Posts Tagged ‘শাহবাগ আন্দোলন’


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গণজাগরণ মঞ্চের মূল নেতৃবৃন্দের আপোষকামীতার কারণে আন্তরিক আন্দোলনকারীদের মধ্যে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছেতারই প্রকাশ ঘটেছে শহীদ রুমী স্কোয়াডের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে। এ মূল নেতৃবৃন্দ শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের গা বাঁচিয়ে, তাদের ছত্রছায়ায় গণজাগরণ মঞ্চ থেকে আন্দোলনের খেলা পরিচালনা করছে। তারা জনগণের আশাআকাঙ্খার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ সত্য এখন পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রুমী স্কোয়াডের এ কর্মসূচি আপোষকামী নেতৃত্বের কব্জা থেকে আন্তরিক আন্দোলনকারীদের বেরিয়ে আসার প্রবণতা হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: মনজুরুল হক

shahid-rumi-squad-2-১৯৮১ সালের গোঁড়ার দিককার কথা। লন্ডনের জেলে কয়েকজন কয়েদি আমরণ অনশন করছে। পত্রপত্রিকায় খবর এটুকুই। আর একটু বিস্তারিত জানা গেল আরও দুদিন পর। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির (আইআরএ) গ্রেপ্তারকৃত যে যোদ্ধারা অনশন করছিল তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছেলেটির নাম ববি স্যান্ডস। বয়স মাত্র সতের! সেই সতের বছরের কিশোর অনশণ করছিল রাজবন্দী ঘোষণার দাবীতে! থ্যাচার সরকার তাদের গ্রেপ্তার করেছিল ‘সন্ত্রাসী’ বলে। তারা সেটি মানতে নারাজ। তাদের দাবী তারা আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির সদস্য, এবং ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবীতে। সুতরাং তারা রাজবন্দী কেন নয়? কিন্তু মার্গারেট থ্যাচার সরকার কিছুতেই ওই আইআরএ যোদ্ধাদের রাজবন্দীর মর্যাদা দেবেনা। টানা অনশন করতে করতে একসময় মৃত্যুবরণ করলেন ববি স্যান্ডস। ওই কিশোরের মৃত্যুর পর পরই সারা বিশ্বে এ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। একের এর পর এক আরও কয়েকজন বন্দীর মৃত্যু হয়েছিল। বলা ভালো ওই কিশোররা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। কিন্তু লৌহমানবী খ্যাত থ্যাচারের লৌহহৃদয় তাতে এতটুকুও গলেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের রাজবন্দীর ‘মর্যাদা’ দেয়া হয়নি।

এ তো গেল সেই আমলের মার্গারেট থ্যাচারের কথা। আমাদের দেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা কি মার্গারেট থ্যাচারের মত ‘লৌহমানবী’? তিনিও কি থ্যাচারের মত নিজের জিদে অটল থেকে একের পর এক অনশনরতদের মৃত্যু দেখবেন? প্রধানমন্ত্রীর অতীত ইতিহাস আর জীবন চরিত ঘাটলে তেমন কোনো উদাহরণ মেলে না। কিন্তু অনশন শুরুর প্রায় ৯০ ঘন্টা পার হওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম সাড়াশব্দ মেলেনি। এখন পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কেউ অনশনরতদের কাছে গিয়ে তাদের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করেননি। তার মানে কি তারা জানেন না? নিশ্চয়ই জানেন। পত্রপত্রিকা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা, মানে সরকার পূর্ণ ওয়াকিবহাল। প্রশ্ন উঠছে তাহলে সরকার এখনো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? এর সহজ উত্তর হচ্ছে সরকারের ‘নেগোশিয়েটররা’ নিশ্চই কোনো না কোনো মাধ্যমে ‘নেগোশিয়েট’ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শেষ খবর হচ্ছে অনশনরতদের চার জন ইতিমধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে স্থানন্তরিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন যার নাম নিলয় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই লেখার সময় অর্থাৎ একত্রিশ তারিখ মাঝ রাতেও ওই আশঙ্কাজনক নিলয়ের খোঁজ খবর নিতে সরকারি কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি শাহবাগে যাননি।

