Posts Tagged ‘সিপিআই (মাওবাদী)’


সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মহুয়া চ্যাটার্জি

অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

naxal-3(সম্প্রতি সিপিআই (মাওবাদী)-এর দণ্ডকারণ্য বিশেষ আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারি রমণ্য, সাংবাদিক মহুয়া চ্যাটার্জি’র কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের দলের নির্বাচন বর্জনের আন্দোলন ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি ২১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে “দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। নিম্নে সাক্ষাৎকারটির প্রকাশিত অংশের অনুবাদ তুলে দেওয়া হলো অনুবাদক)

প্রশ্ন:আপনারা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন কেন?

উত্তর:যথারীতি আমরা জনগণের নিকট নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছি, কারণ তা প্রহসন ভিন্ন কিছু নয়। (বিস্তারিত…)

Advertisements

অনুবাদ: আরিফ ইসলাম

অরুন্ধতি রায় - ছবি: নরেন্দ্র বিশৎঅরুন্ধতি রায়ের মত একক ভাবে ভারতের সমালোচনা এ যাবৎ কাল পর্যন্ত এতটা হয়নি। বলতে গেলে তিনি এমন একটা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন যার শুরু হয় পোখরান’দের সাথে, যেটা পরবর্তিতে নর্মদা’র দিকে সরে যায় এবং অন্যান্য বিদ্রোহ থেকে শুরু করে গণসংগ্রাম ও মাওবাদীদের জনযুদ্ধ পর্যন্ত প্রসার লাভ করে। তিনি তার লেখার মাধ্যমে ভারতের সরকার ও সরকারের পোষ্য অভিজাতশ্রেণী, কর্পোরেট নামক দৈত্যদের এবং সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থান ও পুঁজিবাদের সম্পূর্ণ গঠনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আদালত অবমাননার দায়ে তাকে ২০০২ সালে একদিনের জন্যে জেলে যেতে হয় এবং ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কাশ্মির বিষয়ক ‘আজাদি’ই একমাত্র পথ’ (Azadi—the only way) শিরোনামে একটি সেমিনারে অন্যদের সাথে মিলে ভারত বিরোধী বক্তৃতা দেয়ার অভিযোগে অরুন্ধুতি রায়’কে অভিযুক্ত করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।

পাণিনি আনন্দ’র কাছে দেয়া অরুন্ধুতি রায় এর সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো: (বিস্তারিত…)


Press Release :: Statement of CPI (Maoist) on 16 May “Bharat Bandh”

The Indian state is relentlessly continuing its extremely brutal attacks on the people of the country, particularly the adivasis, in the last two and half years in the name of Operation Green Hunt. The police and paramilitary forces unleashed by the ruling classes are perpetrating acts of `encounter’ killings, mass murders, sexual assault, torture, burning of villages, destruction of crops and grains, plunder of peoples’ property, wanton arrests and forced `disappearances etc. These forces have carried out the cold-blooded murder of more than 250 adivasis in the last two and half years in Dandakaranya alone. The objective of this war on people is to uproot the ongoing Maoist movement in the country, particularly in its central and eastern regions.

The comprador bureaucratic bourgeoisie and the imperialists are in desperation to loot and plunder our beloved country which is richly endowed with vast mineral, forest and water resources. From 2008 in particular, in the context of the deepening world economic crisis, they are scheming many a conspiracies to cheaply exploit the natural resources and labour power available in underdeveloped countries like India. After concluding MoUs involving investments worth lakhs of crores with the comprador governments and by undertaking the large-scale destruction of jal-jangal-zameen, these forces are displacing a large number of people from their homes and hearths. The people too have risen up against this aggression. CPI (Maoist) is leading the people in this struggle and is standing with them. This is the reason why the Maoist movement has become the biggest hurdle before the exploitative ruling classes and their government led by the Sonia-Maonmohan Singh-Chidambaram-Jairam Ramesh ruling clique. However, the threat felt by the ruling classes from the Maoist movement is being propagated by them as `the biggest threat to the internal security of the country’ with an aim to deceive the masses. (বিস্তারিত…)

ভারতে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন এবং কিষেনজির মৃত্যু

Posted: এপ্রিল 22, 2012 in আন্তর্জাতিক, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: নেসার আহমেদ

