Posts Tagged ‘সামন্তবাদ’


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

The philosophers have always interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it. (Marx, Theses On Feuerbach: Thesis 11, 1845) 

এক.

যে কোনো মতাদর্শ কিংবা দার্শনিক তত্ত্বেরই একটা বস্তুগত ভিত্তি থাকে। যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকালের নিরিখে, নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই একেকটা মতাদর্শ জন্ম নেয়। সমাজে নতুন বস্তুগত পরিস্থিতি নতুন ধারণা এবং তত্ত্বের জন্ম দেয়। এটাই মার্ক্সবাদের শিক্ষা। মার্ক্সবাদের নিজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

আজাদি বনাম দেশপ্রেম

umar khalid-1দেশপ্রেমীদের হাতে পড়ে আজাদি শব্দটাকে লাঞ্ছিত হতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। দিল্লির (জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়) জেএনইউ থেকে কলকাতার যাদবপুর, সর্বত্র এই লাঞ্ছনা লক্ষ্যনীয়। সাধারণভাবে ইতিহাস বইয়ে স্বাধীনতাগণতন্ত্র শব্দ দুটোকে আমরা পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এদেশের প্রধান শাসকদলের লম্ফঝম্ফ দেখে মনে হচ্ছে কেউ যদি স্বাধীনতা চায় তাহলে তার গণতন্ত্র হরণ করাটাই যেন আজ এদেশে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে! সম্প্রতি জেএনইউএর ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সভাপতি কানহাইয়া কুমারের গ্রেপ্তার; অপর তিন ছাত্র উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও অশ্বত্থীকে জঙ্গী বলে দেগে দিয়ে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র; একাধিক ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে সিডিশান আইনে মামলা দায়ের করা, অধ্যাপক এস আর গিলানিকে গ্রেপ্তার, এসব তো আছেই। এমনকি ন্যায়ালয়ে আইনের রক্ষকদের সামনে অভিযুক্তকে মারধর করা এবং এ হেন বেআইনী কাজ করার পরেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরানো, এক চরম ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার ঘনঘটায় বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। (বিস্তারিত…)


তারিখঃ ২০.০৪.২০১৫

সহযোদ্ধা,

comrade-leninসর্বহারাশ্রেণীর কন্ঠরোধ করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত বুর্জোয়াদের যুদ্ধকালীন আইনকানুনই সর্বহারাশ্রেণীর বেআইনী আন্দোলন এবং সংগঠনের আবশ্যকতা তৈরী করে’ কমরেড লেনিনএর এই উক্তিকে সামনে রেখে আগামী ২২ এপ্রিল ২০১৫, বুধবার, জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণমুক্তির গানের দল সারা দুনিয়ার সর্বহারাশ্রেণীর মহান নেতা কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনএর ১৪৬তম জন্মদিবসে আলোচনা সভা ও গণসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিকাল ৪.৩০টায়। (বিস্তারিত…)


dabanol-1দেশ এক অন্তহীন সংকটে প্রবাহমান। বাংলাদেশ নামক এই মৃত্যু উপত্যকায় কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি মানুষের রক্ত ঝরছে অবিরাম। লুটপাটকারি শাসকগোষ্ঠীর সর্বগ্রাসি ক্ষুধায় ধ্বংস হচ্ছে আমাদের জীবন, সংস্কৃতি প্রকৃতি ও সম্পদ। লুটের বিশাল সম্পদের বেশির ভাগটাকে ভোগের জন্য শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে হিংস্রতার কামড়াকামড়ি বিদ্যমান। এই কামড়ে লুটেরেরা যতোটা না পরস্পর পরস্পরকে রক্তাক্ত করছে তার চেয়েও অনেক বেশি রক্তাক্ত হচেছ একটি সুন্দর স্বপ্ন নির্মাণের সংগ্রামে জড়িত কৃষকশ্রমিক ও শ্রমজীবি সাধারণ মানুষেরা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

