Posts Tagged ‘মতিন বৈরাগী’


১০. বিপ্লব

—————————

abstract_rev-5তখনও গোধুলির শেষ রক্তরঙটুকু ছড়ানো আকাশে

তখনও প্রকৃতি নিবিষ্ট দু’জনের আলাপনে

বিহঙ্গরা খোঁটনি ঠোঁটে ঘোর অন্ধকার

কেবল দু’চারটে তারার আকাশ বাগানে পুষ্পরূপ ফোঁটা

সামনের কদুলির ডগাগুলো নড়ছে

পাতাগুলো ঘনকালো

.

আপনি রাষ্ট্র ও বিশ্বাস প্রসংঙ্গে বলেছেন খানিকটা (বিস্তারিত…)


religion-discourse

অন্তিমের আনন্দধ্বনি’ শীর্ষক কাব্যসংকলনটি এখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো তার দ্বিতীয় কিস্তি।

.

০৪. রাজনীতি

——————————–

শতবছরের রাজনীতির ফলেনি ফসল এই ভূখণ্ডে

কেবল ভুলের স্তুপ,জঞ্জাল সিদ্ধান্তের

তবে কেন এত বলিদান মানুষের?

শতভাগ শতনামে শত মতের ক্ষুদ্রঅনুকণা

নয় কি ভুল অপরিমেয় ক্ষতির হিসাব?

আর্থহীন মোহান্ধতা,এক উগ্রতার দলিল অযাথা

শ্লোগান সমঅধিকার,

সাম্যসুন্দর ভোঁজবাজির সম্মোহন দোধারী তরবারি

ক্ষমতারলোভ একধারা শ্রেণীর চলমান বৈপরীত্য সর্বহারার,

নয় কি আরেক স্বৈরাচার রূপে? (বিস্তারিত…)


অন্তিমের আনন্দধ্বনি’ শীর্ষক কাব্য-সংকলনটি এখানে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো তার প্রথম কিস্তি।

অন্তিমের আনন্দধ্বনি

অন্তিমের আনন্দধ্বনি

. প্রথম প্রভাতে

——————————————-

প্রথম প্রভাত, পাখিদের কলোকাকলির সুরেলা আলাপ

পায়ের আওয়াজ নাস্তার টেবিলে টুংটাং তস্তুরী প্লেটের ঠন ঠন

জায়নামাজ, কয়টা সংবাদপত্র হেডলাইন স্পষ্ট

তসবির দানাগুলো উপর আর নিচয়ে আঙুলের গতি

চোখ সংবাদপত্রের মুখে

ছোট্টসংবাদ

সঙ্গহীন এক মানুষের অন্তিম জীবন কথা

খশ খশ শব্দ সে কি পাখার আওয়াজ? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

matin-bairagi-10কবিতা এমনই এক বিষয় যে নিজেকে প্রস্তুত করে প্রকাশে এবং সেই প্রকাশের মধ্যদিয়ে পাঠক কবিকে চিনে নিতে পারেন একজন মানুষকেও যার সামাজিক অস্তিত্ব আছে, এবং অস্তিত্বমান সমাজে সে কোনো ধ্যানধারণাকে বহন করে তার মুখ খুলে দেয়। প্রত্যেক শিল্পই রাজনৈতিক দর্শন ভূক্ত এবং কোনো না কোনো শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে। সে যদি নিজকে গোপন ও করতে চায় তা হলেও সে প্রকাশ্য হয়ে পড়ে এবং তার প্রকাশরীতি সব সময়ই তার ধ্যানজ্ঞান পছন্দ ও ভাবনায় বাহিত হয়ে রূপলাভ করে শিল্পের মাধ্যমে, যাকে শিল্পী কোনো ভাবেই আড়াল করতে পারে না। আর কবিতাতে তো সম্ভবই নয়, দুরূহ বা দুর্ভেদ্য যাই হোক সে চিনিয়ে দেয় কবিকে, আখেরে সে কোন সামাজিক চেতনা ধারণ করছে এবং কাদের পক্ষের মানুষ হয়ে তার সৃষ্টিকে নিবেদিত করতে চাইছে। (বিস্তারিত…)


