমিকা একই রকম। পাহাড়ের জনগণ এ সমস্ত নিপীড়নের বিরোধিতা করে আসছেন ধারাবাহিকভাবে। আজ পাহাড়ে দিনেরাতে নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন। পাহাড়ী নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, খুন হচ্ছেন। তাদের মিটিংমিছিল, সভাসমাবেশ করার অধিকার দেয়া হচ্ছে না। কল্পনা চাকমাদের কোনো খোঁজ রাষ্ট্র দিতে পারেনি আজও। কিলোমিটার প্রতি পর পর সেনাক্যাম্প বসিয়ে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীকে সামরিক শাসনের ভেতরে রাখা হয়েছে।

বাঙালি গরীব জনগণকে পাহাড়ে পুনর্বাসন করে কৃত্রিমভাবে দাঙ্গা তৈরি করার সকল চক্রান্ত বাস্তবায়ন করে চলেছে বাঙালি ধনিকশ্রেণীর সরকারগুলো। সেটেলারদেরকে জাতিগত উসকানি দিয়ে শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনী সেখানে শক্ত সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছে। পাহাড়ীদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে সেটেলারদের বসানো হয়েছে এ প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সবের বিরুদ্ধে পাহাড়ের জনগণ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃত জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেননি। তারা একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে চলেছেদীর্ঘদিন ধরেঅতিসত্তর পাহাড়ের সংগ্রামকে এ বৃত্ত থেকে বের করে আনা দরকার

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রাম চলছে, তাকে ভাতৃঘাতী সংঘাতে পরিত করতে পেরেছে শাসকশ্রেণী। তারা পাহাড়ে যেমন নব্য পাহাড়ী আমলাদালাল তৈরি করেছে। তেমনি তৈরি হয়েছে নানা রঙের বুর্জোয়া। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সন্তু লারমা। তারা পাহাড়ের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে যারা দাঁড়াতে চেয়েছিল সেই ইউপিডিএফও এখন পর্যন্ত সঠিক বিপ্লবী দিশা হাজির করতে পারেনি। বরং পাহাড়ের বিরোধী দলের মতো করে গড়ে উঠেছে। যদিও ইউপিডিএফের মধ্যেই পাহাড়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নবীন মানুষ রয়েছেন, যারা পাহাড়কে নিপীড়নমুক্ত করতে চান। তাঁদের এখন নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ ইউপিডিএফ এবং অন্যান্য সব গ্রুপই পাহাড়ের লড়াইকে পথ দেখাতে পারছে না।

আসুন, একটু লক্ষ্য করি উপরের কথাগুলো সত্য নাকি মিথ্যা! গত কয়েক বছরের কথা যদি আমরা পুনর্মূল্যায়ন করি তাহলে দেখবো পাহাড়ে শুধু পাহাড়ি জনগণই হত্যার্ষণের স্বীকার হচ্ছেন। এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। উপরন্তু পাহাড়ে নিজ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই সংঘাত চলছে। এখানে লাভবান হচ্ছে কে? লাভবান হচ্ছে সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনী বুর্জোয়া এবং পাহাড়ি নব্যদালাল ধনীকশ্রেণী

মাও সেতুঙ বলেছিলেন, কে শত্রু আর কে মিত্র এই বিষয়টি ঠিক করাই হচ্ছে সংগ্রামের মূল বিবেচ্য দিক।

এক্ষেত্রে পাহাড়ে শত্রু হলো সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনিক শাসকশ্রেণী এবং পাহাড়ের নব্যদালাল বুর্জোয়াশ্রেণী। আর বন্ধু বা মিত্র কারা? পাহাড়ের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, সমতলের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনযারা প্রকৃতই পাহাড়ের শোষণমুক্তির পক্ষে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবে পাহাড়ের সর্বহারাশ্রেণী।

