Posts Tagged ‘শাহেরীন আরাফাত’


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

যে দেশে মৌসুমী ঝড় মানেই
কয়েকটা ‘মূল্যহীন’ প্রাণের বিসর্জন
ফসলের মাঠে আগুন দেয় কৃষক
শ্রমিকের কলে লুটেরা নিয়ন্ত্রণ

অনিশ্চিত জীবন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত
অনিশ্চিত প্রজন্ম, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান
(বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

জানো

জনমে দেখিনি এমন পৃথিবী

এভাবে দেখবো, ভাবিওনি

জ্যামের শহর আজ ভুতুরে নগরী

তবু নির্মল বায়ুর মাঝে পাখির কাকলী

চিৎকার করে কিছু বলতে চাইছিলাম

মাথার উপর শকুনের চাহনি (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে) রাশিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তাতে বিপ্লবী কমিউনিস্টরা নিশ্চয় দ্বিমত করবেন না। তবে বলশেভিক বিপ্লব নিয়ে কথা বলার সময় একটা বিষয় অনেকেই এড়িয়ে যান যে, এরপর ১৯২২ সাল পর্যন্ত এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সেখানে চলমান ছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। এমন এক পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণকাজ একরৈখিকভাবে চলমান ছিল না। আর এক পশ্চাৎপদ সমাজে এই বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় পশ্চাদপসরণও ওই বিপ্লবেরই অংশ। কিন্তু তা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে কমিউনিস্ট বা বামপন্থী নামধারী কেউ কেউ এ বিপ্লবকে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে এক কথিত বিশুদ্ধ সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছেন। সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় যে সমাজতান্ত্রিক উপাদান বিদ্যমান ছিল, তারা সেটাকেই মুখ্য হিসেবে তুলে ধরে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবএর তত্ত্ব ফেরি করছেন। আর তাই একটা নির্ধারিত বিষয় নিয়ে নতুন করে লেখার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও, কেন আমরা বলশেভিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বলছি, তা স্পষ্ট করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বলশেভিক বিপ্লবের ঘটনাবলী, তৎকালীন সময়ে রাশিয়ার আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিপ্লব পরবর্তী পুনর্গঠনকালে পার্টি গৃহীত কার্যক্রমে আলোকপাত করার চেষ্টা থাকবে এ লেখায়। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী থেকে আমরা কৃষিপ্রধান দেশে সমাজতন্ত্রের পথে প্রাথমিক পুনর্গঠন সম্পর্কে ধারণা পেতে সক্ষম হই। যা এই বিপ্লবের ধরণ সম্পর্কেও আমাদের সম্মক ধারণা প্রদান করে। আর এ ক্ষেত্রে কমরেড ভ্লাদিমির লেনিন ও বলশেভিক পার্টির বক্তব্যকেই মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ধরা হয়েছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কমিউনিস্ট পার্টি কোনো দাতব্য সংস্থা বা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নয়। বিপ্লবী রাজনীতি আর চ্যারিটি এক নয়। অথচ ইদানিং দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ রাজনীতি আর চ্যারিটিকে গুলিয়ে ফেলছেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো বিদ্যমান ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা, জনগণের সামনে শোষকদের উন্মোচন করা, দাবি আদায়ে আন্দোলনসংগ্রাম পরিচালনা করা, গণঅধিকার কায়েম করা। কোনো দাতব্য সংস্থা নিশ্চয় এমনটা করবে না! দাতব্য কর্মসূচি রাজনীতির একটি অংশ মাত্র, সমগ্র নয়। সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে; কিন্তু রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন না হয়ে সেটা কেবল আংশিকভাবেই করা সম্ভব। ভিক্ষা দেওয়াতে কোনো দোষ নেই, যে কেউ তা করতে পারেন; কিন্তু ভিক্ষা কেন চাইতে হবে, একটা উন্নত সমাজে কেন ভিক্ষুক থাকবে?- এ প্রশ্ন তোলাটাই বিপ্লবী রাজনীতির কাজ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

কোভিড১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। উৎপাদনসরবরাহভোগের পুঁজিবাদী চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকার মানেসবার উপার্জনই থমকে যাওয়া। তবে এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন সেই খেটে খাওয়া মানুষগুলো, যাদের শ্রমেঘামেরক্তে গড়ে ওঠে সম্পদের পাহাড়। ইতিমধ্যে সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। গত ৫ এপ্রিল সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন; যা জিডিপির .৫২ শতাংশ। এখন প্রশ্ন হলো প্রণোদনায় কত শতাংশ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের স্বার্থের প্রতিফলন দেখা যায়? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

