Posts Tagged ‘সাম্প্রদায়িকতা’


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

comando-operation-1গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি আরো বেশ কিছুদিন বড় ইস্যু হিসেবেই সামনে থাকবে বলে মনে হচ্ছে। অন্তত এই মাপের বড় কোনো ইস্যু সামনে না আসা পর্যন্ত তা টিকে থাকবে। সেই সঙ্গে এটি এখানকার ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলকও বটে। সবাই যার যার হিসেব কষছে। ওই সন্ত্রাসী হামলার পর কেউ বিদেশি শক্তির দ্বারস্থ হতে উপদেশ দিচ্ছেন, কেউ আবার নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখে যাচ্ছেন। সরকার এতে ‘দেশীয় জঙ্গি’ খুঁজে পাচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ জামায়াতবিএনপি, বা আইএসআই খুঁজে যাচ্ছে। আর অতিউৎসাহীরা সবকিছুতেই লাফাচ্ছেন! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অশোক চট্টোপাধ্যায়

Modi_Hitlerএকবিংশ শতাব্দীর একটা দশক অতিক্রান্তির উত্তরপর্বে দাঁড়িয়েও বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকটিকে বিস্মৃত হওয়া সম্ভব নয়। নব্বইয়ের দশকটি আমাদের দেশে উগ্র ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের নগ্ন প্রকাশের দশক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের নবগঠিত হিন্দুসভা পরবর্তী আট বছরের মাথায় ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে সারা ভারত হিন্দুমহাসভা নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই ঘটনার ঠিক দশ বছরের মাথায় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় জঙ্গি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস। ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বহিন্দু পরিষদ। এখন আর জনসঙ্ঘ নেই, সেখানে হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। সঙ্ঘপরিবারের মূল নিয়ন্তা শক্তি হলো আরএসএস। এর সহযোগী হিসেবে শিবসেনা সহ অন্যেরা তো আছেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

narendra-modi-one-year-1কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এর মধ্যেই তারা সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থবাহী অবস্থান নিয়েছে। আর দেশ বিক্রির বাজারমুখী সংস্কার নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্থ করেছে। মোদীর নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ঢেলেছিল কর্পোরেট মহল। যাদের প্রতিদানে ব্যাপক সুযোগসুবিধা পাইয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার। বিগত ইউপিএ সরকারের থেকেও বেশি জোর কদমে বিশ্বায়নের নয়াউদারবাদী নীতি গ্রহণ করছে এরা। আর সেই সঙ্গে লুম্পেন উন্নয়নের পথে হাঁটছে। যাতে মুষ্টিমেয় ধনীদের স্বার্থ সিদ্ধি হচ্ছে। আর মেহনতি মানুষের রুটিরুজি ও অর্জিত অধিকারের উপর আঘাত নেমে আসছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন:আবিদুল ইসলাম

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির স্বরূপ

বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো থেকে দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ডাক দেয়া হয় মাঝে মধ্যেই। হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করলেও তাদের কর্মসূচির রাজনৈতিক চরিত্রও চোখে পড়ার মতো। শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আজ “ইসলাম বিপন্ন” এমন শ্লোগান হেফাজতে ইসলামের লোকজনের পক্ষ থেকে উত্থিত হচ্ছে, যদিও এই ভূখণ্ডে এ আওয়াজ নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান আমল থেকেই জনগণের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনসংগ্রামের সময় শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ হতে এ আওয়াজ তোলা হতো। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন সহ অধিকাংশ সময়েই গণতান্ত্রিক দাবিদাওয়া আদায়ের সংগ্রামে জনগণ সংগঠিত হলেই পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষ হতে ‘ইসলাম গেল’ চিৎকার ওঠানো হতো। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আঞ্জুমান রোজী

কবি, প্রাবন্ধিক ভজন সরকারের “বিভক্তির সাতকাহন” গ্রন্থ এবং তার মুক্তচিন্তার আলোকে আমার এই আলোকপাত।

