Posts Tagged ‘ফ্যাসিবাদ’


লিখেছেন: অজয় রায়

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে গত মে মাসে। যা খুব জাঁকজমক করে পালন করা হয়। তবে এ তিন বছরে দেশটির আমজনতার দুর্দশা আরও বেড়েছে। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত সরকার নয়াউদারবাদী নীতি ধারণ করে চলেছে। তবে এক্ষেত্রে বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার থেকেও বেশি জোর কদমে দেশ বেচার এই জনবিরোধী নীতিকে কাজে পরিণত করতে উঠে পড়ে লেগেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: অজয় রায়

একদিন সকালে দেখা যায় শিশুদের খেলার মাঠে দুটি নাৎসিদের প্রতীকী স্বস্তিকা চিহ্নের পাশে লেখা রয়েছে গো ট্রাম্প। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি মার্কিন মুল্লুকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই এ ঘটনা ঘটে। সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরবর্তী এক মাসের মধ্যেই সহস্রাধিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হেইট ক্রাইমের ঘটনা ঘটেছে সেদেশে।[] আর এখনও তা চলছে। নিশানায় রয়েছেন মূলত সংখ্যালঘু, অভিবাসী ও মুসলিমরা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা শেষে এরদোয়ানফ্যাসিবাদী এরদোয়ান এ যাত্রায়ও বেঁচে গেলেন

কিন্তু তুরস্কের ওই ক্যু প্রচেষ্টায় কিছু প্রশ্ন সামনে ওঠে এসেছে

১। এরদোয়ানের সমর্থক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মাসখানেক আগেই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর মধ্য থেকে ক্যু প্রচেষ্টা হতে পারে। এমনকি তারা নাকি সেনা কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু কেন??

২। ক্যু পরিকল্পনাকারী বা বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা কি এতোটাই অবুঝ যে, কেবল ফেসবুক, টুইটারকেই অনলাইনের যোগাযোগ মাধ্যম বলে মনে করেছিলো, মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন আইএসপির ইন্টারনেট, এমনকি মোবাইল ইন্টারনেট পর্যন্ত খোলা ছিলো। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই এরদোয়ান যোগাযোগ রক্ষা করতে পেরেছিল বলে জানা যায়। তাহলে প্রশ্ন আসে, এমন কাঁচা পরিকল্পনায় সেনাবাহিনীর জেনারেল পর্যায়ের কর্মকর্তারা কিভাবে জড়িত হতে পারেন? নাকি পরিকল্পনায় স্যাবোটাজ হয়েছিলো?? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

comando-operation-1গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি আরো বেশ কিছুদিন বড় ইস্যু হিসেবেই সামনে থাকবে বলে মনে হচ্ছে। অন্তত এই মাপের বড় কোনো ইস্যু সামনে না আসা পর্যন্ত তা টিকে থাকবে। সেই সঙ্গে এটি এখানকার ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলকও বটে। সবাই যার যার হিসেব কষছে। ওই সন্ত্রাসী হামলার পর কেউ বিদেশি শক্তির দ্বারস্থ হতে উপদেশ দিচ্ছেন, কেউ আবার নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখে যাচ্ছেন। সরকার এতে ‘দেশীয় জঙ্গি’ খুঁজে পাচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ জামায়াতবিএনপি, বা আইএসআই খুঁজে যাচ্ছে। আর অতিউৎসাহীরা সবকিছুতেই লাফাচ্ছেন! (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মন্ডল

mohan-bhagwat-owaisiগত ৩ মার্চ আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) প্রধান মোহন ভাগবত বলেন যে, এবার এই দেশের যুবকদের ভারত মাতা কি জয় এই স্লোগান তোলার জন্য শিক্ষা দিতে হবে। এর আগেও জেএনইউ (জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়) বিতর্কের সময় বহুবার আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এমনকি সাংবাদিকদেরও দেশপ্রেমের প্রমাণ স্বরুপ ভারত মাতা কি জয় বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে আরএসএসএর পক্ষ থেকে। তার প্রেক্ষিতে মজলিসইত্তেহাদুল মুসলিমেন বা এমআইএম বিধায়ক আসাদুদ্দিন ওয়েসি গত ১৩ তারিখ লাতুরে একটি মিছিল সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় মোহন ভগবৎকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন যে, তার গলায় ছুরি ধরা হলেও তিনি ভারত মাতা কি জয় বলেবেন না, কারণ ভারতের সংবিধান সেটা করতে বলে না। জাভেদ আখতার রাজ্যসভায় শেষ ভাষণে আসাদুদ্দিন ওয়েসিকে তুলোধোনা করে বলেন যে, সংবিধান তো শেরওয়ানি বা টুপি পরতেও বলেনি। ভারত মাতা কি জয় বলাটা হলো অধিকার। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

