Posts Tagged ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

১৮ আগস্ট খাগড়াছড়িতে নিহত হলেন সাত জন আদিবাসীএর আগে ১৪ আগস্ট চার জন আদিবাসীকে অপহরণেপর জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। অপহরণের প্রতিবাদে ১৮ আগস্ট ছিল ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) নেতৃত্বে সমাবেশ। ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত সংগঠনের অফিসে জড়ো হচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে একদল বন্দুকধারী তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নিহত হন ছয় জন। আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিসিপির (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) নেতা তপন চাকমা। তিনি বেশ অগ্রসর চিন্তা ধার করতেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক মহলেও আন্তরিক এ নেতা বেশ পরিচিত ছিলেন।

নিশ্চিতভাবেই এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। যা শুরু হয়েছে বহুদিন আগেই। পাহাড়ে বিদ্যমান অশান্তির মূলে রয়েছে সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে তারা পাহাড়ে অঘোষিত সেনা শাসন জারি রেখেছে। আর সেখানে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া এ হামলা যে সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। কারণ দুদফায় হামলা করেছে সন্ত্রাসী চক্র। স্বনির্ভর বাজারে বিজিবি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। তাদের সামনেই কিভাবে হামলা চালালো সন্ত্রাসীরা? বিজিবি ও পুলিশ কেন কোনো অ্যাকশন নিলো না? এ প্রশ্নগুলো পাহাড়ি জনগণ তুলছেন। প্রশ্নগুলো যৌক্তিক এবং অতীতের ধারাবাহিকতায় এটাও যে সেনা মদদপুষ্ট, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না!

তপনদের রক্ত বৃথা যাবে না

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই সেনামদদে পাহাড়িদের মধ্যে বিভক্তি ও সংঘাতের রাজনীতি চলমান রয়েছে। পাহাড়িদের মধ্যে ডিভাইড এন্ড রুল তত্ত্বের প্রয়োগ করা হয়েছেপাহাড়িদের হাতে পাহাড়িদের হত্যা করিয়ে পাহাড়ের শক্তিকে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেয়া এ নীতির উদ্দেশ্য। সম্প্রতি ইউপিডিএফের নেতৃস্থানীয় সংগঠক মিঠুন চাকমাকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১০ মাসে একের পর এক হামলাপাল্টা হামলার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ লাশের মিছিল নতুন করে ভাববার বাস্তবতা সামনে এনেছে। পাহাড়ের সংগ্রামকে সারসসংকলন না করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। প্রকৃত বন্ধু শত্রুদের সম্পর্কে নতুন করে না ভাবতে পারলে সংগ্রাম বারবার বিপর্যয়ের দিকেই ধাবিত হবে। আমরা হারাবো আন্তরিক নেতৃত্বকে। যারা প্রকৃতই পাহাড়ের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে লড়াই করতে এসেছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। মুক্তিযুদ্ধে এদেশের বাঙালি জনগণের সাথেই পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরাও অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে রাষ্ট্র তাদের কিছুই দেয়নি। জনগণের নূন্যতম মৌলিক অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, বিদেশের কর্তৃত্বহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, শোষণ মুক্তির কোনোটা পূরণ হয়নি। এখানে কখনো সোভিয়েতের, কখনো আমেরিকার আবার কখনো বা ভারতের অথবা চীনের মদদে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।

যে বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তির লড়াই করেছে, সেই দেশের কথিত স্বাধীন সরকার ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশেসকল জাতিসত্তার মানুষকে বাঙালি বানাতে চেয়েছিলেন। অন্যান্য জাতিসত্তাকে স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি। ১৯৭২ সাল থেকেই পাহাড়ে জাতিসত্তাসমূহ লড়াই চালিয়ে আসছে। পাহাড়ে বাংলাদেশের সকল সরকার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। লোগাং, লংগদু থেকে শুরু করে অসংখ্য গণহত্যা পাহাড়ে সংগঠিত হয়েছে। পাহাড়ের প্রশ্নে এদেশের শাসকশ্রেণীর সকল অংশের ভূমিকা একই রকম। পাহাড়ের জনগণ এ সমস্ত নিপীড়নের বিরোধিতা করে আসছেন ধারাবাহিকভাবে। আজ পাহাড়ে দিনেরাতে নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছেন। পাহাড়ী নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, খুন হচ্ছেন। তাদের মিটিংমিছিল, সভাসমাবেশ করার অধিকার দেয়া হচ্ছে না। কল্পনা চাকমাদের কোনো খোঁজ রাষ্ট্র দিতে পারেনি আজও। কিলোমিটার প্রতি পর পর সেনাক্যাম্প বসিয়ে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীকে সামরিক শাসনের ভেতরে রাখা হয়েছে।

