Posts Tagged ‘পুঁজিবাদ’


লিখেছেন: শাহীন রহমান

ভূমিকা

সাধারণ অর্থে একটি উন্নত দেশ কর্তৃক অপর একটি বা একাধিক অনুন্নত দেশের উপর আধিপত্য বা সাম্রাজ্য বিস্তারকে সাম্রাজ্যবাদ বলা হয়। পররাজ্য গ্রাস ও লুণ্ঠন করে পদানত রাখার ব্যবস্থা হলো সাম্রাজ্যবাদ। উন্নত একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সেই রাষ্ট্রের পুঁজিপতি বা বুর্জোয়াদের দ্বারা অন্য একটি দেশ ও তার জনগণের উপর শোষণশাসন কায়েম করাই সাম্রাজ্যবাদ। পুঁজিবাদের বিকাশের গোড়ার দিকে কতিপয় পুঁজিবাদী দেশ এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তারা অনুন্নত ও প্রাক পুঁজিবাদী বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক তথা সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের পদানত ও পরাধীন করে। সেইসব দেশের ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামাল নিজেদের দখলে নেয়। এমনকি পরাধীন দেশগুলিকে নিজেদের প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে নিয়ে আসে দখলকারী দেশগুলি। পুঁজিবাদের উদ্ভবের পরে কতিপয় উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের এই পররাজ্য দখল ইতিহাসে উপনিবেশবাদ রূপে পরিচিত। এই উপনিবেশিক কর্মনীতি দ্বারা বিভিন্ন অনুন্নত, পশ্চাদপদ দেশগুলি উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির। বিভিন্ন উন্নত পুঁজিবাদী দেশের পুঁজিবাদের বিকাশে এই উপনিবেশিক শোষণশাসন লুণ্ঠনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদকে (colonialism) এক করে দেখা হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উপনিবেশবাদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক তথা সামরিক অভিযানের ভূমিকাই মুখ্য। (বিস্তারিত…)

Advertisements

মূল: অ্যালান এডগার

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

আমি সেই সময়টায় জনবসতি থেকে বহুদূর স্কটিশ হাইল্যান্ডের কেয়ার্নগর্ম পাহাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। দেখলাম একদল মানুষরূপী প্রাণী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম ওরা ভিন গ্রহের। ওদের প্রত্যেকেরই কান স্টার ট্রেকের মি. স্পকের মতো খাড়া খাড়া। ওরা যখন আমার সামনে এসে পড়ল, তখন তাদের একজন বলে উঠল, “শুভেচ্ছা, আর্থলিং!” পৃথিবীর বাসিন্দাদেরকে ওরা ‘আর্থলিং’ বলে। আরেকটা বিষয় হলো, কোনো সাধারণ মানুষ তাদের মতো করে কথা বলে না। “আমরা মহাকাশ থেকে তোমাদের জন্য অভিবাদন নিয়ে এসেছি!’’ সৌভাগ্যবশত আমি প্রতিটি কথাই বুঝতে পারলাম, কারণ পৃথবীতে যে ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা হয়, তারা তার একটা ভাষাই শিখেছে আর সেটাই আমি জানি। (বিস্তারিত…)


রাশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক শিক্ষা

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংস্কৃতি, সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি হলো – নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে একমাত্র সর্বহারাশ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শ; অর্থাৎ কমিউনিজমের মতাদর্শের দ্বারা। অন্য কোনো শ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শের দ্বারা এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে না। এক কথায়, নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হলো সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি।”

মাও সেতুঙ, নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

মার্ক্সবাদ হাজার হাজার সত্যের সমষ্টি, কিন্তু এগুলো সবই কেন্দ্রীভূত হয় একটিমাত্র বাক্যে – ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত’। হাজার হাজার বছর ধরে এটা বলে আসা হচ্ছিলো যে, দাবিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত, শোষণ করাটা ন্যায়সঙ্গত এবং বিদ্রোহ করা অন্যায়। এই পুরনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মার্ক্সবাদের উদ্ভবের পরই উল্টে গেলো। এটা একটা মহান অবদান। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সর্বহারাশ্রেণী এই সত্যকে শিখেছে এবং মার্ক্স এই উপসংহার টেনেছেন। আর তারপর এই সত্য থেকেই আসে প্রতিরোধ, সংগ্রাম, সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই।”

মাও সেতুঙ, স্তালিনএর ষাটতম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ইয়োনানে সর্বস্তরের জনগণের সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ থেকে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

The philosophers have always interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it. (Marx, Theses On Feuerbach: Thesis 11, 1845) 

এক.

