Posts Tagged ‘সমাজ ব্যবস্থা’


লিখেছেন: অনুপ কুণ্ডু

censorshipসাম্প্রতিক সময়ে শিশুকিশোর হত্যা, কিশোরীনারী নির্যাতন ও ধর্ষণ, ডাকাত বা ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনীতে মানুষ হত্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এই হত্যানির্যাতনের সংখ্যা এবং মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এই বিভৎসতা, নৃশংসতা ভাষায় বর্ণনা করার নয়। যা দেখে কোন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক থাকা সম্ভব নয়। কেন ঘটছে এই ধরনের হত্যানির্যাতনবিভৎসতা? এর প্রতিকার কি সম্ভব নয়? নাকি এসব ঘটতেই থাকবে আর সাধারণ মানুষ নির্বিকারভাবে দেখে যাবে, সামান্য আহাউহু তারপর যথারীতি দৈনন্দিন জীবনযাপন। সাধারণের মধ্যে, সংঘবদ্ধ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে দেখা যাচ্ছে না কেন? (বিস্তারিত…)


atheism-1লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

নিজের মতবাদ বা স্বোপার্জিত সত্যের জন্য জীবন বরবাদ করে ফেলা জ্ঞানীগুণীদের মধ্যে সক্রাতেসের নাম সর্বাগ্রে। এদের মধ্যে যিশু জেনো গ্যালেলিও হাইপেশিয়াসহ আরো অনেকেই আছেন। আমাদের দেশে সম্প্রতি জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা বেড়েছে বা বাড়ছে এরই প্রমাণ একে একে হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার রাজিব বা হালে অভিজিত রায়ের হত্যা। সক্রাতেস প্রথাগত সমাজের সঙ্গে তর্ক করে বুঝতে চেয়েছিলেন যে, সমাজ কতটুকু পিছিয়ে আছে। আসলে সক্রাতেসের সব তর্কের পেছনেই আছে মানুষের মঙ্গল চিন্তা। প্লাতনের মাধ্যমে যেই সক্রাতেসকে আমরা বুঝি, তিনি আগাগোড়াই একজন ইন্টেলেকচুয়াল বা বিদ্বজ্জন। সব বিষয়আশয় নিয়েই তিনি চিন্তাভাবনা করেছেন। কিন্তু গতানুগতিকতার স্রোত থেকে এরপর আলাদা করেছেন নিজেকে। কিন্তু অন্যসব মানুষ সক্রাতেসের মতো চিন্তায় এগিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সক্রাতেস ক্রমাগত তাদের কাছে আলাদা হতে হতে তাদের অপরে পরিণত হন। তিনি একা হয়ে যান। তার চিন্তাজগতের আশপাশে সাধারণ মানুষ নেই। যদিও তিনি সাধারণের জন্যই চিন্তা করেছেন। এমনকি আমজনতার অধিকারের কথা ভেবে সারাজনম ব্যয় করা কার্ল মার্কসের প্রলেতারিয়েতরাও মার্কসবাদী নয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

savar-disaster-12টানা ২১ দিন উদ্ধার কাজ চালানোর পর উদ্ধারকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ শেষ করলেন। সেনাবাহিনী, ফায়ার ফাইটার, সিভেল ডিফেন্স এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত যে দলটি উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিল তার সঠিক সংখ্যা আমরা জানিনা। সত্যি কথা বলতে কি কেউই জানেন না। কারণ প্রতিদিনই রানা প্লাজার ধ্বংসাবশেষ থেকে জীবিত বা মৃত শ্রমিকদের উদ্ধার কাজে নতুন নতুন মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। যারা প্রথম দিকে কাজ শুরু করেছিলেন তারা কেউ কেউ সরে গেলেও সেখানে আরও নতুন কর্মী যোগ দিয়েছিল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

অনিমাদের ঘুম ভাঙ্গে আরো একটা দিন নিষ্পেশিত হতে এই নষ্ট সমাজে...দম আটকে আসার যোগাড় হচ্ছে অনিমার।

প্রচন্ড গরম পড়েছে এবার। বৃষ্টির কোন নাম গন্ধও নেই। প্রতিদিন ১৫ ঘন্টা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হেঁটে যাবার সময় গাছের একটা পাতাও নড়তে দেখেনা সে। মাস্তান, পুলিশের ইশারা – ইঙ্গিতে রাস্তার একটা ধুলোকনাও তার সহমর্মী হয়না। তার উপর চারপাশ আরো গুমোট, দম পর্যন্ত ফেলার উপায় থাকেনা।