বাঙালি গরীব জনগণকে পাহাড়ে পুনর্বাসন করে কৃত্রিমভাবে দাঙ্গা তৈরি করার সকল চক্রান্ত বাস্তবায়ন করে চলেছে বাঙালি ধনিকশ্রেণীর সরকারগুলো। সেটেলারদেরকে জাতিগত উসকানি দিয়ে শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনী সেখানে শক্ত সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছে। পাহাড়ীদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে সেটেলারদের বসানো হয়েছে এ প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সবের বিরুদ্ধে পাহাড়ের জনগণ বিভিন্নভাবে আন্দোলন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃত জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেননি। তারা একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে চলেছেদীর্ঘদিন ধরেঅতিসত্তর পাহাড়ের সংগ্রামকে এ বৃত্ত থেকে বের করে আনা দরকার

পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রাম চলছে, তাকে ভাতৃঘাতী সংঘাতে পরিত করতে পেরেছে শাসকশ্রেণী। তারা পাহাড়ে যেমন নব্য পাহাড়ী আমলাদালাল তৈরি করেছে। তেমনি তৈরি হয়েছে নানা রঙের বুর্জোয়া। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সন্তু লারমা। তারা পাহাড়ের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে যারা দাঁড়াতে চেয়েছিল সেই ইউপিডিএফও এখন পর্যন্ত সঠিক বিপ্লবী দিশা হাজির করতে পারেনি। বরং পাহাড়ের বিরোধী দলের মতো করে গড়ে উঠেছে। যদিও ইউপিডিএফের মধ্যেই পাহাড়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নবীন মানুষ রয়েছেন, যারা পাহাড়কে নিপীড়নমুক্ত করতে চান। তাঁদের এখন নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ ইউপিডিএফ এবং অন্যান্য সব গ্রুপই পাহাড়ের লড়াইকে পথ দেখাতে পারছে না।

আসুন, একটু লক্ষ্য করি উপরের কথাগুলো সত্য নাকি মিথ্যা! গত কয়েক বছরের কথা যদি আমরা পুনর্মূল্যায়ন করি তাহলে দেখবো পাহাড়ে শুধু পাহাড়ি জনগণই হত্যার্ষণের স্বীকার হচ্ছেন। এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। উপরন্তু পাহাড়ে নিজ জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেই সংঘাত চলছে। এখানে লাভবান হচ্ছে কে? লাভবান হচ্ছে সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনী বুর্জোয়া এবং পাহাড়ি নব্যদালাল ধনীকশ্রেণী

মাও সেতুঙ বলেছিলেন, কে শত্রু আর কে মিত্র এই বিষয়টি ঠিক করাই হচ্ছে সংগ্রামের মূল বিবেচ্য দিক।

এক্ষেত্রে পাহাড়ে শত্রু হলো সেনাবাহিনী, বাঙালি ধনিক শাসকশ্রেণী এবং পাহাড়ের নব্যদালাল বুর্জোয়াশ্রেণী। আর বন্ধু বা মিত্র কারা? পাহাড়ের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, সমতলের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণ, প্রকৃত বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠনযারা প্রকৃতই পাহাড়ের শোষণমুক্তির পক্ষে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকবে পাহাড়ের সর্বহারাশ্রেণী।

