Posts Tagged ‘বৈষম্য’


লিখেছেন: ফারুক আহমেদ

boishakhপহেলা বৈশাখ এবং এই জাতীয় সর্বজনীন উৎসব এলেই প্রধান প্রধান পত্রিকাগুলোতে, বৈদ্যুতিক মাধ্যমে, এসব আশ্রিত বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে, শাসক শ্রেণিতো বটেই শাসক শ্রেণি আশ্রিত বাম নামধারীদের পক্ষ থেকেও তারস্বরে আওয়াজ উঠতে থাকে– ‘এই দিন পার্থক্য ভুলে যাওয়ার দিন, এই দিন বাঙালীর ঐক্যের দিন ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রশ্ন হলো কিসের পার্থক্য? কার সাথে কার ঐক্য? এ পার্থক্য যদি হয় শাসক শ্রেণির লুণ্ঠনের ভাগাভাগির বিরোধ এবং ঐক্য যদি হয় তাদের ঐক্য, তা হলে সেখানে বলবার কিছু থাকে না। কিন্তু যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা এই পার্থক্য বুঝায় না। বাঙালীত্বের বাগাড়ম্বরে তারা বুঝাতে চায় ধনীগরীবের পার্থক্য, শোষক আর শোষিতের পার্থক্য, জনগণ এবং দুর্বৃত্তের পার্থক্য। এই দিনে তারা এসব পার্থক্য ভুলিয়ে দেওয়ারই কথা বলে। এর মধ্যদিয়ে তারা যে জনগণের আনন্দ উৎসবের দিনগুলো শোষক, লুণ্ঠক এবং তাদের সেবাদাস দুর্বৃত্তদের দখলে নেওয়ারই মতলব করে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

khaleda-zia-4-বর্তমান আওয়ামী লীগনেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গণতান্ত্রিকভাবে দেশ চালাচ্ছে একথা বর্তমানে তাদের অন্ধ সমর্থক ছাড়া আর কেউই বলবেন না। বিগত কয়েক বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি, সন্ত্রাসনির্যাতনধর্ষণগুমখুন, জনগণের অর্থ লোপাট, নিরাপত্তাহীনতা, নৈরাজ্য থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুঃশাসন নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। এর বিরুদ্ধে খুব কার্যকরভাবে না হলেও জনগণের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একত্র হয়ে এসবের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এমনকি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যানার থেকেও বর্তমানে চলমান যাবতীয় অনাচারঅত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার দাবি জানিয়ে সমাবেশমিছিলঅনশনমানববন্ধন ইত্যাদি করা হচ্ছে। এসব দাবি ও দাবি প্রকাশের ধরন ইত্যাদির কার্যকারিতা নিয়ে অনেক রকম প্রশ্ন ও বিতর্ক তোলা যেতে পারে। কিন্তু এসব যে হচ্ছে তার মধ্যে দিয়েই আন্দাজ পাওয়া যায় বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ কতোটা ‘ভালোভাবে’ চলছে। নিজেদের গণবিরোধী শাসনসৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় সরকার নিজেই এখন দিশেহারা। নিজেদের অপশাসনদুঃশাসন তাদের চারিদিকে যে চোরাবালির বলয় তৈরি করেছে তাতে তাদের স্বখাতসলিলে ডুবে মরার মতো অবস্থা। এজন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়া বলতে গেলে তাদের হাতে এই মূহুর্তে আর তেমন কিছুই নেই। এ কারণেই এ ইস্যুটিকে তারা বারবার সামনে আনতে চাইছে, এবং বিরোধী মতের অন্যান্য সংগঠনের যেকোনো সরকারবিরোধী সমালোচনা ও আন্দোলন প্রচেষ্টাকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

এক

সমাজে অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশে দুই ধরনের যৌনকর্মী আছে। একদল বাস করে সমাজের বাইরে আরেক দলের অবস্থান আবশ্যিকভাবে সমাজের অভ্যন্তরেই। সমাজের বাইরে যারা বাস করে তাদের মধ্যে আছে আবার তিনটি গ্রুপ। একটি গ্রুপ বিভিন্ন জেলা শহরে অবস্থিত পতিতা পল্লীতে বসবাস করে এবং তাদের ব্যবসাও সেখানেই। পতিতালয়ে বসবাসকারী যৌনকর্মীরা পুরোপুরি পেশাদার, মানে তাদের জীবন জীবিকা সম্পূর্ণভাবেই যৌনকর্মের উপর নির্ভর করে। সমাজের ভেতরে তাদের কোনধরনের অবস্থান যেমন নেই, তেমনি যৌনকর্মী বাদে তাদের আর কোন পরিচয়ও থাকেনা এদের নিজস্বতা বলতেও প্রায় কিছুই থাকেনা। কারণ এদের সবাইকে পল্লীর সর্দারনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এদের শরীরের মালিক ঐ সর্দারনী, সে তাদের শরীরকে খদ্দেরদের কাছে ভাড়া খাটায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মাহাবুব হাসান

