Posts Tagged ‘সমাজতন্ত্র’


লিখেছেন: অজয় রায়

আগামী ৭ই নভেম্বর মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তী হবে। শোষণহীন মানব সমাজ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল এই নভেম্বর বিপ্লব (জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অক্টোবর)। সোভিয়েত জনগণের দ্বারা সম্পন্ন এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। পৃথিবীর ভূভাগের একষষ্ঠাংশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। আর সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি গতি সঞ্চার করে পুঁজিবাদকে অতিক্রমের লক্ষ্যাভিমুখী আন্দোলনেযে দীর্ঘ রূপান্তরের প্রক্রিয়া আজও চলছে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

রাশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক শিক্ষা

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংস্কৃতি, সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি হলো – নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে একমাত্র সর্বহারাশ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শ; অর্থাৎ কমিউনিজমের মতাদর্শের দ্বারা। অন্য কোনো শ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শের দ্বারা এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে না। এক কথায়, নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হলো সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি।”

মাও সেতুঙ, নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

মার্ক্সবাদ হাজার হাজার সত্যের সমষ্টি, কিন্তু এগুলো সবই কেন্দ্রীভূত হয় একটিমাত্র বাক্যে – ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত’। হাজার হাজার বছর ধরে এটা বলে আসা হচ্ছিলো যে, দাবিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত, শোষণ করাটা ন্যায়সঙ্গত এবং বিদ্রোহ করা অন্যায়। এই পুরনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মার্ক্সবাদের উদ্ভবের পরই উল্টে গেলো। এটা একটা মহান অবদান। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সর্বহারাশ্রেণী এই সত্যকে শিখেছে এবং মার্ক্স এই উপসংহার টেনেছেন। আর তারপর এই সত্য থেকেই আসে প্রতিরোধ, সংগ্রাম, সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই।”

মাও সেতুঙ, স্তালিনএর ষাটতম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ইয়োনানে সর্বস্তরের জনগণের সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ থেকে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

The philosophers have always interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it. (Marx, Theses On Feuerbach: Thesis 11, 1845) 

এক.

যে কোনো মতাদর্শ কিংবা দার্শনিক তত্ত্বেরই একটা বস্তুগত ভিত্তি থাকে। যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকালের নিরিখে, নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই একেকটা মতাদর্শ জন্ম নেয়। সমাজে নতুন বস্তুগত পরিস্থিতি নতুন ধারণা এবং তত্ত্বের জন্ম দেয়। এটাই মার্ক্সবাদের শিক্ষা। মার্ক্সবাদের নিজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোভিয়েত সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া গিয়েছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের পর রাশিয়ার সামাজিক বিপ্লব এবং তাদের কর্মযজ্ঞ দেখে তিনি অভিভূত হন। এ সময় তিনি লেখেন: “… আপাতত রাশিয়ায় এসেছিনা এলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত। এখানে এরা যা কাণ্ড করছে তার ভালোমন্দ বিচার করবার পূর্বে সর্বপ্রথমেই মনে হয়, কী অসম্ভব সাহস। সনাতন বলে পদার্থটা মানুষের অস্থিমজ্জায় মনেপ্রাণে হাজারখানা হয়ে আঁকড়ে আছে; তার কত দিকে কত মহল, কত দরজায় কত পাহারা, কত যুগ থেকে কত ট্যাক্‌সো আদায় করে তার তহবিল হয়ে উঠেছে পর্বতপ্রমাণ। এরা তাকে একেবারে জটে ধরে টান মেরেছে; ভয় ভাবনা সংশয় কিছু মনে নেই। সনাতনের গদি দিয়েছে ঝাঁটিয়ে, নূতনের জন্যে একেবারে নূতন আসন বানিয়ে দিলে। পশ্চিম মহাদেশ বিজ্ঞানের জাদুবলে দুঃসাধ্য সাধন করে, দেখে মনে মনে তারিফ করি। কিন্তু এখানে যে প্রকাণ্ড ব্যাপার চলছে সেটা দেখে আমি সব চেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছি। শুধু যদি একটা ভীষণ ভাঙচুরের কাণ্ড হত তাতে তেমন আশ্চর্য হতুম নাকেননা নাস্তানাবুদ করবার শক্তি এদের যথেষ্ট আছেকিন্তু দেখতে পাচ্ছি, বহুদূরব্যাপী একটা ক্ষেত্র নিয়ে এরা একটা নূতন জগৎ গড়ে তুলতে কোমর বেঁধে লেগে গেছে। দেরি সইছে না; কেননা জগৎ জুড়ে এদের প্রতিকূলতা, সবাই এদের বিরোধী—যত শীঘ্র পারে এদের খাড়া হয়ে দাঁড়াতে হবেহাতে হাতে প্রমাণ করে দিতে হবে, এরা যেটা চাচ্ছে সেটা ভুল নয়, ফাঁকি নয়। হাজার বছরের বিরুদ্ধে দশপনেরো বছর জিতবে বলে পণ করেছে। অন্য দেশের তুলনায় এদের অর্থের জোর অতি সামান্য, প্রতিজ্ঞার জোর দুর্ধর্ষ।” (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহজাহান সরকার

