Posts Tagged ‘পেরু’


3heads26432(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে তৃতীয় লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)

Advertisements

prachanda-nepal-121(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে দ্বিতীয় লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)


solidarity-maoism-gonzalo-2(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)


মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: চেয়ারম্যান, পেরুতে সংশোধনবাদের প্রবক্তা কে?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো:ইউনিটি’ বলে একখানা পত্রিকা, যা প্রকাশ করে বা করতো সোভিয়েত সংশোধনবাদের দালাল তথাকথিত পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চাঁচাছোলা সংশোধনবাদী নেতা যোরগে দেল প্রাদোযিনি ‘সময় সাপেক্ষ বিপ্লবী’ বলেও পরিচিত। দ্বিতীয়তঃ জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা। দ্বিতীয় জন দেংএর স্তাবক ও চীনা সংশোধনবাদের সেবক পত্রিকা রোজা।

এল দিআরিও: আপনি কি মনে করেন পেরুর জনগণের মধ্যে সংশোধনবাদের প্রভাব থাকায় পেরুর বিপ্লব বিঘ্নিত হচ্ছে?

চেয়ারম্যান গনজালো: যদি আমরা লেনিনের শিক্ষা এবং চেয়ারম্যান মাও যার উৎকর্ষ সাধন করে গেছেন এবং বিকাশের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন, তা গ্রহণ করে থাকি – তাহলে দেখতে পাই সংশোধনবাদ নামক বুর্জোয়াদের এই দালাল সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যে বিরাজ করে তাদের মধ্যে বিভাজনের বিষ ছড়ায়। এরা কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। এরা ট্রেড ইউনিয়নে ভাঙ্গন ধরায় এবং গণআন্দোলনকে টুকরো টুকরো করে বিপর্যস্ত করে।

সংশোধনবাদকে ক্যান্সার রোগ বলা চলেতাই এই রোগকে নির্মমভাবে ছেঁটে ফেলা দরকার। তা না হলে বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। লেনিনের কথায় বলতে গেলে সারসংক্ষেপে বলতে হয়আমাদের দুটো জিনিসের উপর লক্ষ রাখা দরকার তা হচ্ছে আক্রমণাত্মক বিপ্লবী কর্মকাণ্ড আর সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিরামহীন সংগ্রাম। (বিস্তারিত…)


মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: আমরা এবার অন্য প্রশ্নে চলে আসছি। আচ্ছা সর্বহারার মতাদর্শ বলতে আমরা কী বুঝি এবং সমাজজীবনে আজকের দিনে এটা কী ভূমিকা পালন করছে? মার্কস, লেনিন ও মাওএর ধ্রুপদী চিন্তা বলতে পিসিপি কী বোঝে?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো: আগামীদিনের এবং এই যে ঝঞ্ঝামুখর দিনগুলোতে আমরা হাঁটা চলা করছিআমরা দেখতে পাচ্ছি সর্বহারার মতাদর্শ অত্যন্ত বেশি গুরুত্ব অর্জন করে বহু বহু দূর এগিয়ে গেছে। যদিও বিষয়টি আমাদের প্রত্যেকেরই জানা তবুও যে বিষয়টির ওপর আমি প্রাধান্য আরোপ করছি তা হচ্ছে শ্রেণীবিভক্ত সমাজে সব থেকে অগ্রগামী শ্রেণীর তত্ত্ব ও প্রয়োগের ভূমিকা। বিশ্বের সর্বহারা সংগ্রামের ফসল হচ্ছে সর্বহারার মতাদর্শ। এটা পড়লে আমরা অনুভব করি সর্বহারা শ্রেণীর আবির্ভাবের আগে শ্রেণীসংগ্রামের ঐতিহাসিক ধারার অধ্যয়ন ও অনুধাবনের প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষকদের সেই বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের কথাযে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এই সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে, তা বোঝবার জন্য উন্নত স্তরের পড়াশুনা ও মননশীলতা দরকার। এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, মার্কসের যুগান্তকারী সৃষ্টি সর্বহারার মতাদর্শ, আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনে মানুষ আজ সমৃদ্ধ, এমন একটা সম্পদ যা মানুষ আবার কবে লাভ করবে কে জানে। বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর এমন একটা বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ মানবজাতি বিশেষ করে আমাদের শ্রেণী তথা জনগণ কারায়ত্ত করেছে যেটা তত্ত্ব ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে একটা হাতিয়ার হয়ে উঠেছে যার সাহায্যে পৃথিবীটা পাল্টে দেয়া দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেছে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছিযে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন এবং যে মন্তব্য তিনি করেছিলেনসেইসব মন্তব্য সত্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। মার্কসবাদ নিয়ত সমৃদ্ধ হয়ে মার্কসবাদলেনিনবাদএ পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে এর মার্কসবাদলেনিনবাদমাও সেতুংএর চিন্তায় উত্তরণ হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি এটাই একমাত্র মতাদর্শযা গোটা দুনিয়াকে পাল্টে দিয়ে বিপ্লব ঘটাবে। (বিস্তারিত…)


মতাদর্শগত প্রশ্নে

সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

(পূর্ব প্রকাশের পর…)

এল দিআরিও: চেয়ারম্যান, পিসিপি, মাওবাদ ইত্যাদি আদর্শগত ভিত্তির উপর আমাদের মধ্যে একটু আলোচনা করা যাক। মাওবাদকে মার্কসবাদের তৃতীয় স্তর বলে আপনি চিহ্নিত করেন কেন?