কমরেড কিষেনজি

২৪শে নভেম্বর ২০১১, পশ্চিমবঙ্গের শালবিহারের বুড়িশোলের সোরাকোটা গ্রামে জঙ্গলে পুলিশ মাল্লাজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজিকে গ্রেফতার ও পরে গুলি করে হত্যা করে। কিষেনজি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)’র পলিটব্যুরোর সদস্য এবং একজন শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যুর সূত্র ধরে ভারতের রাজনীতিতে নানান মাত্রার বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেই কিষেনজির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরদিন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর) সহ ২৪টি মানবাধিকার সংগঠন, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশিষ্ট কবি ও চিন্তাবিদ ভারভারা রাও দাবি করেছেনকিষেনজিকে বন্দি অবস্থায় খুন করা হয়েছে। সিপিআই সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়প্পন চিদম্বরমকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। তাঁরও দাবি কিষেনজিকে গ্রেফতারের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রখ্যাত লেখিকা ও মানবাধিকার নেত্রী মহাশ্বেতা দেবী কিষাণজিকে হত্যা করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মমতাকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং বিধানসভা সদস্য ও গায়ক কবির সুমনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অবশ্য এর বিপরীত মতামতও রয়েছে। যেমন ভারতের শাসক শ্রেণী, কর্পোরেট মালিক এবং গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার গঠন করার ৬ মাসের মধ্যে কিষেনজিকে হত্যা করতে পারা মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় মাপের সাফল্য! কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই? কারণ কিষেনজিকে হত্যা করা হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সাথে মাওবাদীদের আলোচনা চলছিল। এবং কিষেনজিকে হত্যার পরপরই মাওবাদীরা আলোচনা প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের নাম প্রত্যাহার করেছেন। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক। সেটা যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য, তেমনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের জন্যও। কারণ কিষেনজির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মাওবাদীদের মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা আদৌ কতটুকু? এ প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাবে মূলত ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে। (বিস্তারিত…)


মূল লেখা: বার্নার্ড ডি’মেলো

অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

কিষানজী লড়েছিলেন একটা উন্নত পৃথিবীর জন্য

একটি সাজানো এনকাউন্টার, যেখানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) [সিপিআইমাওবাদী]’এর পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ‘কিষানজী’কে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে, পশ্চিমবঙ্গঝাড়খন্ড সীমান্ত থেকে ১০ কিমি দূরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়; সেই হত্যাকাণ্ডকে “সাচ্চা এনকাউন্টার” দেখানোর জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (যিনি পশ্চিমবঙ্গের গৃহমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বেও নিয়োজিত), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব আর.কে. সিংহ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থরা উঠে পড়ে লেগেছেন। প্রধান প্রধান গণমাধ্যম সমূহ সাংবাদিকতা পেশা শিকেয় উঠিয়ে সরকারী অসত্যতার সঙ্গে ধর্ম বিশ্বাসে তাদের দুষ্কর্মে সহায়তা দিচ্ছে উন্মুক্তভাবে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে তাঁর মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি এখনো অজানা রয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০১১ তারিখে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র ‘অভয়’ কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আটক করার পর কিষানজীকে হত্যা করা হয়।”

নৃশংসতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের চিত্র

বিপ্লবী তেলেগু কবি ভারাভারা রাও ‘কিষানজী’কে তাঁর জন্মস্থান অন্ধ্রের করিমনগর জেলার পেদ্দাপল্লী গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘কিষানজী’র ভাইজীর সাথে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন; তিনি বলেন: “গত ৪৩ বছরে আমি তথাকথিত এনকাউন্টারের নামে অনেক নিহতের মরদেহ প্রত্যক্ষ করেছি, কিন্তু এর মতন একটিও ছিল নাশরীরের এমন একটি জায়গা বাদ নেই, যেখানে ক্ষত ছিল না।” পোস্টমর্টেমের পূর্বে কিষানজীর মরদেহ প্রত্যক্ষ করা সিআরডিও (কোঅর্ডিনেশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস অর্গানাইজেশন)’এর কর্মীদের ভাষ্য মতে, “মাথার পিছনদিকের মস্তকের অংশ এবং মস্তিষ্ক ছিল না; ডান চোখ অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে এসেছিল; নিচের চোয়াল বলতে কিছু অবশিষ্ট ছিল না; মুখমণ্ডলে চারটি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল; গলায় ছুরি চালানোর চিহ্ন সুস্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয়; হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং কাঁধের নিচে ২টি গুলির ক্ষত দেখা যায়; বাম হাতের তর্জনীর একতৃতীয়াংশ উপড়ে ফেলা হয়; লক্ষ্য করা যায় কতগুলো গুলি ফুসফুস ভেদ করে চলে যায়; ডান হাঁটুতে গভীর ক্ষত করা হয়; বামপায়ের পাতা ছিল সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ; শরীরের সামনের দিকে ৩০টিরও বেশী ব্যায়োনটের আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। যখন গুলি, ছুরিকাঘাত, পুড়ে যাওয়ার মতো অসংখ্য ক্ষত কিষানজীর সারা শরীরে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে (!) তার পরিধেয় শার্টপ্যান্টে ক্ষত স্থানের অংশে কোন দাগ লাগেনি।” (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনও ‘কিষানজী’র আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি)

উপড়ে ফেলা আঙ্গুল

(বিস্তারিত…)


