Posts Tagged ‘সিপিএম’


লিখেছেন: সৌম্য মন্ডল

নকশালবাড়ির রাজনীতি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই লেখা। যারা সব জানেন, এটা তাদের জন্য লেখা নয়, বরং যারা জানতে চান এ লেখা তাদের জন্য।

) নকশালবাড়ি থেকে অনেক বড় বড় সশস্ত্র কৃষক আন্দোলন বাংলায় বা ভারতে ঘটে গেছে। ঘটে গেছে এবং ঘটে চলেছে অনেক প্রতিরোধ। কিন্তু তবুও সেই আন্দোলনগুলো থেকে নকশালবাড়ির নাম স্বতন্ত্র। কিন্তু কেন? কারণ নকশালবাড়ি আন্দোলন শুধু ১৯৬৭ সালের একটি গ্রাম, বা একটি কৃষক আন্দোলনের নাম নয়। যদি তাই হতো, তাহলে অন্যান্য আন্দোলনগুলোর থেকে আলাদাভাবে নকশালবাড়ির গুরুত্ব থাকতো না। নকশালবাড়ি একটা বিশেষ রাজনৈতিক লাইন বা আন্ডারস্ট্যান্ডিংএর নাম। (বিস্তারিত…)


ছত্রধর মাহাতোর প্রতি কমরেড সব্যসাচী গোস্বামীর খোলা চিঠি

লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

chotrodhar-mahatoআপনার সঙ্গে আমার কোনদিন আলাপ হয়নি ছত্রধর। লালগড় আন্দোলনের উত্তঙ্গ সময়ে আমি রাজদ্রোহিতার অভিযোগে কারান্তরালে। মুক্ত আকাশের নীচে ফিরে আসার আগেই পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএপিএ আইনে। আমরা দুজনে ছিলাম তখন দুই জেলে। আলাপের আর সুযোগ হলো কোথায়? তবু আজ যখন আপনার এবং আপনার বন্ধু, সহযোদ্ধাদের যাবজ্জীবন সাজার রায় শুনলাম, মনটা কেমন বিষন্ন হয়ে পড়ল। হৃদয়টা বিস্ফোরিত হয়ে উঠল। একেই কি বলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষদের মধ্যেকার সৌভ্রাতৃত্ববোধ?? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নীলিম বসু

narendra-modiএই লেখা যে সময় লিখছি তখন ছত্তিশগড়ে সালয়া জুড়ুমের নবপর্যায় ঘোষিত, মুম্বাইতে এক বহুজাতিক হীরে রপ্তানী সংস্থায় চাকরির আবেদন করে এক মুসলমান প্রার্থী জবাব পেয়েছেন যে, ঐ কোম্পানী শুধু অমুসলমান নাগরিকদের চাকরি দেয় (যদিও এই নিয়ে সংবিধান অবমাননা, এফআইআর, কোম্পানীটির মধ্যে দায় এড়ানোর নাটক চলছে), দেশের দুটি রাজ্যে গোরু হত্যা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে একটা বড় অংশের নাগরিকের রুটিরুজি ও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হয়ে গেছে, নিহত হয়েছেন কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলনের কর্মী, গত ১ বছরে ঘটে গেছে কমবেশি ৫০০টি ছোটো বড় সাম্প্রদায়িক হিংসা (পড়ুন সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমন), সংখ্যালঘু নিধনে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়েছেন কোর্ট থেকে, ‘ঘর ওয়াপসী’ নামক এক বিশাল ধর্মান্তকরণ কর্মসূচী দেশজুড়ে চলমান ইত্যাদি। এর সাথে ভারতের লোক দেখানো সংসদকেও এড়িয়ে গিয়ে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে শাসক দলের ইচ্ছা অনুযায়ী আইন তৈরির এক ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, বিপ্লবী আন্দোলন দমনে সেনা নামানোর হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে, গুজরাটে জারী হয়েছে ঘৃণ্য কালা কানুন (যা আজ বা কাল আমরা কেন্দ্রীয় স্তরেও দেখতে পাবো)। কর্পোরেট ও রাষ্ট্রের হাত মেলানোর প্রমান কেন্দ্রীয় বাজেট (কৃষিতে ব্যয় বরাদ্দ কমানো, ১০০ দিনের কাজের মতো সামাজিক প্রকল্পগুলিতে যেটুকু ব্যয় বরাদ্দ ছিল, তাও কমিয়ে একই সাথে কর্পোরেট বেল আউটে বরাদ্দবৃদ্ধি ও গ্রামীন সামন্তশ্রেণীর বহুদিনের দাবী মেটানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের আধাসামন্ততান্ত্রিক আধাঔপনিবেশিক চরিত্রকে শক্তিশালী করার বাজেট) (বিস্তারিত…)