tea-workers-7ব্রিটিশরা তখন রেল বসাচ্ছে। বাংলার পলিমাটিতে রেল বসাচ্ছে কারণ এখানে পাকাসড়ক রেলের চেয়েও ব্যয়সাপেক্ষ। রেল লাইন নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী সংযোজন। বাংলারচাষাভূষোরা সার সার দাঁড়িয়ে রেল বসানো দেখে। সেই কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকাংশই বাংলার বাইরে থেকে আনা হয়। প্রধানত বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উড়িস্যা এবং অন্ধ্রপদেশ থেকে এই শ্রমিকদের আনা হয়। রেল বসানো শেষ হলে সেই শ্রমিকদের একটা বড় অংশ দেশে নাফিরে এই বাংলাতেই থেকে যায়। আরও কিছু পরে সেই শ্রমিকদের সাথে আরো ‘বাইরের’ শ্রমিক এনে পাঠিয়ে দেয় হয় সিলেটঅসম অঞ্চলে। (বিস্তারিত…)

রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মতাদর্শ

Posted: জানুয়ারি 17, 2013 in অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মতাদর্শ, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

প্রথম ভাগ ভূমিকা:

আজকাল নতুন প্রজন্মের কাউকে রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে; প্রচলিত অন্তঃসারশূন্য রাজনৈতিক অবস্থার উদহারণ টেনে গর্বের সঙ্গে বলে, ‘আমি কোন দল করি না। আমার কোন মতাদর্শ নাই’। ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের সাইট, ফুসবুকে অনেকের প্রোফাইল স্ট্যাটাসে দেখা যায়; দেয়া থাকে No political view”। অনেকে আবার এ জাতীয় উত্তরকে আরও বেশি উচ্চ ডিগ্রীতে নিয়ে বলে, I hate politics। অনেকে উদাররূপে নিজেকে উদারনৈতিক জাহির করে, যা বস্তুত মতাদর্শহীন দেউলিয়াত্ব। এরূপ মতাদর্শহীন রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে তারা যে সব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করেন, সেটা অন্তঃসারশূন্য স্থূল চিন্তার পরিচায়ক। ব্যক্তির মতাদর্শহীন রাজনৈতিক অবস্থানকে রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ ভাবা যায় না, অচেতন চিন্তাই তাকে মতাদর্শহীন বা রাজনৈতিকভাবে অসচেতনতার দিকে ধাবিত করে। এটা কোন রূপেই রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ নয় বরং চূড়ান্ত বিচারে রাজনৈতিকভাবে অসচেতনতারই অংশ। (বিস্তারিত…)


নকশাল দ্রোহে নারী

পুরো বইটি পড়ুন এখান থেকে

https://mongoldhoni.files.wordpress.com/2012/06/intro.pdf

https://mongoldhoni.files.wordpress.com/2012/06/nokshal-nari-01.pdf

https://mongoldhoni.files.wordpress.com/2012/06/nokshal-nari-02.pdf

https://mongoldhoni.files.wordpress.com/2012/06/nokshal-nari-03.pdf

(বিস্তারিত…)

ভারতে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন এবং কিষেনজির মৃত্যু

Posted: এপ্রিল 22, 2012 in আন্তর্জাতিক, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: নেসার আহমেদ