শুরুর আগে

শিল্পসংস্কৃতি এক অশেষ পথ রেখা ধরে এগিয়ে চলে। সংস্কৃতিকে সময়পর্ব দিয়ে ভাগ করা অনেকটাই যান্ত্রিক ব্যাপার। যে কোন ধরণের ক্ষমতা কাঠামো (সেটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক) ভারসাম্যপূর্ণ বা ন্যূনতম ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারলেও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তা কিন্তু একেবারেই সরাসরি ও দৃশ্যমান ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া তৈরী করে না। তার বিকাশ ও ক্রিয়া প্রক্রিয়া চলে সুস্থির একটা নিবিড় পর্যায়ের মধ্য দিয়ে। সময়ের ধারাবাহিক এগিয়ে চলায় ঐতিহাসিকভাবেই শ্রেণী তার নিজস্ব ক্ষমতা কাঠামোকে (মানবিক বা অমানবিক) টিকিয়ে রাখার জন্য সংস্কৃতিকে বারংবার রূপান্তায়িত করে বা সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটে যায়। এটা মনে করারও কোন কারণ নেই যে রাজনৈতিকঅর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব কাঠামোর বিবর্তন বা পরিবর্তন ঘটে, সেই সব ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার কোন কিছুই সংস্কৃতির উপর পরে না। অবশ্যই পড়ে। কেননা এটা আরো ঘনিষ্টভাবে মনে রাখতে হবেযে কোন ধরণে উৎপাদনই (শিল্পসাহিত্য) সামাজিক উৎপাদন ব্যবস্থার বাইরের কিছু নয়। মানুষ একই সাথে সামাজিক সত্ত্বা ও একক সত্ত্বা। যে কোন ব্যক্তির কাছেই ‘সমাজ’ এ আপাত বিমূর্ত ধারণাটির প্রকৃত অর্থটি বলতে গেলে বলতে হবে সমসাময়িক ও পূর্ববর্তী সকল গোষ্ঠী বা প্রজন্মগুলোর পরোক্ষ ও প্রতক্ষ্য সকল মানুষের সম্পর্কের একটি যৌথ যোগফল।

একক সত্ত্বা হিসেবে ব্যক্তি নিজেই চিন্তা, অনুভব ও নানাবিধ প্রকল্প ও প্রচেষ্টা চালাতে সক্ষম। কিন্তু এই দৃশ্যের গহীনের প্রকৃত উন্মোচনটি হলো ব্যক্তি তার সকল অনুভূতিময় কর্ম বা অস্তিত্বের মধ্যে শারীরিক ও চৈতণ্যের বিকাশ ও উপস্থাপনের জন্য সমাজের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তাই সমাজ কাঠামোর বাইরের অংশ হিসেবে তাকে কোনভাবে চিন্তা করা বা অন্য কোন প্রক্রিয়া যদি থেকে থাকে তা দিয়ে বোঝার ও গভীরভাবে অনুশীলন করা এক কথায় হবে অলিক ও অসম্ভব। মানুষ তার সব প্রয়োজনীয় সকল কিছুর যোগানকাজের জন্য হাতিয়ার, হাতিয়ার ব্যবহারের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল,নানা রকমের বিকশিত শ্রমশিল্প, আর মৌলিক চাহিদাগুলোতো রয়েছেই; আরো রয়েছে প্রাণী হিসেবে মানুষের সবচেয়ে বিশেষ বিকশিত অবস্থানটি, তার চিন্তা করার সক্ষমতা, ভাষা ও চিন্তা করার নানা রূপ ও কৌশল এবং সর্বোপরি চিন্তার সকল বিষয়াদিসহ মানুষের ইতিহাসটাই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের একটু একটু কাজের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে, আর তা লুকানো রয়েছে ছোট একটি শব্দের মাঝে, সে শব্দটি হলো ‘সমাজ’। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