এমন অবস্থায় শেষ ২০ মিনিট ধরে তার উপর বিশালাকায় একটা শরীর উঠে আছে। সে চড়ছে তো চড়ছেই। প্রতিবার তার ভুড়ি উঠানামার দৃশ্য দেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছে অনিমা। প্রতি সেকেন্ডেই অপেক্ষা, ভাবেএই বুঝি শেষ হলো, এরপর বস তার ইয়েটা কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকি দিয়ে প্যান্ট ঠিক করতে করতে উঠে পড়বে, হাতে প্রয়োজনীয় টাকা বা জিনিস গছিয়ে দিয়ে আনন্দে চলে যাবে। কমলা দিদির কাছে আগে থেকেই ট্রেনিং নিয়ে রেখেছে সব। কিন্তু কতক্ষন ধরে এই লীলাখেলা চলে জিজ্ঞেস করেনি। তাহলে দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করাটা সহজ হতো। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: খোন্দকার সোহেল

সোনাবরুদের হত্যার দায় কী করে এড়াবে এই রাষ্ট্র!!যে সোনাবরু এক মুঠো ভাতের জন্য প্রশ্ন ছুড়ে যায় ‘মা আমরা এত গরীব কেন?’ তার ক্ষুধার্ততায়ই আমি অনশনের সত্যতা খুঁজে পাই। পাই সামগ্রিক স্বত্ত্বার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ প্রতিবাদী দৃশ্যপট। আমি অনশনের সত্যতা খুঁজে পাই ছিন্নমূল বিলকিসের মাঝে। এরাই বাস্তবিক অর্থে অনশন করছে। সোনাবরুর অনশন ছিল “আমরণ অনশন”, সর্বনাশা এই অনশনের কারণে ফুটফুটে সোনাবরু নিজ গলায়ই ঝুলিয়ে দিয়েছিল ফাঁসির রশি। একমুঠো ভাতের জন্য সোনাবরু মিথ্যে আশ্বাসের শিকার হয়েছিল গর্ভধারিণীর কাছেও। “মা ভাত খাব”, “স্কুলে যা সোনা, এখনও চাল জোগাড় হয়নি। দুপুরে আমরা পেটপুরে ভাত খাব”। ক্ষুধায় কাতর সোনাবরু দু’মুঠো ভাতকে স্বপ্ন বানিয়ে গ্রামের মাঠ ধরেই ছুটে যায় পাঠশালায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

এক

কতদিন নারী মাংশের স্বাদ পাই না, কতদিন যৌনপল্লীতে যাইনি; দীর্ঘ একমাস পূর্বে একবার গিয়ে শরীরের ক্ষুধা মিটিয়ে এসেছিলাম। মেয়েগুলো কত সস্তায় যে তাদের দেহ বিক্রি করে! পঞ্চাশ টাকা, একশ টাকা, দুইশ টাকা, তিনশ টাকাএত কম দামে এমন ভাল জিনিস পৃথিবীর আর কোথায় পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ! আর আমি অভাগা এমন সুযোগ নাকের ডগায় পেয়েও সামান্য কটি টাকার অভাবে, দেহের লালসা নিয়মিত নিবৃত্ত করতে পারিনা।

মেয়েগুলো কত যে ভালো! কোন আবদার নেই, বিশেষ বাহানা নেই, চটুলতা নেই, ছেনালীপনার ছিটেফোটা নেই, কত সহজ,কেমন সুন্দর সরল! আর যা কিছু করে, সকল তাদের ব্যাবসার খাতিরে, খদ্দেরদের সামনে কাঁচা মাংশের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে, বিভিন্ন ভঙ্গিমায় দেখায়, গুনাগুন বর্ণনা করে; মানিব্যাগ খুলে কয়েকটা কড়কড়ে নোট বের করে দিলেই, সুবোধ বালিকাদের মত; নিম্নাঙ্গ উন্মুক্ত করে বিছানায় শুয়ে পড়ে।

