Posts Tagged ‘সামন্ততন্ত্র’


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! (বিস্তারিত…)

Advertisements

রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মতাদর্শ

Posted: জানুয়ারি 17, 2013 in অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মতাদর্শ, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

প্রথম ভাগ ভূমিকা:

আজকাল নতুন প্রজন্মের কাউকে রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে; প্রচলিত অন্তঃসারশূন্য রাজনৈতিক অবস্থার উদহারণ টেনে গর্বের সঙ্গে বলে, ‘আমি কোন দল করি না। আমার কোন মতাদর্শ নাই’। ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের সাইট, ফুসবুকে অনেকের প্রোফাইল স্ট্যাটাসে দেখা যায়; দেয়া থাকে No political view”। অনেকে আবার এ জাতীয় উত্তরকে আরও বেশি উচ্চ ডিগ্রীতে নিয়ে বলে, I hate politics। অনেকে উদাররূপে নিজেকে উদারনৈতিক জাহির করে, যা বস্তুত মতাদর্শহীন দেউলিয়াত্ব। এরূপ মতাদর্শহীন রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে তারা যে সব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করেন, সেটা অন্তঃসারশূন্য স্থূল চিন্তার পরিচায়ক। ব্যক্তির মতাদর্শহীন রাজনৈতিক অবস্থানকে রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ ভাবা যায় না, অচেতন চিন্তাই তাকে মতাদর্শহীন বা রাজনৈতিকভাবে অসচেতনতার দিকে ধাবিত করে। এটা কোন রূপেই রাজনৈতিক সচেতনতার অংশ নয় বরং চূড়ান্ত বিচারে রাজনৈতিকভাবে অসচেতনতারই অংশ। (বিস্তারিত…)

নেপাল :: বিপ্লবের বীজ ধ্বংসে এনজিও’র ভূমিকা

Posted: অগাষ্ট 21, 2012 in অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মতাদর্শ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

 

নেপাল বিপ্লবের দুর্বলতা :: এনজিও সৃষ্ট ফল

লিখেছেন: সাবা নাভালান

অনুবাদ: বন্ধুবাংলা

সাম্রাজ্যবাদের শান্তির ডাক...আজকাল বৈশ্বিক পরিপেক্ষিতে যা সহজে দৃশ্যমান তা হলোদেশে দেশে নিবদ্ধ থাকা বহুজাতিক কোম্পানির লোভী দৃষ্টি; সেই সব দেশের মধ্যে অন্যতম, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, তেমনি এক দেশনেপাল। ভারতের পশ্চাতে অবস্থিত নেপাল যুগ যুগ ধরে ভারতের দাসরাজ্য রূপে বিবেচিত হয়ে আসছে। নেপালের গরীব কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণী এখানে বিশ্বের ‘নয়া দাস’ রূপে চিন্হিত। অধিকাংশ গ্রামে রাষ্ট্রের কোন কর্তৃত্ব ও প্রশাসনের উপস্থিতি নেই। এসব গ্রাম্য মানুষেরা কখনোই সরকারী চিকিৎসা পরিষেবা পায় না। বিগত শতাব্দীর সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভয়াবহ দাসত্বের ফাঁদ বর্তমানের মোড়কে এখনো ভয়ঙ্কর রূপে বর্তমান।

দীর্ঘকাল যাবৎ ভারতের উপনিবেশিকতার মাঝে থাকার ফলে নেপালে দাসত্ব ও পরাধীনতার পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। মাওবাদী আন্দোলনের আগে বিকল্প রাজনীতি তথা ভারতের সম্প্রসারনবাদী উপনিবেশিক নীতি ও সামন্ততান্ত্রিক দাস পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিপ্লবী পথের প্রস্তাবনা কেহই প্রবর্তন করতে পারেনি। এই পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ইউনিফাইড কম্যুনিস্ট পার্টি, যা মাওবাদী চিন্তা ও চেতনা দ্বারা চালিত, জনগণকে বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করেছিল। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: সিয়াম সারোয়ার জামিল

(১ম পর্বের পর)

সংগ্রামের জন্য একটি অস্ত্র

দার্শনিকেরা শুধুমাত্র বিভিন্ন উপায়ে বিশ্বকে ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু মূল কথা হলো তাকে বদলে দেওয়া।(কার্ল মার্কস, ১৮৪৫)