আজাদি বনাম দেশপ্রেম

umar khalid-1দেশপ্রেমীদের হাতে পড়ে আজাদি শব্দটাকে লাঞ্ছিত হতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। দিল্লির (জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়) জেএনইউ থেকে কলকাতার যাদবপুর, সর্বত্র এই লাঞ্ছনা লক্ষ্যনীয়। সাধারণভাবে ইতিহাস বইয়ে স্বাধীনতাগণতন্ত্র শব্দ দুটোকে আমরা পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এদেশের প্রধান শাসকদলের লম্ফঝম্ফ দেখে মনে হচ্ছে কেউ যদি স্বাধীনতা চায় তাহলে তার গণতন্ত্র হরণ করাটাই যেন আজ এদেশে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে! সম্প্রতি জেএনইউএর ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সভাপতি কানহাইয়া কুমারের গ্রেপ্তার; অপর তিন ছাত্র উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও অশ্বত্থীকে জঙ্গী বলে দেগে দিয়ে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র; একাধিক ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে সিডিশান আইনে মামলা দায়ের করা, অধ্যাপক এস আর গিলানিকে গ্রেপ্তার, এসব তো আছেই। এমনকি ন্যায়ালয়ে আইনের রক্ষকদের সামনে অভিযুক্তকে মারধর করা এবং এ হেন বেআইনী কাজ করার পরেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরানো, এক চরম ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার ঘনঘটায় বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মন্ডল

প্রসঙ্গ রাষ্ট্রদ্রোহীস্লোগান

Kanhaiya_Kumarএটা অনেক আগেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, ৯ ফেব্রুয়ারি জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা ঐ জাতীয় স্লোগান দেওয়া হয়েছিল হিন্দু ফ্যাসিস্ট আরএসএস ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যদের তরফ থেকে। এরপর মূলধারার কিছু সংবাদ মাধ্যমই ফাঁস করে দিয়েছে হাফিজ সাদের মিথ্যে টুইটার পোস্টসহ একাধিক ভুয়ো ছবি ও ভুয়ো ভিডিওর কথা, যা দেখিয়ে আরএসএস, এবিভিপি এবং সংঘ পরিবার অনুগত সংবাদ মাধ্যম জেএনইউএর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কমরেড কানহাইয়া, ৯ ফেব্রুয়ারির সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ সভার উদ্যোক্তা কমরেড উমর খালিদসহ বাকিদের দেশদ্রোহী প্রমাণ করতে চেয়েছে। (বিস্তারিত…)