কালের স্রোতে ভেসে গেছে অনেক কিছু, আবার মহাকালের পাটাতনে রয়েও গেছে অনেক সত্য সুন্দরের প্রতিধ্বনি; তা স্বত্বেও বদলেছে অনেক কিছু। বদলেছে পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস। শুধু বদলায়নি ধর্মীয় অনুশাসনের অনুভূতি। বর্বর যুগে ধর্ম এসেছিল মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে অসভ্য মানুষকে সভ্য করার তাগিদে। মানুষের মনে ধর্মীয় বিশ্বাস আর ধর্মের নামে অলৌকিক ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল জীবনের পরিমিতি বোধ, যা থেকে মানুষ পেতে পারে নিরবচ্ছিন্ন সুখ আর অসীম আত্মার পরিতৃপ্তি। বর্তমান যুগে শিক্ষা মানুষকে সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে শুধু মানবতারই ঝাণ্ডা উড়ে। (বিস্তারিত…)

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস

Posted: ফেব্রুয়ারি 20, 2012 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস এবং ভাষার আধুনিক টার্মোলজি :: রাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদ

লিখেছেন: মালবিকা টুডু

মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা; তবে ভৌগোলিক অবস্থান, কাল ভেদে তা পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগেও ভাষার উন্মেষ ঘটেছিল, আবার হাজার বছর পরেও ভাষা থাকবে; তবে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়, সেই সাথে পরিবর্তন আসে সাহিত্যসংস্কৃতি, জীবন আচারেও। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যেখানেই মানুষ আছে, সেখানেই ভাষা আছে; আদিম ভাষা বলে কিছু নেই, সব মনুষ্য ভাষাই সমান জটিল এবং মহাবিশ্বের যেকোন ধারণা প্রকাশে সমভাবে সক্ষম; যেকোন ভাষার শব্দভাণ্ডারকে নতুন ধারণা প্রকাশের সুবিধার্থে যৌক্তিক উপায়ে নতুন শব্দ গ্রহণ করিয়ে সমৃদ্ধ করা সম্ভব; সব ভাষাই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয; মানুষের ভাষায় ভাষায় যে পার্থক্য, তার কোন জৈবিক কারণ নেই; যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক মানব সন্তান পৃথিবীর যেকোন ভৌগলিক, সামাজিক, জাতিগত বা অর্থনৈতিক পরিবেশে যেকোন ভাষা শিখতে সক্ষম।

ভাষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার সৃষ্টিশীলতা; ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে জাতি, এমনকি জাতিরাষ্ট্র; উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র’র কথাই বলা চলে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র ভাষাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে; পরবর্তীতে এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। তবে এই আন্দোলনের বীজ বোনা হয় ১৯৪৭ সালে, যখন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়াউদ্দীন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করেন। ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে, সেখানে তিনি লেখেন– “কংগ্রেসের নির্দিষ্ট হিন্দীর অনুকরণে উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গণ্য হইলে তাহা শুধু পাশ্চাদগমনই হইবে।…….. বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে।” দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা, বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে যে বিশাল পার্থক্য ছিল, সেই পার্থক্যকে শাসকশ্রেণী কখনোই লঘু করার চেষ্টাটুকুও করেনি তাদের শ্রেণী চরিত্রের কারণেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

A revolution is not a dinner party, or writing an essay, or painting a picture, or doing embroidery.’ – Mao Tse -Tung

