Posts Tagged ‘ভারত’


লিখেছেন : বৃহদ্রথ

কাশ্মীরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ১০ হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে ৫ আগস্ট ২০১৯, ভারত রাষ্ট্র ও জম্মুকাশ্মীরের রাজার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি (ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন, ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭) মোতাবেক তৈরি ভারতীয় সংবিধানেরঅনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং প্রদত্ত বিশেষ সুবিধা ৩৫এ ধারা বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ একতরফাভাবে বাতিল করেছে। সেইসঙ্গে জম্মুকাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে জম্মুকাশ্মীরের জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষা বা মতামতের কোনো পরোয়া না করে মোদিশাহ্‌ সরকার কাশ্মীরি তাদের উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছে, যা কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত চুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। স্বাভাবিকভাবেই কাশ্মীরিরা অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত ও তার পদ্ধতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকারের এই আচরণে তারা এতটাই আতঙ্কগ্রস্থ যে, এক বছরেও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসতে পারেননি। মিডিয়া অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তারা মুখ খুলতে পারছেন না। বাড়ির বাইরে বেরোলেই তাদের ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে। কখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে, কখনো বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হচ্ছে। জম্মুকাশ্মীরের কয়েকজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ বিজেপি ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা হয় গৃহবন্দী অথবা গ্রেফতার হয়েছেন (বিস্তারিত…)


কোভিড১৯ আগ্রাসনে যখন বিপর্যস্ত ভারত, তখনও অশীতিপর এক বৃদ্ধকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে নারাজ দেশটির কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। ভিমা কোরেগাঁও মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন ৮১ বছর বয়সী বিপ্লবী কবি ভারাভারা রাও। ইতিমধ্যে ওই কারাগারে কয়েকজন কয়েদি কোভিড১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ বিপ্লবী কবির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দেশবিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সমাজে চিন্তাশীল, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে অন্তত মানবিক কারণে ভারাভারা রাওয়ের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

হিন্দুত্ব’ নামক ধর্মসংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উত্থান

তুলনামূলকভাবে দেখলে দেখা যাবে, আজ যে হিন্দুত্ববাদের বিষবৃক্ষটি ফুলেফলে পল্লবিত হয়েছে, ব্রিটিশ সরকারই নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে তার বীজ মাটিতে বপন করেছিল১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় জনগণের একত্রিত বিদ্রোহী চেতনাকে ভাঙতে উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ শাসকরা নিয়ে এসেছিল,ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতিমূলত এর ওপর ভিত্তি করেই ভারতবাসীর মননে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঘনবিষ ঢুকিয়ে দেয় তারা। এরই মাধ্যমে ভারতীয় জনগণের ওপর তাদের শাসন, শোষণ ও লুণ্ঠনকে দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিল১৮৭৫ সালে হান্টার সাহেবের লেখা ‘দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমান’ বই থেকে ব্রিটিশরা আমদানি করেছিল ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : সুশীল ঠাকুর এবং নির্ঝর মন্ডল

যে কোনো সামাজিকরাজনৈতিক গণআন্দোলনগণসংগ্রামের মধ্যেই দু’ধরনের লাইন, দু’ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী লক্ষ্য করা যায়। একটি সঠিক লাইন, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গী তথা সর্বহারার শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গী সজ্জিত লাইন; অন্যটি বেঠিক লাইন তথা অদ্বান্দ্বিক, আধিবিদ্যক দৃষ্টিভিঙ্গী তথা অসর্বহারা দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশ। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন : শাহেরীন আরাফাত

১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মণিপুরের মহারাজা বোধ চন্দ্র আর ইংরেজ সরকারের গভর্নর জেনারেল লুই মাউন্টব্যাটনের মধ্যে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে মণিপুর রাজ্যকে ডোমিনিয়ান বা স্বায়ত্বশাসনের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মণিপুর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতপাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেও কোনো কোনো ভূখণ্ড তখনো ভারতপাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের একটি মণিপুর। ১৯৪৮ সালে গণভোটের মাধ্যমে মণিপুরের জনগণ রাজাকে সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচিত করে, রাজার অধীনে একটি সরকার শপথ গ্রহণও করে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