আর ভদ্র ঘরের সামাজিক মেয়েরা,যারা সমাজ সংসার থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলেদের সাথে প্রেম প্রেম খেলে; তাদের কত যে তাল বাহানা, ছেবলামো, ছেনালীপনা, ধূর্ততা তা বলে শেষ করা যাবে না! ওদের মনের মধ্যে যেন গুবরে পোকা সবসময় কিলবিল করে; কুকুরের মত, জিহ্বা দিয়ে সবসময় লালা টপটপ করে পড়তে থাকে; থ্রিপিছ, শাড়ী, চুড়ি, কানের দুল, সাবান,শ্যাম্পু,সুগন্ধি তেল, পারফিউম কিনে দাও, ফোনে ব্যালান্স ভরে দাও, মিসড কল মারলে ফোনে ভালাবাসার চটুল কথাবার্তা বলতে বলতে; নাকি কান্না শুনতে শুনতে সমস্ত রাত্রি কাবার, মানি ব্যাগের সব টাকা শেষ। তার পরেও রেহাই নেই, টাকা ধার করে হলেও সপ্তাহে একদিন চাইনিজে; দুই দিন পার্লারে নিয়ে যাও। আগের দিনে দুই টাকার বাদাম কিনে পার্কে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রেম করা যেত, এখন সেই দিন শেষ; নতুন যুগ এসেছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে,নইলে আর প্রেমিকার মুখ দেখতে হবেনা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল কর্মকার

আমি লিখতে চাইনি। কারণ আজকাল লেখা আর কারও মনে আঘাত কিংবা প্রতিঘাত করে না। মানুষের মন আজ কর্পোরেট কোম্পানির বাগানে লাগানো প্লাস্টিকের ফুল। তবুও আজ সকালে ঘুম থকে উঠে কলম ধরতে হলো নিজের কাছে নিজের দায় থেকে। সকালে একদিনের বাসি পত্রিকায় একটা নিউজ দেখে নিজেকে সামলে রাখা কষ্টকর হলো। লেখাটা ছিল আমি সর্বহারাশিরোনামে সাংবাদিক মিনার মাহমুদের লেখা একটা চিঠি। আত্মহত্যা করবার আগে স্ত্রী লাজুককে লেখা তার এই শেষ চিঠিতে তিনি লিখে গেছেন তার যন্ত্রনা ও এই সমাজের কুৎসিত ক্ষতগুলোর কথা।

মিনার মাহমুদ

মিনার মাহমুদ যখন সকাল বেলা বাসা থেকে বের হন তখনও তিনি জানতেন যে তিনি আর ফিরে আসবেন না বাসায় নিজের স্ত্রীর কাছে। কতটা স্বপ্নভঙ্গ হলে একজন মানুষ এতটা পরিকল্পিতভাবে নিজেকে সর্বহারা ঘোষণা করে আত্মহত্যা করতে পারে। তার এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী এই রাষ্ট্র, এই ব্যবস্থা এবং এই রাষ্ট্রের মিডিয়ার কুৎসিত সম্পাদকরা।

মিনার মাহমুদের চিঠির বয়ানে আত্মহত্যা প্রসঙ্গে: মোটেও না, আসলে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ আছে আমার বাংলাদেশের সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সময় থেকে এযাবৎকাল এদেশের মিডিয়ার উপর এসেছে একের পর এক আঘাত। কখনও মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। একটা সময় মিডিয়া দাসত্ব করেছে কোনো দলের আর এখন দাসত্ব করছে কর্পোরেট কোম্পানির। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মাহবুব হাসান

কমিউনিস্ট ফ্যানিফেস্টু লেখার সময়কালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

কমিউনিস্ট ফ্যানিফেস্টু লেখার সময়কালে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস

আজ ১৬৪ বছর একদিন পর আবারো কার্ল মার্কস ও ফেড্রিক এঙ্গেলস’র লেখা মানবমুক্তির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য `কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’কে নিয়ে দু’একটা কথাই পাঠক আপনার সাথে ভাগ করে নিব। জগৎএর সকল মেহনতি, শ্রমজীবি, মজদুরের লাঞ্ছনারবঞ্চনার, আধিপত্যের কড়ালগ্রাসে দাসত্বের অমানবিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সভ্যতা গড়ে উঠার সাথে সাথে সুবিধাভোগীরা শ্রেণী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জমিফসলের মালিকানা থেকে শুরু করে সকল গোষ্ঠীয় আইনকানুন, অর্থনৈতিক কাঠামো, এমন কি নিজেদের ইচ্ছে মতন তারা একটি জীবনমানও তৈরী করেছে। যার প্রতিটি ক্রিয়াই নিম্নশ্রেণীর ওপর এক কসাঘাত। যারাই যখন সমস্ত ক্ষমতা কাঠামোটি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারাই কৃত্রিমভাবে এক ধরণের সামাজিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সুকঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্যে শ্রেণী বৈষম্যকে একটি স্থায়ীরূপ দিয়ে কতগুলো সুবিধা অনুযায়ী মূল্যবোধ তৈরী করে সামগ্রিক জনগণকে নিষ্পেষিত করেছে। আর এই মানব সভ্যতায় এক আশ্চার্যজনক ঘটনা হলোযারাই সমাজ বা গোটা পৃথিবী ব্যবস্থা নিয়ে ভেবেছেন বা চিন্তার ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের কারোর ভাবনা জগতেই এ ব্যপারটা কাজ করেনি যে আসলে এ মহাবিশ্বের মূল কার্যকারণটি কি? কিসের ভিত্তিতে তা অগ্রসরমান বা স্থির?