সংঘ পরিবারের শিক্ষানীতি

লিখেছেন: নীলিম বোস

non-net-fellowship-protest-1ইতিহাস, শিল্পসংস্কৃতি, আমাদের সমগ্র সত্তাকেই নিজের ভাবনায় রাঙ্গিয়ে নেওয়াটা ফ্যাসিবাদের পুরনো কৌশল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেকার অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা এটা জেনে এসেছি। দেখে এসেছি। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে মিথ্যা অহংকার ও অলীক গৌরবের ভক্তিরসে ভাসিয়ে না দিলে ফ্যাসিবাদের পক্ষে তার অভিষ্ঠে পৌঁছানো কোনোদিনই সম্ভব নয়। আর সেটা যদি হয় ভারতের মতো দেশ তবে আরো প্রয়োজন হয়ে পড়ে এই কাজটা। কারণ এই দেশে আজো কমবেশি ৮০ শতাংশ মানুষ দিনে ২০ টাকার ওপর বেঁচে থাকেন, পুষ্টি সূচকক্ষুদা সূচকের মতো রাষ্ট্রপুঞ্জের মানব উন্নয়ন সূচকগুলিতে ভারত পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলির সমতূল্য অবস্থানে রয়েছে(কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্থানের পরে)। এরকম একটি দেশের মানুষদের সামনে রাতারাতি ‘আচ্ছে দিন’ নিয়ে আসার বা দেশটাকে ‘সুপার পাওয়ার’এ পরিনত করার খুড়োর কলটি দিয়ে আকৃষ্ট করতে গেলে ফ্যাসিষ্ট শাসকের কাল্পনিক ও অবাস্তব উজ্বলতার অতিতের রঙে আমাদের চারপাসকে ঢেকে দেওয়াটা খুবই দরকার। ফ্যাসিষ্ট সংঘ পরিবারের কাছে গৈরিকীকরণ হলো সেই দরকারকেই পূরণ করার একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই বিজ্ঞান কংগ্রেস থেকে ইতিহাস সংসদ, গৈরিকীকরণের সুনামী আছড়ে পড়ছে বারবার। তবে গৈরিকীকরণের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রটি অবশ্যই শিক্ষাক্ষেত্র। হিটলার একসময় বলেছিলেন Let me control the school text books, 3rd reich will rule for the next 20 years without any internal threat.” ঠিক এই কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রটি সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র গৈরিকীকরণের। এই গৈরিকীকরণ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক মধ্যযুগীয় উল্লাসের মধ্যে। যার থেকে ফুটে বেরোয় সামন্ততান্ত্রিকতা। আর ঐ মধ্যযুগীয় উল্লাসের পেছেনেই থাকে শিক্ষার বেসরকারিকরণের চাল। কারণ ফ্যাসিবাদ মানেই রাষ্ট্রের সাথে কর্পোরেশনের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’। আর বেসরকারিকরণ ছাড়া বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির মুনাফা বৃদ্ধির রাস্তা বন্ধ। তাই শিক্ষার বেসরকারিকরণ চলে গৈরিকীকরণের সাথে হাতে হাত ধরে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

Bajrangi-Bhaijanগত ১৭ জুলাই ২০১৫ তারিখে ভারত সহ সারাবিশ্বে মুক্তি পেয়েছে কবির খান পরিচালিত ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র ‘বজরঙ্গি ভাইজান’। মুক্তির পরপরই সিনেমাটি বিরাট সাফল্যের মুখ দেখেছে, বলিউডের সিনেমার ইতিহাসে বেশ কয়েকটি রেকর্ড ভঙ্গের দিক থেকে প্রথম অথবা দ্বিতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছে। চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয়কারী প্রখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা সালমান খান সিনেমার প্রযোজক। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ সব স্থানেই দর্শকবৃন্দ চলচ্চিত্রটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভারতপাকিস্তান সম্পর্ককে ঘিরে কাহিনী আবর্তিত হওয়ায় দৃশ্যমান ঘটনাবলির অন্তরালে এর নিগূঢ় রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকের কাছে ভিন্নমাত্রায় উদ্ভাসিত হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে একে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নীলিম বোস

gajendra-chauhan-1শুরুটা আজ হয় নি, খুব ধীরে ধীরেই শুরু হয়েছিল এবং এগিয়েছে খুব পরিকল্পনামাফিক। পুনেতে ফিল্ম আন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান পদে গজেন্দ্র চৌহানের মতো এক চতুর্থ শ্রেণীর অভিনেতা তথা সংঘ পরিবারের অনুগত একজনকে বসানো আসলে বৃত্ত সম্পূর্ণ করার চেষ্টা মাত্র। রূপোলী পর্দার হিন্দুত্বকরণের চেষ্টা। এটি আসলে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা, যার উদ্দ্যোগ শুরু হয়েছিল গত শতকের নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকেই। যদিও তার আগেও হিন্দি সিনেমায় হিন্দুত্ববাদের সুড়সুড়ি ছিলই। ছিল দেশাত্মবোধক ফিল্মগুলির মধ্যে দিয়ে। কিন্তু বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও সংঘ পরিবারের রাজনৈতিক ফ্রন্ট বিজেপি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বাড়াতে শুরু করার পর থেকেই সর্বগ্রাসী চরিত্র নিয়ে হিন্দি সিনেমায় হিন্দুত্ববাদের পরিকল্পনামাফিক যাত্রা শুরু মোটামুটি ১৯৯৪৯৫ সাল থেকে। তখনো তা ছিল বিষবৃক্ষের চারা, আজ যা বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিখ্যাত বটগাছের মতোই বৃহৎ হয়ে উঠেছে। (বিস্তারিত…)