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো: এটা একটা অত্যন্ত কঠিন প্রশ্ন এবং প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। আমাদের কাছে মার্কসবাদ হচ্ছে উন্নয়নের একটি ধারা। এই মহান ধারা আমাদের উচ্চতম পর্যায়ের তৃতীয় নতুন এক স্তর উপহার দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে মাওবাদ নামে এই উচ্চতম পর্যায়ে তৃতীয় এক নতুন স্তরে আমরা উপনীত হয়েছি এমন মনে করার কারণ কী? চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ মার্কসবাদের তিনটি উপাদানকেই উন্নত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এটা পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে বলেই একে আমরা মার্কসবাদের তৃতীয় পর্যায় বলে অভিহিত করি। আসুন একটু প্রাঞ্জল ব্যাখ্যায় যাওয়া যাকমার্কসীয় দর্শনে দ্বন্দ্বতত্ত্বের বিকাশে মাওএর মহান অবদানের কথা কেউই অস্বীকার করতে পারেন না; এই দ্বান্দ্বিক নিয়মগুলোর আচার আচরণের ওপর নতুন আলোকপাত করে একেই মৌলিক সূত্র বলে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজনৈতিকঅর্থনীতির ব্যাপারে দুটো জিনিসকে এই নতুন তত্ত্ব বিশেষ করে পাদপ্রদীপের তলায় নিয়ে এসেছে। তার প্রথমটি আমলাতান্ত্রিক মূলধনরূপে পরিগণিতঅত্যন্ত নির্দিষ্টভাবে যার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম। দ্বিতীয়ত, সমাজতান্ত্রিক কাঠামোতে এই অর্থনীতির বিকাশ। এসবের একত্র বিন্যাসে একথা নিশ্চিতভাবে বলা চলে সমাজতান্ত্রিক সমাজে এই অর্থনীতির বিকাশ ও উন্নয়নের ব্যাপারে মাও সেতুঙই একমাত্র স্থপতি। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ব্যাপারে জনযুদ্ধের উল্লেখ করাই যথেষ্টকারণ মাও সেতুঙএর এই তত্ত্বের দ্বারা সর্বহারার আন্তর্জাতিকতা পূর্ণ বিকশিত এক সমরনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়যে সমরনীতি আমরা সর্বহারাদের ক্ষেত্রে শ্রেণীগত প্রশ্নে সব জায়গায় সমভাবে প্রয়োগ করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, এই তিনটি প্রশ্নে এই তত্ত্ব এক বিশ্বজনীন বিকাশের সাক্ষ্য বহন করে। আচ্ছা আসুন, দেখাই যাকনা, এই নতুন স্তরে উন্নীত হওয়ার সুবাদে কিভাবে আমরা সমৃদ্ধ হলামআর একে কেন আমরা তৃতীয় পর্যায় বলে অভিহিত করছি। মার্কসবাদ এর আগে মার্কস ও লেনিনের মাধ্যমে দুটো পর্যায় অতিক্রম করে এসেছে বলেই আমরা মার্কসবাদলেনিনবাদের কথা বলি। এটা একটা উচ্চতম পর্যায়কারণ মাও সেতুঙএর চিন্তার আলোকে আলোকিত হয়ে ভাবাদর্শগতভাবে সর্বহারা আন্তর্জাতিকতা বর্তমানে এক উন্নত পর্যায়ে বিকশিত হয়েছেযা এক সুউচ্চ শিখরে অবস্থান করছে। আমার পুনরাবৃত্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলছিআপনারা তো জানেন দ্বন্দ্বের সমন্বয়কেই আমরা মার্কসবাদ বলে থাকিযা কিনা উল্লম্ফনের মাধ্যমে উন্নত পর্যায়ে উপনীত হয় আর এক দীর্ঘ উল্লম্ফনের পরই এটা তার বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে। কাজেই আজকের পৃথিবীতে আমরা যা পাচ্ছিতাকে মার্কসবাদলেনিনবাদমাওবাদ বলা হলেও মূলতঃ মাওবাদই ক্রিয়ারত। আমরা বিশ্বাস করি আজকের দুনিয়ায় একজন মার্কসবাদী হতে গেলে, একজন কমিউনিস্ট হতে হলে তাকে অতি অবশ্যই মার্কসলেনিন ও মাওয়ের চিন্তাভাবনা সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে মাওবাদের ব্যাপারে বিশেষ করে ওয়াকিবহাল হতে হবে। এসব না করলে তারা নিষ্ঠাবান কমিউনিস্ট বলে পরিগণিত হতে পারবেন না। (বিস্তারিত…)


সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

উদ্দেশ্য

এল দিয়ারিও: চেয়ারম্যান গনজালো আমদের জানতে আগ্রহ হচ্ছে দীর্ঘ নীরবতার পর কি ভেবে এই সাক্ষাৎকার দিতে আপনি রাজী হলেন? এবং তাও এই এল ডিয়ারিও পত্রিকায়

চেয়ারম্যান গনজালো

চেয়ারম্যান গনজালো: আসুন আমরা এই ভাবেই শুরু করি। পেরুর এই যে কমিউনিস্ট পার্টি (Partido Comunista del Peru-PCP)- যারা কিনা দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময়সীমা ধরে পেরুতে জনযুদ্ধ পরিচালিত করছেতারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নথিপত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে নিজেদের প্রকাশ করছেন। এই নিজেদের প্রকাশ করার ব্যাপারটার উপর আমরা সমধিক গুরুত্ব আরোপ করিকেননা এভাবেই স্ফটিকশুভ্র স্বচ্ছতায় প্রতীয়মান হয় পিসিপিই সাহস করে জনযুদ্ধের উদ্যোগ নিয়েছেএকে পরিচালিত করছেএকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। (বিস্তারিত…)


সংকলন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

পেরু'র কমিউনিস্ট পার্টি-শাইনিং পাথ'এর পোস্টার

কমরেড গনজালো। পুরো নাম অ্যাবিমেল গুজমান রেইনোসো। ১৯৩৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ পেরুর এরিকুইপায় তার জন্ম। ক্যাথলিক হাই স্কুলে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। কলেজে দর্শন ও আইনশাস্ত্র অধ্যয়নকালে তিনি হয়ে উঠেন কমিউনিস্ট। ১৯৬২ সালে আয়াকুচোর হুয়ামান্‌গা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করার সময়েই ড. অ্যাবিমেল গুজমান কৃষক ও তরুণ বিপ্লবীদের মধ্যে প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখা দেন। ১৯৭৫ সালে আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবার আগ পর্যন্ত পেরুতে সংশোধনবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আয়কুচোর সেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ গ্রুপই জন্ম দেয় আজকের মাওবাদী পিসিপি ১৯৮০ সালের ১৭ মে আয়াকুচোর একটি নির্বাচন কেন্দ্র আক্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে সূচিত হয় সশস্ত্র গণযুদ্ধ। ১৯৮৪ সালে চতুর্থ আন্তর্জাতিকের প্রস্তুতি সংগঠনRevolutionary Internationalist Movement (RIM)গঠনে তিনি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পেরুর বর্তমান শাসক ফুজিমারো সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশ বাহিনীর হাতে গ্রফতার হন। সামরিক আদালতের এক প্রহসনমূলক বিচারে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হন। চশমা এবং অসুধবিহীন অবস্থায় এল কলাও সামরিক নৌঘাটির এক অন্ধ কুঠুরিতে তিনি বন্দি। সাক্ষাতের কোন অনুমতি নেই। শুয়ে আছেন এক অমানবিক কফিনে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কল্লোল মোস্তফা

ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পেরুর রাজধানী লিমা থেকে হাজার মাইল দূরের পিউরা রাজ্যের সান লরেঞ্জো ভ্যালির একটি ছোট্ট শহর তাম্বোগ্রান্দে। বাংলাদেশের রাজধানী থেকে শত মাইল দুরে দিনাজপুর জেলার একটি ছোট্ট শহর যেমন ফুলবাড়ি। ফুলবাড়ির মতোই তাম্বোগ্রান্দে শহর গড়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ কৃষিভিত্তিক জনপদকে ঘিরে। মাত্র অর্ধ শতাব্দি আগেও যে তাম্বোগ্রান্দেও চারপাশটা ছিল মরুময়, আজকে তার চারদিকের ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে এক সবুজ মরুদ্যান যেখান থেকে পেরুর স্থানিয় চাহিদা মেটানোর পরও প্রতিবছর ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানি করা হয় ৫০ হাজার মেট্রিকটন আম। আম ও লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন থেকে আয় হয় বছরে ৪০ মিলিয়ন ডলারেও বেশি। কিন্তু ফুলবাড়ি ও তার চারপাশের কৃষিজমির নীচের কয়লা যেমন হঠাৎ করে ফুলবাড়িবাসীর অস্তিত্বের জন্য হুমকী হয়ে উঠে, তাম্বোগ্রান্দের ঠিক নীচেই সোনা আবিস্কার হলে লন্ডন ভিত্তিক বহুজাতিক এশিয়া এনার্জির মতোই কানাডা ভিত্তিক বহুজাতিক খনি কোম্পানি ম্যানহাটন মিনারেলস এর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তাম্বোগ্রান্দের উপর। এলাকাবাসীর মতামতের তোয়াক্কা না করেই পেরুর সরকার তাম্বোগ্রান্দেকে উন্মুক্ত খননের জন্য লিজ দিয়ে দেয় ম্যানহাটন মিনারেলস এর কাছে।

আরেক ফুলবাড়ি তাম্বোগ্রান্দে

(বিস্তারিত…)