ভারতের মাওবাদী কমিউনিস্ট নেতা কমরেড কিষেনজির বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির বিবৃতি:

সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি,

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (MBRM)

১ম সপ্তাহ, ডিসেম্বর ২০১১।

নিপীড়িত জনগণকে মুক্তির পথ দেখায়, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়, কমিউনিস্ট নেতাকর্মীরা। তাই নিপীড়িত জনগণকে চিরকাল পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখার জন্য প্রতিক্রিয়াশীলদের সবচেয়ে প্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে কমিউনিষ্ট নেতাকর্মীদেরকে হত্যা করা। এভাবেই তারা নিপীড়িত জনগণের অতিপ্রয়োজনীয় বিপ্লবের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে চেষ্টা করে। ভারতীয় উপমহাদেশে এই বর্বর দৃষ্টিভঙ্গির প্রথম আমদানিকারক ছিল ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেস সরকার। যা পরে পূর্ববাংলাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রপ্তানি হয়েছিল। বর্তমানে সেই ইন্দিরা গান্ধীরই পুত্রবধু সোনিয়া গান্ধী আর তার নেতৃত্বাধীন সেই কংগ্রেস, সেই প্রতিক্রিয়াশীল আদিম চণ্ড নীতিকেই এখনো অনুশীলন করছে। যার সর্বশেষ বলি হচ্ছেন কমরেড কিষেনজি।

কমরেড কিষেনজি ওরফে কোটেশ্বর রাও ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-এর পলিট ব্যুরোর সদস্য। ভারতে সাম্রাজ্যবাদসামন্তবাদআমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে উৎখাত করে নয়া গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-এর নেতৃত্বে যে মাওবাদী গণযুদ্ধ চলছে, তাতে কমরেড কিষেনজি তত্ত্বগতভাবে ও অনুশীলনগতভাবে অন্যতম নির্ধারক ভূমিকা পালন করছিলেন।

কমরেড কিষেনজির নেতৃত্বে ভারতের তেলেঙ্গানা, দণ্ডকারন্য, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিম বাংলা প্রদেশে, বিশেষত জঙ্গলমহল এলাকায় যে মাওবাদী গণযুদ্ধ গড়ে উঠেছিল, তা ভারতীয় শাসকশোষক শ্রেণীর ভিতকে কাঁপিয়ে তুলেছিল। ফলে, সন্ত্রস্ত সোনিয়ামনমোহনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের অংশীদার মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিম বাংলার রাজ্য সরকার, মাওবাদীদেরকে উৎখাত করতে, বিশেষত তার অন্যতম নেতা কমরেড কিষেনজিকে হত্যা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এরই পরিণতিতে কমরেড কিষেনজি গ্রেফতার হন। বন্দী অবস্থায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। এবং তথাকথিত এনকাউন্টারের নামে গত ২৪ নভেম্বর জঙ্গল মহল এলাকায় নিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

নিপীড়িত জনগণের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন কমরেড কিষেনজি। তাঁর স্বপ্ন হচ্ছে আমাদেরই স্বপ্ন, সারা দুনিয়ার মাওবাদী কমিউনিস্টদের স্বপ্ন। বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদসামন্তবাদআমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে উৎখাত করে নয়া গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার জন্য যে লড়াই চলছে কমরেড কিষেনজি ছিলেন তার একজন সামনের কাতারের নেতা। তাই কিষেনজির মৃত্যুতে সারা দুনিয়ার মাওবাদী কমিউনিস্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সারা দুনিয়ার নিপীড়িত জনগণ তাদের একজন অগ্রসেনানায়ককে হারিয়েছে।

কমরেড কিষেনজির মতো আমরাও আমাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদসামন্তবাদআমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে উৎখাত করে নয়া গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি। ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠী আমাদের দেশের বিপ্লবের ক্ষেত্রেও অন্যতম বড় শত্রু। তাই এই শত্রুদের বিরুদ্ধে ভারতীয় কমিউনিস্টদের লড়াই, প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের বিপ্লবের পক্ষে লড়াই বলেই আমরা গণ্য করি। তাই কমরেড কিষেনজির মৃত্যুতে আমরা স্বজন হারানোর বেদনাই অনুভব করছি। যেমনটি আমরা অনুভব করেছিলাম কমরেড সিরাজ শিকদারের ক্ষেত্রে, কমরেড তাহের আজমীর ক্ষেত্রে, কমরেড রামকৃষ্ণ পালের ক্ষেত্রে, ঠিক তেমনি কমরেড কিষেনজির মৃত্যুতেও আমরা আমাদের নিজেদের রক্ত, নিজেদের মাংস এবং নিজেদেরই অস্থির মজ্জা হারানোর বেদনা অনুভব করছি। আমরা কমরেড কিষেনজির মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এবং তাঁর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

