মূল: অ্যালান এডগার

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

আমি সেই সময়টায় জনবসতি থেকে বহুদূর স্কটিশ হাইল্যান্ডের কেয়ার্নগর্ম পাহাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। দেখলাম একদল মানুষরূপী প্রাণী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম ওরা ভিন গ্রহের। ওদের প্রত্যেকেরই কান স্টার ট্রেকের মি. স্পকের মতো খাড়া খাড়া। ওরা যখন আমার সামনে এসে পড়ল, তখন তাদের একজন বলে উঠল, “শুভেচ্ছা, আর্থলিং!” পৃথিবীর বাসিন্দাদেরকে ওরা ‘আর্থলিং’ বলে। আরেকটা বিষয় হলো, কোনো সাধারণ মানুষ তাদের মতো করে কথা বলে না। “আমরা মহাকাশ থেকে তোমাদের জন্য অভিবাদন নিয়ে এসেছি!’’ সৌভাগ্যবশত আমি প্রতিটি কথাই বুঝতে পারলাম, কারণ পৃথবীতে যে ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা হয়, তারা তার একটা ভাষাই শিখেছে আর সেটাই আমি জানি। Read the rest of this entry »

Advertisements

লিখেছেন: অজয় রায়

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি কিম জংউন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জায় ইনএর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হয়েছে গত ২৭ এপ্রিল।[] বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করা তাদের সাধারণ লক্ষ্য। তবে এই শান্তির উদ্যোগ ব্যাহত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসররা। এর মধ্যেই সিঙ্গাপুরে জুনের ১২ তারিখে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি কিমের বৈঠক হবার কথা রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পারেন। আর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়া বা ইরাকের যেভাবে তুলনা টেনেছেন, তাতে কিম জংউন জানিয়েছেন, ১২ জুন সিঙ্গাপুরে শীর্ষ বৈঠকে যোগদানের বিষযয়টি তাঁদের ‘পুর্নবিবেচনা করতে হবে’।[] Read the rest of this entry »


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

একেকজন কমরেড শহীদ হওয়ার খবর আসে

কেঁদে উঠে মন

তবু চোখ কাঁদে না

শ্রেণীসংগ্রামে জীবন বিসর্জন

এটাই তো তাঁরা চেয়েছিলো Read the rest of this entry »


লিখেছেন: নীলিম বসু

মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে ৩৯ জন মাওবাদী বিপ্লবীকে হত্যা করেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বাহিনী। এ ঘটনাকে ‘এনকাউন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। গণহত্যাকে এখানে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ আক্রমণটা হয়েছে লাল ঝাণ্ডার ওপর। লেনিন মূর্তি ভাঙা যেমন ছিলো, তারই হিংস্র এক রূপ। ওই সময় যেভাবে লাল ঝাণ্ডা আঁকড়ে ধরা প্রত্যেকে রাস্তায় নেমে আক্রমণের জবাব দিয়েছিলো, এবার তার চেয়েও জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। এই প্রয়োজনীয়তা অনেকেই বুঝতে পারছেন। যারা নকশালপন্থী/মাওবাদী রাজনীতির সাথে মতপার্থক্য রাখেন, এমন অনেকেও এই গণহত্যার প্রতিবাদ হিসেবে ‘নকশালবাড়ী লাল সেলাম’ স্লোগান তুলছেন। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: অজয় রায়

অন্ধমূকবধির নাকি?

অথর্ব বোধহয়

লোকে তাই ভেবেছিল;

লাথি মেরে ফেলেছিল।

কিন্তু তার যে সাড় আছে!

মৃত তো নয়, কাটলে যে

তারও রক্ত বেরোয়! Read the rest of this entry »


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

[এই লেখাটি ক্রমাগত সমৃদ্ধ হচ্ছে। আর এর পেছনে কয়েকজন কমরেডের সম্মিলিত উদ্যোগ রয়েছে। নিজেদের মধ্যকার বিতর্কআলোচনাসমালোচনাআত্মসমালোচনাপর্যালোচনায় অনেক তীর্যক অনুসন্ধান বেরিয়ে আসছে। যা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। নামোল্লেখ না করেই কমরেডদের ধন্যবাদ জানাই। আর এতে সব কমরেডদের মতামত জানানোর আহ্বান জানাই।]

ভালোবাসা শব্দটার ব্যাপ্তি বেশ বড়। প্রেম তো আরো গভীর বিষয়। প্রেমের মানে নিবিষ্ট, একাগ্র আবেগযেখানে ব্যক্তিসত্তা অপর সত্তার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। তবে প্রেমের সংজ্ঞাটা অনেকটা অসংজ্ঞায়িতযার মানেতাকে অনেকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, কিন্তু তা পরিপূর্ণ নয় এখানে পছন্দের ক্ষেত্রে যেমন শ্রেণীগত অবস্থান ক্রিয়াশীল থাকে, তেমনি জীনগত রসায়নও তাতে ক্রিয়াশীল। অর্থাৎ শরীর এবং মন বা চিন্তা; উভয়টিই পছন্দের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে

