Posts Tagged ‘জ্বালানী’


লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

sundarbansবাংলাদেশে সম্প্রতি দুইটা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন’ (এনটিপিসি), ও জাপানি বহুজাতিক জাইকা যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটা বাঘেরহাট জেলা তথা সুন্দরবনের রামপাল এলাকায়। এটা করছে ভারতের এনটিপিসি কোম্পানি। অন্যটা করা হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালির মাতারবাড়ি ইউনিয়নে। এটা করছে জাপানি বহুজাতিক কোম্পানি জাইকা। আপাতচোখে দেশে কোনো একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মনে হয় দেশের উন্নতি হচ্ছে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

ভারতের একটি খবর

গত ৮ অক্টোবর ২০১০ তারিখে ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়, শিরোনাম: “মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসি’র কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল”। খবরে বলা হয়: জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষিজমির উপর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রহন যোগ্য হতে পারে না বলে ভারতের কেন্দ্রিয় গ্রীন প্যানেল মধ্যপ্রদেশে ন্যাশনাল থারমার পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এর ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। ভারতের সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি নরসিঙ্গপুর জেলার ঝিকলি ও তুমরা গ্রামের ১০০০ একর জমির উপর একটি ২X৬৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্ট এপ্রাইজাল কমিটি (ইএসি)’র এক সভায় বলা হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত স্থানটি মূলত কৃষিজমি প্রধান এবং এ বিষয়ে প্রকল্পের স্বপক্ষের লোকদের দেয়া তথ্য যথেষ্ট নয়। বলা হয়, “এই স্থানটির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে দো’ফসলি কৃষি জমি, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

কমিটি আরো মনে করে, গাদারওয়ারা শহরের এত কাছে এরকম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাঙ্খিত নয়। তাছাড়া, নরমদা নদী থেকে প্রকল্পের জন্য ৩২ কিউসেক পানি টেনে নেওয়াটাও বাস্তবসম্মত নয় যেহেতু রাজ্য সরকার ইতোমধ্যেই আরো অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই নদীর পানি বরাদ্দ দিয়ে বসে আছে।

সূত্র: NTPC’s coal-based project in MP turned down

বাংলাদেশের খবর

বাংলাদেশ ভারত জয়েন্ট ভেঞ্চারে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের (X৬৬০) একটি বিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ণ বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মান পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে আজ ২৯ জানুয়ারি ২০১২। বিদ্যুতের দাম, কয়লার উৎস নির্ধারণ না করেই এবং কৃষি জমি নষ্ট ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ক আপত্তি উপেক্ষা করেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। রামপাল উপজেলার সাপমারি, কাটাখালি ও কৈগরদাসকাঠি মৌজায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১,৮৩৪ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: Indo-Bangla power deal today

কোথা থেকে কয়লা আসবে বিদ্যুৎ এর দাম কত হবে অনিশ্চিত

সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার দাবি

  (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ব্লগার “দিনমজুর” (সামহোয়্যার ইন ব্লগ)

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অদক্ষ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে কিচ্ছু হবে না বলে যারা বিদেশী কোম্পানিকে ডেকে আনার অযুহাত তৈরী করে, তারাই এখন উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতার দোহাই দিয়ে আরেকটি দেশের রাষ্ট্রীয় গ্যাস উত্তোলণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বিগুণেরও বেশি খরচে স্থলভাগের ১০টি গ্যাস কুপ খনন করার চুক্তি করছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করে। যেন কেবল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমই পারে কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স পারে না এবং কোন দিন পারবেও না! দেশের গ্যাস সম্পদ বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার অজুহাত হিসেবে বারবার পুঁজি ও প্রযুক্তির অভাবের কথা বলা হয়, অথচ রাশিয়ার গ্যাজপ্রমকে স্থলভাগে ১০টি গ্যাস কুপ খননের কন্ট্রাক্ট দেয়ার যে সিদ্ধান্ত গত ২১ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি পাশ করেছে, সেই কাজ বাপেক্স শুধু যে দক্ষতার সাথে করতে পারে তা নয়, গ্যাজপ্রমের দাবী করা অর্থের অর্ধেকেরও কম খরচে সম্পন্ন করতে পারে যা সালদা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জ, শাহবাজপুর, সুন্দলপুর, সেমুতাং ইত্যাদি গ্যাস কুপ খননের মাধ্যমে বাপেক্স ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আগামী ০৯ জানুয়ারি ২০১২ গ্যাজপ্রমের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার পর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। (সূত্র: ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ২৮ ডিসেম্বর ২০১১)

বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল গ্যাসের ৮.% সরবরাহকারী রাশিয়ার এই জায়ান্ট কোম্পানিটি ঘুষদুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, চুক্তি ভঙ্গ, চুক্তির বাইরে বাড়তি অর্থ দাবী করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি নানা কারণে কুখ্যাত, যাকে গত ২০১১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও রেভিনিউ ওয়াচ ইন্সিটিউট তাদের যৌথ জরীপে বিশ্বের সবচেয়ে অস্বচ্ছ কোম্পানি হিসেবে নির্বাচিত করেছে !

এই কুখ্যাত মাফিয়া কোম্পানির হাতে বিশেষ জ্বালানি আইন এর দায়মুক্তির সুযোগে বিনা টেন্ডারে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয়ে ১০টি কুপ খননের কন্ট্রাক্ট দিয়ে এবং ভবিষ্যতে পেট্রোবাংলার সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার ও জ্বালানি সেক্টরের মাষ্টার প্ল্যান তৈরী করার দ্বায়িত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বস্তুত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে নতুন আরেকটি ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি করা হচ্ছে। (বিস্তারিত…)