পাহাড়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানে যাদের সেটেল করা হচ্ছে তারাও মূলত শত্রু শিবিরের নয়। পাহাড়ে যেসব বাঙালিকে সেটেল করা হয়েছে, তারাও সমতলে নিপীড়িত। তারা সেনা মদদে বাধ্য হয়েই সেটেল হচ্ছেন। এদের মধ্যকার মানবিক, সবচেয়ে নিপীড়িত অংশটি সংগ্রামের শত্রু নয়। জমি দখলের প্রশ্নে প্রতিরোধ যদিও অনিবার্য। কিন্তু তারা জনগণেরই আরেকটি নিপীড়িত অংশ। তাদেরকে চোখ বন্ধ করে শত্রুর কাতারে ফেলে দেয়াটা হবে মারাত্বক ভুল। যা শাসকরা সব সময়েই চাইবে। পাহাড়ে দীর্ঘদিন আগে সেটেল হওয়া বাঙালিদের মধ্যে অনেকেই এখন লুটপাটের মধ্য দিয়ে নব্যধনীকশ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। মূলত তারাই শাসকশ্রেণীর পক্ষে উগ্রবাঙালি চেতনার প্রয়োগকারী, বিভেদ সৃষ্টিকারী। এদের বিরুদ্ধেও লড়াইয়েও নিপীড়িত বাঙালিরা মিত্রশক্তি। অর্থাৎ লড়াইটা হবে শ্রেণীর লড়াই এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না।

সারাবিশ্বেই আজ জাতিগত লড়াই সংকীর্ণ আকার ধার করেছে। উগ্রজাতীয়তাবাদ কোনো সমাধান হতে পারে না। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আরেক জাতীয়তাবাদ কখনো মুক্তি দিতে পারে না। রুশ বিপ্লব এবং চীন বিপ্লব তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে! এর পরেও আমাদের দেশের পাহাড়ি নেতৃত্ব এটা বুঝতে ব্যর্থ হলে, তা হবে হতাশাজনক। তারা এখনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। এটাকে বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে পারেননি।

বৃহত্তর লড়াইয়ে পরিণত করতে হলে অবশ্যই মাওবাদী বিপ্লবী পথ অবলম্বন করতে হবে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে প্রকৃত মিত্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

এক্ষেত্রে আমাদের শিখতে হবে ভারতের মাওবাদী পার্টির নেতৃত্বে মধ্যভারতে আদিবাসী জনগণের সংগ্রাম থেকে। তারা কিভাবে জাতিগত লড়াইকে একটি বৃহত্তর দিকে এগিয়ে নিয়েছেন, তা থেকে আমাদের ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে এবং পাহাড়েও নতুন ভিত্তিতে লড়াইকে জোড়দার করতে হবে। পাহাড়সমতলের সমগ্র নিপীড়িত জনগণ এক হয়ে এই শোষণমূলক রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে, গড়ে তুলতে হবে এক মানবিক, নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রএছাড়া শহীদ তপন চাকমাদের রক্ত বৃথা যাবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। আমাদের অবশ্যই তপন চাকমাদের আত্মত্যাগকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বৃহত্তর সংগ্রামের জন্যই প্রস্তুত হতে হবে।

পাহাড় থেকে সেনা শাসন তুলে নিতে হবে!

অবিলম্বে সেটেলার বাঙালিদের অন্যত্র সম্মানজনক পুনর্বাসন করতে হবে!

পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি থেকে আদিবাসী উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে!

জঙ্গলের অধিকার আদিবাসীদের হাতে দিতে হবে!

Advertisements

pyching-mong-11

লিখেছেন: পাইচিংমং মারমা

()

দোস্ত,

তোরা কেমন আছিস?

কেমন আছে চেঙেমেইনীহাজলংক’তাউ খ্যং? বনপাহাড় আর উপত্যকার মানুষেরা কেমন আছে?

দেশ ছেড়ে আসার আগের দিনটা ছিলো আওয়ামীলীগের জন্য ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ আর বিএনপির ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু দিবস’। শেষ দিনের মত কেনাকাটা করতে বের হয়েছি। ঢাকা শহরের যেসব রাস্তা আওয়ামী লীগের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর দখলে ছিলো সেখানে তারা মুজিবের ভাষণ আর দেশাত্মবোধক গান বাজিয়েছে লাঠিসোটা নিয়ে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নেসার আহমেদ