বায়ুর গুণগতমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অক্ষমতার জন্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট পারফরমেন্স ইন্ডেক্স ২০১৮এর সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান (১৭৭) তলানিতে এসে ঠেকেছে।[] গত জুনে সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টএর সহায়তায় ডাউন টু আর্থ ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ভারতের পরিবেশের অবস্থা (এসওই) ২০১৮ শীর্ষক বার্ষিক সারসংক্ষেপে তেমনটাই দেখা গেছে। এদিকে, দেশের কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৭ সালে গড়ে প্রতিদিন বনাঞ্চলে প্রায় ৬টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে। আর গত এক বছরে বনসংক্রান্ত না এমন ক্রিয়াকলাপের জন্য অরণ্যভূমির চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্র বৃদ্ধি ঘটেছে ১৪৬ শতাংশ।[] (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।”

সে অনেক বছর আগের কথা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন মহান শিক্ষক আমাদের বোকাবুড়োর গল্প শুনিয়েছিলেন। সে গল্প শুনে এদেশে এক বোকাবুড়ো শুরু করেছিলেন পাহাড় সরানোর কাজ। তাঁর ডাকে হাজার হাজার দেবদূত এসেছিলেন এ কাজে অংশ নিতে। তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন কখনো পুলিশের গুলিতে; কখনো জেলের অন্ধুকুঠুরিতে; কখনো শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে। কেউ কেউ জীবনের দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন কারান্তরালে। তাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ পাহাড় সরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। আজ তাঁরা গাইতিকোদাল নিয়ে ‘হেই সামালো’ হেঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন পাহাড় সরানোর কাজ।

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বয়স নয় নয় করেও বিরানব্বইচুরানব্বই বছর হয়ে গেলো। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নকশালবাড়ির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্রযুবদের মধ্যে যে আলোড়ন তুলেছিল, তা এক কথায় বললেঅভূতপূর্ব। আত্মত্যাগের এ যেন এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সেই বোকাবুড়ো। কি ছিল তাঁর আবেদনে, যা শুনে হাজার হাজার ছাত্রযুব ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে, ঘরবাড়ি, পরিবারপরিজন ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই পাহাড় সরানোর মহাযজ্ঞে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: লাবণী মণ্ডল

শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সমালোচনা হলো সংগ্রাম ও বিকাশের অন্যতম প্রধান পদ্ধতি। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেই বস্তার বইটি নিয়ে দুচার কথা লিখতে বসলাম। এই আলোচনা বা সমালোচনা কতটুকু সাহিত্যমানসম্পন্ন হবে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত নই। সেক্ষেত্রে এটিকে আমার উপলব্ধির বিকাশ ধরে নেয়াটাই শ্রেয়। রাজনৈতিক দর্শনে নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই লিখছি। শাহেরীন আরাফাতের লেখা বইটির পুরো নামবস্তার রাষ্ট্রকর্পোরেটহিন্দুত্ববাদের যৌথ সন্ত্রাস। এটি ২০১৭ সালের মে মাসে উৎস পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়। প্রচ্ছদ করেছেন শিশির মল্লিক।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ তামাম দুনিয়ায় সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো শ্রমিকশ্রেণী এবং জনগণের মুক্তি ও অগ্রগতির পথে নানা উপায়ে বাধা সৃষ্টি করার জন্য সংহত হচ্ছে। শিল্পসাহিত্যকেও তারা কাজে লাগাচ্ছে ব্যাপকভাবে। এমন সময়ে বস্তার বইটি নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে উৎকৃষ্ট সাহিত্য সমালোচনা করাটা নিতান্ত সহজ কাজ নয়। বরং এমন বইযেখানে সমাহার ঘটেছে ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, আগ্রাসন, সংগ্রাম ও প্রতিরোধের বিপুল তথ্যতা নিয়ে আলোচনা করাটা বেশ কঠিন ও জটিল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

অরুন্ধতী রায়প্রতিরোধ, সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিছবি। তাঁর সংগ্রাম একমুখী ছিল না। তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বিকাশও সরলরৈখিক বা এক ঝটকায় আসেনি। অরুন্ধতীর সাহিত্য চর্চাও এই রাজনৈতিকতার বাইরে থাকেনি। চেতনাগত বিকাশের পর্যায়ে উপন্যাসের কথিত ছক ভেঙে সেখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে মেলে ধরেছেন। সামাজিক অব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের কথিত সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামঅরুন্ধতী রায়কে রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্টে পরিণত করে।

অরুন্ধতী রায় কালির অক্ষরে চালিয়ে যাচ্ছেন এক বন্ধুর সংগ্রাম। যেখানে জাতিগত, সম্প্রদায়গত, বা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের দাবি করাটা তার রাজনৈতিক চিন্তাচেতনারই অংশ। তিনি ভারতের বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে শাসন কাঠামোবিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর এজন্য তার নিন্দুকেরও অভাব পড়েনি কখনও। তার বিরুদ্ধে আনা হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ। (বিস্তারিত…)