Posts Tagged ‘মিডিয়া’


লিখেছেন: সেলিম রেজা নিউটন

[আদি প্রকাশের হদিস: বর্তমান রচনাটি আদিতে ছাপা হয়েছিল ‘গণমাধ্যম পরিবীক্ষণের সহজ পুস্তক’ নামের একটি বইয়ের অংশ হিসেবে (সেলিম রেজা নিউটন, ২০০৮)। বইটা রচিত হয়েছিল ২০০৫ সালে এবং প্রকাশিত হয়েছিল ঢাকার বাংলা একাডেমি থেকে ২০০৮ সালে। সেই বইয়ের “ভূমিকা ও সামগ্রিক ধারণা / মিডিয়ার ক্ষমতা ও মিডিয়াপরিবীক্ষণ” নামক প্রথম অধ্যায়ের ভেতরকার “মিডিয়ার সামাজিক তত্ত্ব: মিডিয়াপরিবীক্ষণের সামাজিক পরিসর” নামক দ্বিতীয় ভাগের (.২ চিহ্নিত অংশের) খানিকটা জায়গা হুবহু তুলে নিয়ে বর্তমান রচনাটি গঠিত হয়েছে। এখানে তার একটা জায়গায় দুটো শব্দ আগেপরে করা হয়েছে, কয়েকটা জায়গায় তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে দুয়েকটা শব্দ/তথ্য যোগ করা হয়েছে, এবং বইপত্রের হদিসের অনলাইন লিঙ্কগুলো নতুন করে পরীক্ষা করে আপডেট করা হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোনো কিছু পরিবর্তন করা হয় নি। শিরোনাম পরে দেওয়া হয়েছে। লেখক]

মোট কথা হলো, ‘মিডিয়াপরিবীক্ষণ’ সামাজিক ক্ষমতা চর্চার পরিপ্রেক্ষিতবিহীন এবং তত্ত্বমতাদর্শনিরপেক্ষ কোনো প্রসঙ্গ নয়। এর সাথে সরকারী ক্ষমতা, বৃহৎ ব্যবসা ও বৃহৎ পুঁজি তথা মিডিয়ার মালিকপক্ষ, রাষ্ট্রীয় আইনকানুন ইত্যাদি ইত্যাদির ঘনিষ্ট সম্বন্ধ আছে। কথাটা ভালো করে বুঝে নেওয়ার জন্যে এখানে আমরা একটা সাম্প্রতিক উদাহরণ বা কেস একটুখানি বিশ্লেষণ করে দেখাবো। উদাহরণ হিসাবে আমরা নেবো মাদকাসক্তি আর ধূমপানের প্রসঙ্গ। এসব প্রসঙ্গ কেমন করে তুলে ধরে মিডিয়া? প্রথম আলোর কথা বলা যায়। এই পত্রিকাটা যখন মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সোচ্চার, ঠিক সেই সময়েই ধূমপানের কুফল সম্পর্কে নীরব বরঞ্চ সিগারেটের বড় বড় বিজ্ঞাপন মহাসমারোহে প্রচারের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ। সিগারেট কি মাদকদ্রব্য না? বিজ্ঞাপনের আতিশয্যে সিগারেটকে অনেকেই মাদকদ্রব্য বলে মনেই করেন না। কিন্তু ঘটনা হলো, সিগারেট খুবই মারাত্মক একটা মাদক। মাদক হিসাবে সিগারেটের ভয়াবহতা সম্পর্কে কয়েকটা তথ্য পেশ করা যাক। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আহমদ জসিম

national-consciousnessইদানীং আমাদের মিডিয়াতে বিপরীতমুখী কিছু সংবাদ সব সচেতন নাগরিকেরই দৃষ্টি কেড়েছে। যেমন ধরুন, যে দিন নিউজ হলো, আমাদের মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে ১০৮০ ডলার হয়েছে আবার সেই দিনই প্রায় পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিল জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রে ভাসছে! হ্যাঁ, এইসব সমুদ্রে ভাসা মানুষগুলো জীবনজীবিকার তাগিদ অবৈধ পথে স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়েছিল। নিয়তি তাদের জীবনের কঠিনতম রূপটা দেখিয়ে দিল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

