Posts Tagged ‘চা শ্রমিক’


কৃষি জমিতে আগ্রাসন রুখে দাও, চা শ্রমিকদের বাঁচতে দাও

বন্ধুগণ,

“‌কৃষি জমিতে আগ্রাসন রুখে দাও, চা শ্রমিকদের বাঁচতে দাওএই শ্লোগানকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের চান্দপুরের চা শ্রমিকদের কৃষি জমি স্পেশাল ইকোনমিক জোনের নামে কেড়ে নেবার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আমরা মