লিখেছেন: অজয় রায়

বিশ্ববিখ্যাত রুশ কথাশিল্পী ম্যাক্সিম গোর্কির প্রকৃত নাম আলেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ পেশকভ। তাঁর জন্ম ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ রাশিয়ার নিঝনি নোভোগোরোদ শহরে।[] শৈশবে তিনি অনাথ হয়ে যান। দারিদ্র্যের তাড়নায় আট বছর বয়সেই রুটিরুজির জন্য বেরিয়ে পড়তে হয় আলেক্সেইকে। শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। ভোলগা নদীর স্টিমারের কেবিন বয় থাকাকালে স্টিমারের রাঁধুনির কাছে পড়তে শেখেন তিনি।

আলেক্সেইয়ের দিদিমা তাঁকে বিভিন্ন রূপকথা, লোককথা ও লোকসংগীত শোনাতেন। যা থেকেই সাহিত্য সম্পর্কে প্রথম আগ্রহ জন্মায় তাঁর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত এ মানুষটির ছিল অদম্য জ্ঞানপিপাসা। পৃথিবীর পাঠশালাতেই তিনি হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত। উনিশ বছর বয়সে অবশ্য আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন। Read the rest of this entry »

Advertisements

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

প্রচলিত সাংবিধানিক নিয়মে পাঁচ বছর ঘুরে আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হলো। চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। সেই সঙ্গে জনমনে আবারও শঙ্কামৃত্যুর মিছিল এবং নির্বাচনী সহিংসতারও। সরকার, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল, অথবা নির্বাচনপন্থী কথিত বাম দলগুলোর প্রচারণায় মনে হতে পারে, যেন নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র! পাঁচ বছর পর পর ভোটগ্রহণ আর তাতে শাসক নির্ধারণের মানেই জনগণের গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র শ্রেণীনিরপেক্ষও নয়। নির্বাচন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় বিষয়টি হলোআমরা কোন ব্যবস্থায় নির্বাচনের কথা বলছি! Read the rest of this entry »


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! Read the rest of this entry »


লিখেছেন: সৌম্য মণ্ডল

শুধু মাত্র বিজেপির চক্রান্ত হিসেবে দেখলে বা বাঙালি অসমীয়া হিন্দু মুসলিম আত্মপরিচয়ের নিরিখে দেখলে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অফ সিটিজেন্স বা এনআরসি সমস্যায় অবস্থান গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু চাপা পড়ে যায় গভীর সমস্যা। যার সমাধান সহজ নয়। তবে যারা যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মেহনতি জনতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাদের পক্ষে এটা খুবই জটিল এক সময়। কারণ এ ক্ষেত্রে লড়াইটা শোষক বনাম শোষিতের নয়, লড়াইটা শোষিত জনগণের নিজেদের মধ্যে। একদিকে অসমীয়া বোরো ও অন্যান্য আদিবাসীরা, অন্যদিকে রাষ্ট্রহীন হতে চলা লাখ লাখ মানুষ। দার্শনিক মাও সেতুঙ মনে করতেন যে, শোষিত জনগণের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শত্রুতামূলক নয়, কিন্তু সঠিক সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে এ দ্বন্দ্বের মীমাংসা না হলে তা শত্রুতামূলক দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। আর শোষিত মানুষের মধ্যে শত্রুতা শোষকের ঠোঁটের কোণে পৈশাচিক হাসির জন্ম দেয়! Read the rest of this entry »


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

তানিয়া। একটি নাম। এক তেজোদীপ্ত তরুণী। যে নামের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগ আর বিপ্লবী চেতনা যে নামের অন্তর্নিহিত শক্তিতে চেতনার জগতে প্রবেশ করে বিপ্লবী তেজ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন সত্ত্বেও আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, দেখাতে চাই। এজন্য বিপ্লবী তানিয়াদের জীবনচরিত পাঠ করা খুব জরুরি। তানিয়াদের বিপ্লবী তেজ তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তানিয়াকে জানাবোঝার জন্য, পাঠ করার জন্য খুব বেশি তথ্যউপাত্ত ইতিহাসে নেই বললেই চলে। বেশিভাগ সময় এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁকে চে গুয়েভারার একজন সহযোগী হিসেবেই উপস্থাপন করেছে। এর বাইরেও যে মানুষটির অবদান নিজস্ব সত্তায় যে মানুষটি বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছিলেন সে অবদান কালের বির্বতনে হারিয়ে যাওয়ার পথে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