অথচ এই শাহবাগের তরুণরা যখন সেই ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার বিরোধীতা করে ফাঁসির দাবীতে সমবেত হন, তখন থেকেই সরকারের একাধিক কর্তাব্যক্তি নামেবেনামে, নিজ পরিচয়ে বা দলগত পরিচয়ে শাহবাগে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে ‘বেগবান’ করতে সাহায্য করেছেন। এর পর জামাতের সশস্ত্র হিংস্রতা শুরু হলে এবং ব্লগার রাজীবকে হত্যা করা হলে সরকার আন্দোলনকারীদের পুলিশি নিরাপত্তা দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে আর এক মানবতাবিরোধী অপরাধী সাঈদির ফাঁসির রায় হলে জামাত সরাসরি ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাণ্ডব শুরু করলে শাহবাগের আন্দোলনরতদের নিরাপত্তা জোরদার করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়েছেন। নিন্দুকেরা বলে সরকার নাকি আন্দোলকারীদের ‘পক্ষে’ রাখার জন্য ‘সব ধরণের’ সহায়তা দিয়েছেন। চ্যানেলগুলোর ভিডিও ক্লিপিংসে দেখা গেছে সরকারের একাধিক কর্তাব্যক্তি শাহবাগের তরুণদের পাশে পাশে আছেন। তারা তাদের এজেন্ডা ধরিয়ে দিয়েছেন। তাদের ‘নিজেদের লোক’ ডা. ইমরান সরকারকে দিয়ে তোতাপাখির মত তারা নিজেদের এজেন্ডা প্রচার করে আন্দোলনকে এক ধরণের ‘স্পিডব্রেকারের’ আওতায় এনেছেন। তার পর থেকে সেই আন্দোলন ততটুকুই প্রচারিত বা বেগবান হয়েছে যতটুকু সরকার চেয়েছে। আন্দোলন সেভাবেই এগিয়েছে যেভাবে এগুলে সরকার ‘সন্তুষ্ট’ হয়। সেই থেকেই এই আন্দোলন নিয়ে ‘আমার দেশ’, ‘নয়া দিগন্ত’, ‘সংগ্রাম’পত্রিকাগুলো নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে আসছে। এক পর্যায়ে তাদের মিথ্যাচার সীমাহীন হলে আন্দোলনকারীরা ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিচার দাবী করেও আলটিমেটাম দিয়েছে। ওই পত্রিকা নিষিদ্ধ করার জন্যও আলটিমিটাম দিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত জামাতশিবির বা ‘আমার দেশ’ কোনোটিই বাতিল বা নিষিদ্ধ হয়নি। কেন হয়নি সেটি সরকারে যারা আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সাধারণ মানুষ আড়ালেআবডালে যেটুকু বুঝেছে তা হলো এই আন্দোলনকে নিয়ে সরকারের নানা ধরণের ‘এক্সপেরিমেন্ট’ রয়েছে! সেই এক্সপেরিমেন্ট হতে পারে আগামী নির্বাচনের হিসেব নিকেশ, হতে পারে জামাতকে নিষিদ্ধ করার হুমকির ভেতর অন্য কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চিন্তা। আবার এও হতে পারে সরকার সত্যি সত্যি একা একা (যতই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকুক) জামাতশিবির নিষিদ্ধের মত জটিল সিদ্ধান্ত নেবে না বা নিতে চায় না। সে কারণেই প্রথম দিকে তারা চাইছিল বিএনপি যেন এই ইস্যুতে তাদেরকে সহায়তা দেয়। কিন্তু বিএনপি তা তো দেয়নিই বরং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আরও দৃঢ়ভাবে জামাতশিবিরের সঙ্গে জড়িয়েছে। এমন ভাবে জড়িয়েছে যে এখন বিএনপি আর জামাতকে দুটি ভিন্ন দল হিসেবে পৃথক করা সাদা চোখে দুষ্কর মনে হচ্ছে। বিএনপি যখন জামাতশিবির নিষিদ্ধের বদলে তাদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে একের পর এক হরতাল এবং সেই হরতালে ইতিহাসের ভয়াবহতম হিংস্রতা আর বর্বরতা দেখিয়েছে তখনই সরকার বুঝে নিয়েছে এভাবে আর জামাত নিষিদ্ধের বিষয়টির ফয়সালা হবেনা।

