Posts Tagged ‘শ্রমিকশ্রেণী’


লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

may-day-1জনগণের সামনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে ১৯৭১ সালের জনগণের মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামীলীগ দখল করে নিতে পেরেছিল। জনস্বার্থবিরোধী একটি রাজনৈতিক দল যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে তখন তারা জনগণের গণতান্ত্রিক কেন্দ্রগুলো দখল এবং নিয়ন্ত্রণ করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশে তাই ঘটে চেলেছে। স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের এবং শ্রমিককৃষক মেহনতি জনতার সংগ্রামের দিনগুলোকে আওয়ামীলীগ এবং পরবর্তীতে তার শেকড় থেকে তৈরী শাসকশ্রেণীর দলগুলো দখল এবং নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। এইসব দিবসগুলোকে জনগণের লড়াই সংগ্রামের দিবস থেকে জনগণকেই জনস্বার্থের বিরূদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দিবসে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে মে দিবসকে দখল এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে যে, গোটা বিশ্বের শ্রমজীবী জনগণের মুক্তির শপথ গ্রহণের এই দিনটিকে শ্রমজীবী মানুষদের দ্বারাই শ্রমজীবী জনগণের বিরূদ্ধে ব্যান্ড বাজিয়ে আনন্দ করার দিবসে পরিণত করেছে। বাংলাদেশে মে দিবসের চিত্র দেখলে এখন তাই দেখা যায়। (বিস্তারিত…)

Advertisements

২১ এপ্রিল ২০১৫

rana-plaza-452গত ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সালে রানা প্লাজায় ঘটে গেছে আন্তর্জাতিক শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচার কার্যক্রমের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ জোর করে শ্রমিকদের ওই ভাঙা ভবনে ঢুকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, গণমাধ্যমের কল্যাণে এটা কার না জানা। রানা প্লাজায় ঘটে যাওয়া শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার প্রতিবাদে আগামীকাল ২২ এপ্রিল, ২০১৫, বুধবার, রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ওইদিন প্রকাশ করা হবে রানা প্লাজার শ্রমিক, ক্ষতিপূরণ ও বিচার পরিস্থিতির সর্বশেষ বিস্তারিত আপডেট সম্বলিত বুলেটিন। (বিস্তারিত…)


mongoldhonyপ্রকাশিত হলো মঙ্গলধ্বনিসাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংখ্যা। সাম্রাজ্যবাদকে বিভিন্নজন বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ করেছেন এবারের সংখ্যায়। প্রচ্ছদ করেছেন হেলাল সম্রাট। সহযোগিতায় ছিলেন আবিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, অনুপ কুণ্ডু, আব্দুল্লাহ আলশামছ্‌ বিল্লাহ, তৌফিক খান, সুস্মিতা তাশফিন, কৌস্তভ অপু প্রমুখ। ২১ ফর্মার এই সংখ্যাটির বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০টাকা। নিম্নে এবারের সংখ্যার সম্পাদকীয়, সূচিপত্র এবং প্রাপ্তিস্থান তুলে দেওয়া হলো।

—————————————

সম্পাদকীয়

সাম্রাজ্যবাদ পূর্বের ন্যায় কেবলমাত্র অস্ত্রহাতেই কি তার উপস্থিতি, নাকি এখন সে ভিন্ন কৌশলে অভিন্ন উদ্দেশ্যে ঘরের দোরগোড়ায় উপস্থিত ফুলেল মুখোশে? আর সেই মুখোশ চিনে নিতে আমরা নিজেরাই বা কতোটা প্রস্তুত? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

Communist_International-098একশো পঞ্চাশ বছর পূর্তী হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং মেনস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডব্লিউএমএ), যা প্রথম আন্তর্জাতিক হিসাবেও পরিচিত। ১৮৬৪ সালে লন্ডনে কার্ল মার্কসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক শ্রেণীর এই সংগঠন।[] যা ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত শ্রমিক আন্দোলনগুলির সমন্বয় সাধন করে। শ্রমিকধর্মঘটে সমর্থন যোগায় এবং ফ্রান্সপ্রুশিয়া যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবিরোধী প্রচার চালায়। আর শ্রমিক শ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি ও সমাজবাদের আদর্শের প্রসারে ভূমিকা নেয়। এর মধ্যেই ১৮৭১ সালে প্যারি কমিউনের মাধ্যমে সর্বহারার প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অনুপ কুণ্ডু

