Posts Tagged ‘মধ্যবিত্ত’


লিখেছেন: টিপু

protest-poetry-1আজ কবিতা লিখতে গেলে হাত কেঁপে যায় আবার,

কি লিখব? ভেবেছিলাম জীবন দিয়ে ছন্দ মেলাব,

কিন্তু অস্ফুট শব্দ চারিদিকে, মাঝে মাঝে চিৎকার

ধেয়ে আসে ছত্তিশগড়ের জঙ্গল থেকে। আমার কলম

কেঁপে কেঁপে যায়। অজস্র বক্ররেখা ভরে ওঠে

জীবনের কবিতা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: খোন্দকার সোহেল

চান্দু'রা একদিন জেগে উঠবেই...সন্ধ্যায় বাণিজ্যের তল্পি গুছিয়ে বাসায় ফিরব। রিকশা উঠে শুরু হল গৃহ প্রত্যাবর্তন। বিধিবাম, শুরু হয়ে হল বৃষ্টি আর সাথে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া। তবুও বাসায় ফিরতেই হবে। কিন্তু দমকা হাওয়ায় রিকশা এগোচ্ছিল না এক কদম। চালকের মুখের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম বিতৃষ্ণা ভাব। শঙ্কা জাগল মনে, এই বুঝি সে বলে বসে-“পারছি না স্যার, আপনি অন্যচেষ্টা করেন।তাহলে আমাকে যে এই ঝড়েই আটকে থাকতে হবে। তাই মন যোগাবার বৃথা চেষ্টায় একটু বাচাল হলাম। উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যস্ত রাখা; যাতে সে নাবলার ফুসরত না পায়। জিজ্ঞেস করলাম

তোর নাম কি?

চান্দু মেলকার।

খুব সুন্দর নাম। বউ, বাচ্চা কয়টা?

মূহুর্তের মধ্যেই রিকশায় ব্রেক চাপল চান্দু। সীট থেকে নেমে খুব উচ্চ গলায় বলল

ফাইজলামির আর জায়গা পান না? আমার নামডা আবার সুন্দার অইল ক্যামনে? নামেন আমার রিকশাত্তোন নামেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

মাসুদের দৃষ্টি আটকে থাকে বাসের দুই সারি সিটের মাঝে কায়ক্লেশে দাঁড়িয়ে থাকা ঈষৎ দোদুল্যমান এক জোড়া নিতম্বের দিকে।

আর কয়েক দিন পর কোরবানীর ঈদ। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ বাসের যাত্রীদের মধ্যে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য কয়েক আজলা জলের হাপিত্যেশ। টিকেট চেকারের হাঁকডাঁক। কতিপয় যাত্রীর খিস্তিখেউড় উড়ে বেড়াচ্ছে বাসের অভ্যন্তরে, বাতাসে। কয়েকটা সেলফোন মাঝে মধ্যেই বেজে উঠছে কর্কশ শব্দে। কেউ কেউ সেটা কানের কাছে ধরে ততোধিক কর্কশ স্বরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে প্রাণপণে, বাসের ভেতরে চিৎকারচেঁচামেচি ভেদ করে শ্রবণতন্ত্রীতে বোধগম্য শব্দমালা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে শব্দতরঙ্গের অপর পার্শ্ববর্তী/বর্তিনীর কণ্ঠস্বর। বঙ্গভবনের সামনে দিয়ে কিছুদূর এগিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় পড়ার ঠিক আগে বাস দাঁড়িয়ে গেছে অসহ্য যানজটে। এরপর তোপখানা পেরোতে আধা ঘণ্টা। বাসের মধ্যে প্রায় গুমোট আবহে নিতম্বিনীর কোমর অবধি নেমে আসা চুল সামান্য বাতাসে মৃদু কাঁপছে। মাসুদের মনের তৃষ্ণা বাড়ায় তার মুখাবয়ব দেখবার অনিঃশেষ আকুলতা। পাশে বসে থাকা আধবুড়ো লোকটা খক্খক্ করে কাশে। মাসুদ প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে তার দিকে তাকায়। আধা কাঁচাপাকা খোঁচাখোঁচা দাঁড়ি, ঠোঁট দুটো পানের রসে জারিত, নোংরা নীল শার্ট আর সস্তা লুঙ্গিপরিহিত আধবুড়োটা অশিক্ষিত শ্রেণীভুক্ত এক পলকেই বলে দেয়া যায়। নিমীলিত নেত্রে সে তাকায় মাসুদের মুখপানেসেখানে ফুটে ওঠা বিরক্তির শীতল দৃষ্টি তাকে বিচলিত করে বলে মনে হয় না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

