Posts Tagged ‘বাংলাদেশের রাজনীতি’


লিখেছেন:আবিদুল ইসলাম

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির স্বরূপ

বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো থেকে দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ডাক দেয়া হয় মাঝে মধ্যেই। হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করলেও তাদের কর্মসূচির রাজনৈতিক চরিত্রও চোখে পড়ার মতো। শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আজ “ইসলাম বিপন্ন” এমন শ্লোগান হেফাজতে ইসলামের লোকজনের পক্ষ থেকে উত্থিত হচ্ছে, যদিও এই ভূখণ্ডে এ আওয়াজ নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান আমল থেকেই জনগণের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনসংগ্রামের সময় শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ হতে এ আওয়াজ তোলা হতো। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন সহ অধিকাংশ সময়েই গণতান্ত্রিক দাবিদাওয়া আদায়ের সংগ্রামে জনগণ সংগঠিত হলেই পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষ হতে ‘ইসলাম গেল’ চিৎকার ওঠানো হতো। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন:আবিদুল ইসলাম

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ ও শাহবাগের আন্দোলন

বর্তমানে যে ইস্যুটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাহলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর সহযোগী তথা রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সদস্য হিসেবে যারা বিভিন্ন প্রকার অপরাধে লিপ্ত ছিল তাদের বিচার প্রসঙ্গ। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটসরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ক এক ট্রাইবুনাল গঠন করে। এই ট্রাইবুনাল থেকে প্রথম রায় দেয়া হয় গত ২১ জানুয়ারি বাচ্চু রাজাকার ওরফে আবুল কালাম আজাদের। পলাতক এই যুদ্ধাপরাধীকে প্রদান করা হয় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

revolutionary-force-2বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ অনেকটাই বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। যারা কোনোভাবেই দেশের রাজনীতির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন তাদের ক্ষেত্রে এটা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। কেননা গত কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত বেশকিছু পরিবর্তন ঘটে চলেছে। কয়েক মাস আগেও যা এদেশের জনগণ কল্পনাও করতে পারেন নি বাংলাদেশে এখন সেটাই হচ্ছে। মূলত গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হলেও এর মূল আরো অনেক গভীরে। কীভাবে কী হলো, এর পেছনে কোন সব শক্তি ও উদ্দেশ্য কাজ করছে সেগুলো নিয়ে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা উপস্থিত করলে বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতার পেছনে বিদ্যমান চক্রান্তের জালগুলো কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। (বিস্তারিত…)


গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন

Mongoldhoni - logo১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধ এই ভূখণ্ডের জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ঐতিহাসিকভাবেই এই ভূখণ্ডের মানুষ সংগ্রামী। তারা বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। যার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আর এই সংগ্রামের চাপে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ১৯৪৭ সালে হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান নামের দুইটি রাষ্ট্র সৃষ্টি ও তার শাসকদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বৃটিশরা। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার সময়ে মানুষ যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আশা করেছিল, তা থেকে যায় অধরা। উল্টো তারা সামরিক আমলাতান্ত্রিক এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনে জর্জরিত হতে থাকে। আর এই প্রক্রিয়ার সহযোগী শক্তি হিসেবে বরাবরই সক্রিয় সমর্থন যোগায় ইসলামী ধারার কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিপরীতে জনগণের গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজের আকাঙ্খা থেকে অসংখ্য রাজনৈতিক সংগ্রাম সংগঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আসে ’৭১, যা মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জামায়াতে ইসলামী এবং তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিকআমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য পাকিস্তানী সেনা কমান্ডের অধীনে রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে ফ্যাসিস্ট বাহিনী গঠন করে। এই বিশেষ বাহিনী জনগণের মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে সাধারণ নিরীহ জনগণকে হত্যা, নারী নির্যাতন ও লুণ্ঠনে মেতে উঠে এবং তারা বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক মনোভঙ্গী থেকে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠীকে নির্মূলের চেষ্টা করে। (বিস্তারিত…)