কমরেড চারু মজুমদার, কমরেড সিরাজ শিকদার সহ অগনিত মাওবাদী নেতাকর্মীকে হত্যা করে বিপ্লবকে দাবিয়ে রাখতে চায় প্রতিক্রিয়াশীলরা। তাদের এই অশুভ স্বপ্নকে ফলপ্রসূ হতে দেয়া যাবে না। তাই, সারা দুনিয়ার মাওবাদী কমিউনিস্টদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কমরেড কিষেনজির স্বপ্ন যা কিনা আমাদের নিজেদেরই স্বপ্ন তার বাস্তবায়নের লড়াইকে এগিয়ে নিতে হবে। এবং এভাবেই পুনরায় প্রমাণ করতে হবে যে, “আমাদের মেরে ঠেকানো যাবে না গণ জোয়ারের ঢেউ”।

আমরা সিপিআই (মাওবাদী) এবং কমরেড কিষেনজির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আশা প্রকাশ করছি, সৃষ্ট ক্ষতিকে তারা দ্রুত সামলে উঠতে পারবে। একথা ধ্রুব সত্য যে “রাতের পর দিন আসে” আর “অন্ধকারের পর আলো”। এই নিয়মে, “প্রতিকূলতার পর অনুকূলতা” আসবেই।।

(মানব রহমান)

সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কমিটি,

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (MBRM)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

ঠান্ডা লড়াই শেষ। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছে। দরকষাকষির শেষ সুযোগটাও হাতছাড়া হয়েছে। ভালোমন্দ মিলিয়ে বিশ্বের একক পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ, শুধু যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়ে বিশ্ব নতুন এক তথাকথিত মুক্ত বিশ্ব পেয়েছে তাই নয়, সেই সাথে বিশ্বের সকল বিষয়ে খবরদারি আর শাসনশোষনের একক ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হয়েছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মৃতপ্রায় পুঁজির অতিকায় ম্যামথ নতুন করে জন্ম নিয়ে বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের যে অন্যতম আকাঙ্খা আর অভিলাষ ছিল সমাজতন্ত্রের মৃত্যু কামনা এবং সমাতান্ত্রিক বিশ্বের পতন, সেই মৃত্যু বা পতন ত্বরান্বিত করতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করত। সোভিয়েতের পতনের পর এখন সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলনসংগ্রামকে ধূলিস্মাৎ করতে, পদদলিত করতে। ‘চিরকালের শত্রু’ সোভিয়েতের পতনের পর বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েও যখন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে আর কখনোই সমাজতন্ত্রের ‘ভূত’ জেগে উঠবে না. তখন সাম্রাজ্যবাদ নতুন এক ‘খেলা’ আবিষ্কার করে! এই খেলার নাম ‘গণতন্ত্র রপ্তানি’।

কোনো দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই সে বিচারের চেয়েও সাম্রাজ্যবাদের কাছে জরুরী হচ্ছে সেই দেশে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে কিনা? সেই অঙ্কুরিত বীজ চারা হয়ে বেড়ে উঠছে কিনা? সেই চারা মহীরূহ হয়ে উঠছে কিনা? এই সূত্রমতে তারা যেখানেই অমন বীজের অঙ্কুরোদগম দেখেছে, সেখানেই হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যেহেতু বিশ্ব এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে করদবিশ্ব, তাই কাউকে বলেকয়ে কিংবা ছলাকলার আশ্রয়টুকুরও দরকার পড়ছে না। সোজাসাপ্টা কথা; যাকেই বিপজ্জনক মনে হবে তাকেই তুলে এনে হত্যা করা। কোনো ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই। স্রেফ মার্কিন সাম্রজ্যবাদের পাচাটা তাবেদার হও, নইলে মৃত্যু। এমন এককেন্দ্রেীক বিশ্ব চরাচরে কমিউনিজম তো দূরের কথা, কোথাও গণতন্ত্র কার্যক করতে চাইলেই মৃত্যু। নির্ঘাৎ অপমানজনক মৃত্যু। এই ‘সূত্রমতে’ যে সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বেঁচে থাকছেন, তারা তাদের আয়ু নিয়ে বাঁচছেন না। বেঁচে আছেন শুধু মাত্র দাসত্বের উপহার হিসেবে! ধরে নেয়া যায় বিশ্বের ছোটবড় প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কোনো না কোনো অর্থে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালী করছে। কেননা হিসেবটা সোজা। হয় দালালী করো, নইলে মৃত্যুবরণ করো। এর মাঝামাঝি যা আছে তার নাম সমঝে চলা। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা তাই করছে। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

প্রাককথন

কমরেড কিষানজী

সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ, ওরফে বিমল, ওরফে রামজী, ওরফে ‘কিষানজী’ ()। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক শোকের দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্তা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াইসংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড….. (বিস্তারিত…)