ভারতে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন এবং কিষেনজির মৃত্যু

Posted: এপ্রিল 22, 2012 in আন্তর্জাতিক, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: নেসার আহমেদ

কমরেড কিষেনজি

২৪শে নভেম্বর ২০১১, পশ্চিমবঙ্গের শালবিহারের বুড়িশোলের সোরাকোটা গ্রামে জঙ্গলে পুলিশ মাল্লাজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজিকে গ্রেফতার ও পরে গুলি করে হত্যা করে। কিষেনজি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)’র পলিটব্যুরোর সদস্য এবং একজন শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যুর সূত্র ধরে ভারতের রাজনীতিতে নানান মাত্রার বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেই কিষেনজির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরদিন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর) সহ ২৪টি মানবাধিকার সংগঠন, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশিষ্ট কবি ও চিন্তাবিদ ভারভারা রাও দাবি করেছেনকিষেনজিকে বন্দি অবস্থায় খুন করা হয়েছে। সিপিআই সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়প্পন চিদম্বরমকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। তাঁরও দাবি কিষেনজিকে গ্রেফতারের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রখ্যাত লেখিকা ও মানবাধিকার নেত্রী মহাশ্বেতা দেবী কিষাণজিকে হত্যা করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মমতাকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং বিধানসভা সদস্য ও গায়ক কবির সুমনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অবশ্য এর বিপরীত মতামতও রয়েছে। যেমন ভারতের শাসক শ্রেণী, কর্পোরেট মালিক এবং গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার গঠন করার ৬ মাসের মধ্যে কিষেনজিকে হত্যা করতে পারা মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় মাপের সাফল্য! কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই? কারণ কিষেনজিকে হত্যা করা হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সাথে মাওবাদীদের আলোচনা চলছিল। এবং কিষেনজিকে হত্যার পরপরই মাওবাদীরা আলোচনা প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের নাম প্রত্যাহার করেছেন। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক। সেটা যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য, তেমনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের জন্যও। কারণ কিষেনজির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মাওবাদীদের মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা আদৌ কতটুকু? এ প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাবে মূলত ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

প্রসঙ্গঃ সারা বাংলা ছাত্র সংসদ

১৯৯১ সাল থেকে ভারতে গ্লোবালাইজেশনের হাওয়া বইতে থাকায় আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় আরো দ্রুতগামী হয়েছে। গত দশকের মাঝামাঝি থেকে এই হাওয়া ঝড়ে পরিণত হয়। কর্মী সংকোচন, বেসরকারীকরণ, গণহত্যাসহ গ্লোবালাইজেশনের একাধিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে ‘মরূদ্যান’ বাংলায়। আক্রমণ যত তীব্র হয়েছে, জনগণ তত বেশি করে আন্দোলনে নেমেছে, ঘটে গেছে একের পর এক গণআন্দোলন। ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই সময়টাকে গণসংগ্রামের পূনর্জাগরণ বলা যেতে পারে।

সিঙ্গুর থেকে শুরু, তারপর নন্দীগ্রাম, ভাঙ্গরসহ একাধিক জায়গায় জমি বাঁচাবার আন্দোলন, কালোবাজারির বিরুদ্ধে আন্দোলন, পরবর্তীকালে আত্মমর্যাদা, বিকল্প উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর আন্দোলনলালগড় আন্দোলন গড়ে উঠে। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল ছাত্ররা। জনগণ ‘নেতা’দের থেকে ছাত্রদের বেশি বিশ্বাস করে। তাই ২০১১ এর আগে বাম ফ্রন্ট সরকার গরীব, নিপীড়িত মানুষের আন্দোলনকে নারকীয়ভাবে দমন করার সাথে সাথে নিপীড়িত গণমানুষের আন্দোলনের সমর্থক, প্রচারক ছাত্রদের উপর একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, আক্রমণ করেছে। আর এই হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্ররা বারবার কলকাতার রাজপথে নেমেছে, পুলিশের সন্ত্রাস তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ফাঁস করেছে একের পর এক সরকার ও রাষ্ট্রীয় দালাল মিডিয়ার অপপ্রচার। এর জন্য তারা গ্রেপ্তার হয়েছে, মার খেয়েছে ভাড়াটে গুন্ডাদের হাতে।