এক দ্বান্ধিক অবস্থার মধ্য দিয়ে সকল কিছুই নতুন এক উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ ছিলো নব এক আবিষ্কার। যা মানব জাতির চিন্তার ইতিহাসকে এক অনন্য ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ মহাকাব্যের উপহার দিয়েছিলো। মার্কসএঙ্গেলস’র আবিষ্কারটি কি? পুঁজিবাদী উৎপাদনপদ্ধতির এবং এই পদ্ধতি যে বুর্জোয়া সমাজ সৃষ্টি করেছে, তার গতি প্রকৃতির বিশেষ নিয়মগুলো তারা অর্ন্তদৃষ্টি সম্পন্ন এক যৌক্তিক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সকলের সামনে উপস্থিত করেছেন। পুরোনো যুক্তি কাঠামোর প্রক্রিয়া ও প্রবনতাগুলোকে সুনিপুন ও ঐতিহাসিকভাবে লব্ধ জ্ঞানকে খারিজ না করে তার থেকে বিভিন্ন প্রযোজনীয় উপাত্ত নিয়ে এক নতুন শক্তিশালী ও প্রখর যুক্তি কাঠামো উপস্থাপন করেছেন। যা বৈজ্ঞাণিকভাবেও সিদ্ধ। কমিউনিস্ট ইশতেহার পাঠ করার সময় আমাদের একটা কথা খুব ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে মার্কস নিজেই একজন বিপ্লবী ছিলেন। তিনি তাঁর সমস্ত চিন্তা কাঠামোটিকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাটির চূড়ান্ত উচ্ছেদ করা। এবং সে সংগ্রামে সমস্ত জীবন তিনি ব্যয় করেছেন তাঁর সকল কাজে ও রচনাবলীতে। ইশতেহারের শিক্ষার আরো একটি প্রধান দিক হলোসমগ্র প্রলেতারিয়েতের স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র কোন স্বার্থ নেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ফেরারী সুদ্বীপ্ত

আমরা শুরু করতে পারি জহির রায়হানের “হাজার বছর ধরে” উপন্যাস দিয়ে। উপন্যাসের একটি চরিত্র আবুল যে তার বউ হালিমাকে পিটিয়ে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করত। বউ পেটানোর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট অজুহাত আবুলের দরকার হত না, শুধু রশীদের বউ যদি একবার কানে কানে গিয়ে বলত যে হালিমাকে সে পরপুরুষের সাথে হাসাহাসি করতে দেখেছে অমনি মাথায় রক্ত উঠে যেত আবুলের। উপন্যাসে আমরা দেখি অবশেষে মৃত্যুই হালিমাকে আবুল নামক পিশাচের হাত থেকে চিরমুক্তি দেয়। উপন্যাসটি আবহমান গ্রাম বাংলার প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপনের একটি বিশ্বস্ত চিত্র।

উপন্যাসের পাতা থেকে প্রসংগত আমরা এবার চোখটা রাখি সমকালের আয়নায়, রুমানা মঞ্জুর নামে একজন নারীর দিকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই পরিচয়টা আমার কাছে মূখ্য নয়। তিনি একজন আটপৌরে গৃহবধু যিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন, সন্তানের মা হয়েছেন, এবং অশিক্ষিত আবুলের মত তার স্বামী সাঈদ তাকে কারণে–অকারণে প্রহার করতেন। তার নির্মম সৌভাগ্য হালিমার মত তাকে মরতে হয়নি, তবে চিরতরে হারিয়েছেন দুটি চোখ। আবুলের মত সেই দিন সাঈদেরও মাথায় এসেছিল তার বউ পরকীয়ায় লিপ্ত।