cht-movementপার্বত্য চট্টগ্রামে এখন সামরিকায়নের মাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গ্রামের জনগোষ্টিকে উচ্ছেদ করে সামরিক ক্যাম্প বসানোর সংবাদ আসছে। আতঙ্কে ভুগছেন তারা। জনগোষ্টি হিসাবে তাদের পরিচয় হলো তারা পাহাড়ি জাতিসত্তার মানুষ। বেড়ে গেছে সেটেলার কতৃক পাহাড়ি জাতিসত্তার মানুষের ওপর নিপীড়ন। নারী নিপীড়নের হার। যার মধ্যে ধর্ষণ অন্যতম। পাহাড়ি জাতিসত্তার শিশুরাও রেহাই পাচ্ছেন না, সেই আগ্রসন থেকে। বাড়ছে সেটেলারদের সংখ্যা। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে। আইন তার খোলস ছেড়ে বেরিয়েছি। যা নিপীড়িত পাহাড়ি জনগোষ্টি প্রশ্নে নির্বিকার। বরং ক্ষেত্র বিশেষ প্রতিবাদী পাহাড়ি নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মিঠুন চাকমা

Bir Bahadur Ushwe Sing[পড়ার আগে যা পড়তে অনুরোধ করবোবলে রাখি এই লেখাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট।গত ২৬ সেপ্টেম্বর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈচিঙ খাগড়াছড়ি এসে শিক্ষা উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদসমূহকে অনির্বাচিতদের দিয়ে পরিচালনার মাধ্যমে সেখানে প্রকাশ্যে, কোনো রাখঢাক না রেখে পাথমিক পর্যোয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে যে দুর্নীতি চলে, এতে পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার যে অতীব দুর্গতি ঘটতে শুরু করেছে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার জন্য আমার এই লেখার অবতারনা। সেই দিক বিবেচনা করে লেখাটি পাঠকগণ পড়বেন এই আশা রইল। ধন্যবাদ।]

লেখাটি লেখার সময় হেডিং কী দেবো তা নিয়ে চিন্তা করলাম কিছুক্ষণ। প্রথমে চিন্তা করলাম হেডিং দেবো এভাবে মন্ত্রীবর, ভিক্ষা ‘মাগার’ দরকার নেই, ‘কুকুর’ সামলান! কিন্তু তা যুৎসই মনে করলাম না। তারপর ভাবলাম, হেডিং দেবো এভাবে, ডিয়ার পার্বত্যমন্ত্রী, মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ দেখাবার দরকার নেই। কিন্তু ভাবলাম, এত সরাসরি ‘হিট’ করার মতো হেডিং বা শিরোনামা না দিয়ে একটু ‘মাইল্ড’ হেডিং দিই। তাই উপরের হেডিং দিলাম। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: পাইচিংমং মারমা

CHT-7মুশকিল কোষা গঞ্জে শাফা সাইফুল আদবে নেওয়াজ শাহ কলন্দর শাহ সুফি হযরত মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ চিশতী (রঃ ) একজন সুফি সাধক। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তাঁর মাজার। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তির সময় হাজার হাজার মানুষ বাসে, লড়িতে, ট্রাকে করে তাঁর ঔরসে যায়। আমিও একবার গিয়েছিলাম। সেখানে সারারাত থেকেছি। দেখলাম হাজার হাজার মানুষ কেউ শুয়ে কেউ বসে, অনেকে দল বেঁধে কেউ কেউ দলছুট হয়ে, কেউ গাঁজা খেয়ে আর কেউ ভাত খেয়ে ‘হায় সুলেমান, হেই সুলেমান’ করছে। কারো কারোর চোখ নিভু নিভু, যেন একটা ঘোর নিয়ে ঘুরছেতবু মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে তারা সোলেমান শাহের নাম নিচ্ছে দমে দমে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মিঠুন চাকমা

CHT-7পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই এলাকায়। গত ০৬ নভেম্বর এ কথা ঘোষণা দিয়ে এসেছেন দেশের সামরিক বাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল সাব্বির আহম্মেদ। (সূত্র: সিএইচটি২৪.কম)

না, তিনি পর্যটনমন্ত্রী নন এবং সম্ভবত পর্যটন সমৃদ্ধি বা উন্নয়নের দায়িত্বও তিনি পাননি। দেশে সেনাশাসন বা সামরিক শাসনও চলছে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

racist advertise of grameenphone-1

যে জাতি অপর জাতির উপর শোষননিপীড়ন চালায় তারা কখনোই প্রকৃত স্বাধীন নয়’

