Posts Tagged ‘নয়া গণতন্ত্র’


রাশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক শিক্ষা

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংস্কৃতি, সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি হলো – নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে একমাত্র সর্বহারাশ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শ; অর্থাৎ কমিউনিজমের মতাদর্শের দ্বারা। অন্য কোনো শ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শের দ্বারা এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে না। এক কথায়, নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হলো সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি।”

মাও সেতুঙ, নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

মার্ক্সবাদ হাজার হাজার সত্যের সমষ্টি, কিন্তু এগুলো সবই কেন্দ্রীভূত হয় একটিমাত্র বাক্যে – ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত’। হাজার হাজার বছর ধরে এটা বলে আসা হচ্ছিলো যে, দাবিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত, শোষণ করাটা ন্যায়সঙ্গত এবং বিদ্রোহ করা অন্যায়। এই পুরনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মার্ক্সবাদের উদ্ভবের পরই উল্টে গেলো। এটা একটা মহান অবদান। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সর্বহারাশ্রেণী এই সত্যকে শিখেছে এবং মার্ক্স এই উপসংহার টেনেছেন। আর তারপর এই সত্য থেকেই আসে প্রতিরোধ, সংগ্রাম, সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই।”

মাও সেতুঙ, স্তালিনএর ষাটতম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ইয়োনানে সর্বস্তরের জনগণের সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ থেকে (বিস্তারিত…)


mongoldhonyপ্রকাশিত হলো মঙ্গলধ্বনিসাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংখ্যা। সাম্রাজ্যবাদকে বিভিন্নজন বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ করেছেন এবারের সংখ্যায়। প্রচ্ছদ করেছেন হেলাল সম্রাট। সহযোগিতায় ছিলেন আবিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, অনুপ কুণ্ডু, আব্দুল্লাহ আলশামছ্‌ বিল্লাহ, তৌফিক খান, সুস্মিতা তাশফিন, কৌস্তভ অপু প্রমুখ। ২১ ফর্মার এই সংখ্যাটির বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০টাকা। নিম্নে এবারের সংখ্যার সম্পাদকীয়, সূচিপত্র এবং প্রাপ্তিস্থান তুলে দেওয়া হলো।

—————————————

সম্পাদকীয়

সাম্রাজ্যবাদ পূর্বের ন্যায় কেবলমাত্র অস্ত্রহাতেই কি তার উপস্থিতি, নাকি এখন সে ভিন্ন কৌশলে অভিন্ন উদ্দেশ্যে ঘরের দোরগোড়ায় উপস্থিত ফুলেল মুখোশে? আর সেই মুখোশ চিনে নিতে আমরা নিজেরাই বা কতোটা প্রস্তুত? (বিস্তারিত…)


3heads26432(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে তৃতীয় লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)


prachanda-nepal-121(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে দ্বিতীয় লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)


solidarity-maoism-gonzalo-2(মার্কসবাদলেনিনবাদ নিয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী এবং বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে কোন বিতর্ক না থাকলেও মাওবাদ নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিজমের জ্ঞান ভাণ্ডারে মাও সেতুঙএর অবদানকে মতাদর্শের পর্যায়ে নেয়া যায় কিনা, বিতর্কটা সেই বিষয়ে। অনেকেই মাওএর অবদানকে স্বীকার করেন, কিন্তু “মাওবাদ” হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাদের বক্তব্য এটা চীনের বাস্তবতায় মার্ক্সবাদের সৃজনশীল প্রয়োগ। অপরদিকে, মাওবাদএর সমর্থকদের মতে, মাও সেতুঙএর অবদান মার্কসবাদ, লেনিনবাদের মতোই মাওবাদে উন্নীত হয়েছে এবং এর বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাওবাদ সাম্যবাদী মতাদর্শকে বিকাশের এক তৃতীয় এবং নতুন স্তরে উন্নীত করেছে। এই আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের একটি মানদণ্ডের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সেটা হলো কখন একটি অবদান মতবাদে উন্নীত হয়? মাওবাদীদের বক্তব্য হলো দর্শনঅর্থনীতিরাজনীতিতে মৌলিক অবদান হলেই সেটা মতবাদ হতে পারে। নিম্নলিখিত আলোচনাতে সেটাই দেখানো হয়েছে।

এই বিতর্ক যে শুধু বাংলাদেশেই আছে তা নয়, সারা দুনিয়াজুড়ে এই বিতর্ক চলমান রয়েছে। এই বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনটি লেখা আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো। প্রথমটি পেরুর কমিউনিষ্ট পার্টি (শাইনিং পাথ)র চেয়ারম্যান অ্যাবিমেল গুজমান গনজালো লেখা; যা দলীয় দলিল হিসেবে প্রকাশিত। এটাই হলো সেই দলিল যেখানে পেরুর পার্টি সর্বপ্রথম মাও সেতুঙএর অবদান, যা মাও সেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে চর্চিত ছিল, তাকে মাওবাদ হিসেবে সূত্রায়ন করেন। দ্বিতীয় লেখাটি নেপালের কমিউনিষ্ট পার্টি সভাপতি প্রচণ্ডএর লেখা। নেপালে মাও বিতর্কের অংশ হিসেবে তিনি এই লেখাটি লিখেছিলেন। আর তৃতীয় এবং শেষ লেখাটি বাঙলাদেশের একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবি রায়হান আকবরএর লেখা। এই তিনটি লেখার বিষয়বস্তু একই। মতবাদ হিসেবে মাওবাদকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর বিপ্লবী রাজনীতির পক্ষের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এটি মঙ্গলধ্বনিতে প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। আজ প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম লেখাটি। উক্ত তিনটি লেখা আমাদের সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন নূরুর রহমান। মঙ্গলধ্বনি) (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