‘নিয়মানুগ’ শব্দের অন্তরালে উপনিবেশের পুনরাবৃত্তি

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু এবং ফ্যাসিবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাষ্ট্র প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক ত্বরান্বিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ-নিবন্ধে উভয় দেশের মধ্যকার ‘নিয়মানুগ’ (নরমালাইজ) সম্পর্ক সৃষ্টিতে ওবামার ভূমিকা আলোচিত হবে। ওবামার পদক্ষেপ এক চমৎকার মৌলিক পটভূমি তুলে ধরে যে, কেন কিউবায় বিপ্লব জরুরি হয়ে পড়েছিল, কেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য কিউবার গৃহযুদ্ধের প্রধান লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। কিভাবে ও কেন যে বিপ্লব শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভে সফল হয় নি। কী করেই-বা সম্ভব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ ও মিডিয়ার স্বার্থ হাসিলের সকল প্রচারণার মধ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8bগত ২৫ নভেম্বর কিউবা বিপ্লবের শীর্ষ নেতা ও দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো রুজ প্রয়াত হয়েছেন।[] বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি ছিলেন বিংশ শতকের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিদ্রোহের এক মূর্ত প্রতীক। সুপারপাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়াতেই কিউবায় তিনি গত প্রায় পাঁচ দশক ধরে সরকার পরিচালনা করেছিলেন। তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা হয়েছে অনেকবার। হত্যার চেষ্টাও হয়েছে। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে অবশ্য ফিদেল অসুস্থতার দরু রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করে দেন তাঁর ভাই রাউল কাস্ত্রোকে, যিনি সে সময় কিউবার উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।[] (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

কলম্বিয়ায় গত ২ অক্টোবর বামপন্থী এফএআরসি (ফার্ক) বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেদেশের দক্ষিণপন্থী সরকারের শান্তিচুক্তি গণভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলাফলে ৫০.২ শতাংশ না ভোট পড়েছে এবং ৪৯.৮ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়েছে।[] স্পষ্টতই চরম দক্ষিণপন্থী শক্তিগুলির দাপট বাড়ায় সেদেশে মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। আর সংকট ঘনাচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোস। যদিও তিনি পূর্বতন আলভারো উরিবে সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ফল্স পজিটিভ কেসের মতো বিভিন্ন গণহত্যায় মদত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। (বিস্তারিত…)


gpcr-1966-2

লিখেছেন: অজয় রায়

গত ১৬ই মে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ৫০ বর্ষপূর্তী হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৬ সালে পুঁজিবাদের পুন:প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা ও চীনের প্রারম্ভিক নেতিবাচক অভিজ্ঞতার নিরিখে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের (১৯৬৬১৯৭৬) সূচনা করা হয়েছিল মাও সেতুঙএর নেতৃত্বে।[] চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেকার যে শক্তিগুলি পুঁজিবাদ পুন:প্রতিষ্ঠা করার পক্ষপাতি ছিল, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লক্ষ লক্ষ জনসাধারণকে সংগঠিত করা হয়েছিল। পার্টি ও রাষ্ট্রের মধ্যেকার বিশেষ সুবিধাভোগী আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহ করার অধিকার দেওয়া হয়। যখন স্লোগান ওঠে, সদর দপ্তরে কামান দাগো। স্পষ্টতই সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অর্থ হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টিকে জনগণের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত হতে হবে। এটাই মাও সেতুঙএর সূত্রায়িত গণলাইন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মহসিন শস্ত্রপাণি

matin-bairagiদীর্ঘদিন ধরে পথচলার সাথী কবি মতিন বৈরাগীর সত্তর বছরে যাত্রা উপলক্ষে অজস্র শুভেচ্ছা জানাই। তিনি পৃথিবীর আলোহাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ মেলে তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়েছিলেন বরগুনার লাকুরতলা গ্রামে, ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর। তিনি কবিতাপ্রেমে একগ্রতার সাথে মগ্ন আছেন কৈশোরকাল থেকেই এবং নিশ্চিতভাবেই বলা যায় মগ্ন থাকবেন। অন্য কোনো বিষয়ে তাঁর প্রেম এতো গভীর ও অনড় নয়। জীবনের নানা আঘাত ও সংকটে তাঁর কবিতাপ্রেম এতোটুকু টলেনি। দুএকটা ছোট গল্প ও সামান্য কিছু গদ্য রচনায় মন দিলেও কবিতাই তাঁর সব। কবিতার সঙ্গে জীবনযাপনে তাঁর যতো সুখ, যতো আনন্দ। (বিস্তারিত…)