Modi-4এমনিতে আপনাদের সংবাদপত্রটা দৈনিকই পড়ি মাষ্টারমশাই। টিভি চ্যনেলটাও দেখি। কেননা ‘পিছিয়ে পড়ার’ ইচ্ছে আমার নেই। ভেতো বাঙালী তো, তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে হুজুগেও মাতি। এই যেমন সারা দেশ জুড়ে এখন মোদী জ্বর। ফলতঃ প্রতিদিন মোদি কি বলছেন, কি করছেন, তা নিয়ে কিঞ্চিত আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বইকি! মোদি যখন ভোটের আগে কলকাতায় এসে লাড্ডুর খাওয়ানোর ‘গল্পো’ শুনিয়ে গেলেন, মনে বেশ পুলক জেগে ছিল, চোখে ঘনিয়ে ছিল ঘোর, শত হলেও ভোজন রসিক বাঙালী কিনা! কিন্তু এক বন্ধু তখন বলল, ‘ওরে! এ লাড্ডু সে লাড্ডু নয়, এ একেবারে দিল্লীকা লাড্ডু। তুই খেতে চাস তো খা, তবে জেনে রাখ এ লাড্ডু খেলেও পস্তাতে হয়, না খেলেও।’ তো, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম ‘খেলে পস্তাতে হয় না হয় তবু বোঝা গেল। পেট টেট খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত, কিন্তু না খেলে পস্তানোর ব্যাপারটা তো ঠিক বোঝা গেল না!’ সে তখন বলল, ‘এটা সব থেকে ভাল বুঝেছে গুজরাটের মুসলমানরা, তাই তারা আগেভাগেই গিয়ে দলে দলে মোদীজিকে ভোট দিয়ে ওর হাতে লাড্ডু খেয়ে নিচ্ছে।’ (বিস্তারিত…)

কর্পোরেটোক্রেসি, সাম্রাজ্যবাদের নয়া চেহারা ও বাংলাদেশ (শেষ পর্ব)

Posted: অগাষ্ট 18, 2013 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

প্রথম পর্বের পর

Corporatocracy-2কর্পোরেটোক্রেসির প্রতিটি কাজের পেছনে রয়েছে গোপনীয়তা। তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণের আয়ত্তের বাইরে। ভিতরে কি হচ্ছে তা বাইরে থেকে বুঝার কোনো উপায় থাকে না। কারণ দুনিয়ার অধিকাংশ মিডিয়া কর্পোরেটোক্রেসির অংশ। ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এনবিসি) মালিক হচ্ছে জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি। আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) মালিক হচ্ছে ডিজনি। ভায়াকম হচ্ছে কলম্বিয়া ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের (সিবিএস) মালিক। ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন) হচ্ছে আমেরিকা অন লাইন টাইম ওয়ার্নার গ্রপের অংশ। (বিস্তারিত…)

কর্পোরেটোক্রেসি, সাম্রাজ্যবাদের নয়া চেহারা ও বাংলাদেশ (পর্ব – ১)

Posted: অগাষ্ট 14, 2013 in মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

Corporatocracy-2গোটা দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ ও শোষণের আওতাভুক্ত করতে উন্নত দেশসমূহের বহুজাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্বব্যাংক, বহুজাতিক দাতাসংস্থা, আইএমএফ ও উন্নত দেশগুলির সরকারসমূহ অলিখিতভাবে যে লুটেরা বাণিজ্যিক সংস্কৃতির চর্চ্চা করে থাকেন তাকে বলা হয় কর্পোরেটোক্রেসি। নিজেরা বুঝার জন্য আমরা যার অর্থ করতে পারি ‘সম্মিলিত শোষণাগার’। যা সাম্রাজ্যবাদেরই আরেকটি ধাপ, নয়া চেহারা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

election-2013গত কয়েকদিন দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছিল বেশ সরগরম, যার মোদ্দা কথা চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের তরফে কেবল ঘরোয়া রাজনীতিই বৈধ রাখা হয়েছে, তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষণের হিসেব কষা ও প্রচারাভিযানের কাজে শাসক শ্রেণীর সরকারী ও বিরোধী অংশ উভয়েই বেশ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে এখানকার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, তথা টক শোগুলোতে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: বন্ধু বাংলা

shahbagh-1গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে অনেক কথা, অনেক বিশ্লেষণ করেছি সাথে এও বলেছিলাম মঞ্চের আন্দোলনের সারসংকলন টানার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, সেই সময় চলে আসছে এবং সারসংকলন টানার সময়টি আরও বেশী ঘনীভূত রূপ পাচ্ছে এবং আরো পাবে; বিশেষ করে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক পরিবেশে। না মঞ্চের বিষয়ে আগাম কিছু বা পুরনো বিশ্লেষণ তুলে ধরে কিছু বলব না। কিন্তু আজ গণজাগরণ মঞ্চ, প্রজন্ম ও সুশীল সমাজের কাছে একটি প্রশ্নই করব এবং এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একজন ইহুদীবর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের গাজা ইস্যুতে ‘সেক্যুলার মুক্তমনা’দের তেমন কোনো নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না। মাত্র কিছুদিন আগেও যারা মালালা আর নাফিসকে নিয়ে অনলাইন জগৎ তোলপাড় করে তুলেছিলেন; তালেবান, আলকায়েদা, লাদেন, হিজবুল্লা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জামাতে ইসলামী পর্যন্ত কোনো কিছুই আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেন নাই, তারা আজকে ঘরের মধ্যে বোধহয় সুখে ‘নিন্দ পাড়তেছেন’; ভাবখানা এমন যতো যা কিছুই হোক, এর সাথে তো আর তালেবান কিংবা আল কায়েদার কোনো সংযোগ নাই। সুতরাং এই ইস্যু নিয়ে আলোচনার কোনো মানে হয় না। এক বিখ্যাত বিবর্তনবাদী ‘পণ্ডিত’ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সহকারে ধর্মীয় জঙ্গিসন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের পেছনে ক্রিয়াশীল জিনগত বৈশিষ্ট্যের তত্ত্ব হাজির করেছিলেন কিছুদিন আগে, তাকেও বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ ধরনের কিছু নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল কর্মকার