মধ্য ফেব্রুয়ারীতে, The Manifest der Kommunistischen Parteiকমিউনিস্ট লীগের অফিসিয়াল কর্মসূচী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর কিছু দিনের মধ্যেই প্যারিসে অভূত্থান ঘটে, ফরাসি রাজা ক্ষমতাচ্যুত হনকয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভিয়েনা এবং বার্লিনে বিপ্লব কমিউনিস্টদের প্রত্যাশানুযায়ী ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেআন্দোলনের মুখে সরকারগুলো বিপদে পড়ে যায়, যারপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন মহাদেশের জুড়ে আরো প্রসালাভ করে

কার্ল মার্কস

মার্কস ও এঙ্গেলসের ম্যানিফ্যাস্টো সাদরে গৃহিত হলো। ইউরোপে সংগঠিত কমিউনিস্টদের ছোট দলটির কাছেএখন ছিল যুদ্ধ করার মতো বড় হাতিয়ার। ম্যানিফেস্টোটি জার্মান ভাষা থেকে দ্রুত ইংরেজি, ফরাসি, পোলিশ এবং ডেনিশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়

মন অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন বেলজিয়ান পুলিশ কার্ল মার্কসকে গ্রেফতার করেতাঁকে খুঁজতে গিয়ে গৃহহীনতার অভিযোগে গ্রেফতার হন মার্কসের স্ত্রী জেনি মার্কসও। মার্কস দম্পত্তিকে বেলজিয়াম থেকে বহিষ্কারকরে প্যারিসে পাঠানো হয়। মার্কস ও এঙ্গেলস আবার কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি দাঁড় করান এবং জার্মান শ্রমিক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। খুব দ্রুত সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৪০০ তে উন্নীতহয়। ফলে সকলের দৃষ্টি ছিল জার্মানির দিকে। এঙ্গেলস লিখেন, সবকিছু ভাল ভাবেই চলছে, দাঙ্গা সর্বত্র…..(বিস্তারিত…)


অনুবাদ: সিয়াম সারোয়ার জামিল

কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর দেড়শবছর পূর্তি উপলক্ষে এই ঐতিহাসিক নিবন্ধটি চৌদ্দ বছর আগে লিখিত হয়েছিল। এরপর এটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে।

এটি কমিউনিস্ট আন্দোলনের শুরুর দিকে কমিউনিষ্ট তাত্ত্বিকতা এবং দু:সাহসী বিপ্লবের গল্প। বিপ্লবের এই তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অনুশীলন তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে নতুনদের উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বটা আমাদের সবাইকেই হাতে তুলে নিতে হবে।

(সম্ভবতঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এটি অনূদিত হলোপ্রকাশক)

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

১৮৪৮ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারীতে লন্ডনের বিশপগেটে অবস্থিত একটি ছোট মুদ্রণ যন্ত্রে কমিউনিস্ট ইশতেহার ছাপা হয়েছিল। জার্মান ভাষায় লিখিত এই পুস্তিকাটির নাম দেত্তয়া হয় Manifest der Kommunistischen Partei”

প্রকাশের পরই ইউরোপে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। নানা রকম জটিলতা সৃষ্টিসরকারি দমনের পরও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ঐসময় বিপ্লবী কর্মীদের ছোট একটি দল একটি বড় রকমের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিল, যা তাদের আন্দোলনকে বিপ্লবী রূপ দান করবে।

এই বইয়ের একটি লাইনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছিল:

ইউরোপে ভূত নেমেছেকমিউনিজমের ভূত, যা ইউরোপ চষে বেড়াচ্ছে। ইউরোপের ক্ষমতাবানরা জোট বাঁধতে শুরু করেছিলযাতে সাম্যবাদ ই্উরোপে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এটি কমিউনিষ্টদের পৃথিবীর সামনে আসার জন্য উপযুক্ত সময় ছিল। একইসাথে নতুনদের সামনে পার্টির মাধ্যমে একটি ম্যানিফ্যাস্টোতে তাদের নীতি, তাদের লক্ষ্য, তাদের রাজনৈতিক ধারা প্রকাশের সুযোগ এসেছিল।” (বিস্তারিত…)


শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদারের ৩৭তম হত্যা দিবস, জাতীয় শহীদ দিবসে জনগণতান্ত্রিক পাঠচক্র (People’s Democratic Study Circle-PDSC)’এর বিবৃতিঃ

