Posts Tagged ‘ছোটগল্প’


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

ফুটপাতের কিনারে কয়েকটি মৃত পিঁপড়া দেখতে পেল সে। লাশগুলো পিঁপড়ার কীনা, এ নিয়ে তার মনে গুরুতর সন্দেহের উদ্রেক হল। সে বসেছিল রাস্তার উপর, ফুটপাত ঘেঁষে। সামান্য ঝুঁকে, চোখ দুটোকে খুব ছোট করে, অনেকটা বীক্ষণ যন্ত্রের মতো, দেখতে গিয়ে দেখল লাশগুলো পিঁপড়ারই। পাশের লাশগুলো আশার চরায় কয়েক ফোঁটা কষ্ট ঝরিয়ে, মনে করিয়ে দিল তার শৈশব। সে চলতে শুরু করে, যেতে যেতে চলে যায় অতীতে, যেখানে খেলার ছলেও হত্যা ছিল আনন্দের। অনেকগুলো মৃত ব্যাঙের ছবি ভেসে উঠে। সেসব মৃত্যু নিয়ে, তখন কোন প্রশ্ন জাগেনি মনে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

মূল: হেদার বল

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

[হেদার বল একজন অত্যন্ত সমাজসচেতন লেখিকা। তিনি ১৯৩৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি তাঁর বিখ্যাত ‘ম্যাডনেস’ গল্পের অনুবাদ]

—————————————

সম্প্রতি আমার এক ডাক্তারকে দেখাতে গিয়েছিলাম। তিনি তার অভ্যর্থনা ডেস্কেই বসলেন। তার পাশে রাখা চেয়ারটায় আমি বসলাম। আমার আগেকার স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পরীক্ষার রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্রগুলো তাঁর সামনেই ছিল। ডাক্তারের এক চোখ আমার দিকে এবং অন্যটি ওই কাগজপত্রের ওপর।

আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তা বলুন, এখন কী সমস্যা?”

বললাম, “আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

তিনি একটা পাতা উল্টালেন। বোধ হলো তিনি খুঁজছেন আমার আগে কখনও পাগল হবার ইতিহাস আছে কিনা। “তাই,” তিনি তাঁর আসনটার পেছন দিকে সরে বসলেন। জানতে চাইলেন, “কী কারণে আপনার এরকম মনে হচ্ছে? পৃথিবীর কোন জিনিসটা আপনাকে পাগল বানাচ্ছে?” আমি তাকে বললাম যে, পৃথিবীর সব কিছুর জন্যই আমার এরকম মনে হচ্ছে। তিনি অস্বস্তিবোধ নিয়ে ডেস্ক থেকে উঠে তার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। “একটু নির্দিষ্ট করে বলবেন কি?”

হ্যাঁ,” আমি বললাম, “মানুষ মানুষকে মারছে, একভাবে না হয় অন্যভাবে, দূষণ, অপুষ্টি…” (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

Kamruzzaman_Jahangir-2অনেক সমালোচকেই লেভ তলস্তয় সম্পর্কে বলে থাকেন: মানুষ হিসেবে তাঁর অপরাধ বোধই তাঁকে শক্তিশালী সাহিত্যিক হিসেবে গড়ে তুলেছে। না, আমি মোটেও লেভ তলস্তয়ের সাথে কথাসাহিত্যিক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের তুলনা করছি না, কিংবা তাঁর জীবনকালে সাহিত্যের যে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ হতো, সেই বিরোধগুলো থেকেও সরে আসছি না। এতটুকু আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, জীবনকালে তাঁর সাহিত্য নিয়ে আমার উদ্দেশ্য প্রণোদিত সমালোচনা ছিল না, তাই মৃত জাহাঙ্গীর ভাইকে নিয়ে লিখতে গিয়ে পূর্বের কোনো কিছু অস্বীকার করার উপায়ও রইলো না। আমি এখন প্রয়াস চালাচ্ছি সাহিত্যিক কামরুজ্জামন জাহাঙ্গীর থেকে ব্যক্তি জাহাঙ্গীর ভাইকে একটু আলাদা করে দেখার। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

