Posts Tagged ‘ছোট গল্প’


মূল: অ্যালান এডগার

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

আমি সেই সময়টায় জনবসতি থেকে বহুদূর স্কটিশ হাইল্যান্ডের কেয়ার্নগর্ম পাহাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। দেখলাম একদল মানুষরূপী প্রাণী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম ওরা ভিন গ্রহের। ওদের প্রত্যেকেরই কান স্টার ট্রেকের মি. স্পকের মতো খাড়া খাড়া। ওরা যখন আমার সামনে এসে পড়ল, তখন তাদের একজন বলে উঠল, “শুভেচ্ছা, আর্থলিং!” পৃথিবীর বাসিন্দাদেরকে ওরা ‘আর্থলিং’ বলে। আরেকটা বিষয় হলো, কোনো সাধারণ মানুষ তাদের মতো করে কথা বলে না। “আমরা মহাকাশ থেকে তোমাদের জন্য অভিবাদন নিয়ে এসেছি!’’ সৌভাগ্যবশত আমি প্রতিটি কথাই বুঝতে পারলাম, কারণ পৃথবীতে যে ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা হয়, তারা তার একটা ভাষাই শিখেছে আর সেটাই আমি জানি। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: জাকারিয়া হোসাইন অনিমেষ

petrol-bombসকাল ০৬ টা, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা। প্রচন্ড শীতে গায়ের চাদরটিকে ভালোমত গায়ে জড়িয়ে ধোলাইপাড় মুখি রাস্তায় হাটা ধরল জসীম। রাস্তার উপর একরাশ কুয়াশা হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। মাঝে মঝে দুএকটা বাস বেপরোয়া গতিতে হাওয়ায় শব্দ তুলে জসীমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। শীতের মধ্যে এত সকালে রাস্তায় নামার কোনো ইচ্ছাই তার ছিলো না। কিন্তু উপায় নাই। হাটতে হাটতে ধোলাইপাড় এসে পৌছাল সে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

art-45ওরা দুজন মুখোমুখি বসে আছে। বহুদিন পর আজ দেখা হলো দুজনের। ঠিক এই দিনটার জন্য ওরা অপেক্ষা করে ছিল এতদিন। ওরা পার্কের যে কোনটাতে বসে আছে সেখানটা খুব নির্জন। ওদের দুজনেরই এই নির্জনতাটার খুব দরকার ছিল। ওদের মুখে কোন কথা নেই। মনের ভেতর অনেক কথা জমে থাকলে কি এরকম হয়? হবে হয়তবা। একটাা নিরেট জড়তা ওদেরকে ঘিরে ধরেছে। থাক জড়তা, তবু তো পাশাপাশি বসে আছে ওরা। এটাই কি অনেক বড় নয়? হ্যা, ওদের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার, অন্তত এতদিন পর। ওদের সামনে একটা আধমরা দীঘি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: ধ্রুবনীল

image-2-মিজান ঝর্নার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে। হাতে লম্বা একটা বেতের লাঠি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো ঝর্নার একশোটি বেত্রাঘাত এই লাঠি দিয়েই করা হবে। আর সেটি করবে এই মাঝ বয়সী লোকটা মিজান। মিজানের বউটা মরেছে বছর খানেক আগে। জগত সংসারে তার আপন বলতে যা কিছু আছে সব ঐ বিচারকার্যের মাঝখানে বসা মুজিব কোট পরিহিত মেম্বার সাহেব। মায়া মহব্বত বলতে ওর মাঝে কিছুই নেই। চোখের সামনে হারিয়েছে সব আপনজনকে। লোকে বলে ওর বউটা নাকি গলায় দরি দিয়ে মরেছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

art works-18বাড়ির চারপাশ এখন ফাঁকা। কদিন আগেও চারদিকে গাছগাছালিতে ভরা ছিল। রাজ্জাকের চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করতেই গাছগাছালি সব বিক্রি করা হয়েছে। মৃত্যুশয্যায় শুয়েও রাজ্জাক ভীষন প্রতিবাদ করেছিলো, গাছগুলো যেন বিক্রি করা না হয়। কিন্তু তার প্রতিবাদ শোনবার মত অবস্থা ছিল না তখন তার হতদরিদ্র পরিবারের। তার চিকিৎসার টাকা জোগাতে শেষমেশ ওই গাছগুলোই বিক্রি করতে হলো। রাজ্জাকের ছোট টিনশেডের বাড়িটা এখন কেমন যেন শ্বশানের মত লাগছে। গাছ বিক্রির টাকায় ডাক্তারের কথামত তার সিটিস্কান করা হলো। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

image-2-এখন থেকে মাত্র পাচঁ মিনিট আগে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধান্ত নিই। এই সিন্ধান্তটা আজ অথবা কাল আমাকে নিতে হবে আমি জানতাম। অবশ্যই নিতে হবে। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে আমি অবাক হচ্ছি, ঠিক যখন থেকে আমি সাহস করে সিন্ধান্তটা নিতে পারলাম তখন থেকে সবকিছু আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে। খুব অবাক লাগছে। আমার মধ্যে যে অবর্ননীয় যন্ত্রনাগুলো জট পাকিয়ে ছিল সেগুলো যেন সব বেমালুম কোথায় গায়েব হয়ে গেছে। এবং সব থেকে আশ্চর্য ব্যাপার আমি মনখুলে হাসতে পেরেছি। (বিস্তারিত…)


মূল: চিনুয়া আচেবে

অনুবাদ: মেহেদী হাসান

একদিন পড়ন্ত বিকেলে লাগস শহরের ১৬ নম্বর কানসাঙ্গা রোডের বাসায় ন্যানে তার প্রেমিক নাঈমেকে কে জিজ্ঞেস করে, “তুমি তোমার বাবার কাছে এখন পর্যন্ত চিঠি লেখনি?”