লাল সবুজ পতাকার গল্প

.

bird-of-freedom-liquid-abstract-art-fluid-painting-3সকল বাঁধার দেয়াল ডিঙিয়ে একটা স্বপ্ন বেড়ে উঠবার খবর যখন চাউর

তখন মগজ ফুটছিল কংসের

আর জন্তুগুলো নাচতে নাচতে ধেয়ে এলো ইস্পাত নলের আগুন ঝরিয়ে

আর অরক্ষিত গোলায় আগুন

আর জানোয়ারগুলো হয়ে উঠল জানোয়ার জানোয়ার (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মুনীর সিরাজ

matin-bairagi-8১৯৭৭ সালে প্রকাশিত মতিন বৈরাগীর প্রথম কাব্য বিষণ্ন প্রহরে দ্বিধাহীন থেকে সহজেই শনাক্ত করা গেছে যে মতিন বৈরাগী জীবন চেতনার কবি। তার কবিতার মর্মবাণী মানবিক মুক্তির এবং কোন রাখঢাক নয়, মতিন বৈরাগী সুস্পষ্ট ভাষায় তার কবিতার উচ্চারণে দ্বিধাহীন ও জীবনবাস্তবতার নান্দনিক কবিতা রচনার প্রতি তার প্রবল ভাবে লগ্ন।

মোহময় জীবনের সমস্ত কালভার্ট ভেঙে দিয়ে

হে জীবন হে কবিতা আলোর দিকে ফিরে যাব আমরা

(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: গোলাম কিবরিয়া পিনু

matin-bairagi-7কবি মতিন বৈরাগীর জন্ম ১৬ নভেম্বর ১৯৪৬। এবছরের ১৬ নভেম্বর তাঁর ৭০তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনের সময় পড়ছিলাম তাঁরই কবিতা সমগ্র গ্রন্থটি। এই গ্রন্থে ১০টি কাব্যগ্রন্থের কবিতা আছে, অনেক কবিতা একসঙ্গে পড়ে একজন কবির পরিচয় ভালোভাবে পাওয়া যায় একজন পাঠক হিসেবে। এই গ্রন্থটি বের হয় ২০০৮ সালে, তারপর আরও দুটি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে তাঁর। তাঁর কবিতা সম্পর্কে এক ধরনের বিবেচনা আমার আগে থেকেই ছিল, তাঁর কবিতা পড়ছি বহুদিন হলো ধারাবাহিকভাবে। কিন্তু একসঙ্গে অনেক কবিতা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, আমার যে বিবেচনা স্থির হয়েছিল তাঁর কবিতা সম্পর্কে, সেই বিবেচনায় আরও কিছু বোধ পাঠক হিসেবে সম্পকির্ত হলো নতুনভাবে।

তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকেছেন, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত মূলভাবে সক্রিয় থেকেছেন এই ৭০ বছর অবধি একমাত্র কবিতায়। তাঁর কবিতাগ্রন্থগুলো হলো : বিষণ্ন প্রহরে দ্বিধাহীন (১৯৭৭), কাছের মানুষ পাশের বাড়ি (১৯৮০), খরায় পীড়িত স্বদেশ (১৯৮৬), আশা অনন্ত হে (১৯৯২), বেদনার বনভূমি (১৯৯৪), অন্তিমের আনন্দ ধ্বনি (১৯৯৮), অন্ধকারে চন্দ্রালোকে (২০০০), দূর অরণ্যের ডাক শুনেছি (২০০৫), স্বপ্ন এবং স্বাধীনতার গল্প (২০০৭) এবং অন্য রকম অনেক কিছু (২০০৮)। এই ৮টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে তাঁর ‘কবিতা সমগ্র’ গ্রন্থটি। এর পরবর্তী সময়ে আরও দু’টি কাব্যগ্রন্থ বের হয়েছে, খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে গেছি (২০১২) এবং দুঃখ জোয়ারের স্রোতে (২০১৪) (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মহসিন শস্ত্রপাণি