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমএর লেখার প্রতিক্রিয়া

mujahidul-islam-selim-cpbআগষ্ট২০১৪ এর শুরু দিকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় “জনতার মৃত্যু নেই, তাই মৃত্যু নেই বঙ্গবন্ধুরও” এবং “দেশকালজনতা ও বঙ্গবন্ধু” দুটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। লেখা দুটি পড়ে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন নগন্য কর্মী হিসেবে প্রশ্নসমূহ উত্থাপন ও তার ব্যাখ্যা জানা জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রথমেই আমার জিজ্ঞাসা একজন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কিভাবে ‘জাতির জনক’ অভিধার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন? তাও আবার “বঙ্গবন্ধু” আর এই বঙ্গবন্ধু” উপাধি ঘোষণা করেছিলেন কারা? নিশ্চয়ই সেলিম ভাই তা জানেন। ছাত্রলীগের একটি সমাবেশ থেকে তারা তাদের নেতাকে যে কোন ভূষণে ভূষিত করতে পারে। কোন মাপকাঠিতে এই অভীধা সমগ্র জনগোষ্ঠীর অলঙ্কার হিসেবে সম্পৃক্ত হয়? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

toba-garments-2বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত কোন না কোনভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। বহুবিধ সমস্যা, অমানুষিক পরিশ্রম, কাজের অনিশ্চয়তা, অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র, অসহনীয় দুর্ব্যবহার, এসবই তারা সহ্য করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। দেশের অর্থনীতির চাকাও টেনে চলেছেন পৃথিবীর নিম্নতম মজুরীতে। কিন্তু এসত্ত্বেও যখন তারা তাদের ন্যূনতম প্রাপ্য চাওয়ার অজুহাতে নিগৃহীত হন, আর এই প্রাপ্য চাওয়াটাকেই দেখা হয় “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি” হিসেবে, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের অবস্থানটিও আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শামীম ইমাম

Labor_Lawঅতীতের সরকারগুলোর মতো বর্তমান মহাজোট সরকারও প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি না মেনে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে গত ১৫ জুলাই ২০১৩ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাশ করে এবং ২২ জুলাই বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ নামে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এখন থেকে এটাই আইন হিসেবে গণ্য হবে এবং তার কার্যকারীতা শুরু হবে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

এম এম আকাশ

এম এম আকাশ

সমাজতন্ত্র যেমন শ্রমদাসত্ব থেকে মুক্তির সনদ, তদরূপ বিশ্বাসঘাতকদের ভাল মুখোশও হতে পারে! আমাদের সামনে মুসোলিনী কিংবা হিটলারের নাম যেমন আছে তদরূপ একেবারে দেশীয় অভিজ্ঞতায় আছে শেখ মুজিবের নামও। এই মুখোশদারি প্রতারকদের ইতিহাস কোন এক সময়ের কোন এক ব্যক্তির ইতিহাস নয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

শ্রমিকশ্রেণীর নামধারী যেসব দল আদপে বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষা করে, যারা কৌশল হিসেবে নয় বরং নীতি হিসেবে নির্বাচন করে, ক্ষমতার হালুয়ারুটি ভাগের জন্য বুর্জোয়া দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি করে এবং মুখে শ্রমিকশ্রেণীর কথা বলে তাদেরকে চিহ্নিত করা আজ আমাদের সামনে কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনই এক বিশ্বাসঘাতকতার নমুনা আমরা দেখলাম গত ১৩ জুলাই প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগ্রাম নিয়ে, জনাব এম এম আকাশের ‘ন্যায্য মজুরি দিয়েও শিল্পের বিকাশ সম্ভব’ শিরোনামের কলামে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

শ্রমিক বিদ্রোহগত দুইদিন ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় আবার শুরু হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক বিদ্রোহ। এবারও বিদ্রোহের কারণ বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধি। বরাবরের মতো শ্রমিক পক্ষ এবং মালিক পক্ষ থেকে আসছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। যদিও এখানে শ্রমিকের কণ্ঠস্বর অতিক্ষীণ, কারণ শ্রমিকের কথা ব্যথাযন্ত্রনা তুলে ধরার মতো কোন মিডিয়া নেই। অপরপক্ষে সমস্ত বুর্জোয়া মিডিয়াই আদপে মালিকের স্বার্থের পাহারাদার। এই বুর্জোয়া মিডিয়াই শ্রম শোষণকারী মালিক পক্ষের বক্তব্য, শ্রমিক বিদ্রোহকে তৃতীয় পক্ষের উসকানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়াসী হয়েছে। এই পর্যন্ত যতবারই শ্রমিক তাদের ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে মালিক, সরকার আর তাদের স্বার্থের পাহারাদার বুর্জোয়া মিডিয়া একই সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রচার চালিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের উসকানি হিসেবে।

যে কোন আন্দোলনসংগ্রামেই অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি একধরণের উসকানি বোধ করে। এই উসকানিই ব্যক্তিকে আদর্শের বলে বলিয়ান করে। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি, শহীদ নুর হোসেনের নাম, স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের একনায়ক শাসনই এই মহান মানুষটাকে সংগ্রামে নামতে বাধ্য করেছিল। যে সংগ্রাম তাঁর কাছে ছিল জীবনের থেকেও বেশি কিছু। যে কারণে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও নুর হোসেন বুকেপিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাক যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে রাজপথে নেমেছিলেন। (বিস্তারিত…)