অনেক কষ্টে; ধাক্কা দিতে দিতে, খেতে খেতে, চাপ দিয়ে, চাপে পড়ে, পায়ের পাতায় পারা খেয়ে, আরো জোরে পারা দিয়ে, প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে নিজেকে সেধিয়ে দিয়ে, সামনের দিকে এগুনোর চেষ্টা করছিযদি একটু দম ফেলার জায়গা পাওয়া যায়। অবশেষে, বাসের ভেতরের রডটি দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরে, দেহের ভারসম্যকে টেনেটুনে জড়ো করে,দাড়াবার অবসর পাই। মানুষের ঘামে ভিজে যাওয়া বাতাস, বুক ভরে টেনে নিয়ে,বেঁচে থাকার স্বাদ অনুভব করি।

বাসটি ঘষটে ঘষটে এগিয়ে চলছে; যতটুকু না চলে, তার চেয়ে বেশী সময় থেমেই থাকে। মাঝে মাঝে এমন মনে হয় যে, ফুটপাত দিয়ে ধুকে ধুকে, কেশে কেশে, হোচট খেতে খেতে চলা মানুষগুলো বাদে, আর সমস্ত কিছু যেন; আলিফলায়লার জগতের মত প্রস্তরে পরিণত হয়েছে।

বাসের মধ্যে, আমার মত অনেকেই নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, আর কিছু মানুষ অসহায়ের মত বসে রয়েছে। এদের অধিকাংশ আমার মত নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং কেঊ কেউ নিম্নবিত্ত। শহুরে মধ্যবিত্তরা আর এখন এইসব মুড়ির টিনে যাতায়াত করেনা। ওরা এখন প্রত্যেকেই একেকটি করে প্রাইভেট কারের গর্বিত মালিক। শুধুমাত্র নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরাই এখন এই সব মুড়ির টিনের মুড়ি এবং চাপ খাওয়া চিড়া।

আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার ডান পাশের সিটটাতে জানালার কাছে বসে রসিয়ে রসিয়ে পান চিবুচ্ছে একজন বেশ্যার দালাল। বিড়ি খেতে খেতে প্রচন্ড রকমে কালো হয়ে যাওয়া, ফোলা ফোলা এবড়ো থেবড়ো ঠোটের দুই কোন বেয়ে লাল লাল রস গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। সে মহাখালীর মোড়ে আবাসিক হোটেল গুলোর সামনে নেমে পড়বে; যদি কিছু পয়সা পকেটে এসে পড়ে এই আশায়। আহা—সে যখন ব্যাবসাটা শুরু করেছিল; কি জমজমাটই না ছিল। ধনী লোকের ছেলেরা পকেট ভর্তি কড়কড়ে সুগন্ধী নোট নিয়ে, দলে দলে প্রাইভেট কার হাকিয়ে সন্ধাবেলা হতেই জমা হত থাকত। কত রাত যে ওরা মনের ভুলে বা কাঁচা মাংশের তীব্র ঝাঝালো গন্ধে বিভোর হয়ে একশো টাকা, পাঁচশ টাকার নোট ছুড়ে দিয়েছে; তা কি আর বলতে! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

Death is a fearful thing .” – William Shakespeare

এই বঙ্গীয় জনপদে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি ‘বচনের’ সাথে আমাদের নিরন্তর বসবাস সহবাস চলে। নাক টিপলে দুধ বের হয় এমন বয়স থেকেই সন্তানকে ‘বাজারজাত পণ্য’ বানানোর জীবনমরণ সংগ্রামে বাবামা তাকে ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ীঘোড়া চড়ে সে’ ধরনের বচন শোনান। সেই যে বচনের সাথে তার পরিচয় ঘটে, মৃত্যু অবধি আর বুঝি তার সাথে আড়ি নেই। কিসে বচন নেই? বাবামায়ের অমোঘ বাণী, হাদিসকোরআন, বাইবেলগীতা নামক ‘সাইলেন্সার বুক’, অফিসের ঘোড়েল বসের আদেশ, সংবিধান সর্বত্রই বচনের জয়জয়কার। তার মাঝে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গদের মুখ নিঃসৃত বাণী হলে তো কথাই নেই, সেসব জীবনভর গেলাতেই থাকো তো গেলাতেই থাকো। কিন্তু উপরের কোটেশনের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখুন আর বর্তমানের বাংলাদেশকে তার সাথে মিলিয়ে দেখুন, শেক্সপিয়র সাহেবকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ‘অকাট মূর্খ’ মনে হবেনা? নিশ্চয়ই হবে, ভদ্রলোক কি গাড়লের মত বলেছিলেন যে মৃত্যু নাকি ‘ভীতিকর জিনিস’। বাংলাদেশের কোথায় তাকালে আপনার মনে হবে যে মৃত্যু কোন ভীতিকর জিনিস? নিশ্চয়ই তা নয়, এ হতেই পারেনা, মৃত্যুর ভীতিকর রূপের অবসান হয়েছে অনেক আগেই। এখন মৃত্যু একটি অত্যন্ত লাভজনক পণ্য, একে বাজারজাত করে প্রতিদিন পত্রপত্রিকা, বড় কর্পোরেট হাউজ, ব্যক্তিবর্গ করে খাচ্ছে তার কোন হিসেব রাখি আমরা? এক রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বাবুরাই তো এখনো মুক্তি পেলেন না, বছরের পর বছর তাদের নিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট নির্যাতন’ সমতূল্য বক্তৃতাআলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে গেলো, তার কোন খোঁজখবর আমরা নিয়েছি কখনো? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