sindabader-galicha-1বন্ধুবর আহমদ জসিমের ‘সিন্দাবাদের গালিচা’ নামক গল্পগ্রন্থটি বেরিয়েছে এ বছরের একুশে বইমেলায়, অগ্রদূত পাবলিকেশন্স লিমিটেড থেকে। আমার জানামতে এটি তার দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ, এর আগে ‘যেভাবে তৈরি হল একটি মিথ’ নামে প্রথম বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ সালে তেপান্তর থেকে। বইয়ের প্রচ্ছদ সুদৃশ্য, ভেতরের ফ্ল্যাপে বইটি সম্পর্কে অকালপ্রয়াত সাহিত্যিক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের দুয়েকটি কথা লেখা দেখে মনে বেদনাবোধ জাগ্রত হয়। জাহাঙ্গীর হঠাৎই গত ৭ মার্চ আমাদের ছেড়ে গেছেন না ফেরার দেশে।

বাংলা কথাসাহিত্যের আধুনিক ধারায় শিল্পীরা যা রপ্ত করেছেন তাহলো নৈর্ব্যক্তিকতার কৌশল। এখানে বলে নেয়া ভালো যে সাহিত্য সম্পর্কে আমার নিজের জ্ঞান অতি অল্প, আর সাম্প্রতিক লেখকদের গল্পকবিতাও আমি পড়েছি খুবই কম। আধুনিক লেখক বলতে এখানে যেটা বোঝাচ্ছি তার শুরু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর হাত ধরে। ওয়ালীউল্লাহ থেকে শওকত ওসমান, হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শহীদুল জহির, মঈনুল আহসান সাবের, শাহাদুজ্জামান এদের কথাই বোঝাতে চাইছি কেননা তাদের সাহিত্যকৃতির সাথেই আমি কমবেশি পরিচিত। সাহিত্যের বিভিন্ন শৃঙ্খলার মধ্যে ছোট গল্প নির্মাণ আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ বলে মনে হয়। কেননা একটি সীমিত পরিসরে নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনকে দেখা, মূল বক্তব্য সরাসরি প্রকাশ না করেও পাঠকের মধ্যে তার অন্তর্বস্তুটুকুকে চারিয়ে দেয়া এটা কোনো সহজ কথা নয়। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে গল্পের সারকথা বক্তব্য আকারে সামনে আনতে গেলে শুধু যে তা শিল্পগুণ হারায় তাই নয়, পাঠকের বোধজ্ঞানের ওপরও বলতে গেলে অবিচার করা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মেহেদী হাসান

art-22ছেড়িডা, প্রত্যেকদিন ভোর বেলা আমাদের সকলের ঘুম ভাঙ্গার আগে বিছানা ছাড়ে। বাথরুমে ঢুকে পড়ে চটজলদি সেরে নেয়, ঘুম থেকে উঠা পরবর্তী গাম্ভীর্য আঁকা মুখে দাঁড়ায় কিচেন বেসিনের সামনে; বাসনকোসন, হাড়িপাতিলে একশ লেবুর শক্তিওয়ালা ডিস ক্লিনার মেখে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে। তারপর মেঝেতে পিঁড়ি পেতে বসে শুরু হয় তার ময়দা ডলা। চাকতির উপর রাখা ময়দার গুলতি, তার ঝুঁকে ঝুঁকে বেলনা চালানোয়, ছড়ানো গোলাকৃতি লাভ করে। খুন্তি হাতে উঠে দাঁড়ালে, গ্যাস চুল্লির উপরে রাখা তাওয়ার চতুর্পাশ দিয়ে বের হওয়া আগুনের অনবরত স্পন্দিত জিহ্বার আঁচে তার ফর্সা মুখমণ্ডল ধীরে ধীরে বাতাসের ছোঁয়া লাগা কচুর ডাটির কষের মত লালচে হয়ে উঠে, এসময় তার চোখদুটোও যেন ঘামে ভিজে যায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অন্বেষা বসু

art-1-ছুটি,

শুকনো পাতার মত সন্ধ্যে নামছে আমার শহরে। শীতের সন্ধ্যে। মনকেমনের সন্ধ্যে। আমার পাড়ায় এখন বিষণ্ণতার আলো। দাদা বাড়ি ফেরেনি এখনও। বাবার ঘরে রেডিও চালানো। গজল। মীর্জা গালিব।