কমরেড কিষেনজি

২৪শে নভেম্বর ২০১১, পশ্চিমবঙ্গের শালবিহারের বুড়িশোলের সোরাকোটা গ্রামে জঙ্গলে পুলিশ মাল্লাজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজিকে গ্রেফতার ও পরে গুলি করে হত্যা করে। কিষেনজি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)’র পলিটব্যুরোর সদস্য এবং একজন শীর্ষ নেতা। তাঁর মৃত্যুর সূত্র ধরে ভারতের রাজনীতিতে নানান মাত্রার বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেই কিষেনজির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরদিন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর) সহ ২৪টি মানবাধিকার সংগঠন, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশিষ্ট কবি ও চিন্তাবিদ ভারভারা রাও দাবি করেছেনকিষেনজিকে বন্দি অবস্থায় খুন করা হয়েছে। সিপিআই সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়প্পন চিদম্বরমকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। তাঁরও দাবি কিষেনজিকে গ্রেফতারের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রখ্যাত লেখিকা ও মানবাধিকার নেত্রী মহাশ্বেতা দেবী কিষাণজিকে হত্যা করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মমতাকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং বিধানসভা সদস্য ও গায়ক কবির সুমনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অবশ্য এর বিপরীত মতামতও রয়েছে। যেমন ভারতের শাসক শ্রেণী, কর্পোরেট মালিক এবং গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার গঠন করার ৬ মাসের মধ্যে কিষেনজিকে হত্যা করতে পারা মমতা ব্যানার্জির জন্য বড় মাপের সাফল্য! কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই? কারণ কিষেনজিকে হত্যা করা হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সাথে মাওবাদীদের আলোচনা চলছিল। এবং কিষেনজিকে হত্যার পরপরই মাওবাদীরা আলোচনা প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের নাম প্রত্যাহার করেছেন। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক। সেটা যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য, তেমনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের জন্যও। কারণ কিষেনজির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মাওবাদীদের মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা আদৌ কতটুকু? এ প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাবে মূলত ভারতের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মাহবুব হাসান

কমিউনিস্ট ফ্যানিফেস্টু লেখার সময়কালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

কমিউনিস্ট ফ্যানিফেস্টু লেখার সময়কালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

আজ ১৬৪ বছর একদিন পর আবারো কার্ল মার্কস ও ফেড্রিক এঙ্গেলস’র লেখা মানবমুক্তির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য `কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’কে নিয়ে দু’একটা কথাই পাঠক আপনার সাথে ভাগ করে নিব। জগৎএর সকল মেহনতি, শ্রমজীবি, মজদুরের লাঞ্ছনারবঞ্চনার, আধিপত্যের কড়ালগ্রাসে দাসত্বের অমানবিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সভ্যতা গড়ে উঠার সাথে সাথে সুবিধাভোগীরা শ্রেণী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জমিফসলের মালিকানা থেকে শুরু করে সকল গোষ্ঠীয় আইনকানুন, অর্থনৈতিক কাঠামো, এমন কি নিজেদের ইচ্ছে মতন তারা একটি জীবনমানও তৈরী করেছে। যার প্রতিটি ক্রিয়াই নিম্নশ্রেণীর ওপর এক কসাঘাত। যারাই যখন সমস্ত ক্ষমতা কাঠামোটি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারাই কৃত্রিমভাবে এক ধরণের সামাজিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সুকঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্যে শ্রেণী বৈষম্যকে একটি স্থায়ীরূপ দিয়ে কতগুলো সুবিধা অনুযায়ী মূল্যবোধ তৈরী করে সামগ্রিক জনগণকে নিষ্পেষিত করেছে। আর এই মানব সভ্যতায় এক আশ্চার্যজনক ঘটনা হলোযারাই সমাজ বা গোটা পৃথিবী ব্যবস্থা নিয়ে ভেবেছেন বা চিন্তার ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের কারোর ভাবনা জগতেই এ ব্যপারটা কাজ করেনি যে আসলে এ মহাবিশ্বের মূল কার্যকারণটি কি? কিসের ভিত্তিতে তা অগ্রসরমান বা স্থির?