A revolution is not a dinner party, or writing an essay, or painting a picture, or doing embroidery.’ – Mao Tse -Tung

ইদানিং এই অধম কিছুই ঠিকভাবে ঠাহর করে উঠতে পারেনা। যেমন উপরে মাও সেতুঙ এর কোটেশনের দিকেই তাকানো যাক, উক্তিটায় স্পষ্ট করে বলা আছে বিপ্লব ডিনার পার্টি, রচনা লেখা, ছবি আঁকা কিংবা এমব্রয়ডারি করার কোনটাই নয়। এখানে ‘বিপ্লব’এর পরিবর্তে ধরে নেই ‘আন্দোলন’ শব্দটাই আছে; কারণ ‘বিপ্লব’ শব্দখানায় বাঙ্গালীর সবসময়েই আতঙ্ক, ঘেন্না, বিদ্বেষ ইত্যাদি কাজ করে। নিজেদের চিন্তার অ্যারিস্টোক্রেসিতে তারা বিদ্যাসাগর নিয়ে নর্তনকুর্দন করে, মাস্টার দা’ সূর্য্যসেন যেন সবসময়ে চাপা পড়ে থাকেন সে জন্যে। তারা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল নিয়ে ফ্যাসিস্ট নির্যাতন সমতূল্য সভা–সেমিনারে অনুষ্ঠিত আলোচনা, বক্তৃতা সবই শুনবে, তাও কেবল সুকান্ত ভট্টাচার্য নিয়ে যেন কথাবার্তা বিশেষ না হয় সেই কারণে। স্মরনীয়া – বরনীয়া নারীদের মধ্যে তারা তাদের মগজে বেগম রোকেয়া নিদেনপক্ষে সুফিয়া কামাল’কে গ্রহণ করতে রাজী আছেন, তাও যেন বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কিংবা তেভাগা আন্দোলনের সময় যৌনাঙ্গে গরম ডিম প্রবিষ্ট করানোর মত নির্যাতন সহ্য করা বিপ্লবী ইলা মিত্র যেন কখনো আলোচনায় না আসে। যাক গে এই জনপদের দ্বিপদ স্তন্যপায়ীদের হিপোক্রেসির কথা, লিস্টটা শুধু লম্বাই হতে থাকবে।

