Posts Tagged ‘শিক্ষাব্যবস্থা’


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সহযোগিতায়: আবিদুল ইসলাম

কোনো সমাজের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে তার শিক্ষাব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তা সমাজের মেরুদণ্ড স্বরূপ। সমাজ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমাজের শিক্ষাব্যবস্থাও বিকশিত হয়। উৎপাদনব্যবস্থা যদি গণমুখী হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে গণমুখী। অপরদিকে, যদি এই উৎপাদনব্যবস্থা গণমুখী না হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থাও হবে তার অনুরূপ। কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদপীড়িত বাংলাদেশের উৎপাদনব্যবস্থা নয়াঔপনিবেশিক হওয়ায়, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাও ক্রমেই কর্পোরেট পুঁজি ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করেছে ও করছে। যার মূল উদ্দেশ্য কেবলই মুনাফা অর্জন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ আর কর্পোরেট দাস উৎপাদন। এই ব্যবস্থা ক্রমেই মানুষকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তোলে, যা শাসকশ্রেণী এবং কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। এর সঙ্গে মিশেছে কর্পোরেট সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিকৃতি। এই শিক্ষাব্যবস্থার ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাশ করতেই শেখাচ্ছে, নৈতিক গুণাবলী বৃদ্ধিতে যার ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে দিনদিন আত্মকেন্দ্রিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের মামাটিমানুষ নিয়ে ভাবনার চেতনাটুকুও অবশিষ্ট থাকে খুব সামান্যই। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নয়া কর্পোরেট মোড়কে গ্রাস করেছে ও করছে আমাদের সংস্কৃতিকে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

Education-38সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার ৪% থেকে সর্বোচ্চ ২১%। এই পাশের হার পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হারের সাথে তুলনীয় নয়। এখানে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্যই পাবলিক পরীক্ষায় একটি ন্যূনতম রেজাল্ট থাকতে হয়। সেদিক থেকে এ পরীক্ষায় যারা অংশ গ্রহন করে তাদের প্রায় সবাই পাবলিক পরীক্ষা থেকে সর্বোচ্চ রেজাল্ট জিপিএ৫ অর্জনকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার আয়োজনই করা হয় বহু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প সংখ্যক আসনের জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করার করে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ‍‌‌‌বৈধ উপায়ে বাদ দেওয়ার জন্য। তার পরও এখানে পাশ নম্বর বলে একটি নম্বর নির্ধারণ করা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মিঠুন চাকমা

Bir Bahadur Ushwe Sing[পড়ার আগে যা পড়তে অনুরোধ করবোবলে রাখি এই লেখাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট।গত ২৬ সেপ্টেম্বর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈচিঙ খাগড়াছড়ি এসে শিক্ষা উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদসমূহকে অনির্বাচিতদের দিয়ে পরিচালনার মাধ্যমে সেখানে প্রকাশ্যে, কোনো রাখঢাক না রেখে পাথমিক পর্যোয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে যে দুর্নীতি চলে, এতে পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার যে অতীব দুর্গতি ঘটতে শুরু করেছে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার জন্য আমার এই লেখার অবতারনা। সেই দিক বিবেচনা করে লেখাটি পাঠকগণ পড়বেন এই আশা রইল। ধন্যবাদ।]

লেখাটি লেখার সময় হেডিং কী দেবো তা নিয়ে চিন্তা করলাম কিছুক্ষণ। প্রথমে চিন্তা করলাম হেডিং দেবো এভাবে মন্ত্রীবর, ভিক্ষা ‘মাগার’ দরকার নেই, ‘কুকুর’ সামলান! কিন্তু তা যুৎসই মনে করলাম না। তারপর ভাবলাম, হেডিং দেবো এভাবে, ডিয়ার পার্বত্যমন্ত্রী, মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ দেখাবার দরকার নেই। কিন্তু ভাবলাম, এত সরাসরি ‘হিট’ করার মতো হেডিং বা শিরোনামা না দিয়ে একটু ‘মাইল্ড’ হেডিং দিই। তাই উপরের হেডিং দিলাম। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