গ্রামীণফোন সম্প্রতি একটি প্যাকেজ চালু করেছে নাম ‘আমন্ত্রণ’। যে কোন বহুজাতিক ফোন কোম্পানি যত খুশি প্যাকেজ চালু করে করুক তাতে ১৬ কোটি মানুষের পকেটশূন্য হয়ে যাক তাতে রাষ্ট্রের যেমন কোন মাথাব্যাথ্যা নাই; আমারও নেই। কিন্তু সমস্যা হলো এই প্যাকেজটির বিক্রি বাটার জন্য বর্ণবাদী গ্রামীণফোন যে কৌশলটি নিয়েছে তা শুধু ঘৃন্যই নয়, ক্ষমার অযোগ্য। (বিস্তারিত…)

এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক সুসমাচার এবং বর্তমান ‘গণতান্ত্রিক’ রাজনৈতিক দলের অবস্থা

Posted: জুন 30, 2012 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

গণতান্ত্রিক সামরিক স্বৈরতন্ত্র...বাংলাদেশের মহান ‘গণতন্ত্রী’,বহু চমকপ্রদ কর্মের অপনায়ক, পীরবাদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের রূপকার, রাষ্ট্রধর্ম নামক অভিনব ধারণার প্রবর্তক সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ গত ২৬ জুন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তাকে আর ‘স্বৈরাচারী’ না বলার জন্য সবাইকে ‘অনুরোধ’ জানিয়েছেন। তার এই অনুরোধের বিশেষত্ব এই যে, সরকারি ক্ষমতার রক্ষণব্যূহের অভ্যন্তরে বসেই তিনি তার এই ‘সবিনয়’ বক্তব্য পেশ করেছেন। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় এই জাতীয় ‘অনুরোধ’ করার মতো অবস্থা তার ছিল না। কারাবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দর কষাকষি, মাথার ওপর ঝুলে থাকা মামলার খড়গ অপসারণ, রাষ্ট্রপতি কিংবা ক্ষমতাসীন দলের শরিক হওয়ার জন্য উপর্যুপরি আলোচনা চালানোপর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো পেরিয়ে আসবার পর নিজের এতো সাফল্যে মোহিত হয়েই এখন তার মনে হচ্ছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শরীরে লেগে থাকা কলঙ্কের শেষ পঙ্কিল ছাপটুকু মুছে ফেলা দরকার। এই কারণেই সংসদে বাজেট আলোচনার ওপর বক্তব্য প্রদান করতে গিয়ে তার এই স্বৈরাচারী প্রসঙ্গের অবতারণা। এই বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি আরো বলেছেন, তাকে স্বৈরাচারী বলা হলে তিনি নাকি ‘মনে ব্যথা’ অনুভব করেন! সরকার দলীয় অন্যান্য সংসদ সদস্যও তার এই বক্তব্যকে এই সময় সমর্থন জানান (সূত্র: bdnews24.com)

এরশাদের এই কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, এখন যদি রাজাকারকুল শিরোমণি গোলাম আজম কারাগারের প্রকোষ্ঠে বসে বলেন যে তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করলে তার বুকের বাম দিকে বিদ্যুৎ চলকের মতো কিঞ্চিৎ বেদনার উদ্ভব হয় এবং এ কারণে তাকে আর যুদ্ধাপরাধী না বলাই উচিত, তখন কী করা যাবে? সরকারি দলের লোকজন কি তার এই কথা মেনে নেবেন? নাকি গোলাম আজম এবং তার দল এখন ক্ষমতায় নেই বলে তাদের বক্তব্য এক্ষেত্রে উপেক্ষিত হবে এবং মহান ‘গণতন্ত্রী’ এরশাদ বর্তমান সরকারের শরিক হওয়ার কারণে তিনি সংসদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে এ জাতীয় বক্তব্য দিতে পারেন এবং সংসদে উপস্থিত সরকারের সংসদ সদস্যরা এ কথা মেনে নেন? (বিস্তারিত…)