সংগ্রামী সহযোদ্ধাগণ,

১৯৭৫ সালের ২রা জানুয়ারি, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরশাসক শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক ও মহান বিপ্লবী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারকে। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘এনকাউন্টার’ নামক সাজানো নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ করা হয়। তথাকথিত কমিউনিস্ট নামধারী কিছু সংশোধনবাদী কর্তৃক এই হত্যাকান্ডকে ‘ডাকাত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা রাষ্ট্রের মাস্টার প্ল্যানিংএর মধ্যে অন্যতম। পশিমবঙ্গের সরোজ দত্ত, বিপ্লবী চারু মজুমদারের মত কমরেড সিরাজ সিকদারকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এখানেই রাষ্ট্র থেমে থাকেনি, থাকার কথাও নয়। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে হত্যা করা হয় কমরেড মনিরুজ্জামান তারা, কমরেড কামরুল মাস্টার, কমরেড মুফাখখার, কমরেড মিজানুর রহমান (কমরেড টুটুল)সহ অগণিত বিপ্লবী রাজনীতির নেতাকর্মীদের। এই হত্যাকাণ্ড অব্যাহত আছে আজো। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত রাষ্ট্র হত্যা করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)’র মুখপাত্র কমরেড আজাদ এবং অন্যতম প্রধান নেতা কমরেড কিষানজী’কে। আর হত্যার পর যথারীতি জনগণের সামনে ‘এনকাউন্টার’, ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুক যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন নামে নাটক সাজিয়ে প্রতারণা করা হয়। আর এই কপটতার সঙ্গী হয় দালাল মিডিয়া। (বিস্তারিত…)


মূল লেখা: বার্নার্ড ডি’মেলো

অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

কিষানজী লড়েছিলেন একটা উন্নত পৃথিবীর জন্য

একটি সাজানো এনকাউন্টার, যেখানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) [সিপিআইমাওবাদী]’এর পলিটব্যুরো সদস্য মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ‘কিষানজী’কে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে, পশ্চিমবঙ্গঝাড়খন্ড সীমান্ত থেকে ১০ কিমি দূরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়; সেই হত্যাকাণ্ডকে “সাচ্চা এনকাউন্টার” দেখানোর জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী (যিনি পশ্চিমবঙ্গের গৃহমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বেও নিয়োজিত), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব আর.কে. সিংহ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থরা উঠে পড়ে লেগেছেন। প্রধান প্রধান গণমাধ্যম সমূহ সাংবাদিকতা পেশা শিকেয় উঠিয়ে সরকারী অসত্যতার সঙ্গে ধর্ম বিশ্বাসে তাদের দুষ্কর্মে সহায়তা দিচ্ছে উন্মুক্তভাবে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে তাঁর মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি এখনো অজানা রয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০১১ তারিখে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র ‘অভয়’ কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আটক করার পর কিষানজীকে হত্যা করা হয়।”

নৃশংসতম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের চিত্র

বিপ্লবী তেলেগু কবি ভারাভারা রাও ‘কিষানজী’কে তাঁর জন্মস্থান অন্ধ্রের করিমনগর জেলার পেদ্দাপল্লী গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘কিষানজী’র ভাইজীর সাথে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন; তিনি বলেন: “গত ৪৩ বছরে আমি তথাকথিত এনকাউন্টারের নামে অনেক নিহতের মরদেহ প্রত্যক্ষ করেছি, কিন্তু এর মতন একটিও ছিল নাশরীরের এমন একটি জায়গা বাদ নেই, যেখানে ক্ষত ছিল না।” পোস্টমর্টেমের পূর্বে কিষানজীর মরদেহ প্রত্যক্ষ করা সিআরডিও (কোঅর্ডিনেশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস অর্গানাইজেশন)’এর কর্মীদের ভাষ্য মতে, “মাথার পিছনদিকের মস্তকের অংশ এবং মস্তিষ্ক ছিল না; ডান চোখ অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে এসেছিল; নিচের চোয়াল বলতে কিছু অবশিষ্ট ছিল না; মুখমণ্ডলে চারটি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল; গলায় ছুরি চালানোর চিহ্ন সুস্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয়; হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং কাঁধের নিচে ২টি গুলির ক্ষত দেখা যায়; বাম হাতের তর্জনীর একতৃতীয়াংশ উপড়ে ফেলা হয়; লক্ষ্য করা যায় কতগুলো গুলি ফুসফুস ভেদ করে চলে যায়; ডান হাঁটুতে গভীর ক্ষত করা হয়; বামপায়ের পাতা ছিল সম্পূর্ণরূপে দগ্ধ; শরীরের সামনের দিকে ৩০টিরও বেশী ব্যায়োনটের আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। যখন গুলি, ছুরিকাঘাত, পুড়ে যাওয়ার মতো অসংখ্য ক্ষত কিষানজীর সারা শরীরে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে (!) তার পরিধেয় শার্টপ্যান্টে ক্ষত স্থানের অংশে কোন দাগ লাগেনি।” (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনও ‘কিষানজী’র আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি)