ব্যক্তির চেতনাযাতে ব্যক্তির চিন্তাগত এবং শারীরবৃত্তীয় রসায়ন, উভয়টির প্রতিফলন ঘটে, তার নৈকট্য বোধের আবেগের মাধ্যমেই ব্যক্তিসমূহের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠতে পারে এই আবেগ বাঁধভাঙা হতে পারে না, কারণ তাতে ওই সম্পর্কটাও ভেসে যাবে। আবেগ অবশ্যই থাকতে হবে, তবে তা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। আবেগ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে মুক্তির পথে এগোনো তো দূরের কথা, মানুষ হারাতে পারে তার মানবিকতা। তা বোঝার জন্য একটা উদাহরণ দিই। মনে করুন, কোনো ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তাকে দেখে অপর ব্যক্তির যৌনানুভূতি জাগ্রত হলো, হাসি, কান্না, দুঃখ, সুখ, কষ্ট, আনন্দ, বিরহের মতো এটাও আবেগ। এখন ওই ব্যক্তি কি অপর ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে তার যৌনানুভূতিকে নিবৃত্ত করতে? আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না হলে তো তিনি অপরের চিন্তা বা মতামতকে কোনো তোয়াক্কা না করে সেটা করতেই পারেন। কিন্তু মানবিকতা আমাদের তা করা থেকে বিরত রাখে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। এমনি করে সম্পর্কে পারস্পরিক রাগারাগি হতে পারে, মতভিন্নতা হতে পারে। কিন্তু তখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করে অপরকে আঘাত করা, বা জোর করে নিজের চিন্তাটা চাপিয়ে দেয়া হলে সেই সম্পর্কটা কী আর টিকে থাকতে পারে?? আবার প্রেমিকপ্রেমিকার মধ্যে কোনো একজনের আকাঙ্ক্ষা হলো অপরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর; এ ক্ষেত্রে অপরপক্ষ তাতে সম্মতি না জানালেও কী আবেগের বশবর্তী হয়ে তা কার্যকর করতে হবে? এটা কী আধিপত্যবাদী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ নয়? বস্তুত আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবতার বিচারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্যই মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী। আর এটাই মানবিকতার সৃষ্টিশীলতা। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

প্রবাসে যারা থাকেন, তারা দেশকে কিছুটা হলেও সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যান। এই বয়ে নিয়ে চলা কেবল পরনেচলনেবলনে নয়, আহারেও নয় কেবল, তারও অধিক, অন্যকিছু। বলা চলে বিদেশের মাটিতে স্বদেশের বীজ বপন। ফলন কেমন হবে, এ নিয়ে তাদের ভাবনা তেমন নেই। ভেতর থেকে উঠে একটা অনুভব, তারিয়ে তারিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা নিজ বাসভূমিতে। প্রবাসে থেকেও সুযোগ পেলেই, তাই লাউ, শিম, শাক, কী নেই তালিকায়, চাষ করে, বাড়ীর পেছনে; অথবা টবে। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

অরুন্ধতী রায়প্রতিরোধ, সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিছবি। তাঁর সংগ্রাম একমুখী ছিল না। তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বিকাশও সরলরৈখিক বা এক ঝটকায় আসেনি। অরুন্ধতীর সাহিত্য চর্চাও এই রাজনৈতিকতার বাইরে থাকেনি। চেতনাগত বিকাশের পর্যায়ে উপন্যাসের কথিত ছক ভেঙে সেখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে মেলে ধরেছেন। সামাজিক অব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের কথিত সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামঅরুন্ধতী রায়কে রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্টে পরিণত করে।

অরুন্ধতী রায় কালির অক্ষরে চালিয়ে যাচ্ছেন এক বন্ধুর সংগ্রাম। যেখানে জাতিগত, সম্প্রদায়গত, বা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের দাবি করাটা তার রাজনৈতিক চিন্তাচেতনারই অংশ। তিনি ভারতের বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে শাসন কাঠামোবিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর এজন্য তার নিন্দুকেরও অভাব পড়েনি কখনও। তার বিরুদ্ধে আনা হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ। Read the rest of this entry »


লিখেছেন: এম.এম. হাওলাদার

.

মায়ের কোলে রাখলে মাথা

কার ইশারায় খবরদারি?

মায়ের ভাষায় বলতে মানা

কোন নিয়মে হুকুম জারি?

.

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি,

শহীদ মিনার কাঁদছে কেন?

রফিকসালামবরকতেরা

প্রাণ দিয়েছেন বৃথাই যেন! Read the rest of this entry »


মূল: হেদার বল

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

[হেদার বল একজন অত্যন্ত সমাজসচেতন লেখিকা। তিনি ১৯৩৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি তাঁর বিখ্যাত ‘ম্যাডনেস’ গল্পের অনুবাদ]

—————————————

সম্প্রতি আমার এক ডাক্তারকে দেখাতে গিয়েছিলাম। তিনি তার অভ্যর্থনা ডেস্কেই বসলেন। তার পাশে রাখা চেয়ারটায় আমি বসলাম। আমার আগেকার স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পরীক্ষার রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্রগুলো তাঁর সামনেই ছিল। ডাক্তারের এক চোখ আমার দিকে এবং অন্যটি ওই কাগজপত্রের ওপর।

আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তা বলুন, এখন কী সমস্যা?”

বললাম, “আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

তিনি একটা পাতা উল্টালেন। বোধ হলো তিনি খুঁজছেন আমার আগে কখনও পাগল হবার ইতিহাস আছে কিনা। “তাই,” তিনি তাঁর আসনটার পেছন দিকে সরে বসলেন। জানতে চাইলেন, “কী কারণে আপনার এরকম মনে হচ্ছে? পৃথিবীর কোন জিনিসটা আপনাকে পাগল বানাচ্ছে?” আমি তাকে বললাম যে, পৃথিবীর সব কিছুর জন্যই আমার এরকম মনে হচ্ছে। তিনি অস্বস্তিবোধ নিয়ে ডেস্ক থেকে উঠে তার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। “একটু নির্দিষ্ট করে বলবেন কি?”

হ্যাঁ,” আমি বললাম, “মানুষ মানুষকে মারছে, একভাবে না হয় অন্যভাবে, দূষণ, অপুষ্টি…” Read the rest of this entry »