যে কোনো মতাদর্শ কিংবা দার্শনিক তত্ত্বেরই একটা বস্তুগত ভিত্তি থাকে। যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকালের নিরিখে, নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই একেকটা মতাদর্শ জন্ম নেয়। সমাজে নতুন বস্তুগত পরিস্থিতি নতুন ধারণা এবং তত্ত্বের জন্ম দেয়। এটাই মার্ক্সবাদের শিক্ষা। মার্ক্সবাদের নিজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোভিয়েত সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া গিয়েছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের পর রাশিয়ার সামাজিক বিপ্লব এবং তাদের কর্মযজ্ঞ দেখে তিনি অভিভূত হন। এ সময় তিনি লেখেন: “… আপাতত রাশিয়ায় এসেছিনা এলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত। এখানে এরা যা কাণ্ড করছে তার ভালোমন্দ বিচার করবার পূর্বে সর্বপ্রথমেই মনে হয়, কী অসম্ভব সাহস। সনাতন বলে পদার্থটা মানুষের অস্থিমজ্জায় মনেপ্রাণে হাজারখানা হয়ে আঁকড়ে আছে; তার কত দিকে কত মহল, কত দরজায় কত পাহারা, কত যুগ থেকে কত ট্যাক্‌সো আদায় করে তার তহবিল হয়ে উঠেছে পর্বতপ্রমাণ। এরা তাকে একেবারে জটে ধরে টান মেরেছে; ভয় ভাবনা সংশয় কিছু মনে নেই। সনাতনের গদি দিয়েছে ঝাঁটিয়ে, নূতনের জন্যে একেবারে নূতন আসন বানিয়ে দিলে। পশ্চিম মহাদেশ বিজ্ঞানের জাদুবলে দুঃসাধ্য সাধন করে, দেখে মনে মনে তারিফ করি। কিন্তু এখানে যে প্রকাণ্ড ব্যাপার চলছে সেটা দেখে আমি সব চেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছি। শুধু যদি একটা ভীষণ ভাঙচুরের কাণ্ড হত তাতে তেমন আশ্চর্য হতুম নাকেননা নাস্তানাবুদ করবার শক্তি এদের যথেষ্ট আছেকিন্তু দেখতে পাচ্ছি, বহুদূরব্যাপী একটা ক্ষেত্র নিয়ে এরা একটা নূতন জগৎ গড়ে তুলতে কোমর বেঁধে লেগে গেছে। দেরি সইছে না; কেননা জগৎ জুড়ে এদের প্রতিকূলতা, সবাই এদের বিরোধী—যত শীঘ্র পারে এদের খাড়া হয়ে দাঁড়াতে হবেহাতে হাতে প্রমাণ করে দিতে হবে, এরা যেটা চাচ্ছে সেটা ভুল নয়, ফাঁকি নয়। হাজার বছরের বিরুদ্ধে দশপনেরো বছর জিতবে বলে পণ করেছে। অন্য দেশের তুলনায় এদের অর্থের জোর অতি সামান্য, প্রতিজ্ঞার জোর দুর্ধর্ষ।” (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহজাহান সরকার

‘নিয়মানুগ’ শব্দের অন্তরালে উপনিবেশের পুনরাবৃত্তি

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যু এবং ফ্যাসিবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাষ্ট্র প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক ত্বরান্বিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ-নিবন্ধে উভয় দেশের মধ্যকার ‘নিয়মানুগ’ (নরমালাইজ) সম্পর্ক সৃষ্টিতে ওবামার ভূমিকা আলোচিত হবে। ওবামার পদক্ষেপ এক চমৎকার মৌলিক পটভূমি তুলে ধরে যে, কেন কিউবায় বিপ্লব জরুরি হয়ে পড়েছিল, কেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য কিউবার গৃহযুদ্ধের প্রধান লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। কিভাবে ও কেন যে বিপ্লব শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভে সফল হয় নি। কী করেই-বা সম্ভব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ ও মিডিয়ার স্বার্থ হাসিলের সকল প্রচারণার মধ্যে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
(বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