১৮ আগস্ট খাগড়াছড়িতে নিহত হলেন সাত জন আদিবাসীএর আগে ১৪ আগস্ট চার জন আদিবাসীকে অপহরণেপর জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। অপহরণের প্রতিবাদে ১৮ আগস্ট ছিল ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) নেতৃত্বে সমাবেশ। ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত সংগঠনের অফিসে জড়ো হচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে একদল বন্দুকধারী তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নিহত হন ছয় জন। আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিসিপির (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) নেতা তপন চাকমা। তিনি বেশ অগ্রসর চিন্তা ধার করতেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক মহলেও আন্তরিক এ নেতা বেশ পরিচিত ছিলেন। Read the rest of this entry »


গ্রন্থ পর্যালোচনা :: মুখোশ ও মুখশ্রী

লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি শেষ করার মধ্যদিয়ে এটুকু আরও পরিষ্কার হলো যে, জানার কোনো শেষ, শেখারও কোনো শেষ নেই। জীবন মানেই জানা আর শেখা। সেই জানাকে কাজে লাগানোর জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার জন্য মানুষের মধ্যে নিজের জ্ঞানকে বিতরণ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস এ লেখাটি। একইসাথে এ লেখার যে কোনো মতামত আমাকে বিকশিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বন্ধু বই। এখন পর্যন্ত এ সত্যটিকে বিশ্বাস করতে চাই, এ কথাটির উপর আস্থাও রাখতে চাই। একটা বই যে মানুষকে কতটা আন্দোলিত করতে পারে তা তো আর বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বই আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। নিজেকে নতুন করে ভাবার জন্য, নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য সহযোগিতা করে। যা হোক, মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি পড়ে বেশ কিছু প্রশ্ন এরই মধ্যে আমার চিন্তাজগতে প্রবেশ করেছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য আরও কিছু বইয়ের দারস্থ হতে হবে। আলোচ্য বইটিতে মোট দশটি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রতিটা প্রবন্ধই চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। অভাব, সংস্কৃতি, চেতনা, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এ বইটি থেকে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোর চরিত্রকে পাল্টে দিচ্ছে যে আন্দোলন, তা হলো চলমান ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনএই আন্দোলন যারা করছে, তারা হলেন ‘সকাল আটটানটার সূর্য’তাদের আটকানোর মতো কোনো শক্তি নেইতাদের থামিয়ে দেয়ার মতো কোনো ট্যাঙ্ক নেই, নেই কোনো জলকামানশিক্ষার্থীদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ যে রাজনৈতিক ভারিক্কি ধার করে, তার অনেকটা এই কিশোরের দল ছাড়িয়ে গেছেতাদের থেকে বাংলাদেশের সকল বিপ্লবীদের শিখতে হবেএখানেই ‘জনগণের কাছ থেকে শেখো’ তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগের প্রশ্ন চলে আসেএটা না করে প্রথমেই তাদের শেখাতে যাওয়া হবে বিরাট মাপের ভুল Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অজয় রায়

বায়ুর গুণগতমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অক্ষমতার জন্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট পারফরমেন্স ইন্ডেক্স ২০১৮এর সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান (১৭৭) তলানিতে এসে ঠেকেছে।[] গত জুনে সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টএর সহায়তায় ডাউন টু আর্থ ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ভারতের পরিবেশের অবস্থা (এসওই) ২০১৮ শীর্ষক বার্ষিক সারসংক্ষেপে তেমনটাই দেখা গেছে। এদিকে, দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৭ সালে গড়ে প্রতিদিন বনাঞ্চলে প্রায় ৬টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে। আর গত এক বছরে বনসংক্রান্ত না এমন ক্রিয়াকলাপের জন্য অরণ্যভূমির চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্র বৃদ্ধি ঘটেছে ১৪৬ শতাংশ।[] Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরেই নকশালবাড়ি আন্দোলন ও কমরেড চারু মজুমদারের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছেনতিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বরাবরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন, রাজনৈতিক লাইনের নিরিখে মূল্যায়ন করেননিযদিও বদরুদ্দীন উমর লেনিনস্তালিনের নাম ব্যবহার করে শোধনবাদী রাজনীতির চর্চা করেন; তথাপি তিনি ও তাঁর সংগঠন (মুক্তি কাউন্সিল) বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে লেখায় বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গীতে ভ্রান্তি নিয়ে আলাপ করা হবেকেননা এই ভ্রান্ত দৃষ্টি দিয়েই তাঁর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার জুন ২০১৮ সংখ্যায় তিনি নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা ভাস্কর নন্দীর (যিনি পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বিপ্লবী পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) স্মরণে লেখা একটি প্রবন্ধে কমরেড চারু মজুমদারকে (সিএম) যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমণ করেছেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে, কথিত নির্ভুল বিপ্লবের তত্ত্বের সাগরে গা ভাসিয়ে . সিএমকে মূল্যায়ন করেছেন নিছক বিলোপবাদী দৃষ্টিতে Read the rest of this entry »