পাহাড়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানে যাদের সেটেল করা হচ্ছে তারাও মূলত শত্রু শিবিরের নয়। পাহাড়ে যেসব বাঙালিকে সেটেল করা হয়েছে, তারাও সমতলে নিপীড়িত। তারা সেনা মদদে বাধ্য হয়েই সেটেল হচ্ছেন। এদের মধ্যকার মানবিক, সবচেয়ে নিপীড়িত অংশটি সংগ্রামের শত্রু নয়। জমি দখলের প্রশ্নে প্রতিরোধ যদিও অনিবার্য। কিন্তু তারা জনগণেরই আরেকটি নিপীড়িত অংশ। তাদেরকে চোখ বন্ধ করে শত্রুর কাতারে ফেলে দেয়াটা হবে মারাত্বক ভুল। যা শাসকরা সব সময়েই চাইবে। পাহাড়ে দীর্ঘদিন আগে সেটেল হওয়া বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই এখন লুটপাটের মধ্য দিয়ে নব্যধনীকশ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। মূলত তারাই শাসকশ্রেণীর পক্ষে উগ্রবাঙালি চেতনার প্রয়োগকারী, বিভেদ সৃষ্টিকারী। এদের বিরুদ্ধেও লড়াইয়েও নিপীড়িত বাঙালিরা মিত্রশক্তি। অর্থাৎ লড়াইটা হবে শ্রেণীর লড়াই এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না।

সারাবিশ্বেই আজ জাতিগত লড়াই সংকীর্ণ আকার ধার করেছে। উগ্রজাতীয়তাবাদ কোনো সমাধান হতে পারে না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আরেক জাতীয়তাবাদ কখনো মুক্তি দিতে পারে না। রুশ বিপ্লব এবং চীন বিপ্লব তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে! এর পরেও আমাদের দেশের পাহাড়ি নেতৃত্ব এটা বুঝতে ব্যর্থ হলে, তা হবে হতাশাজনক। তারা এখনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। এটাকে বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে পারেননি।

বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে হলে অবশ্যই মাওবাদী বিপ্লবী পথ অবলম্বন করতে হবে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে প্রকৃত মিত্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

এক্ষেত্রে আমাদের শিখতে হবে ভারতের মাওবাদী পার্টির নেতৃত্বে মধ্যভারতে আদিবাসী জনগণের সংগ্রাম থেকে। তারা কিভাবে জাতিগত লড়াইকে একটি বৃহত্তর দিকে এগিয়ে নিয়েছেন, তা থেকে আমাদের ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে এবং পাহাড়েও নতুন ভিত্তিতে লড়াইকে জোড়দার করতে হবে। পাহাড়সমতলের সমগ্র নিপীড়িত জনগণ এক হয়ে এই শোষণমূলক রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে, গড়ে তুলতে হবে এক মানবিক, নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রএছাড়া শহীদ তপন চাকমাদের রক্ত বৃথা যাবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই তপন চাকমাদের আত্মত্যাগকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বৃহত্তর সংগ্রামের জন্যই প্রস্তুত হতে হবে।

পাহাড় থেকে সেনা শাসন তুলে নিতে হবে!

অবিলম্বে সেটেলার বাঙালিদের অন্যত্র সম্মানজনক পুনর্বাসন করতে হবে!

পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে!

জঙ্গলের অধিকার আদিবাসীদের হাতে দিতে হবে!