তাহলে কীভাবে হবে? না। সে বিষয়েও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো দিকনির্দেশনা দেয়নি। সর্ব শেষ সরকারপ্রধান এক ঘোষণায় বলেছেন ‘জামাতশিবির নিষিদ্ধের জন্য আরও ধৈর্য্য ধরতে হবে’। জনগণ না হয় ধৈর্য ধরলোই, কিন্তু তাই বলে সরকার কি সেই নিষিদ্ধের বিষয়ে কানো কার্যকর আইনী পদক্ষেপ নিয়েছেন? এখন পর্যন্ত খবর হচ্ছেনা। তাহলে কি সরকার একেবারেই চুপচাপ বসে আছেন? তাও নয়। এর পর থেকেই সরকাররের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শাহবাগের তরুণদের আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদী রূপ দেয়ার জন্য আন্দোলনের ‘গিয়ার’ সেট করে দিয়েছেন, এবং আন্দোলন নিরুপদ্রবভাবে সেভাবেই এগুচ্ছে। মিহি সুরে স্লোগান, বেলুন ওড়ানো, মোমবাতি প্রজ্জলন, তিন মিনিট নিরবতা এবং এখানে ওখানে সমাবেশ করেই আন্দোলন এক ধরণের ‘কার্নিভাল মুডে’ চলছে। এর ফল যা হওয়া উচিত তাই হয়েছে। শাহবাগ থেকে উচ্ছ্বসিত তরুণরা একটু একটু করে সরে আসতে শুরু করেছে। ২৬ মার্চ ছিল জামাতশিবির নিষিদ্ধের সরকারি উদ্যোগের শেষ আলটিমেটাম। ওই দিন শাহবাগে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ডা. ইমরান কী ঘোষণা দেবেন সেটাই হয়ে উঠেছিল টক অব দ্য কান্ট্রি! তো তিনি ঘোষণা দিলেন আগামী মাসের ৪ তারিখে তারা প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেবেন। কোনো আন্দোলনের কোনো আলটিমেটাম পার হয়ে গেলে আর স্মারকলিপির মত আন্দোলন বিলাসের দরকার করে না, এই সত্যটি সরকারের যারা এই আন্দোলনে আঁঠার মত লেপ্টে আছেন তারা এবং আন্দোলনের মুখপাত্র বা নেতৃস্থানীয়রা বুঝতে পারেননি। তাই তারা তাদের সেই নিরীহ স্মারকলিপির ঘোষণা দিয়ে ওই দিনের মত কর্মসূচী শেষ করেছিলেন।

shahid-rumi-squad-3-

তার পর থেকেই নতুন ইতিহাসে বাঁক নিয়েছে শাহবাদের আন্দোলন। ৯ জন তরুণ সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জামাতশিবির নিষিদ্ধের দাবীতে ওই দিন থেকেই আমরণ অনশন শুরু করেছেন। এই তরুণরা এমনই একটি ব্যানার ব্যবহার করছে যার সঙ্গে জামাতশিবির নিষিদ্ধের আন্দোলনের গোঁড়ার ইতিহাস মিশে আছে। শহীদজননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহীদ রুমীর নামে তাদের সংগঠন– ‘শহীদ রুমী স্কোয়াড’। প্রথমে মাত্র ৯ জন থাকলেও এর পর একে একে অনশন কর্মসূচীতে যোগ দেয়া তরুণতরুণীর সংখ্যা বেড়েছে। একের পর এক সুযোগ সন্ধানী অ্যাটেনশনসিকাররা আন্দোলনে ‘একাত্মতা’ ঘোষণা করে দেশোদ্ধার করেছেন! এই সকল ক্যামেরাসিকারদের তথাকথিত একাত্মতা ওই অনশনরতদের অসুস্থ হয়ে পড়াকে ঠেকাতে পারেনি। পারেনি সরকারের কানে এই অনশনের আত্মত্যাগ কিংবা ওই তরুণদের জীবনমৃত্যুর পরোয়া না করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্তটি পৌঁছুতে। তারা যদি শাহবাগে ক্যামেরার সামনে কাঁদো কাঁদো মুখে ‘পোজ’ না দিয়ে তাদের সামাজিক বিশাল অবস্থান দিয়ে সরকারকে এটা বোঝাতেন যে এই তরুণদের এক জনেরও মৃত্যু হলে দেশের রাজনীতিতে এক ভয়াবহ উথালপাতাল শুরু হয়ে যেতে পারে। হতে পারে সেটা এতটাই ভয়াবহ এবং অবশ্যম্ভাবি যে তা সামাল দেয়ার ক্ষমতা সরকারের থাকবে না।

