Posts Tagged ‘দিনমজুর’


লিখেছেন: দিনমজুর (ব্লগার)

btrc_logo-বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটরদের কাস্টমার প্রতি মাসিক আয় ভারতের তুলনায় দেড়গুণ এবং টেলিডেনসিটি ভারতের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম (অর্থাৎ ভবিষ্যৎ বিকাশের সুযোগ বাংলাদেশে বেশি) হওয়া স্বত্ত্বেও থ্রিজি তরঙ্গ নিলামের বেলায় ভারতের এক তৃতীয়াংশ ভিত্তি মূল্য ধরে আগামী বছরের মধ্য জানুয়ারিতে থ্রিজি তরঙ্গের নিলাম ডাকতে যাচ্ছে বাংলাদেশ যার ফলে বাংলাদেশের অন্তত ২৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে!

টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত তরঙ্গ বা স্পেকট্রামকে আন্তর্জাতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সীমিত জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যার অর্থনৈতিক মূল্য অপরিসীম। ফলে তেলগ্যাসকয়লার মতোই এই জাতীয় সম্পদ নিয়েও চলে বহুজাতিক ও দালালদের লুটপাটের খেলা। (বিস্তারিত…)


লঞ্চ দুর্ঘটনা না খুন :: একটি অবাস্তবায়িত তদন্ত রিপোর্টের আলোকে মেঘনার লঞ্চ ডুবি নিয়ে কিছু প্রশ্ন

লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যারইনব্লগ)

প্রায় বছর খানেক আগে ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল ভৈরবসাচনাসুনামগঞ্জ রুটে চলাচলরত এমভি বিপাশা নামক একটি লঞ্চ ভৈরব হতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে সাচনা যাবার পথে মেঘনা নদীতে অন্য একটি নিমজ্জিত কার্গো জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়, প্রাণ যায় ৩৩ জন যাত্রীর। এই ঘটনার পর যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত রিপোর্টে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও তার প্রতিকারের জন্য অনেকগুলো সুপারিশও করা হয়। গত তিরিশ বছরে এরকম ৬শ’রও বেশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যেগুলো আলোর মুখ দেখেনি বা দেখলেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

গত সোমবার রাতে মেঘনা নদীতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী এমভি শরীয়তপুর১ নামক লঞ্চটি যদিও নিমজ্জিত কার্গো জাহাজের সাথে ধাক্কার বদলে চলমান একটি কার্গোর জাহাজের ধাক্কায় ৭০ফুট পানির নীচে ডুবে যায়, আমরা মনে করি, এমভি বিপাশা’র তদন্ত রিপোর্টটিতে ধাক্কা লেগে লঞ্চ ডুবে যাওয়া বিষয়ে যে কারিগরী ও ব্যাবস্থাপনাগত ত্রুটির কথা এসেছে, তার বেশির ভাগই এবারের ’দুর্ঘটনা’র ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। সমস্যা চিহ্নিত করার পরও যদি সেই সমস্যার সমাধান না করা হয় এবং তার ফলে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষের মৃত্যু হয় তখন সেটাকে আর দুর্ঘটনা বলা যায়না, তখন সে ঘটনা হয়ে যায় হত্যাকান্ড। এই আলোচনার মাধ্যমে প্রশ্ন তুলতে চাই, আর কিছু না হোক, অন্তত: এক বছর আগের এমভি বিপাশার ডুবে যাওয়া বিষয়ক তদন্ত রিপোর্ট যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে কি এমভি শরীয়তপুর১ লঞ্চটির সাথে রাত্রীকালে কোন কার্গো জাহাজের সাথে সংঘর্ষ হতো? সংঘর্ষ হলেও কি লঞ্চটি ডুবতো? কোন কারণে লঞ্চটি ডুবলেও কি এত যাত্রী খুন হতো? (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