আজাদি বনাম দেশপ্রেম

umar khalid-1দেশপ্রেমীদের হাতে পড়ে আজাদি শব্দটাকে লাঞ্ছিত হতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। দিল্লির (জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়) জেএনইউ থেকে কলকাতার যাদবপুর, সর্বত্র এই লাঞ্ছনা লক্ষ্যনীয়। সাধারণভাবে ইতিহাস বইয়ে স্বাধীনতাগণতন্ত্র শব্দ দুটোকে আমরা পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এদেশের প্রধান শাসকদলের লম্ফঝম্ফ দেখে মনে হচ্ছে কেউ যদি স্বাধীনতা চায় তাহলে তার গণতন্ত্র হরণ করাটাই যেন আজ এদেশে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে! সম্প্রতি জেএনইউএর ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সভাপতি কানহাইয়া কুমারের গ্রেপ্তার; অপর তিন ছাত্র উমর খালিদ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও অশ্বত্থীকে জঙ্গী বলে দেগে দিয়ে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্র; একাধিক ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে সিডিশান আইনে মামলা দায়ের করা, অধ্যাপক এস আর গিলানিকে গ্রেপ্তার, এসব তো আছেই। এমনকি ন্যায়ালয়ে আইনের রক্ষকদের সামনে অভিযুক্তকে মারধর করা এবং এ হেন বেআইনী কাজ করার পরেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেরানো, এক চরম ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার ঘনঘটায় বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সৌম্য মণ্ডল

indian-media-and-army[মূল্যায়ন পত্রিকার তরফে ত্রয়ন দা আমাকে নেপালের ভূমিকম্প :: একটি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিষয়ক প্রবন্ধ লিখতে বলেছে। দীর্ঘ দিন ঝুলিয়ে অবশেষে লিখতেই হল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে গেলে সেটা অবধারিতভাবেই রাজনৈতিক মতামত হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু মুশকিল হল এই যে নেপাল সম্বন্ধে আমার যানা বোঝা হল কিছু বই পড়া ভাসা ভাসা জ্ঞ্যান আর গত ভূমি কম্পের সময় ইউএসডিএফ United Students’ Democratic Front (USDF)-এর তরফে নেপালে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়ে যেটুকু নেপাল দেখা। মাও সেতুঙএর ভাষায় যাকে বলে ঘোড়ায় চড়ে ফুল দেখা। মাওএর মতে, কোন বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান না করে সেই বিষয়ে মতামত দেওয়ার কোন অধিকার থাকে না। আর এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ স্টাডি আমার নেই। ফলে লেখাটি একটি অহেতুক অকারণ অগভীর প্রবন্ধে পর্যবসিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আজ কাল কথিত মূল ধারার অধিকাংশ রাজনৈতিক প্রবন্ধের ক্ষেত্রে যা হয় আরকিতবুও এইটুকু সময়ের মধ্যে যা দেখাজানাবোঝা (ভুল বা সঠিক) সেটা পাঠককে জানাবার সুযোগ পেলে মন্দ কি? বাকি বিচার পাঠকের উপরই ন্যস্ত থাকলো।।] (বিস্তারিত…)


atheism-1লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

নিজের মতবাদ বা স্বোপার্জিত সত্যের জন্য জীবন বরবাদ করে ফেলা জ্ঞানীগুণীদের মধ্যে সক্রাতেসের নাম সর্বাগ্রে। এদের মধ্যে যিশু জেনো গ্যালেলিও হাইপেশিয়াসহ আরো অনেকেই আছেন। আমাদের দেশে সম্প্রতি জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা বেড়েছে বা বাড়ছে এরই প্রমাণ একে একে হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার রাজিব বা হালে অভিজিত রায়ের হত্যা। সক্রাতেস প্রথাগত সমাজের সঙ্গে তর্ক করে বুঝতে চেয়েছিলেন যে, সমাজ কতটুকু পিছিয়ে আছে। আসলে সক্রাতেসের সব তর্কের পেছনেই আছে মানুষের মঙ্গল চিন্তা। প্লাতনের মাধ্যমে যেই সক্রাতেসকে আমরা বুঝি, তিনি আগাগোড়াই একজন ইন্টেলেকচুয়াল বা বিদ্বজ্জন। সব বিষয়আশয় নিয়েই তিনি চিন্তাভাবনা করেছেন। কিন্তু গতানুগতিকতার স্রোত থেকে এরপর আলাদা করেছেন নিজেকে। কিন্তু অন্যসব মানুষ সক্রাতেসের মতো চিন্তায় এগিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সক্রাতেস ক্রমাগত তাদের কাছে আলাদা হতে হতে তাদের অপরে পরিণত হন। তিনি একা হয়ে যান। তার চিন্তাজগতের আশপাশে সাধারণ মানুষ নেই। যদিও তিনি সাধারণের জন্যই চিন্তা করেছেন। এমনকি আমজনতার অধিকারের কথা ভেবে সারাজনম ব্যয় করা কার্ল মার্কসের প্রলেতারিয়েতরাও মার্কসবাদী নয়। (বিস্তারিত…)