Death is a fearful thing .” – William Shakespeare

এই বঙ্গীয় জনপদে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি ‘বচনের’ সাথে আমাদের নিরন্তর বসবাস সহবাস চলে। নাক টিপলে দুধ বের হয় এমন বয়স থেকেই সন্তানকে ‘বাজারজাত পণ্য’ বানানোর জীবনমরণ সংগ্রামে বাবামা তাকে ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ীঘোড়া চড়ে সে’ ধরনের বচন শোনান। সেই যে বচনের সাথে তার পরিচয় ঘটে, মৃত্যু অবধি আর বুঝি তার সাথে আড়ি নেই। কিসে বচন নেই? বাবামায়ের অমোঘ বাণী, হাদিসকোরআন, বাইবেলগীতা নামক ‘সাইলেন্সার বুক’, অফিসের ঘোড়েল বসের আদেশ, সংবিধান সর্বত্রই বচনের জয়জয়কার। তার মাঝে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গদের মুখ নিঃসৃত বাণী হলে তো কথাই নেই, সেসব জীবনভর গেলাতেই থাকো তো গেলাতেই থাকো। কিন্তু উপরের কোটেশনের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখুন আর বর্তমানের বাংলাদেশকে তার সাথে মিলিয়ে দেখুন, শেক্সপিয়র সাহেবকে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ‘অকাট মূর্খ’ মনে হবেনা? নিশ্চয়ই হবে, ভদ্রলোক কি গাড়লের মত বলেছিলেন যে মৃত্যু নাকি ‘ভীতিকর জিনিস’। বাংলাদেশের কোথায় তাকালে আপনার মনে হবে যে মৃত্যু কোন ভীতিকর জিনিস? নিশ্চয়ই তা নয়, এ হতেই পারেনা, মৃত্যুর ভীতিকর রূপের অবসান হয়েছে অনেক আগেই। এখন মৃত্যু একটি অত্যন্ত লাভজনক পণ্য, একে বাজারজাত করে প্রতিদিন পত্রপত্রিকা, বড় কর্পোরেট হাউজ, ব্যক্তিবর্গ করে খাচ্ছে তার কোন হিসেব রাখি আমরা? এক রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বাবুরাই তো এখনো মুক্তি পেলেন না, বছরের পর বছর তাদের নিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট নির্যাতন’ সমতূল্য বক্তৃতাআলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে গেলো, তার কোন খোঁজখবর আমরা নিয়েছি কখনো? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

রুমানা মঞ্জুর বা ভিকারুন্নেসার ঘটনায় আমরা যতটা উদ্বেলিত হই ততটা এ ঘটনায় হইনা। কেন?”এই শিরোনামে গত ২০ তারিখে ফেসবুকে একটা নোট লেখা হয়, তা ২২ তারিখে এক বন্ধুর ফেসবুক ওয়ালে ঝুলতে দেখে পড়ে ফেলি। পড়ার পর নিজের উপর কেন যেন ভীষণ রাগ হলো, সে সাথে নোটের লেখককে সাথে সাথেই ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠাই।

এবার আসি নোটের বর্ণনায়

বরগুনার বামনা উপজেলার ছোট ভাইজোরা গ্রামের হতভাগ্য জেনি আক্তার। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য গোলাম হায়দার হেমায়েত মৃধার ছেলে তাপু মৃধা তাকে ধর্ষণের পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেছে। গত ১৯০৭১১ মঙ্গলবার রাতে এ পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চলাভাঙ্গা দারুস সালাম রশিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জেনী আক্তার ছোট ভাইজোরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোতালেব হাওলাদারের সেজ মেয়ে।

ধর্ষক ও খুনি গোলাম জিসান হায়দার ওরফে তাপু মৃধা (২২) উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি গোলাম হায়দার হেমায়েত মৃধার বড় ছেলে। ঘটনার পর থেকে তাপু মৃধা পলাতক।

জেনির মা হাসিনা বেগম বলেন, গত সোমবার রাতের খাওয়া শেষে জেনী ঘরের দোতলার পাটাতনে ঘুমিয়ে পড়ে। নীচে শিশু পুত্রকে নিয়ে তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। আনুমানিক রাত সাড়ে তিনটার দিকে দোতলার পাটাতনে গোঙানী ও ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ শুনে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে তিনি দোতলার পাটাতনে উঠে দেখেন তাপু তাঁর মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। এ সময় তিনি মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাপু তাকে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

মেয়েকে রক্ষা করতে না পেরে তিনি বসতঘর হতে তিনশত গজ দুরে তাপুর বাবা গোলাম হায়দারের ঘরে সাহায্যের জন্য দৌড়ে যান হাসিনা । সেখানে গোলাম হায়দার ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসিনা বেগমকে আটকে রাখেন। দেড়ঘন্টা পরে তাকে তারা ছেড়ে দেন। পরে নিজ ঘরে এসে বসতঘরের পিছনে জাম্বুরা গাছে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান হাসিনা।

হাসিনা আরও বলেন, দুই বছর ধরে তাপু মৃধা তাঁর মেয়েকে প্রেম নিবেদন করে উত্যক্ত করে আসছিল। তাপুর পরিবারের কাছে বহুবার নালিশ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এ কারণে দুইমাস আগে মেয়ের মাদ্রায় যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বখাটে তাপুর হাত থেকে বাঁচতে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে গত কয়েকদিন ধরে তাপু তাদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকী দিয়ে আসছিল।

গ্রামবাসি জানায়, ওই রাতে ঘরে কোন পুরুষ লোক ছিল না। নিহত জেনীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোতালেব হাওলাদার ঢাকায় একটি গার্মেন্টে চাকুরী করেন।” (বিস্তারিত…)