উপড়ে ফেলা আঙ্গুল

(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

ঠান্ডা লড়াই শেষ। সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছে। দরকষাকষির শেষ সুযোগটাও হাতছাড়া হয়েছে। ভালোমন্দ মিলিয়ে বিশ্বের একক পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই। অর্থাৎ, শুধু যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়ে বিশ্ব নতুন এক তথাকথিত মুক্ত বিশ্ব পেয়েছে তাই নয়, সেই সাথে বিশ্বের সকল বিষয়ে খবরদারি আর শাসনশোষনের একক ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হয়েছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। মৃতপ্রায় পুঁজির অতিকায় ম্যামথ নতুন করে জন্ম নিয়ে বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের যে অন্যতম আকাঙ্খা আর অভিলাষ ছিল সমাজতন্ত্রের মৃত্যু কামনা এবং সমাতান্ত্রিক বিশ্বের পতন, সেই মৃত্যু বা পতন ত্বরান্বিত করতে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করত। সোভিয়েতের পতনের পর এখন সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলনসংগ্রামকে ধূলিস্মাৎ করতে, পদদলিত করতে। ‘চিরকালের শত্রু’ সোভিয়েতের পতনের পর বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েও যখন নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে আর কখনোই সমাজতন্ত্রের ‘ভূত’ জেগে উঠবে না. তখন সাম্রাজ্যবাদ নতুন এক ‘খেলা’ আবিষ্কার করে! এই খেলার নাম ‘গণতন্ত্র রপ্তানি’।

কোনো দেশে গণতন্ত্র আছে কি নেই সে বিচারের চেয়েও সাম্রাজ্যবাদের কাছে জরুরী হচ্ছে সেই দেশে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে কিনা? সেই অঙ্কুরিত বীজ চারা হয়ে বেড়ে উঠছে কিনা? সেই চারা মহীরূহ হয়ে উঠছে কিনা? এই সূত্রমতে তারা যেখানেই অমন বীজের অঙ্কুরোদগম দেখেছে, সেখানেই হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যেহেতু বিশ্ব এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে করদবিশ্ব, তাই কাউকে বলেকয়ে কিংবা ছলাকলার আশ্রয়টুকুরও দরকার পড়ছে না। সোজাসাপ্টা কথা; যাকেই বিপজ্জনক মনে হবে তাকেই তুলে এনে হত্যা করা। কোনো ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই। স্রেফ মার্কিন সাম্রজ্যবাদের পাচাটা তাবেদার হও, নইলে মৃত্যু। এমন এককেন্দ্রেীক বিশ্ব চরাচরে কমিউনিজম তো দূরের কথা, কোথাও গণতন্ত্র কার্যক করতে চাইলেই মৃত্যু। নির্ঘাৎ অপমানজনক মৃত্যু। এই ‘সূত্রমতে’ যে সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা বেঁচে থাকছেন, তারা তাদের আয়ু নিয়ে বাঁচছেন না। বেঁচে আছেন শুধু মাত্র দাসত্বের উপহার হিসেবে! ধরে নেয়া যায় বিশ্বের ছোটবড় প্রায় সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কোনো না কোনো অর্থে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালী করছে। কেননা হিসেবটা সোজা। হয় দালালী করো, নইলে মৃত্যুবরণ করো। এর মাঝামাঝি যা আছে তার নাম সমঝে চলা। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা তাই করছে। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

প্রাককথন

কমরেড কিষানজী

সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ, ওরফে বিমল, ওরফে রামজী, ওরফে ‘কিষানজী’ ()। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক শোকের দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্তা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াইসংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড….. (বিস্তারিত…)