Arvind_Kejriwal_aam_aadmi_party_5অনলাইনে বা ফেসবুকে বন্ধুতালিকার অনেককেই দেখলাম ভারতের রাজধানী দিল্লীতে নতুন আত্মপ্রকাশ করা আম আদমি পার্টির রাজ্য সরকার গঠন করাকে কেন্দ্র করে ভীষণ রকম উল্লোসিত, কারো কারো মাঝে সেই পার্টির পক্ষে প্রচারণা চালাতেও লক্ষ্য করলাম। আর তাই এ প্রসঙ্গে দুয়েকটা কথা বলাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য। প্রথমেই দুটো প্রশ্ন করছি, আপনার কাছে, আপনাদের কাছে, সেই সাথে আমার নিজের কাছে গণতন্ত্র বলতে আমরা আদতে কি বুঝি? আর ভারতের রাষ্ট্রব্যস্থাটাই বা কেমন? (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: শাহেরীন আরাফাত

প্রাককথন

কমরেড কিষানজী

সন্দেহাতীতভাবে ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান দুই নম্বরে (এই তালিকার ১ নম্বর নাম কমরেড গণপতি), তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’এর পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান কমরেড মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে ‘প্রহলাদ, ওরফে বিমল, ওরফে রামজী, ওরফে ‘কিষানজী’ ()। তাঁর বেড়ে উঠা অন্ধ্রপ্রদেশে গান্ধী ও রবি ঠাকুরের বই পড়ে। কিন্তু বিশ্বের মুক্তির ইতিহাস অধ্যয়ন ও অনুধাবন করার পর এক পর্যায়ে তিনি বিপ্লবাকাঙ্খায় অরণ্যে আত্মগোপন করেন। তাঁর জন্ম ১৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেদপল্লী গ্রামে (উঃ তেলেঙ্গনা)। ১৯৮০ সালে কান্দাপালি সিথামাইয়াহ নামের এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে “পিপলস্ ওয়ার গ্রুপ” (পিডব্লিউজি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার অন্যতম সহযোগী ছিলেন কিষানজী। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ‘পিডব্লিউজি’ এবং ‘মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার অব ইন্ডিয়া’ একীভুত হয়ে গঠিত হয় ‘সিপিআই (মাওবাদী)’। ১৯৮২ সালে সার্চ অপারেশন চলার সময়ে পুলিশ তাঁর পেদপল্লী গ্রামের বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। তিনি আত্মগোপনে চলে যান, এরপরে আর মায়ের সাথে দেখা করতে আসেননি; তবে তেলেগু পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তাঁর মা’কে লিখতেন। কিষানজী’র স্ত্রী সুজাতাও মাওবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তিনি দান্তেওয়াড়া এলাকার মাওবাদী কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়’এর নক্সাল এলাকায় ২০ বছর জড়িত থাকার পর তাকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লালগড় পুলিশ ক্যাম্প থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিষানজী’র একটি গুপ্ত আশ্রয়স্থল থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী (র’, সিআরপিএফ, বিএসএফ, পুলিশ, সেনাবাহিনী) তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার মূলে ছিল জনগণের সাথে তাঁর একাত্মতা। তিনি প্রতিদিন ১৫টি সংবাদপত্র পড়তেন, সেই সাথে তার পার্টির প্রকাশনাগুলোর সাথে যুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলের সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সামরিক শাখার প্রধান। মুখের ছবি তুলতে না দিলেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে মন খুলেই কথা বলতেন। ৩৭ বছর যাবৎ একই মতাদর্শে অটুট থেকে নিপীড়িতদের মুক্তির সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যান এই বিপ্লবী।

২৪ নভেম্বর ২০১১ ছিল এক শোকের দিন, সেদিন ‘ভুয়া সংঘর্ষ’ (ফেক এনকাউন্টার) দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক সিআরপিএফ দ্বারা হত্যা করা হয় কমরেড কিষানজী’কে। বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া চলছিল মাওবাদীদের সাথে। ২৩ তারিখে কিষানজী এমনই এক গোপন সভায় হাজির হলে তাকে ধোঁকা দিয়ে আটক করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করার পর ২৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে এক ভুয়া এনকাউন্টারের নাটক সাজানো হয়।

ধিক্কার জানাই ভারত রাষ্ট্রকে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য

শহীদ কমরেড কিষানজী’র প্রতি রইলো আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কিষানজী শুধু কোন একক ব্যক্তি নন; তিনি এমনই এক সত্তা, যা বিদ্যমান সকল মুক্তিকামী মানুষের মাঝে। তাই কিষানজী’দের মৃত্যু নাই, তারা চিরঞ্জীব। তিনি বেঁচে থাকবেন, গণমানুষের মুক্তির নেশায়, লড়াইসংগ্রামে।

লাল সালাম, কমরেড….. (বিস্তারিত…)