সংগ্রামী সহযোদ্ধাগণ,

আজ আমরা এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এখানে সমবেত হয়েছি, যার ফলে বিশ্বে মানবিকতার ইতিহাস এক নতুন পথে পরিচালিত হয়েছে। আর তাই এ আয়োজনের কারণটা ব্যাখ্যা করা খুব জরুরি। আর তা পেছনে থাকা ব্যানারের তিনটি স্লোগানেই প্রকাশিত। আমি আমার লিখিত বক্তব্যে ইতিহাস বিচারে এ স্লোগানগুলোর তাৎপর্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আন্তর্জাতিক’শুধু একটা শব্দ নয়। এটি আমাদের দেখায় যে, মানুষ ও মানবিকতা জাতি, ধর্ম, বর্ণে আবদ্ধ থাকার বিষয় নয়। এসব আবদ্ধ চিন্তা কার্যত শ্রেণীর ভিত্তিতেই বিভক্ত। ‘আন্তর্জাতিক’আমাদের শেখায়, শ্রেণী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শ্রেণীর বিলোপ সম্ভব, যা জাতীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়। সর্বহারাশ্রেণীর আন্তর্জাতিকতাবাদই এর ভিত্তি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মণিপুরের মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্নর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে ডোমিনিয়ান বা স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মণিপুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতপাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও কোনো কোনো ভূখণ্ড তখনো ভারতপাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের একটি মণিপুর। ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে মণিপুরের জনগণ রাজাকে সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত করে, রাজার অধীনে একটি সরকার শপথ গ্রহণও করে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে কেউ কেউ ‘প্রশংসনীয় উদ্যোগ’ বলে মূল্যায়ন টানছেন। সেটা কেউ বলতেই পারেন, এটা হতে পারে কারও ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক মূল্যায়ন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ওই ব্যক্তি বা সংগঠনের শ্রেণী চরিত্রটাও প্রকাশ পায়।

প্রথমেই আসা যাক, মিডিয়ার দায়বদ্ধতার প্রশ্নেঅভিভাবকদের অনেকেই সন্তান বা আপনজনের জীবন ও ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। কারণ তার সামনে যে রাজনীতিটা সামনে আসে, সেটা হলোফ্যাসিবাদের গণবিরোধী সন্ত্রাসের রাজনীতি। এর বিপরীতে শক্তিশালী গণমুখী রাজনীতির অনুপস্থিতিই এমন অবস্থানের কারণ। কিন্তু যখন কথিত মূলধারার কোনো প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা এমন অবস্থান নেয়, তখন বুঝতে হবেএখানে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে আছে। এটাই ‘বিরাজনীতিকরণের রাজনীতি’। দেশের অন্যান্য পত্রিকাও বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের খবরটি শিরোনাম করেছে। কিন্তু প্রথম আলো এ শিরোনামের নিচে একটি প্রতিক্রিয়া ‘ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত’ শিরোনামে ছেপেছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ বলতে যাদের মন্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই এনজিওবাদী শিক্ষক। তাদের কাছে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন একটা মাথাব্যাথার কারণ, যা বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ করতে বড় বাধা। আর ফ্যাসিবাদকে রাজনীতির একমাত্র ধরন হিসেবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্পোরেট স্বার্থে প্রথম আলো পাঠকের সামনে ওই বিরাজনীতিকরণের সাফাই গাইতে উপস্থিত হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ পুনর্গঠিত হয়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আহবায়ক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। এছাড়াও যারা কমিটি গঠনের সভায় উপস্থিত ছিলেন তাদেরকেও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সংঘের বাইরের সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল অন্যান্য প্রগতিশীল লেখকশিল্পীসাহিত্যিকবুদ্ধিজীবীগণ সমালোচনাপর্যালোচনা করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এসব সমালোচনায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুদ্ধিজীবীদের একটি একক সংগঠনে সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াপদ্ধতি কি হওয়া উচিত, তার ব্যাখ্যা নেই। তাই সমাজতন্ত্রের একজন সমর্থক হিসেবে এ প্রশ্নে আমার অবস্থান ব্যক্ত করা দায়িত্ব মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি কামালউদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় একটি নাটক শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয়। নামের কারণেই নাটকটি দেখতে সমাজতন্ত্রকমিউনিজমে আস্থাশীল অনেকে আগ্রহ বোধ করেন। কিন্তু ‘স্তালিন’ নামের এ নাটকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহান শিক্ষক কমরেড যোসেফ স্তালিনকে বিতর্কিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে নাটকটি দেখতে আসা দর্শকরা মঞ্চস্থলেই প্রতিবাদ জানান। উপস্থিত একাধিক দর্শক জানান, তারা আগেই ভেবেছিলেন ‘স্তালিন’ নাটকটিতে হয়তো স্তালিনকে দ্বান্দ্বিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। অর্থাৎ, এতে স্তালিনের সমালোচনাও থাকতে পারে, এটা তারা জানতেন। তবে যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছেস্তালিনের সমসাময়িক যে ঐতিহাসিক বাস্তবতা সাম্রাজ্যবাদীরাও প্রকাশ্য ও গোপন দলিলে মেনে নিতে বাধ্য হয়, সেটাকেও ওই নাটকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। আর এ নিয়েই দর্শকরা কামালউদ্দিন নীলুকে তাদের আপত্তির কথা জানান। এতে নীলু দর্শকদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। ঘটনার পরদিন, ১২ জুন উপস্থিত দর্শক, বিভিন্ন বামপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিল্পকলা একাডেমির সামনে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিভিন্ন মতামত ও অবস্থান দেখা যায়। (বিস্তারিত…)