Posts Tagged ‘স্বপন মাঝি’


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: স্বপন মাঝি

প্রবাসে যারা থাকেন, তারা দেশকে কিছুটা হলেও সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যান। এই বয়ে নিয়ে চলা কেবল পরনেচলনেবলনে নয়, আহারেও নয় কেবল, তারও অধিক, অন্যকিছু। বলা চলে বিদেশের মাটিতে স্বদেশের বীজ বপন। ফলন কেমন হবে, এ নিয়ে তাদের ভাবনা তেমন নেই। ভেতর থেকে উঠে একটা অনুভব, তারিয়ে তারিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা নিজ বাসভূমিতে। প্রবাসে থেকেও সুযোগ পেলেই, তাই লাউ, শিম, শাক, কী নেই তালিকায়, চাষ করে, বাড়ীর পেছনে; অথবা টবে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

সমাজতান্ত্রিক দল নামে কী কোনো দল হতে পারে? তাও আবার জাতীয়! ভাবা যায়? আমার মত অ আ ক খ পাঠকের কাছে এই প্রশ্নগুলো যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখনও দেখছি, অনেক বড় বড় তাত্ত্বিক, বাকবাকুম করে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কীর্তন করে যাচ্ছেনদুঃখজনক হলেও সত্যি, ঐ জাতীয় দলগুলোতে অনেক আন্তরিক কর্মী রয়েছেনযেমন, একদা, এককালে আমিও ছিলাম (বিস্তারিত…)


abstract-art-soul-wave-2

লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ভেবনা, তোমরা একা;

অন্ধকারে।

মিথ্যের মায়াজালে তোমাদের আটকে

শাসকগোষ্ঠীর এ খেলা

নূতন কিছু নয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

abstract-art-painting-51রাষ্ট্রদ্রোহীরা সক্রিয় ছিল, আছে বলেই এখনো বাগানে ফুল ফোটে;

এখনো পাখীরা গান গাইবার পারে।

রাষ্ট্রদ্রোহী হয়েছিল বলেই,

মানুষ আদিম শিকল ছিড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল।

দ্রোহী হতে পেরেছিল বলেই,

দ্রোহের আগুনে এখনো রাজপথ মাতিয়ে রাখে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

Pohale_Boishakh-3বাঙালি বর্তমানে বাস করলেও, তার অতীতটাকে কিছুটা পরিমাণে হলেও বহন করে নিয়ে চলে এই যেমন টাকাকড়ি, গাড়ীঘোড়া আজ আর কড়িও নেই, ঘোড়ারও চল নেই কিন্তু স্মৃতি বহন করে নিয়ে চলেছে বাঙালি (এই ভাবনার ঋণ স্বীকার করছি মান্যবর কলিম খানের কাছে)

পান্তা ভাত ছিল বাঙালির সকালের নাস্তা ধনী গরীব বলে খুব একটা ভেদ ছিল, এ নাস্তা নিয়ে; চোখে পড়েনি। আমার নানার বাড়ীতেই দেখেছি সকালে পান্তা ভাত বেশ ধনধান ছিল তাদের (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মোঃ মাসুদ

sedin-chilo-chuti-1কোথায় যেন পড়েছিলাম, ভুলে গেছি – “সংগীত সর্বোত্তম অনুকরণকারী শিল্প, এতে জীবনের প্রকাশ প্রত্যক্ষ।” কিন্তু আমার মনে হয় এ কথাটা গল্পের ক্ষেত্রেই বেশি খাটে। সঙ্গীত মানুষের মধ্যে নৈতিক সহানুভূতি বৃদ্ধি করে, চিত্ত শুদ্ধ করে; জীবন বাস্তবতায় চলার পথ দেখায় না। কিন্তু গল্প চলার পথ দেখায় এবং শেখায়। চরিত্র, ভাবনা আর উপস্থাপনার নৈপুণ্যে গল্প জীবনের সামান্য থেকে অসামান্য সত্যকে প্রকাশ করতে পারে। কবি ও ছোট গল্পকার স্বপন মাঝির ‘সেদিন ছিল ছুটি’ গল্পগ্রন্থটি পড়ার পর আমার উল্লেখিত ধারণাটি যেন আরও প্রাণ পেল।