এই আমাদের দেশ, যেখানে শিক্ষিতঅশিক্ষিত, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে পিএইচডি ধারী গবেষক, আমলা থেকে ব্যবসায়ী প্রত্যেকে নিজের স্ত্রীর উপর ষোল আনা কতৃত্ব বজায় রাখার জন্য সদা উদগ্রীব।এই একটা জায়গায় গিয়ে শিক্ষিত সাঈদ আর অশিক্ষিত আবুল তার শ্রেণী ব্যবধান ঘুচিয়ে এক কাতারে সামিল হয়। নিজের পুরুষতান্ত্রিক ইগোটাকে রক্ষা করার জন্য বউয়ের সাথে কুকুর বেড়ালের মত ব্যবহার করতে হবে, কারণেঅকারণে বউয়ের উপর হাত তুলতে হবে, সবসময় হুংকার মেরে বুঝিয়ে দিতে হবে আমি তোমার স্বামী। আমাদের শিক্ষিত সমাজ থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ স্ত্রীর কাছে সামন্তাতান্ত্রিক প্রভু সেজে বসে থাকতে একধরনের মর্ষকামিতার সুখ লাভ করে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড , পারিবারিক নির্যাতন ও যৌন নির্যাতনের মাত্রা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে । লিমন থেকে শুরু করে রুমানা মঞ্জুর , সেখান থেকে সাভারে ডাকাত সন্দেহে ৬ জন ছাত্রকে হত্যা , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরের উপর পুলিশী নির্যাতন , বরগুনায় জেনীকে ধর্ষনের পর হত্যা , ১৫ বছরের আদিবাসী মারমা কিশোরীকে ধর্ষন , সর্বশেষ নোয়াখালীতে মিলনকে পুলিশের সহায়তায় নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে । এই ঘটনাগুলোকে পৃথক করে দেখবার কোন উপায় নেই যদিও ঘটনাগুলো বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে , কিন্তু তার প্রতিটিই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ।

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব কর্তৃক লিমনের উপর নির্যাতন , বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাদেরের উপর পুলিশী নির্যাতন , সাভারে ৬ ছাত্রের হত্যাকান্ড , সর্বশেষ নোয়াখালীতে মিলনকে পুলিশের ইন্ধনে হত্যার ঘটনাগুলো নতুন কিছু নয় । আমরা যদি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে ১৯৭২ সাল থেকেই বিনা বিচারে এরুপ হত্যাকান্ড , নির্যাতনের ঘটনা ঘটা শুরু হয়েছিল । আমরা সেই সময়ের দিকে তাকালে দেখতে পাব যে সেই সময়কার শাসক শ্রেনীর প্ররোচনায় রক্ষীবাহিনী , লাল বাহিনী কর্তৃক হাজার হাজার কমিউনিস্টকে নির্দ্বিধায় হত্যা করা হয়েছিল , সেই সকল কমিউনিস্টদের অধিকাংশই ছিল জাসদের সাথে সম্পৃক্ত । কমরেড সিরাজ শিকদারকেও সেভাবেই হত্যা করা হয়েছিল যার হত্যার পরে জাতীয় সংসদে শেখ মুজিবর রহমানের দম্ভোক্তি ‘ কোথায় আজ সিরাজ শিকদার ‘ এর কথা আজও অনেকেরই মনে থাকবার কথা । সেসবের ধারাবাহিকতাতেই পরবর্তীতেই ‘ অপারেশন ক্লিন হার্ট ‘ , র‍্যাবের উত্থান ঘটে যা বিনা বিচারে হত্যাকান্ডের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেয় । আমরা খেয়াল করলে দেখব যে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ বাহিনীও র‍্যাবের মতই ভয়াবহভাবে তাদের নির্যাতক রুপ ধারন করেছে । এমন নয় যে পুলিশ এর আগে কখনো কার উপর কোন নির্যাতন করেনি কিন্তু ছাত্র কাদেরের উপর নির্যাতন , নোয়াখালীতে মিলনের উপর নির্যাতন নিঃসন্দেহে পুলিশের নির্যাতনের মাত্রাকে নতুন রুপ দিয়েছে যেটা আমরা সকলেই র‍্যাব নামক বাহিনীর কাছ থেকে দেখে এসেছি । কাজেই এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি যে পুলিশ বাহিনী র‍্যাবের পদাঙ্ক আরো নগ্নভাবে অনুসরন করা শুরু করেছে !!!! এই পরিস্থিতি অবশ্যই আশংকাজনক । (বিস্তারিত…)