এক দ্বান্ধিক অবস্থার মধ্য দিয়ে সকল কিছুই নতুন এক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ ছিলো নব এক আবিষ্কার। যা মানব জাতির চিন্তার ইতিহাসকে এক অনন্য ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ মহাকাব্যের উপহার দিয়েছিলো। মার্কসএঙ্গেলস’র আবিষ্কারটি কি? পুঁজিবাদী উৎপাদনপদ্ধতির এবং এই পদ্ধতি যে বুর্জোয়া সমাজ সৃষ্টি করেছে, তার গতি প্রকৃতির বিশেষ নিয়মগুলো তারা অর্ন্তদৃষ্টি সম্পন্ন এক যৌক্তিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সকলের সামনে উপস্থিত করেছেন। পুরোনো যুক্তি কাঠামোর প্রক্রিয়া ও প্রবনতাগুলোকে সুনিপুন ও ঐতিহাসিকভাবে লব্ধ জ্ঞানকে খারিজ না করে তার থেকে বিভিন্ন প্রযোজনীয় উপাত্ত নিয়ে এক নতুন শক্তিশালী ও প্রখর যুক্তি কাঠামো উপস্থাপন করেছেন। যা বৈজ্ঞাণিকভাবেও সিদ্ধ। কমিউনিস্ট ইশতেহার পাঠ করার সময় আমাদের একটা কথা খুব ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে মার্কস নিজেই একজন বিপ্লবী ছিলেন। তিনি তাঁর সমস্ত চিন্তা কাঠামোটিকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাটির চূড়ান্ত উচ্ছেদ করা। এবং সে সংগ্রামে সমস্ত জীবন তিনি ব্যয় করেছেন তাঁর সকল কাজে ও রচনাবলীতে। ইশতেহারের শিক্ষার আরো একটি প্রধান দিক হলোসমগ্র প্রলেতারিয়েতের স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র কোন স্বার্থ নেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার

ষাঁটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মনি সিংহমোজাফ্ফরদের রুশপন্থী সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ আন্তরিক বিপ্লবীদের বিদ্রোহের প্রক্রিয়ায় গঠিত ইপিসিপি (এমএল) এবং এর ধারাবাহিকতার অন্যান্য দল ও উপদলগুলো নিজেদের সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি হিসেবে দাবী করার পরও ১৯৬৭ সাল থেকেই কমরেড সিরাজ সিকদার এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী–মাওসেতুঙ চিন্তানুসারী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই উদ্যোগের মূলে ইপিসিপি (এমএল) ও এর থেকে বিভক্ত অন্যান্য দলউপদলগুলো জন্মের শুরু থেকেই যে সংশোধনবাদী লাইন গ্রহণ অনুসরণ করে তার বিরোধিতা করা এবং এর বিপরীতে একটি সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা।

. সে সময় ইপিসিপি (এমএল) আন্তর্জাতিকভাবে ক্রুশ্চেভের নেতৃত্বে রুশ পার্টির আধুনিক সংশোধনবাদী এবং দেশীয় ক্ষেত্রে মনিখোকামোজাফ্ফর চক্রের লাইনের বিরোধিতা করলেও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ এরাই ইতিপূর্বে মনিখোকামোজাফ্ফরদের নেতৃত্বে তাদের সংশোধনবাদী, সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী ও বিলোপবাদী লাইন অনুশীলন করেছিল, পার্লামেন্টারী রাজনীতি তথা নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতির অনুসারী ছিল। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিভক্তির সময় মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি, অনুশীলনের সঠিক ও সার্বিক সারসংকলন এবং আত্মসমালোচনা করতে ব্যর্থ হয়। বরং অভ্যন্তরীন লাইনের ক্ষেত্রে তারা ওই সকল প্রকাশ্য গণসংগঠনবাদী, সংস্কারবাদীঅর্থনীতিবাদী অনুশীলনেই (৭০ এর পূর্ব পর্যন্ত) নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে।

মস্কোপন্থী সংস্কারবাদীদের থেকে বিভক্ত হওয়ার পরও এরা পেটি বুর্জোয়া সংস্কারবাদী ভাসানী ন্যাপের কাঠামোর অধীনে সংস্কারবাদী ও বিভ্রান্তিকর প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতায় নিজেদের নিয়োজিত রাখে। হক, তোয়াহা’র মত নেতৃস্থানীয় ‘কমিউনিস্ট’রাও ইসলামী সমাজতন্ত্রের মত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ্যেই প্রচার করে এবং এভাবে শ্রমিক শ্রেণীর একটি বলশেভিক ধরণের বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টি গড়ে তুলতে তারা ব্যর্থ হয়। (বিস্তারিত…)