education-business-1২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর সরকার যে বাগাড়ম্বর এবং ঢাকঢোল পিটিয়েছিল তা যে ফাঁপা এবং জনগণের সাথে মস্তবড় প্রতারণা ছিল তা এখন জনগণের কাছে সাধারণভাবেই উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। যদিও শিক্ষার পরিকল্পনা এবং শিক্ষা সংক্রান্ত কোন নীতি শুরু থেকেই জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ ছিল না। শিক্ষার সমস্ত পশ্চাদপদ, বৈষম্যমূলক ধারা এবং পদ্ধতি অক্ষুন্ন রেখে তার মধ্যে শুধুমাত্র পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েই কথা বলা হয়েছে বিস্তর। কাজেই এ নীতিকে একটি পরীক্ষানীতি ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না। যদিও সেই পরীক্ষা নিয়েও কোন সুচিন্তিত মত বা গবেষণার ছাপ সেখানে নেই। সেখানে ফাঁকা বুলির মত করে শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য ভিত্তিহীন বাক্য বিস্তার করা হয়েছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে সে নিয়ে কোন দিক নির্দেশনা বা সুপারিশ শিক্ষানীতির মধ্যে নেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

education-business-1পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেমন হবে তা নির্ভর করে পাঠদানের পদ্ধতির ওপর। এখানে পাঠদানের পদ্ধতি কেমন তা বুঝতে কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না, শিক্ষা কর্তাব্যাক্তিদের কথাতেই তা বুঝা যায়।প্রশ্ন পত্র ফাঁসের অভিযোগ খন্ডাতে মন্ত্রীমহোদয় যখন বলেন “বি.সি.এস ক্যাডাররা যে সাজেশন দেন সেগুলোর বেশিরভাগই কমন পড়ে” অতএব প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কিছু নেই! মন্ত্রী মহোদয়ের এই কথায় শিক্ষা ব্যবস্থার যে আবরণটুকু ছিল তাও খুলে পড়ে গেছে।এখন আর প্রশ্ন ফাঁসের কোন অভিযোগ সমিচীন হবে না!কারণ ল্যাংটার কাপড় ফেঁসে যাওয়ার অভিযোগ নিশ্চয়ই কেউ তুলবেন না! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সুস্মিতা চক্রবর্তী

ru-movement-13সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক সূত্রে আমরা অনেকেই রাবির মাস্টার্সে অধ্যয়নরত মোঃ মনিরুজ্জামানকে জানি। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি রিক্সা চালিয়ে তার পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করে চলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি আরও একজন শিক্ষার্থীকে চিনি যিনি মনিরুজ্জামানের মতোই কষ্টার্জিত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়স্তরে তার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। এছাড়া, অসংখ্য শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও রয়েছেন যারা নিজের পড়াশোনার বাইরে দু’তিন ঘণ্টা করে টিউশনি করে তাদের মাসিক খরচ চালান। বিভাগীয় একজন সহকর্মী সেদিন কথাপ্রসঙ্গে জানালেন যে, তার গ্রামের একজন কলেজপিয়নের চারটি মেয়ে রাবিতে বিভিন্ন বিভাগে কষ্ট করে পড়াশোনা করছেন এবং ফলাফলও তারা যথেষ্ট ভালো করছেন। নিজেরা পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আয়মূলক ছোটোখাটো কাজকর্ম করে লেখাপড়া চালাচ্ছেন। (বিস্তারিত…)


 

লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

question-paper-leaksযে কোন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন এক সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এমন পরীক্ষা বর্তমানে অনুষ্ঠিত হতে কমই দেখা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র ফাঁসের এসব ঘটনাকে অস্বীকার করলেও একে আড়াল করা সম্ভব হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কর্তৃপক্ষের এর বিপরীতে যুক্তি দ্বারা ঘটনার সত্যতাই গণমানুষের কাছে পরিষ্কার হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এখন এমনই এক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে যে,প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত সর্বস্তরে এই ব্যাধির বিস্তার। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়ার সমাপনী পরীক্ষার মত পরীক্ষায়ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে এবং কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যায় তা জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

education-business-1বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিকেই বড় বড় কথা বলতে দেখা যায়। একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সৃজনশীল পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলে সেমিনারে, টকশোতে, গোল টেবিলে তারা মুখে ফেনা তুলে ফ্যালেন, দিস্তার পর দিস্তা কাগজ খরচ করে ইস্তেহার, পত্রিকায় কলাম, আর্টিকেল এসব লিখে থাকেন। সিজিপিএ সিস্টেম চালু হওয়ার পর প্রতিবছর এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে যেকোনো সরকারের শেষ বছর এই বৃদ্ধির উচ্চহার দৃষ্টি আকর্ষণ না করে পারে না। (বিস্তারিত…)