Advertisements

গ্রন্থ পর্যালোচনা :: মুখোশ ও মুখশ্রী

লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি শেষ করার মধ্যদিয়ে এটুকু আরও পরিষ্কার হলো যে, জানার কোনো শেষ, শেখারও কোনো শেষ নেই। জীবন মানেই জানা আর শেখা। সেই জানাকে কাজে লাগানোর জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার জন্য মানুষের মধ্যে নিজের জ্ঞানকে বিতরণ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস এ লেখাটি। একইসাথে এ লেখার যে কোনো মতামত আমাকে বিকশিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বন্ধু বই। এখন পর্যন্ত এ সত্যটিকে বিশ্বাস করতে চাই, এ কথাটির উপর আস্থাও রাখতে চাই। একটা বই যে মানুষকে কতটা আন্দোলিত করতে পারে তা তো আর বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বই আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। নিজেকে নতুন করে ভাবার জন্য, নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য সহযোগিতা করে। যা হোক, মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি পড়ে বেশ কিছু প্রশ্ন এরই মধ্যে আমার চিন্তাজগতে প্রবেশ করেছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য আরও কিছু বইয়ের দারস্থ হতে হবে। আলোচ্য বইটিতে মোট দশটি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রতিটা প্রবন্ধই চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। অভাব, সংস্কৃতি, চেতনা, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এ বইটি থেকে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোর চরিত্রকে পাল্টে দিচ্ছে যে আন্দোলন, তা হলো চলমান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনএই আন্দোলন যারা করছে, তারা হলেন ‘সকাল আটটানটার সূর্য’তাদের আটকানোর মতো কোনো শক্তি নেইতাদের থামিয়ে দেয়ার মতো কোনো ট্যাঙ্ক নেই, নেই কোনো জলকামানশিক্ষার্থীদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ যে রাজনৈতিক ভারিক্কি ধার করে, তার অনেকটা এই কিশোরের দল ছাড়িয়ে গেছেতাদের থেকে বাংলাদেশের সকল বিপ্লবীদের শিখতে হবেএখানেই ‘জনগণের কাছ থেকে শেখো’ তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগের প্রশ্ন চলে আসেএটা না করে প্রথমেই তাদের শেখাতে যাওয়া হবে বিরাট মাপের ভুল Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অজয় রায়

বায়ুর গুণগতমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অক্ষমতার জন্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট পারফরমেন্স ইন্ডেক্স ২০১৮এর সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান (১৭৭) তলানিতে এসে ঠেকেছে।[] গত জুনে সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টএর সহায়তায় ডাউন টু আর্থ ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ভারতের পরিবেশের অবস্থা (এসওই) ২০১৮ শীর্ষক বার্ষিক সারসংক্ষেপে তেমনটাই দেখা গেছে। এদিকে, দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৭ সালে গড়ে প্রতিদিন বনাঞ্চলে প্রায় ৬টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে। আর গত এক বছরে বনসংক্রান্ত না এমন ক্রিয়াকলাপের জন্য অরণ্যভূমির চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্র বৃদ্ধি ঘটেছে ১৪৬ শতাংশ।[] Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরেই নকশালবাড়ি আন্দোলন ও কমরেড চারু মজুমদারের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছেনতিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বরাবরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন, রাজনৈতিক লাইনের নিরিখে মূল্যায়ন করেননিযদিও বদরুদ্দীন উমর লেনিনস্তালিনের নাম ব্যবহার করে শোধনবাদী রাজনীতির চর্চা করেন; তথাপি তিনি ও তাঁর সংগঠন (মুক্তি কাউন্সিল) বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে লেখায় বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গীতে ভ্রান্তি নিয়ে আলাপ করা হবেকেননা এই ভ্রান্ত দৃষ্টি দিয়েই তাঁর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার জুন ২০১৮ সংখ্যায় তিনি নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা ভাস্কর নন্দীর (যিনি পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বিপ্লবী পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) স্মরণে লেখা একটি প্রবন্ধে কমরেড চারু মজুমদারকে (সিএম) যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমণ করেছেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে, কথিত নির্ভুল বিপ্লবের তত্ত্বের সাগরে গা ভাসিয়ে . সিএমকে মূল্যায়ন করেছেন নিছক বিলোপবাদী দৃষ্টিতে Read the rest of this entry »


বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলন

জাতীয় কমিটি

তারিখ: ১৩ জুলাই ২০১৮

সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, আমলামুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদবিরোধী নয়াগণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগতান্ত্রিক বিপ্লব বেগবান করুন” ও “সমাজতন্ত্রকমিউনিজমের লক্ষ্যে মার্ক্সবাদলেনিনবাদমাওবাদের আদর্শে সজ্জিত হোন” এই স্লোগানকে ধারণ করে বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলনের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার ঢাকাস্থ শিশু কল্যা পরিষদ মিলনায়তনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন নয়াগতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি কমরেড জাফর হোসেন ও সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির সমন্বয়ক কমরেড বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। কাউন্সিল কমরেড আহনাফ আতিফ অনিককে সভাপতি করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠন করে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।”

