Posts Tagged ‘সাহিত্য’


লিখেছেন : সাঈদ বিলাস

ঈশ্বরের দুনিয়ায় স্তব্ধতা! আস্তে আস্তে লু হাওয়া বইছে। ভোর ওয়া আগের এই সময়টায় মনে হয় ঈশ্বর নেমে আসেন পৃথিবীতে। সব শান্ত। নীরবে সারা শহরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে টিম টিম করে! লাল, নীল, হলুদ, সাদাসহ নানা বাহারি রঙের আলো। অবশ্য দুনিয়ার আলো আস্তে আস্তে ফিকে করে দিচ্ছে মানুষের বানানো এইসব কৃত্রিম আলোকে। এই সময় মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানআসসালাতু খাইরুম মিনাননাওম। আল্লাহর বান্দারা জাগে কিনা কে জানে! তবে এই মুহূর্তে তিনটা কাক ক্রমাগত ডেকেই যাচ্ছে, পাশের বাসার টিনের ছাদে বসে। তাদের সেই গগণবিদারী কা কা, হাতে এক টুকরা বিস্কুট নিয়ে জেলখানার মতোন বারান্দায় বসে থাকা নিমগ্ন প্রায় ধ্যানী মজনুর আপাত ধ্যান ভেঙে দেয়। বিরক্ত মজনু প্রায় অনিচ্ছায় চোখ খুলে তাকায় কাক তিনটার দিকে, ওদের মারামারির হেতুটা কী আসলে! চোখ আরেকটু খুললে বুঝতে পারে, মেরে আনা একটা তাজা ইঁদুরের নাড়িভুড়ির ভাগ নিয়ে ওদের এই ঝগড়া! সেই একই প্রাগৈতিহাসিক প্রবৃত্তিক্ষুধা! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

যে দেশে মৌসুমী ঝড় মানেই
কয়েকটা ‘মূল্যহীন’ প্রাণের বিসর্জন
ফসলের মাঠে আগুন দেয় কৃষক
শ্রমিকের কলে লুটেরা নিয়ন্ত্রণ

অনিশ্চিত জীবন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত
অনিশ্চিত প্রজন্ম, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান
(বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শিশির মল্লিক

অদৃশ্য মৃত্যুঘাতী ভাইরাস ওৎ পেতে আছে

রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরের মতো

অন্তরীণ থাকা আইসোলেশনের একঘেঁয়েমী

বিপ্লবী করে তুলছে ক্রমশ

কোন এক কমিউনিস্ট বিপ্লবীর মতো

তুমি গোপনে গুপ্তচরদের চোখ

ফাঁকি দিয়ে এলে দেখা করতে;

আমিও সন্ত্রস্ত পায়ে ঘর বার হয়ে

দূরত্ব বজায় রেখে মিলিত হলাম (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

জানো

জনমে দেখিনি এমন পৃথিবী

এভাবে দেখবো, ভাবিওনি

জ্যামের শহর আজ ভুতুরে নগরী

তবু নির্মল বায়ুর মাঝে পাখির কাকলী

চিৎকার করে কিছু বলতে চাইছিলাম

মাথার উপর শকুনের চাহনি (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি কামালউদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় একটি নাটক শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয়। নামের কারণেই নাটকটি দেখতে সমাজতন্ত্রকমিউনিজমে আস্থাশীল অনেকে আগ্রহ বোধ করেন। কিন্তু ‘স্তালিন’ নামের এ নাটকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান শিক্ষক কমরেড যোসেফ স্তালিনকে বিতর্কিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে নাটকটি দেখতে আসা দর্শকরা মঞ্চস্থলেই প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত একাধিক দর্শক জানান, তারা আগেই ভেবেছিলেন ‘স্তালিন’ নাটকটিতে হয়তো স্তালিনকে দ্বান্দ্বিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। অর্থাৎ, এতে স্তালিনের সমালোচনাও থাকতে পারে, এটা তারা জানতেন। তবে যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছেস্তালিনের সমসাময়িক যে ঐতিহাসিক বাস্তবতা সাম্রাজ্যবাদীরাও প্রকাশ্য ও গোপন দলিলে মেনে নিতে বাধ্য হয়, সেটাকেও ওই নাটকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর এ নিয়েই দর্শকরা কামালউদ্দিন নীলুকে তাদের আপত্তির কথা জানান। এতে নীলু দর্শকদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। ঘটনার পরদিন, ১২ জুন উপস্থিত দর্শক, বিভিন্ন বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিল্পকলা একাডেমির সামনে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিভিন্ন মতামত ও অবস্থান দেখা যায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

বিশ্ববিখ্যাত রুশ কথাশিল্পী ম্যাক্সিম গোর্কির প্রকৃত নাম আলেক্সেই ম্যাক্সিমোভিচ পেশকভ। তাঁর জন্ম ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ রাশিয়ার নিঝনি নোভোগোরোদ শহরে।[] শৈশবে তিনি অনাথ হয়ে যান। দারিদ্র্যের তাড়নায় আট বছর বয়সেই রুটিরুজির জন্য বেরিয়ে পড়তে হয় আলেক্সেইকে। শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। ভোলগা নদীর স্টিমারের কেবিন বয় থাকাকালে স্টিমারের রাঁধুনির কাছে পড়তে শেখেন তিনি।

আলেক্সেইয়ের দিদিমা তাঁকে বিভিন্ন রূপকথা, লোককথা ও লোকসংগীত শোনাতেন। যা থেকেই সাহিত্য সম্পর্কে প্রথম আগ্রহ জন্মায় তাঁর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত এ মানুষটির ছিল অদম্য জ্ঞানপিপাসা। পৃথিবীর পাঠশালাতেই তিনি হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত। উনিশ বছর বয়সে অবশ্য আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন। (বিস্তারিত…)


গ্রন্থ পর্যালোচনা :: মুখোশ ও মুখশ্রী

লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি শেষ করার মধ্যদিয়ে এটুকু আরও পরিষ্কার হলো যে, জানার কোনো শেষ, শেখারও কোনো শেষ নেই। জীবন মানেই জানা আর শেখা। সেই জানাকে কাজে লাগানোর জন্য, মানুষের জন্য কিছু করার জন্য মানুষের মধ্যে নিজের জ্ঞানকে বিতরণ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস এ লেখাটি। একইসাথে এ লেখার যে কোনো মতামত আমাকে বিকশিত করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বন্ধু বই। এখন পর্যন্ত এ সত্যটিকে বিশ্বাস করতে চাই, এ কথাটির উপর আস্থাও রাখতে চাই। একটা বই যে মানুষকে কতটা আন্দোলিত করতে পারে তা তো আর বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বই আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। নিজেকে নতুন করে ভাবার জন্য, নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য সহযোগিতা করে। যা হোক, মুখোশ ও মুখশ্রী বইটি পড়ে বেশ কিছু প্রশ্ন এরই মধ্যে আমার চিন্তাজগতে প্রবেশ করেছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য আরও কিছু বইয়ের দারস্থ হতে হবে। আলোচ্য বইটিতে মোট দশটি প্রবন্ধ রয়েছে। প্রতিটা প্রবন্ধই চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। অভাব, সংস্কৃতি, চেতনা, সাহিত্য, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এ বইটি থেকে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। (বিস্তারিত…)


শব্দমালার বিন্যস্ত স্রোতধারায় আন্দোলিত মনোভূমি

লিখেছেন: নীরা নাজ তারিন

কোনো বই পড়তে গিয়ে কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, আপনার জন্যই এটি লেখা হয়েছে? অথবা কখনো কি মনে হয়েছে, আপনাকে নিয়েই রচিত হয়েছে বইটির কোনো কোনো অংশ? আমার সাম্প্রতিক পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনাদের, কখনও কখনও লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টিতে সক্ষম হন। পাঠককে টেনে নিতে সক্ষম হন এক আন্দোলিত মগ্নতার অচেতন বাস্তবতায়। সমস্ত হৃদয়জুড়ে তার শব্দের সুরধারা অবিরাম ঢেউ খেলে যেতে পারে। পড়ে শেষ করার আগ পর্যন্ত ছেড়ে উঠতে কোনোভাবেই মন সায় না দিতে পারে। পড়তে শুরু করতেই বইটি আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে এক মোহাবেশে। এমনকি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কিংবা অসংখ্য পাঠেও একে আপনার গানের মতো লাগতে পারে, যা আপনি শুনে যেতে পারেন বিরক্তিহীন নিরন্তর।

তো যে বইয়ের কথা বলছি, চূড়ান্ত অর্থে তা যেন জীবনের দালিলিক উপস্থাপনা। সেই বইতে জীবন আছে, মানুষ আছে, প্রকৃতি আছে, আছে রাষ্ট্রের বিধিব্যবস্থা আর একুশ শতকের প্রযুক্তি। আছে অভিজ্ঞতার প্রেরণায় চিনে নেওয়া পরিবর্তনের নিশানা। আমাদের সচেতন মন কিংবা গহীন অবচেতন, আমাদের জীবনমননমৃত্যু, সর্বোপরি আমাদের দৈনন্দিন যাপন; সবই যেন মিশে আছে ওই বইয়ের শব্দমালায়। লেখক তার শব্দমালায় সুরধারা সৃষ্টি করেছে, গানটা তাই গল্প হয়ে গেছে। গল্পটা যেন আমারই কোনো বিগত স্মৃতি। বিগত সেই স্মৃতি আমাকে সংযুক্ত করে সপ্রশ্ন জীবনের সংলগ্নতায়। এখানেই শিল্প আর জীবন সম্মিলিত হয়। শিল্প সেখানে আমার কথা বলে, আপনার কথা বলে, তাদের কথা বলে, সবার কথা বলে। (বিস্তারিত…)


স্পর্ধা

——–

ঘাতক, তোমার প্রতিবন্ধক,

মারণযজ্ঞ, আইনি খড়্গ,

শাসন খেয়াল, নিষেধ দেয়াল,

যুদ্ধবিকার, সবুজ শিকার,

হাতের শেকল – করতে বিকল

যুদ্ধরত, সমুদ্যত

কাস্তে ধরা সংগ্রামী হাত

তরতাজা প্রাণ। (বিস্তারিত…)