সীমান্ত হত্যার প্রসংগ উঠলেই এতদিন বিএসএফ বলতো “আত্মরক্ষার জন্য” তারা “বাধ্য হয়ে” গুলি চালায়। এখন নিরস্ত্র বাংলারদেশী নাগরিকদের হত্যার ঘটনা উদঘাটিত, এমনকি নিরস্ত্র বাংলাদেশী নাগরিককে নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ফাস হওয়ার পর বিএসএফ প্রধান ইউ কে বনশল বলছে সীমান্তে যতক্ষণ “অপরাধমূলক কর্মকান্ড” চলবে ততক্ষণ বিএসএফ গুলি চালাবে। তথাকথিত বন্ধুত্বের নামে ভারতের সাথে বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠীর নতজানু আচরণের ফলাফল হলো বিএসএফ এখন “আত্মরক্ষার্থে গুলি করিতে বাধ্য হইয়াছি” জাতীয় অযুহাত দেয়ারও প্রয়োজন মনে করছে না, পরিষ্কার ঔদ্ধত্যের সাথে জানিয়ে দিচ্ছে কথিত অপরাধ দমনের নামে গুলি বা অন্য যে কোন উপায়ে তারা খুন করছে এবং করতেই থাকবে । প্রশ্ন হলো, বিএসএফ কে এই খুনের লাইসেন্স কে দিল? বিএসএফ কি নিজেই এখন আদালত যে কথিত অপরাধ দেখলেই তারা তাৎক্ষণিক আদালত বসিয়ে মৃত্যুদন্ড দিয়ে দিতে পারে? ভারতের আইন এবং আন্তর্জাতিক আইন এ বিষয়ে কি বলে? আর কথিত অপরাধমূলক কর্মকান্ডই বা কি আর এর জন্য দায়ী কে বা কারা এবং এর ফলে লাভবানই বা কে বা কারা সে বিষয়গুলোও একটু বিবেচনা করা দরকার।

গরু চোরাচালানের অর্থনীতি

ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে প্রতিদিন বৈধ বাণিজ্যের সমপরিমাণ বা তারও বেশি পরিমাণে ফেন্সিডিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভারতীয় ভোগ্য পণ্যের কোটি কোটি টাকার চোরাচালান হলেও “অবৈধ কর্মকান্ড” বলতে মূলত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে চোরাচালানের কথাই বলা হয়েছে কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় খুন হয়ে যাওয়া ব্যাক্তি ভারত থেকে গরু পাচার করার সময়ই বিএসএফ এর হাতে খুন হয়। বিএসএফ প্রতিবার সীমান্ত হত্যাকান্ড ঘটানোর পর নিহত বাংলাদেশী নাগরিককে গরু চোরাচালানী বলে অভিহিত করে যেন কেউ গরু চোরাচালান করলেই তাকে দেখা মাত্রই গুলি করা জায়েজ হয়ে যায়! প্রশ্ন হলো নিহত ব্যাক্তি যদি গরুচোরাচালান করেই থাকে, তাহলে সে কি চোরাচালান একাই করেছে? অন্য সব পণ্য চোরচালানের মতোই গরু চোরাচালান একটি যৌথকর্ম যার সাথে ভারতীয় বিক্রেতা এবং বাংলাদেশী ক্রেতা উভয় পক্ষই যুক্ত, বাজার অর্থনীতির নিয়মে উভয় পক্ষ লাভবান হলেই কেবল কোন বাণিজ্যিক লেনদেন করা সম্ভব তা বৈধ হোক আর অবৈধই হোক। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

ভারতের একটি খবর

গত ৮ অক্টোবর ২০১০ তারিখে ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়, শিরোনাম: “মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসি’র কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল”। খবরে বলা হয়: জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষিজমির উপর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রহন যোগ্য হতে পারে না বলে ভারতের কেন্দ্রিয় গ্রীন প্যানেল মধ্যপ্রদেশে ন্যাশনাল থারমার পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এর ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। ভারতের সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি নরসিঙ্গপুর জেলার ঝিকলি ও তুমরা গ্রামের ১০০০ একর জমির উপর একটি ২X৬৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্ট এপ্রাইজাল কমিটি (ইএসি)’র এক সভায় বলা হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত স্থানটি মূলত কৃষিজমি প্রধান এবং এ বিষয়ে প্রকল্পের স্বপক্ষের লোকদের দেয়া তথ্য যথেষ্ট নয়। বলা হয়, “এই স্থানটির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে দো’ফসলি কৃষি জমি, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কমিটি আরো মনে করে, গাদারওয়ারা শহরের এত কাছে এরকম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাঙ্খিত নয়। তাছাড়া, নরমদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য ৩২ কিউসেক পানি টেনে নেওয়াটাও বাস্তবসম্মত নয় যেহেতু রাজ্য সরকার ইতোমধ্যেই আরো অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই নদীর পানি বরাদ্দ দিয়ে বসে আছে।