নয়টি গল্প নিয়ে উল্লেখিত গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অঙ্কুর প্রকাশনী। ভূমিকা লিখেছেন মহসিন শস্ত্রপাণি। ভূমিকাতে তিনি যা বলেছেন, তা যেন ব্যক্তি স্বপনএরই কথা। কিন্তু তার গল্পের যে প্রয়াস “বাস্তব সত্যকে শৈল্পিক সত্যে উন্নীতকরণ তা উঠে আসেনি। স্বপন মাঝির গল্পগুলিতে ঘটনার উপস্থাপনা মুখ্য হলেও চরিত্র ও ভাবনার যে ছন্দ গল্পের পরতে পরতে তা বিলক্ষণ সামাজিক সংবিৎ সৃষ্টির প্রয়াস। গ্রন্থটির প্রথম গল্প ‘সেদিন ছিল ছুটি’ মূল ভাবনায় ঐশ্বর্যসম্ভোগের মাঝে বসে দুর্ভোগের যে চিত্র তিনি অঙ্কন করেছেন, তাতে শিল্প নৈবেদ্যর ঘাটতি বা কমতি নেই, আছে লৌকিক সত্য আর গল্পের সত্যের পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়ার এক অনবদ্য শৈল্পিক চেষ্টা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

artworks-034সমতাকে (সাম্যবাদী আন্দোলনের সংগঠক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের মেয়ে) পড়াতাম। ওর কাছেই খবর পাই উন্মেষের। সমতা বলছিল, ওখানে গিয়ে, আমি আমার লেখা পাঠ করতে পারব। লেখার চেষ্টা সক্রিয় ছিল, প্রকাশ ছিল না। লেখা হচ্ছে কিনা, যাচাই করিনি, ভয়ে। সমতার কথায় একদিন তার বাবাকে বললাম, উন্মেষে নিয়ে যাবার জন্য। তিনি নিয়ে গেলেন। একে একে পরিচয় হল, মহসিন শস্ত্রপাণি, (সমতার মুখে শুনে শুনে একটা ভয় আগে থেকেই তৈরী হয়ে ছিল।) মতিন বৈরাগী, মুনীর সিরাজ, সমুদ্র গুপ্ত, সৈয়দ তারিক, মঞ্জুর সামস, কাজী মনজুর, কফিল আহমেদ, আমিন (হায়, পুরো নাম মনে নেই, উনি মারা গেছেন; সেকারণে হয়তবা।) আশরার মাসুদ, সুনীল শীলের সাথে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

shok21আমরা খুব অভিভূত প্রবণ। আমরা আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়ি। আমরা শোকেও আভিভূত হয়ে পড়ি। এই যে অভিভূতি, তার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটে বাঙালির জীবনে ২১ শে ফেব্রুয়ারি। এদিন আমরা এতটাই শোকাভিভূত হয়ে পড়ি যে কালো কাপড়ে নিজেদের ঢেকে ফেলি। রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতালয়গুলো থেকে ভেসে আসতে থাকে, বেহালার করুণ সুর। মধ্যবিত্ত বাতাসে তখন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ হয়ে উঠে, খালি পায়ে হেঁটে চলা শোক মিছিল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

14 february-5প্রতিটি বিস্ফোরণের, অবিস্ফোরিত অতীত থাকে। ১৪ই ফেব্রুয়ারির অতীত ছিল। সেই অতীত, আমরা জানতে চাইনি বা আমাদেরকে জানানো হয়নি। অতীত নিয়ে কথা বলতে গেলে, দায় অনেক বেড়ে যায়। চাওয়াপাওয়ার তালিকা আড়ালে আবডালে রাখাটা নিরাপদ, শাসকগোষ্ঠির জন্য যেমন, ব্যর্থ দল, যারা জনগণের মুক্তির কথা বলে, তাদের জন্যও। (বিস্তারিত…)