Archive for মে, 2012


লিখেছেন: আহমদ জসিম

ক্রাচের কর্নেলইতিহাসকে উপজীব্য করে উপন্যাস নির্মাণ বাংলাসাহিত্যে নতুন কিছু নয়। আমরা বরং বলতে পারি বঙ্কিমীয় কালপর্বের ধারাবাহিকতায় ক্রাচের কর্নেলএর পর্বে আসলাম মাত্র। তবে ইতিহাসনির্ভর উপন্যাস পাঠ করতে গিয়ে পাঠক হিসেবে আমাদের সামনে কিছু দাবি থাকে, যেমনইতিহাসের দায়ের সাথে শিল্পের দায় ষোলআনা পূরণ হওয়া চাই। ক্রাচের কর্নেল পাঠপূর্বে উল্টেপাল্টে দেখতে গিয়ে আমাদের দৃষ্টি আটকে পড়ে দীর্ঘ রেফারেন্সএর তালিকায়। ছোট্ট ভূমিকাটা দেখি: ‘নানা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং ভাবনাকে সৃজনশীল সংশ্লেষের মাধ্যমে উপন্যাসে উপস্থিত করেছি মাত্র।’ যদি তাই হয়, তবে ইতিহাসের দায়টা কোথায়, কোথায় রইলো শিল্পের দায়। প্রাপ্তসূত্র দিয়ে তো রিপোটিং হয়, সাহিত্য নয়। আবার শোনাকে ইতিহাসে রূপান্তর করারও নানা পদ্ধতি আছে, ক্রাচের কর্নেলে কোন পদ্ধতি প্রয়োগ হয়েছে। লেখক এইসব প্রশ্নে নির্বিকার হলেও পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নেবার চেষ্টা করবো।

উপন্যাসে আমরা প্রবেশ করলাম মিশুকের হাত ধরে, মিশুক এক আত্মহত্যাপ্রবণ তরুণ। যার কবিতার পঙ্ক্তিতে স্পষ্ট আত্মহত্যার ইঙ্গিত। এই মিশুক আর কেউ নয়, কর্নেল তাহেরে কনিষ্টপুত্র। এই মিশুক যার কাছে পিতার স্মৃতি মানেই ধূসর অন্ধকার। মিশুক ও তার প্রজন্মের আমরা এই উপন্যাসের ভিতর দিয়ে মিশুক তার পিতাকে আর পাঠক এক বিপ্লবের স্বপ্নচারি সৎ আর্মি অফিসারে জীবন চরিত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে। এই উন্মোচনের সূচনা হয় ইডেন কলেজের ছাত্রী লুতফার সাথে কর্নেল তাহেরের বিয়ের মধ্য দিয়ে। তাহের সদ্যবিবাহিত স্ত্রী নিয়ে ট্রেনে করে ঢাকা ফিরছে, পথে কাকতালিয়ভাবে দেখা মোজাফফর আহমদ আর মতিয়া চৌধুরীর সাথে। এই সাক্ষাতের মধ্যদিয়ে আমরা জানতে পারি লুতফাও একদা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। মোজাফফর মতিয়ার সাথে আলাপচারিতার ভিতর দিয়ে তাহেরের রাজনৈতিক চিন্তার সাথে পাঠকের কিছুটা পরিচয় ঘটলো। কিন্তু এই ট্রেনের কামরা থেকে আমাদের এক উল্লম্ফন দিতে হলো, ইতিহাসের নাতিদীর্ঘ বর্ণনা। ৪৭ থেকে ৬৯। লেখক যেন তার পাঠকের সামনে বাল্যশিক্ষাধারাপাত নিয়ে বসেছেন ইতিহাসের অখ শিখানোর জন্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সৌরভ ব্যানার্জী

আমাকে সেদিন আমার এক বন্ধু বলল

তোমার কবিতায় আমি খুজে পাইনা কোন উদাত্ততা, উদারতা

এমনিতে কবিতাগুলি তোমার ভালো, তবে……

আমি মনে মনে বললাম

কি করে থাকবে?

আমার ভেতরে যে জ্বলছে আগুন

যে কাউকে ক্ষমা করে না

এই আগুনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমায়

সূর্য মরে গেলে খুঁজে আনতে হবে নতুন সূর্য (বিস্তারিত…)


বিদ্রোহী

বল বীর

বল উন্নত মম শির!

শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

বল বীর

বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’

ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া

খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,

উঠিয়াছি চিরবিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!

মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজরাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!

বল বীর

আমি চির উন্নত শির!

আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,

মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!

আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,

আমি দুর্বার,

আমি ভেঙে করি সব চুরমার!

আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,

আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!

আমি মানি না কো কোন আইন,

আমি ভরাতরী করি ভরাডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!

আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকালবৈশাখীর

আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহীসুত বিশ্ববিধাতৃর!

বল বীর

চিরউন্নত মম শির! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

আমার দেশের সকল মাতা কাঁদবে আমার তরে / ভাববে তাদের আপন ছেলে গেছে দেশান্তরে//

বৃদ্ধ নজরুলএক নজরুল ভক্ত (!) বলেন, নজরুল আল্লার অলি ছিলেন। ভাবছি অদুর ভবিষ্যতে এই মোসলেম সমাজে হুমায়ুন আজাদ ও অলি হয়ে যাবে!!!

নেতাজি সুভাস চন্দ্র বলছিলেন, “যুদ্ধে আমরা নজরুলের গান গাইব, তেমনি জেলখানায় আমরা নজরুলের গান গাইব”। নজরুল যাতে নজরুল না হয়ে উঠতে পারে সে জন্য এদেশের কিছু মোসলমান কবি সাহিত্যিক কম চেষ্টা করে নাই। বিদ্রোহী কবিতার সেই চরণ ;

ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া, খোদার আসন আরশ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চিরবিস্ময় আমি বিশ্ববিধাত্রীর!”

বা,

ধরি বাসুকির ফণা জাপটি‘, ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি‘”

বা

পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন/ মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন

এমন হাজারো সাহসী উচ্চারণ আর সাম্যবাদীতার কারণে “আম জনতা মুসলমান!”; নজরুলকে কাফির বলতে দ্বিধা করে নাই। (বিস্তারিত…)


১। সভ্যতার নামে ক্ষমা চাই

দুঃসম্পর্কের ছোট্ট বোনটি আমার

আমার মা তোমার মায়ের সাথে আমাকে পরিচয় না করিয়ে দিলে

হয়তো আমার জানাই হত না তুমি থাক কুমিল্লার কোথাও!

ঠিক যেমন অনেকেই পড়ে আছে বাংলাদেশে যাদের আমি এবং আমরা জানি না,

ঠিক যেমন তোমাকেও আজকের আগে জানতাম না কখনো।

এই উচ্চবিত্ত আত্মীয়ের উত্তরবিবাহ রিসিপশন পার্টির আলোঝলমলে পরিবেশে

তুমি বড়ো বেমানান।

এখানে

হো হো করছে,

হি হি করছে,

হা হা করছে,

ছবি তুলছে,

স্মৃতি জাবর কাটছে;

সব কিছুই করছেতুলছেকাটছে অসাধারণেরা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অবিনাশ রায়

উত্তপ্ত কালো পথ, ধূলি মাখা টায়ারের ছাপ,

ধোঁয়া মিশ্রিত ধূসর, রঙহীন বায়ু।

ছায়ায় ঠান্ডা বাতাস, কোনোটা নিকোটিন মিশ্রিত,

কোনোটা বা কার্বনের পোড়া যৌগ।

মৃত্যু অবধারিত, জীবন আবর্তিত, মন চলমান অস্থির;

সুস্থির মটর গাড়ির চালক, দৃষ্টি নিবদ্ধ পথে,

অদ্ভুত একাগ্রতা!

তবু সে দেখেনি অনেক কিছু,

হয়তোবা সারা বিশ্বই চোখের আড়ালে চলে গেছে,পথটুকু বাদে;

হয়তোবা পথও দৃষ্টি গোচরে নয়।

স্থিরতার সন্দেহে উদ্বিগ্ন, স্থগিত কে?

এখানে মৃতু অবধারিত, সত্য এখানে প্রকাশ্যে সদ্য,

অন্ধ সকলে অদ্য –

যদি আবারো পড়তে হয় রাত্রিতে সানগ্লাস;

সকলে বধিরতার বার্ধক্যে বদ্ধ –

যদি আবারো কানে চুম্বনে হেডফোন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অবিনাশ রায়

নৈর্ঋতে নৈতিকতার আহ্ববান,

অধেঃ অধমের জয়গান,

ঊর্ধ্বে শূন্যে ফাঁকা আস্ফালন।

কখোনো বা দৃষ্টি মেলে,

কখোনো চোখ বন্ধ করে,

বিরামহীন বৃথা চেষ্টা।

এরপরও যা চোখের সামনে ভাসে নি; দৃষ্টি গোচর হয়নি,

যা দেখা যায়নি; তা যাবেও না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সত্যজিত দত্ত পুরকায়স্থ