ইদানিং এই অধম কিছুই ঠিকভাবে ঠাহর করে উঠতে পারেনা। যেমন উপরে মাও সেতুঙ এর কোটেশনের দিকেই তাকানো যাক, উক্তিটায় স্পষ্ট করে বলা আছে বিপ্লব ডিনার পার্টি, রচনা লেখা, ছবি আঁকা কিংবা এমব্রয়ডারি করার কোনটাই নয়। এখানে ‘বিপ্লব’এর পরিবর্তে ধরে নেই ‘আন্দোলন’ শব্দটাই আছে; কারণ ‘বিপ্লব’ শব্দখানায় বাঙ্গালীর সবসময়েই আতঙ্ক, ঘেন্না, বিদ্বেষ ইত্যাদি কাজ করে। নিজেদের চিন্তার অ্যারিস্টোক্রেসিতে তারা বিদ্যাসাগর নিয়ে নর্তনকুর্দন করে, মাস্টার দা’ সূর্য্যসেন যেন সবসময়ে চাপা পড়ে থাকেন সে জন্যে। তারা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল নিয়ে ফ্যাসিস্ট নির্যাতন সমতূল্য সভা–সেমিনারে অনুষ্ঠিত আলোচনা, বক্তৃতা সবই শুনবে, তাও কেবল সুকান্ত ভট্টাচার্য নিয়ে যেন কথাবার্তা বিশেষ না হয় সেই কারণে। স্মরনীয়া – বরনীয়া নারীদের মধ্যে তারা তাদের মগজে বেগম রোকেয়া নিদেনপক্ষে সুফিয়া কামাল’কে গ্রহণ করতে রাজী আছেন, তাও যেন বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কিংবা তেভাগা আন্দোলনের সময় যৌনাঙ্গে গরম ডিম প্রবিষ্ট করানোর মত নির্যাতন সহ্য করা বিপ্লবী ইলা মিত্র যেন কখনো আলোচনায় না আসে। যাক গে এই জনপদের দ্বিপদ স্তন্যপায়ীদের হিপোক্রেসির কথা, লিস্টটা শুধু লম্বাই হতে থাকবে।

কিন্তু মূল প্রসঙ্গে এসে দেখি যে ইদানিং অনুষ্ঠিতব্য আন্দোলনগুলো আন্দোলনের মত মনে হয়না। এখন প্রতিটি আন্দোলনকে মনে হয় প্রতি বছরে ফেব্রুয়ারী মাসে বইমেলাকে স্বাগত জানানোর জন্য ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ নামক উৎকট এক উৎসবের মত। এই যে দেখুন না সামনে আসছে ১ মার্চ বাংলাদেশে সকল ভারতীয় পণ্য বয়কট করার উৎসব এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে! তা’ এই উৎসবের হেতু কি? বিএসএফ কর্তৃক ক্রমাগত বাংলাদেশীদের হত্যার প্রতিবাদে সেদিন সকল ভারতীয় পন্য বয়কট করা হবে; আহা কি চমৎকার দেখা গেলো! আগে তাও এসব নিয়ে প্রেসক্লাবে, শাহবাগে, টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে মিছিল, সমাবেশ হতো। রাতেরবেলা ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখে বেলা করে ঘুম থেকে উঠা বাঙ্গালী মধ্যবিত্তরা সেজেগুজে শুক্রবার বিকালে প্রেসক্লাবে এসে মনোযোগ দিয়ে আবাল পাবলিকের সস্তা সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিতে পারঙ্গম নেতাদের বচনামৃত শুনতো। চোখমুখ কুঁচকে ভেবে আবারো নিশ্চিত হতো ‘মালাউনদের’ সবই খারাপ, এমনকি আগের রাতে যেই ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখেছিলো সেখানের মেয়েটার ‘মাই’ দুইটাও বেঢপ, কুৎসিত আকারের সেটা মনে করে নিজের হাত কামড়াতো! কিন্তু এখন আন্দোলনের নামে, প্রতিবাদের নামে এই ধরণের উৎসব এই ভোগবাদী, টেকনোলজিক্যাল উল্লম্ফনের আমলের নতুন অস্ত্র ‘ফেসবুক’ নামক সামাজিক নেটওয়ার্কের কল্যাণে অনায়াসেই সম্ভব। বিশ্বাস না করে যাবেন কোথায়? মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী দেখিয়েই ছেড়েছে, তাদের দক্ষতার ব্যাপারে যেই ‘হোমো সেপিয়ান্স’ সন্দেহ পোষণ করেছে, তার গালেই এরা ঠাস করে চড় দিয়েছে, তারপর ঝেড়েছে হাল ফ্যাশনের রাজনৈতিক সংলাপ ‘আপনে আমাত্তে বেশী বুঝেন?’ (বিস্তারিত…)