না, এই বিষয়টাই আমার ভাবনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ভাবছি ছুটির সময় বাড়িতে গিয়ে বললেই বোধ হয় ভালো হবে।”

কিন্তু কেন? তোমার ছুটির তো এখনও অনেক দেরীপুরো ছয় সপ্তাহ। তাহলে সে আমাদের শুভ সংবাদের কথা জানতে পেরে সুখী বোধ করবে কিভাবে।” (বিস্তারিত…)


মূল: চিনুয়া আচেবে

অনুবাদ: মেহেদী হাসান

অনেকটা হঠাৎ করেই প্রত্যাশিত সময়ের বেশ আগেই মাইকেল অবির স্বপ্নটা যেন পূরণ হয়ে গেল। ১৯৪৯ সালের জানুয়ারীতেই সে নিযুক্ত হল নদুম সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। এটা সবসময় ছিল অন্যান্য স্কুল থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া, ঠিক এ কারণেই মিশন কর্তৃপক্ষ মাইকেল অবির মত প্রানবাণ টগবগে তরুন এবং সক্রিয় একজনকে সেখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অবি বেশ উৎফুল্লতার সাথেই তার উপর অর্পিত দায়িত্ব লুফে নেয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

art works-5শীতের বিষণ্ন দুপুরভরপেট খেয়ে আরামের ঘুম দিয়েছে রাসেল। গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সমস্ত শরীরটা একটা পুরু কম্বলে ঢাকা। দরজাজানালা সব এঁটে বন্ধ করে দেয়াপুরো ঘর জুড়ে যেন কবরের ঘন নিস্তব্দতা। রাসেল ঘুমের অতলে ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুখ স্বপ্নে, স্বপ্ন প্রাঙ্গনের এক কোনায় হঠাৎ সে দেখতে পেল দুইজন লোক নিজেদের ভেতর কি একটা রহস্যজনক বিষয় নিয়ে যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদের এই ফিসফিস শব্দ শুনে কোথা থেকে যেন আরেকজন লোক এসে যোগ দিল। ফিসফিসানির শব্দ ধীরে ধীরে গুঞ্জনে পরিণত হতে থাকে। তারপর দুই দিক থেকে দুইজন, এপাশ থেকে তিনজন, ওপাশ থেকে আরো চারজনএভাবে আস্তে আস্তে চতুর্দিক থেকে অনেক মানুষ এসে জড়ো হতে লাগল। মানুষের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউয়ের মত গর্জন করতে করতে দল বেঁধে আসছে সবাই। গুঞ্জন বাড়তে বাড়তে কোলাহলে পরিনত হয়ে স্বপ্নের ক্ষুদ্র সীমা অতিক্রম করে বৃহৎ বাস্তবের উঠানে এসে পড়ল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

অনিমাদের ঘুম ভাঙ্গে আরো একটা দিন নিষ্পেশিত হতে এই নষ্ট সমাজে...দম আটকে আসার যোগাড় হচ্ছে অনিমার।

প্রচন্ড গরম পড়েছে এবার। বৃষ্টির কোন নাম গন্ধও নেই। প্রতিদিন ১৫ ঘন্টা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হেঁটে যাবার সময় গাছের একটা পাতাও নড়তে দেখেনা সে। মাস্তান, পুলিশের ইশারা – ইঙ্গিতে রাস্তার একটা ধুলোকনাও তার সহমর্মী হয়না। তার উপর চারপাশ আরো গুমোট, দম পর্যন্ত ফেলার উপায় থাকেনা।

এমন অবস্থায় শেষ ২০ মিনিট ধরে তার উপর বিশালাকায় একটা শরীর উঠে আছে। সে চড়ছে তো চড়ছেই। প্রতিবার তার ভুড়ি উঠানামার দৃশ্য দেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছে অনিমা। প্রতি সেকেন্ডেই অপেক্ষা, ভাবেএই বুঝি শেষ হলো, এরপর বস তার ইয়েটা কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকি দিয়ে প্যান্ট ঠিক করতে করতে উঠে পড়বে, হাতে প্রয়োজনীয় টাকা বা জিনিস গছিয়ে দিয়ে আনন্দে চলে যাবে। কমলা দিদির কাছে আগে থেকেই ট্রেনিং নিয়ে রেখেছে সব। কিন্তু কতক্ষন ধরে এই লীলাখেলা চলে জিজ্ঞেস করেনি। তাহলে দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করাটা সহজ হতো। (বিস্তারিত…)