সে অনেক বছর আগের কথা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন মহান শিক্ষক আমাদের বোকাবুড়োর গল্প শুনিয়েছিলেন। সে গল্প শুনে এদেশে এক বোকাবুড়ো শুরু করেছিলেন পাহাড় সরানোর কাজ। তাঁর ডাকে হাজার হাজার দেবদূত এসেছিলেন এ কাজে অংশ নিতে। তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন কখনো পুলিশের গুলিতে; কখনো জেলের অন্ধুকুঠুরিতে; কখনো শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে। কেউ কেউ জীবনের দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন কারান্তরালে। তাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ পাহাড় সরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। আজ তাঁরা গাইতিকোদাল নিয়ে ‘হেই সামালো’ হেঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন পাহাড় সরানোর কাজ।

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বয়স নয় নয় করেও বিরানব্বইচুরানব্বই বছর হয়ে গেলো। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নকশালবাড়ির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্রযুবদের মধ্যে যে আলোড়ন তুলেছিল, তা এক কথায় বললেঅভূতপূর্ব। আত্মত্যাগের এ যেন এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সেই বোকাবুড়ো। কি ছিল তাঁর আবেদনে, যা শুনে হাজার হাজার ছাত্রযুব ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে, ঘরবাড়ি, পরিবারপরিজন ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই পাহাড় সরানোর মহাযজ্ঞে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: হাসিবুর রহমান

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন সরকারের কাছে তার রিপোর্ট পেশের পর থেকেই শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য, শিক্ষার সংকট ইত্যাদি বিষয়ে গত দুই বছরে কিছু লেখালেখি হয়েছে। যদিও এই লেখালেখি পরিমাণগত ও গুণগত মানের দিক থেকে যথেষ্ট নয়।

শিক্ষানীতি নিয়ে একটি উল্লেখ্যযোগ্য প্রকাশনা হলো বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান এর শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংকট প্রসঙ্গে পুস্তিকাটি। গত বছরের জুলাই মাসে এই পুস্তিকাটি প্রকাশ করে বাসদএর ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

খালেকুজ্জামান বাসদএর আহ্বায়ক, তারা দাবি করেন যে বাসদই এদেশের একমাত্র প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক দল। সে কারণেই এই বিপ্লবী রাজনৈতিক দলটির শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী পর্যালোচনার দরকার হয়ে পড়েছিল। এই প্রবন্ধটিতে সেটাই করা হয়েছে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল শামছ্ বিল্লাহ

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

রাফায়েল ল্যামকিন। এই ভদ্রলোকের বাড়ি ছিল পোল্যান্ডে। পেশায় ছিলেন আইনজীবী। এই ভদ্রলোক প্রথম genocide বা গণহত্যা শব্দটির প্রবর্তন করেন। সময়টা ছিল ১৯৪৪ সাল। উল্লেখ্য তখন পর্যন্ত গণহত্যা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় নি। তিনি দুটি শব্দ থেকে এই শব্দটি তৈরি করেন। একটি হলো গ্রিক শব্দ genos যার অর্থ পরিবার বা গোত্র বা দল। আরেকটি শব্দ হলো ল্যাটিন শব্দ cide যার অর্থ মেরে ফেলা। এই শব্দটি তিনি তার লেখা বই Axis Rule in Occupied Europe: Laws of Occupation – Analysis of Government – Proposals for Redress অন্তর্ভুক্ত করেন। এই শব্দটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সাধারণত গণহত্যা বলতে কোনো জাতিকে পুরোপুরি মেরে ফেলা বা ধ্বংস করা নয় বরং সেই জাতির কোনো অংশকে মেরে ফেলা বা মেরে ফেলতে চাওয়াকেই বোঝায়। এটার উদ্দেশ্য হতে হবে বিভিন্ন জাতির নিজস্বতা, জীবনধারা ধ্বংস করার বা ঐ নির্দিষ্ট জাতিকে মুছে ফেলার একটা সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি। এটা হতে পারে কোনো জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, জাতীয়তাবোধ, ধর্ম ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে; রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পার্থক্য সৃষ্টি করা বা ঐ জাতির কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, আত্মমর্যাদা, এমনকি ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব জীবনধারা পর্যন্ত ধ্বংস করা। Read the rest of this entry »