আমরা এখনো জানিনা রাজনীতির ‘বল’ কার কোটে? কে বা কারা সেই ‘বল’ নিয়ে ‘খেলছেন’। তবে এটা এখন দিবালোকের মত পষ্ট যে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে ‘কার্নিভাল মুডে খেলা’ শেষ হয়েছে। এবার সরাসরি শাহবাগের শহীদ রুমী স্কোয়াডের তরুণরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। হয় জামাতশিবির নিষিদ্ধ করতে হবে, নতুবা একের পর এক তরুণের মৃতদেহ কাঁধে করে ‘পাপের বোঝা’ বাড়াতে হবে। এর মাঝামাঝি কোনো পথ আর খোলা নেই। এই পয়েন্ট অব নো রিটার্ন অবস্থা থেকেও যদি কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের দুরভীসন্ধিমূলক চেষ্টা চালাতে চান, তাহলে তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা নিয়ে শুধু প্রশ্ন নয় রিতিমত মোটা দাগে বলে দেয়া যাবে যে তারা সারা দেশের মানুষের প্রাণের ভাষা আর সংকল্প পড়তে তো পারেনিই বরং সকল ক্ষমতার উৎস যে জনগণ সেই কথাটিকেই খেলো করে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মারছেন, সেই সঙ্গে দেশকে অস্থিরতার অতল গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছেন। যে দেশটা তাদের একার নয়।।

৩১ মার্চ ২০১৩


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

rumi-squad-5-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর কেন্দ্রিক পুরো বাংলাদেশ জুড়ে গণজাগরণের হাওয়া বইতে শুরু করে। অনেক বেশী লোকের সমাবেশ হওয়ার কারণে এবং এটা যেহেতু একটা বড় ধরণের গণজাগরন সুতরাং তার দরকার পড়েনি হিংসাত্বক হওয়ার। অহিংস পদ্ধতিতেই এই আন্দোলন চলে আসছে অনেক দিন ধরে।

কিন্তু আন্দোলনের ধারাবাহিকতার একপর্যায়ে এসে দেখা গেল ঘোষকদের অহিংসার পদ্ধতি হাস্যকর পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। জনগণ প্রচন্ডরকম মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলে পিছু হটতে শুরু করে। জনগণ তাদের বুকের ভেতরে যে দায় বা তাগিদ অনুভব করেছে তাতে করে তারা প্রজন্ম চত্বরে সমবেত না হয়ে পারেনি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

shahbagh-3আবারও তারুণ্য জেগেছে, বহুকাল পরে হলেও জেগেছে। ৯০এর পর এমন জাগরণ আর আমাদের চোখে পড়েনি। ৯০এ স্বৈরাশাসককে উৎখাত করতে, এবার জাগলো ইতিহাসের একটা অমিমাংশিত হিসেবের নিষ্পত্তি করতে একটা জাতির অস্তিত্বকালীন সময়ে পুরো জাতির সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, যারা করেছে মানবতার চরম লঙ্ঘন তাদের যথাযথ পাওনা মিটিয়ে দিতে। একটা জাতির বিকাশের স্বার্থের সাথে তার ইতিহাসের দায় মিটানোর স্বার্থ এক ও অভিন্ন। ঠিক এই প্রতিশ্রুতি দিয়েইতো বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তরুণ সমাজ এই আশাতেই বুক বেঁধে বর্তমান সরকারকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। (বিস্তারিত…)


 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জনগণের সংগ্রামের পথ’

শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২২ মার্চ বিকাল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’র উদ্যোগে “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জনগণের সংগ্রামের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রগণমঞ্চের আহবায়ক শান্তনু সুমনের পরিচালনায় এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্ময়ক এবং ছাত্র ফেডারেশনের আহবায়ক সামিউল আলম রিচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের যুগ্মআহবায়ক এহতেশাম উদ্দীন এবং সংস্কৃতির নয়া সেতুর অন্যতম সংগঠক নিত্যানন্দ পাল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: জুয়েল থিওটোনিয়াস

shahbagh-1জাতীয়তাবাদ? সংবিধান প্রতিষ্ঠার পর বাঙালি জাতীয়তাবাদই প্রাধান্য পেয়েছিল ও সে মতোই দেশ চলছিল কিন্তু প্রতিবাদ এসেছে। পরে এল বিএনপি ক্ষমতায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ধারণা নিয়ে কিন্তু তারা কি আজ পর্যন্ত তা ধারণ তো লালন করতে পেরেছে? হতে কি পেরেছে তারা অসাম্প্রদায়িক? বাংলাদেশ বহু ধর্মেরজাতিরভাষারসংস্কৃতির দেশ। এ দেশ আমাদের সবার। তবে তা প্রতিষ্ঠায় এখনও যেতে হবে বহুদূর। আমি মনেপ্রাণে চাই দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাক, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা পাক, তাই বলে সবাই নাস্তিক হয়ে যাবে, তা চাই না, চাই না সবাই বাঙালি হিসেবে পরিচিত হোক। (বিস্তারিত…)

ইসলাম ধর্ম ও ধর্ম ব্যবসায়ীর দল এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে আন্দোলন প্রসঙ্গে

Posted: ফেব্রুয়ারি 23, 2013 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

war-crime-5-৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদিনা পৌঁছে সর্বপ্রথম মদিনা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ইহুদিদের মধ্যে সামাজিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সমীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার মাধ্যমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক চুক্তি সম্পাদন করেন, যা ইতিহাসে “মদিনা সনদ” নামে পরিচিতি লাভ করে। এটাই ইতিহাসে প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান। ৪৭টি ধারাসম্পন্ন এ সনদের প্রধান দিকগুলো হলো

) মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও মুসলমান সম্প্রদায় সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং তারা একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে। (বিস্তারিত…)


shahbagh-1

যেহেতু ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি এবং যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং দুই লক্ষ নির্যাতিত নারীর জীবনের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে এবং যেহেতু এই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর সক্রিয় সহযোগী হিসেবে গণহত্যা ও ধর্ষণ সহ সকল মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাতে ইসলামী এবং তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছে এবং যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক বহুবছর এই মানবতা বিরোধী অপরাধের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত থেকেছে এবং যেহেতু বর্তমান মহাজোট সরকার এই মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করবে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরংকুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং যেহেতু মিরপুরের কসাই খ্যাত কাদের মোল্লার যাবজ্জীনের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যাশিত ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জাতির স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে; সেহেতু শাহবাগে জমায়েত মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় প্রজন্ম নিম্নোক্ত ঘোষণা সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ করছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিল্পী

shahbagh-2গত শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনে যখন এই শ্লোগান দেখলাম তখন রীতিমত আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এই ধরনের সংস্কৃতি তো জামাতের। এরাই তো রগ কাটা বা জবাই করে থাকে। আমরা কি জামাত? আমরা কি জবাইয়ের সংস্কৃতি নিয়ে শাহবাগে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি? তবে কে বা কারা এই ধরনের শ্লোগান দিচ্ছে, কেন দিচ্ছে? আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নেয়ার জন্যে? আমি জানি না, শাহবাগের তরুণদের আন্দোলনের চাওয়া কি? শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাওয়া,নাকি পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, বা সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম না রাখা? যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামাতের রাজনীতি যদি নিষিদ্ধ হয়, তবে আমাদের কি হবে? শুধু একটা দলই তো নিষিদ্ধ হলো। আর তো কিছু না। ব্যস! নিষিদ্ধ করা হলো। (বিস্তারিত…)