কিন্তু মূল প্রসঙ্গে এসে দেখি যে ইদানিং অনুষ্ঠিতব্য আন্দোলনগুলো আন্দোলনের মত মনে হয়না। এখন প্রতিটি আন্দোলনকে মনে হয় প্রতি বছরে ফেব্রুয়ারী মাসে বইমেলাকে স্বাগত জানানোর জন্য ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ নামক উৎকট এক উৎসবের মত। এই যে দেখুন না সামনে আসছে ১ মার্চ বাংলাদেশে সকল ভারতীয় পণ্য বয়কট করার উৎসব এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে! তা’ এই উৎসবের হেতু কি? বিএসএফ কর্তৃক ক্রমাগত বাংলাদেশীদের হত্যার প্রতিবাদে সেদিন সকল ভারতীয় পন্য বয়কট করা হবে; আহা কি চমৎকার দেখা গেলো! আগে তাও এসব নিয়ে প্রেসক্লাবে, শাহবাগে, টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে মিছিল, সমাবেশ হতো। রাতেরবেলা ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখে বেলা করে ঘুম থেকে উঠা বাঙ্গালী মধ্যবিত্তরা সেজেগুজে শুক্রবার বিকালে প্রেসক্লাবে এসে মনোযোগ দিয়ে আবাল পাবলিকের সস্তা সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিতে পারঙ্গম নেতাদের বচনামৃত শুনতো। চোখমুখ কুঁচকে ভেবে আবারো নিশ্চিত হতো ‘মালাউনদের’ সবই খারাপ, এমনকি আগের রাতে যেই ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখেছিলো সেখানের মেয়েটার ‘মাই’ দুইটাও বেঢপ, কুৎসিত আকারের সেটা মনে করে নিজের হাত কামড়াতো! কিন্তু এখন আন্দোলনের নামে, প্রতিবাদের নামে এই ধরণের উৎসব এই ভোগবাদী, টেকনোলজিক্যাল উল্লম্ফনের আমলের নতুন অস্ত্র ‘ফেসবুক’ নামক সামাজিক নেটওয়ার্কের কল্যাণে অনায়াসেই সম্ভব। বিশ্বাস না করে যাবেন কোথায়? মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী দেখিয়েই ছেড়েছে, তাদের দক্ষতার ব্যাপারে যেই ‘হোমো সেপিয়ান্স’ সন্দেহ পোষণ করেছে, তার গালেই এরা ঠাস করে চড় দিয়েছে, তারপর ঝেড়েছে হাল ফ্যাশনের রাজনৈতিক সংলাপ ‘আপনে আমাত্তে বেশী বুঝেন?’ (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

রুমানা মঞ্জুর বা ভিকারুন্নেসার ঘটনায় আমরা যতটা উদ্বেলিত হই ততটা এ ঘটনায় হইনা। কেন?”এই শিরোনামে গত ২০ তারিখে ফেসবুকে একটা নোট লেখা হয়, তা ২২ তারিখে এক বন্ধুর ফেসবুক ওয়ালে ঝুলতে দেখে পড়ে ফেলি। পড়ার পর নিজের উপর কেন যেন ভীষণ রাগ হলো, সে সাথে নোটের লেখককে সাথে সাথেই ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠাই।

এবার আসি নোটের বর্ণনায়

বরগুনার বামনা উপজেলার ছোট ভাইজোরা গ্রামের হতভাগ্য জেনি আক্তার। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য গোলাম হায়দার হেমায়েত মৃধার ছেলে তাপু মৃধা তাকে ধর্ষণের পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেছে। গত ১৯০৭১১ মঙ্গলবার রাতে এ পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চলাভাঙ্গা দারুস সালাম রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জেনী আক্তার ছোট ভাইজোরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোতালেব হাওলাদারের সেজ মেয়ে।

ধর্ষক ও খুনি গোলাম জিসান হায়দার ওরফে তাপু মৃধা (২২) উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি গোলাম হায়দার হেমায়েত মৃধার বড় ছেলে। ঘটনার পর থেকে তাপু মৃধা পলাতক।

জেনির মা হাসিনা বেগম বলেন, গত সোমবার রাতের খাওয়া শেষে জেনী ঘরের দোতলার পাটাতনে ঘুমিয়ে পড়ে। নীচে শিশু পুত্রকে নিয়ে তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। আনুমানিক রাত সাড়ে তিনটার দিকে দোতলার পাটাতনে গোঙানী ও ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ শুনে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে তিনি দোতলার পাটাতনে উঠে দেখেন তাপু তাঁর মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। এ সময় তিনি মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাপু তাকে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

মেয়েকে রক্ষা করতে না পেরে তিনি বসতঘর হতে তিনশত গজ দুরে তাপুর বাবা গোলাম হায়দারের ঘরে সাহায্যের জন্য দৌড়ে যান হাসিনা । সেখানে গোলাম হায়দার ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসিনা বেগমকে আটকে রাখেন। দেড়ঘন্টা পরে তাকে তারা ছেড়ে দেন। পরে নিজ ঘরে এসে বসতঘরের পিছনে জাম্বুরা গাছে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান হাসিনা।

হাসিনা আরও বলেন, দুই বছর ধরে তাপু মৃধা তাঁর মেয়েকে প্রেম নিবেদন করে উত্যক্ত করে আসছিল। তাপুর পরিবারের কাছে বহুবার নালিশ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ কারণে দুইমাস আগে মেয়ের মাদ্রায় যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বখাটে তাপুর হাত থেকে বাঁচতে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে গত কয়েকদিন ধরে তাপু তাদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকী দিয়ে আসছিল।

গ্রামবাসি জানায়, ওই রাতে ঘরে কোন পুরুষ লোক ছিল না। নিহত জেনীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোতালেব হাওলাদার ঢাকায় একটি গার্মেন্টে চাকুরী করেন।” (বিস্তারিত…)