আমি লিখতে চাইনি। কারণ আজকাল লেখা আর কারও মনে আঘাত কিংবা প্রতিঘাত করে না। মানুষের মন আজ কর্পোরেট কোম্পানির বাগানে লাগানো প্লাস্টিকের ফুল। তবুও আজ সকালে ঘুম থকে উঠে কলম ধরতে হলো নিজের কাছে নিজের দায় থেকে। সকালে একদিনের বাসি পত্রিকায় একটা নিউজ দেখে নিজেকে সামলে রাখা কষ্টকর হলো। লেখাটা ছিল আমি সর্বহারাশিরোনামে সাংবাদিক মিনার মাহমুদের লেখা একটা চিঠি। আত্মহত্যা করবার আগে স্ত্রী লাজুককে লেখা তার এই শেষ চিঠিতে তিনি লিখে গেছেন তার যন্ত্রনা ও এই সমাজের কুৎসিত ক্ষতগুলোর কথা।

মিনার মাহমুদ

মিনার মাহমুদ যখন সকাল বেলা বাসা থেকে বের হন তখনও তিনি জানতেন যে তিনি আর ফিরে আসবেন না বাসায় নিজের স্ত্রীর কাছে। কতটা স্বপ্নভঙ্গ হলে একজন মানুষ এতটা পরিকল্পিতভাবে নিজেকে সর্বহারা ঘোষণা করে আত্মহত্যা করতে পারে। তার এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী এই রাষ্ট্র, এই ব্যবস্থা এবং এই রাষ্ট্রের মিডিয়ার কুৎসিত সম্পাদকরা।

মিনার মাহমুদের চিঠির বয়ানে আত্মহত্যা প্রসঙ্গে: মোটেও না, আসলে নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ আছে আমার বাংলাদেশের সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সময় থেকে এযাবৎকাল এদেশের মিডিয়ার উপর এসেছে একের পর এক আঘাত। কখনও মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। একটা সময় মিডিয়া দাসত্ব করেছে কোনো দলের আর এখন দাসত্ব করছে কর্পোরেট কোম্পানির। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

Death is a fearful thing .” – William Shakespeare

এই বঙ্গীয় জনপদে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি ‘বচনের’ সাথে আমাদের নিরন্তর বসবাস সহবাস চলে। নাক টিপলে দুধ বের হয় এমন বয়স থেকেই সন্তানকে ‘বাজারজাত পণ্য’ বানানোর জীবনমরণ সংগ্রামে বাবামা তাকে ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ীঘোড়া চড়ে সে’ ধরনের বচন শোনান। সেই যে বচনের সাথে তার পরিচয় ঘটে, মৃত্যু অবধি আর বুঝি তার সাথে আড়ি নেই। কিসে বচন নেই? বাবামায়ের অমোঘ বাণী, হাদিসকোরআন, বাইবেলগীতা নামক ‘সাইলেন্সার বুক’, অফিসের ঘোড়েল বসের আদেশ, সংবিধান সর্বত্রই বচনের জয়জয়কার। তার মাঝে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গদের মুখ নিঃসৃত বাণী হলে তো কথাই নেই, সেসব জীবনভর গেলাতেই থাকো তো গেলাতেই থাকো। কিন্তু উপরের কোটেশনের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখুন আর বর্তমানের বাংলাদেশকে তার সাথে মিলিয়ে দেখুন, শেক্সপিয়র সাহেবকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ‘অকাট মূর্খ’ মনে হবেনা? নিশ্চয়ই হবে, ভদ্রলোক কি গাড়লের মত বলেছিলেন যে মৃত্যু নাকি ‘ভীতিকর জিনিস’। বাংলাদেশের কোথায় তাকালে আপনার মনে হবে যে মৃত্যু কোন ভীতিকর জিনিস? নিশ্চয়ই তা নয়, এ হতেই পারেনা, মৃত্যুর ভীতিকর রূপের অবসান হয়েছে অনেক আগেই। এখন মৃত্যু একটি অত্যন্ত লাভজনক পণ্য, একে বাজারজাত করে প্রতিদিন পত্রপত্রিকা, বড় কর্পোরেট হাউজ, ব্যক্তিবর্গ করে খাচ্ছে তার কোন হিসেব রাখি আমরা? এক রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বাবুরাই তো এখনো মুক্তি পেলেন না, বছরের পর বছর তাদের নিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট নির্যাতন’ সমতূল্য বক্তৃতাআলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে গেলো, তার কোন খোঁজখবর আমরা নিয়েছি কখনো? (বিস্তারিত…)