কিন্তু ২০১১ এর পর বাম ফ্রন্ট সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতার সরকারের সময়ও অবস্থার কোন পরিবর্তন হলনা। বাম ফ্রন্ট আমলের মতই এই সরকারের সময়েও ছাত্ররা পথে নেমেছে ভোটের প্রতিশ্রুতিমত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, নিজের দেশের জনগণের উপর সামরিক অভিযান বন্ধের দাবী, সিঙ্গুর এ জমি ফেরত এর দাবী, পুলিশের সন্ত্রাস বা বিশ্ববিদ্যলয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ জানাতে। পুরনো বাম ফ্রন্ট আমলের মতো এ আমলেও ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আর গ্লোবালাইজেশনের নীতিগুলোকে বিনা বাধায় প্রয়োগ করতে গেলে আগে ছাত্রদের মুখ বন্ধ করা প্রয়োজন; তাই শুরু হয়ে গেল হুমকি দেয়া। এবার একেবারে সংগঠনপ্রতিষ্ঠানের নাম ধরে ধরে মূখ্যমন্ত্রী হুমকি দিলেন ছাত্র সংগঠনগুলোকে, সেই সাথে অধ্যাপকদের। ‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে মাওবাদী যোগাযোগ’, ‘মাওবাদীদের সাহায্য’ ছাড়াও মেয়েদের ‘ইজ্জত, অপহরণ’, ‘পুরুলিয়ার হোটেলে শুধুমাত্র খেয়ে এক লাখ টাকা বিল!!!’, অপহরণ, খুন সহ একাধিক কিছু সুলভ মিথ্যা অভিযোগ আনেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

ঠান্ডা লড়াই শেষ। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছে। দরকষাকষির শেষ সুযোগটাও হাতছাড়া হয়েছে। ভালোমন্দ মিলিয়ে বিশ্বের একক পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ, শুধু যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়ে বিশ্ব নতুন এক তথাকথিত মুক্ত বিশ্ব পেয়েছে তাই নয়, সেই সাথে বিশ্বের সকল বিষয়ে খবরদারি আর শাসনশোষনের একক ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হয়েছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মৃতপ্রায় পুঁজির অতিকায় ম্যামথ নতুন করে জন্ম নিয়ে বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের যে অন্যতম আকাঙ্খা আর অভিলাষ ছিল সমাজতন্ত্রের মৃত্যু কামনা এবং সমাতান্ত্রিক বিশ্বের পতন, সেই মৃত্যু বা পতন ত্বরান্বিত করতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করত। সোভিয়েতের পতনের পর এখন সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলনসংগ্রামকে ধূলিস্মাৎ করতে, পদদলিত করতে। ‘চিরকালের শত্রু’ সোভিয়েতের পতনের পর বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েও যখন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে আর কখনোই সমাজতন্ত্রের ‘ভূত’ জেগে উঠবে না. তখন সাম্রাজ্যবাদ নতুন এক ‘খেলা’ আবিষ্কার করে! এই খেলার নাম ‘গণতন্ত্র রপ্তানি’।

কোনো দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই সে বিচারের চেয়েও সাম্রাজ্যবাদের কাছে জরুরী হচ্ছে সেই দেশে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে কিনা? সেই অঙ্কুরিত বীজ চারা হয়ে বেড়ে উঠছে কিনা? সেই চারা মহীরূহ হয়ে উঠছে কিনা? এই সূত্রমতে তারা যেখানেই অমন বীজের অঙ্কুরোদগম দেখেছে, সেখানেই হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যেহেতু বিশ্ব এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে করদবিশ্ব, তাই কাউকে বলেকয়ে কিংবা ছলাকলার আশ্রয়টুকুরও দরকার পড়ছে না। সোজাসাপ্টা কথা; যাকেই বিপজ্জনক মনে হবে তাকেই তুলে এনে হত্যা করা। কোনো ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই। স্রেফ মার্কিন সাম্রজ্যবাদের পাচাটা তাবেদার হও, নইলে মৃত্যু। এমন এককেন্দ্রেীক বিশ্ব চরাচরে কমিউনিজম তো দূরের কথা, কোথাও গণতন্ত্র কার্যক করতে চাইলেই মৃত্যু। নির্ঘাৎ অপমানজনক মৃত্যু। এই ‘সূত্রমতে’ যে সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বেঁচে থাকছেন, তারা তাদের আয়ু নিয়ে বাঁচছেন না। বেঁচে আছেন শুধু মাত্র দাসত্বের উপহার হিসেবে! ধরে নেয়া যায় বিশ্বের ছোটবড় প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কোনো না কোনো অর্থে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালী করছে। কেননা হিসেবটা সোজা। হয় দালালী করো, নইলে মৃত্যুবরণ করো। এর মাঝামাঝি যা আছে তার নাম সমঝে চলা। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা তাই করছে। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

প্রাককথন

কমরেড কিষানজী

সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ, ওরফে বিমল, ওরফে রামজী, ওরফে ‘কিষানজী’ ()। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক শোকের দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্তা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াইসংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড….. (বিস্তারিত…)