হাজারোঁ খ্বাহিশে অ্যায়সি কি হর খ্বাহিশ পে দম নিকলে

বহুত নিকলে মেরে আরমান লেকিন ফির ভি কম নিকলে” (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: স্বপন মাঝি

world-to-winছাত্রছাত্রীরা চলে যাবার পর ছাপড়ার ঘরটার মধ্যে সে একা হয়ে যায়। ভাঙ্গা বেড়া, ভাঙ্গা জানালা। এ ঘরের মালিক একজন কোটিপতি। কোটিপতিদের কেউ এখানে থাকেন না। লজিং মাস্টারদের জন্য নির্মিত এ ঘরটা তার কাছে বেশ লাগে। জানালার কাছে বসলে পশ্চিমের আকাশ দেখা যায়। বুড়িগঙ্গার ওপর দিয়ে যখন বড় কোন জাহাজ যায়, তার মাস্তুল পর্যন্ত দেখা যায়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন:মেহেদী হাসান

stop-violence-against-women-1-কুসংস্কার প্রবনতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অজ্ঞানতা ও অসচেতনতার মানদণ্ডে আমাদের গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করা প্রায় সকল মানুষের অবস্থান অনেকটাই কাছাকাছি। তাদের চিন্তাচেতনার মধ্যেও তেমন কোন হেরফের সচারচর লক্ষ্য করা যায় না। অর্থনৈতিক দিক থেকে তারা উঁচুনিচু হলেও আর অন্যান্য সকল দিক থেকে সকলেই প্রায় একই মাপের। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহমদ জসিম

moinul-ahsan-saber-1নির্বাচিত গল্প,

লেখক: মঈনুল আহসান সাবের,

প্রকাশক: অনন্যা,

প্রকাশ কাল: ডিসেম্বর ২০১১,

প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ।

মধ্যসত্তর থেকে যিনি গল্প সৃজনের কাজটা সুনিপূণ হাতে করে যাচ্ছেন সেই মঈনুল আহসান সাবেরের নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ পাঠ করতে গিয়ে আমাদের কিছু বিচার ও বিবেচনা বোধ সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমেই স্মর্তব্য বাংলা ভাষায় ছোটগল্পের বুনন সূচিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর হাত দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ যখন বাংলা ভাষায় ছোটগল্প লিখছেন তখন তার সমকালের বিশ্বের অন্যান্য গল্পকারদের মধ্যে আছেনএলেন পো, ও হেনরি মোপাসার মতো গল্পকাররা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: দীপন জুবায়ের

art works-11-সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিনের গুমোট গরমের মধ্যে এই বৃষ্টিটুকু যেন খোদার আশির্বাদ। সারাদিন ঘরের মধ্যে বসে থেকে হামজা মোল্লার মন উসখুস শুরু হয়েছে। হামজা মোল্লার গ্রামের একমাত্র নামকরা কবিরাজ। সংসার খুবই ছোট। কিন্তু মনে সুখ নেই , সংসারে নেই শান্তি। হামজা সহজে হাল ছাড়ার লোক না। তবুও মাঝে মাঝে মনের মধ্যে হতাশার মেঘ গুড়গুড় করে ওঠে। আজ যেমন সকাল থেকে মনের মধ্যে বড় অশান্তি। সারাদিন অস্থির অস্থির লেগেছে। সকাল থেকে মনে হচ্ছে বৃষ্টিটা একটু ধরলেই বাজারে যেতে হবে।কিন্তু সারাটা দিন ঝিরঝির বৃষ্টির একটুও বিরাম নেই। (বিস্তারিত…)