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহামান্য (!) পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন বাংলাদেশে ২৪ ঘন্টার একটি সংক্ষিপ্ত সফর করে গেলেন। আমাদের মত তথাকথিত ৩য় বিশ্বের দেশের কাছে, বিশেষত এর শাসকগোষ্টির (ক্ষমতার ভিতরবাহির উভয় পক্ষ) কাছে তার এই ২৪ ঘন্টার ছোট সফর গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যে এ এক পরম শান্তির সুবাতাস। তার এই সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ সফরকে ঘিরে নানা আলোচনাআশাবাদশঙ্কা তৈরী হচ্ছে। পক্ষেবিপক্ষে আলোচনা চলছেই। হিলারী ক্লিনটনের এই সফরে এ ভুখন্ডে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছিল, তা স্পষ্টতই স্পষ্ট।

যতটুক বুঝা যাচ্ছে হিলারী ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের সময় আলোচনায় উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষার বিষয়, এমন কি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পায়। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হবার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারাবিশ্বে বন্ধু (!) সংখ্যা বাড়াতে সবসময়য়ই সচেষ্ট এবং এই ক্ষেত্রে তারা সামরিক, বিশ্বায়নের নামে ফিন্যান্স পুঁজির অবাধ প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ইস্যুকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশ যে তাদের নয়াউপনিবেশবাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিণত হয়ে উঠছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

ছু মন্তর ছু

বাতাসে মন্ত্র ছুঁড়ে দিয়ে, ত্রিকালদর্শী এক সিদ্ধচিত্ত

মগ্নচৈতন্যে সিদ্ধধ্যানে বসে, সিদ্ধ চোখে দেখে

মননেমগজে, নিঃশ্বাসেবিশ্বাসে, আচারেঅনাচারে

আতরলোবানকর্পূরের গন্ধে; ঢাকা পড়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা,

শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, স্মৃতি একাত্তর আর বধ্যভূমির নৃশংসতা।।

জগদ্দল পাথরের মত যেন ভর করেছে

মমিকৃত শবের ফেরাউনের পিরামিড,

কুয়াকাটা থেকে তামাবিল, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া

দরগার লালসালুতে পড়েছে ঢাকাগোটা বাংলাদেশ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করে গেল। সরকারের ভাষ্যমতে এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার জন্য। অথচ আমরা সাধারণ জনগণ আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝি বর্তমান বিশ্বে ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া মার্কিন মুল্লুকের কর্তাব্যক্তিদের সফর আদপে তাদের অনুগত শাসকের কাছ থেকে লুটের স্বীকারোক্তি আদায় করার আয়োজন মাত্র। আর ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য আমাদের দেশের শাসকশ্রেণীর সকল অংশের হিলারির আর্শিবাদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা আমরা দেখেছি রীতিমতো হতবিহ্বল হয়ে।

দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট তত্ত্বধায়ক সরকার প্রসঙ্গ নিয়ে। যে সংকট মহাবিপদ সংকেত হিসেবে আমাদের সামনে ঝুলে আছে। ঠিক এই রকম এক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট ফখরুদ্দিনমঈনুদ্দিন সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। আমরা কী আবারও সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। অতি নাটকীয় কিছু না ঘটলে আদতে সেই সম্ভাবনা ১০০ভাগ। সেই সম্ভাবনা শতভাগ মনে করার কারণ, শেখ মুজিব বাকশাল গঠন করে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী থেকে শেখ হতে চেয়েছিল। আর খালেদা জিয়া তার সর্বশেষ শাসনকালে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গদি চিরস্থায়ী করতে ছেয়েছিল। এখন সেই ভূত চেপেছে হাসিনার মাথায়। তাদের প্রভু রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এসে সবক দিয়ে গেছে, চলমান সংকট নিয়ে দুই নেত্রীর সংলাপে বসতে হবে। তার সাথে সুর মিলিয়েছে সাম্রাজ্যবাদের অনুগত সুশীল সমাজ আর কর্পোরেট মিড়িয়াগুলো। ক্ষমতার মোহে হাসিনা এতটাই মশগুল আজ সে প্রভুর আদেশ মানতেও নারাজ। (বিস্তারিত…)