matin-bairagiদীর্ঘদিন ধরে পথচলার সাথী কবি মতিন বৈরাগীর সত্তর বছরে যাত্রা উপলক্ষে অজস্র শুভেচ্ছা জানাই। তিনি পৃথিবীর আলোহাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ মেলে তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়েছিলেন বরগুনার লাকুরতলা গ্রামে, ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর। তিনি কবিতাপ্রেমে একগ্রতার সাথে মগ্ন আছেন কৈশোরকাল থেকেই এবং নিশ্চিতভাবেই বলা যায় মগ্ন থাকবেন। অন্য কোনো বিষয়ে তাঁর প্রেম এতো গভীর ও অনড় নয়। জীবনের নানা আঘাত ও সংকটে তাঁর কবিতাপ্রেম এতোটুকু টলেনি। দুএকটা ছোট গল্প ও সামান্য কিছু গদ্য রচনায় মন দিলেও কবিতাই তাঁর সব। কবিতার সঙ্গে জীবনযাপনে তাঁর যতো সুখ, যতো আনন্দ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

mongoldhonyমঙ্গলধ্বনি ছোট কাগজ মানবজীবনের কল্যাণের পক্ষের কথা বলবার জন্য এবং শোনানোর জন্য কয়েক তরুণ চেষ্টার এই ছোট কাগজ। সে কল্যাণ সার্বিক সামাজিক রাজনৈতিক প্রাণপ্রকৃতিপরিবেশের পক্ষের। নিয়মিত নয় এই ছোটকাগজ, তবে তাদের চেষ্টা দেখে বুঝে নেয়া যায় যে একটুখানি সহযোগিতা পেলে তারা নিয়মিত হয়ে উঠতে পারে এবং নিরন্তর নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাদের শ্রমমেধাযোগ্যতাকে ব্যবহার করতে পারে। জগজীবনে কোনো কাজই যা বৃহক্ষ্য অর্জনে নিবদ্ধ, তা একক চেষ্টায় পূর্ণতা পায় না সাহসী, উদ্যমী, সমাজ সচেতন মানুষের অংশগ্রহণ তাই জরুরী। তবু এই গীত তারা গাইতে চাইছে এবং এর জন্য অসুখ চিহ্নিত করে ইস্যুভিত্তিক লেখা তারা ছাপছে তাদের এই ছোট কাগজে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মতিন বৈরাগী

০১.

abstract-art-432দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সামাজিক রাজনৈতিক আবদ্ধতা মানুষের মনজগতে নানা প্রতিক্রিয়ার প্রভাব ফেলে। মানুষ সামগ্রিকভাবেই চিন্তা চেতনার ক্ষেত্রে কমবেশি পঙ্গুত্বকে বহন করতে শুরু করে। নতুন চিন্তা যা কিছু তারা বলে তা পুরানো চিন্তারই নামান্তর, অর্থাৎ দাস মনোবৃত্তিই তাদের মনোজগতে প্রবল হয়ে ওঠে ও প্রভুর সকল ছলচাতুরীকে তারা গোষ্ঠী জাতি বা বৃহত্তর মানুষ গোষ্ঠীরা প্রায় একই রূপ বহন করতে থাকে তারা মনে করে যে তারা নতুন জীবন দেখছে নতুন সুযোগ পাচ্ছে এবং নতুনের দিকে যাচ্ছে। আসলে এই ভাবনা তার মনোবৈকল্যের ফলাফল। আমরাও আমাদের চারপাশে এরকম অবস্থাই দেখছি। দেখা স্বাভাবিক। বিশ্বপরিস্থিতির ভেতরই আমাদের বসবাস এবং বিশ্ব মোড়লদের একই ছকের ভেতর আমাদের দিনরাত্রি। হিসেব নিকেশও প্রায় একই রকম। সামান্য কিছু হেরফের থাকলেও উন্নত বিশ্ব বা গরীব বিশ্বের মানুষেদের মনোজগতের ক্রিয়া কর্মে খুব বেশি দূরত্ব থাকেনা।। (বিস্তারিত…)