সূত্র: NTPC’s coal-based project in MP turned down

বাংলাদেশের খবর

বাংলাদেশ ভারত জয়েন্ট ভেঞ্চারে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের (X৬৬০) একটি বিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মান পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে আজ ২৯ জানুয়ারি ২০১২। বিদ্যুতের দাম, কয়লার উৎস নির্ধারণ না করেই এবং কৃষি জমি নষ্ট ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ক আপত্তি উপেক্ষা করেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। রামপাল উপজেলার সাপমারি, কাটাখালি ও কৈগরদাসকাঠি মৌজায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১,৮৩৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: Indo-Bangla power deal today

কোথা থেকে কয়লা আসবে বিদ্যুৎ এর দাম কত হবে অনিশ্চিত

সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার দাবি

  (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অদক্ষ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে কিচ্ছু হবে না বলে যারা বিদেশী কোম্পানিকে ডেকে আনার অযুহাত তৈরী করে, তারাই এখন উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতার দোহাই দিয়ে আরেকটি দেশের রাষ্ট্রীয় গ্যাস উত্তোলণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বিগুণেরও বেশি খরচে স্থলভাগের ১০টি গ্যাস কুপ খনন করার চুক্তি করছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করে। যেন কেবল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমই পারে কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স পারে না এবং কোন দিন পারবেও না! দেশের গ্যাস সম্পদ বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অজুহাত হিসেবে বারবার পুঁজি ও প্রযুক্তির অভাবের কথা বলা হয়, অথচ রাশিয়ার গ্যাজপ্রমকে স্থলভাগে ১০টি গ্যাস কুপ খননের কন্ট্রাক্ট দেয়ার যে সিদ্ধান্ত গত ২১ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি পাশ করেছে, সেই কাজ বাপেক্স শুধু যে দক্ষতার সাথে করতে পারে তা নয়, গ্যাজপ্রমের দাবী করা অর্থের অর্ধেকেরও কম খরচে সম্পন্ন করতে পারে যা সালদা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জ, শাহবাজপুর, সুন্দলপুর, সেমুতাং ইত্যাদি গ্যাস কুপ খননের মাধ্যমে বাপেক্স ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আগামী ০৯ জানুয়ারি ২০১২ গ্যাজপ্রমের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। (সূত্র: ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ২৮ ডিসেম্বর ২০১১)

বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল গ্যাসের ৮.% সরবরাহকারী রাশিয়ার এই জায়ান্ট কোম্পানিটি ঘুষদুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, চুক্তি ভঙ্গ, চুক্তির বাইরে বাড়তি অর্থ দাবী করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি নানা কারণে কুখ্যাত, যাকে গত ২০১১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও রেভিনিউ ওয়াচ ইন্সিটিউট তাদের যৌথ জরীপে বিশ্বের সবচেয়ে অস্বচ্ছ কোম্পানি হিসেবে নির্বাচিত করেছে !

এই কুখ্যাত মাফিয়া কোম্পানির হাতে বিশেষ জ্বালানি আইন এর দায়মুক্তির সুযোগে বিনা টেন্ডারে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয়ে ১০টি কুপ খননের কন্ট্রাক্ট দিয়ে এবং ভবিষ্যতে পেট্রোবাংলার সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার ও জ্বালানি সেক্টরের মাষ্টার প্ল্যান তৈরী করার দ্বায়িত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বস্তুত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে নতুন আরেকটি ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। (বিস্তারিত…)