Posts Tagged ‘জাতিরাষ্ট্র’


বাংলাদেশ পরিস্থিতি নয়া উদারবাদী যুগে শাসনপ্রনালী ও কথকতা” নামের প্রকাশিতব্য সংকলনের প্রবন্ধ

লিখেছেন: বখতিয়ার আহমেদ

book-cover-1[সংকলকের ভূমিকা: আমাদের সমাজে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নানান অভিঘাতকে নির্মোহ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করে থাকেন বখতিয়ার আহমেদ। রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক যে গরীব কৃষকশ্রমিকের টাকায় যে জ্ঞানচর্চা করেন; তা একটিবারের জন্যও ভুলে যান না। সমাজে ক্ষমতাশালী কোনো অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন না তিনি। করেন না বলেই রাষ্ট্রআইনকানুননিও লিবারাল বাজারের আধিপত্যকে নৃবৈজ্ঞানিক অবস্থান থেকে নির্মোহ বিশ্লেষণ করতে পারেন তিনি।

বখতিয়ার আহমেদের কাছে প্রথমে লেখা চেয়েছিলাম এই সঙ্কলনের জন্য। পরে সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং কাজের ব্যাপারে তার পারফেকশান আর ধীর গতির (দুটোই আমার কাছে ইতিবাচক। সেকারণেই তিনি যা বলেন/লেখেন তা জরুরি হয়ে ওঠে। হুটহাট বলেন না বলেই।) কথা মাথায় রেখে ফন্দি আঁটি কোনোভাবে একটি বক্তৃতা করিয়ে নেয়া যায় কিনা তাঁকে দিয়ে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস

Posted: ফেব্রুয়ারি 20, 2012 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস এবং ভাষার আধুনিক টার্মোলজি :: রাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদ

লিখেছেন: মালবিকা টুডু

মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা; তবে ভৌগোলিক অবস্থান, কাল ভেদে তা পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগেও ভাষার উন্মেষ ঘটেছিল, আবার হাজার বছর পরেও ভাষা থাকবে; তবে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়, সেই সাথে পরিবর্তন আসে সাহিত্যসংস্কৃতি, জীবন আচারেও। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যেখানেই মানুষ আছে, সেখানেই ভাষা আছে; আদিম ভাষা বলে কিছু নেই, সব মনুষ্য ভাষাই সমান জটিল এবং মহাবিশ্বের যেকোন ধারণা প্রকাশে সমভাবে সক্ষম; যেকোন ভাষার শব্দভাণ্ডারকে নতুন ধারণা প্রকাশের সুবিধার্থে যৌক্তিক উপায়ে নতুন শব্দ গ্রহণ করিয়ে সমৃদ্ধ করা সম্ভব; সব ভাষাই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয; মানুষের ভাষায় ভাষায় যে পার্থক্য, তার কোন জৈবিক কারণ নেই; যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক মানব সন্তান পৃথিবীর যেকোন ভৌগলিক, সামাজিক, জাতিগত বা অর্থনৈতিক পরিবেশে যেকোন ভাষা শিখতে সক্ষম।

ভাষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার সৃষ্টিশীলতা; ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে জাতি, এমনকি জাতিরাষ্ট্র; উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র’র কথাই বলা চলে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র ভাষাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে; পরবর্তীতে এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। তবে এই আন্দোলনের বীজ বোনা হয় ১৯৪৭ সালে, যখন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়াউদ্দীন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করেন। ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে, সেখানে তিনি লেখেন– “কংগ্রেসের নির্দিষ্ট হিন্দীর অনুকরণে উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গণ্য হইলে তাহা শুধু পাশ্চাদগমনই হইবে।…….. বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে।” দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা, বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে যে বিশাল পার্থক্য ছিল, সেই পার্থক্যকে শাসকশ্রেণী কখনোই লঘু করার চেষ্টাটুকুও করেনি তাদের শ্রেণী চরিত্রের কারণেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সত্যজিত দত্ত পুরকায়স্থ

.

ভাষা একটি পুর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থার ছবি। আমাদের প্রতিনিয়ত শিক্ষন বা সামাজিক জীব হিসাবে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সম্পাদনের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভাষা। ভাষার যথাযথ প্রকাশ মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে তুলেছে। ভাষা শুধু যে সংস্কৃতির বাহন তাই নয়, ভাষা নতুন সংস্কৃতির জন্মও দিতে পারে। বাংলাদেশ তার সবচে’ বড় উদাহরণ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রদর্শিত পথ ধরেই বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের জন্ম রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চিন্তার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো একটি ভাষাভিত্তিক জাতি হিসাবে আমরা আমাদের ভূখন্ডের অভ্যন্তরে কোন ভাষা বিলুপ্তির দায় নিবো কি না। আমাদের উন্নাসিকতা, বিশ্বায়নের প্রভাব যাই বলিনা কেন বাস্তবতা হলো আমাদের দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠির মাতৃভাষার অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখিন। মাতৃভাষার অভাববোধ থেকে ব্যক্তির মধ্যে পরিচিতি সংকট দেখা দিতে পারে। আফ্রিকা মহাদেশে চলমান সংঘাতের জন্য অনেকেই তাদের মাতৃভাষার বিলুপ্তিকে দায়ী করে থাকেন।

.

ইউনেস্কোর মাতৃভাষা দিবসের ঘোষণার মূল বক্তব্যই হলো ভাষার বহুত্ব, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও ভিন্নতাকে সংরক্ষণ করা। অর্থাৎ যত ক্ষুদ্রই হোক তা বিলুপ্ত হতে দেয়া যাবে না। ইউনিস্কোর মতে বিশ্বে ভাষার সংখ্যা ৬৯১২টি, যার মধ্যে প্রতি ১৪ দিনে একটি করে বিপন্ন ভাষার মৃত্যু ঘটছে। ভাষার বিপন্নতা পরিমাপ করা হয় যদি কোন ভাষার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০০০০ এর নিচে নেমে যায়। আবার সংখ্যাটি ৫০০০০ এর বেশী হলেও যদি শিশুকিশোরের সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম হয় তাহলে সে ভাষা বাঁচিয়ে রাখা দুরুহ। (বিস্তারিত…)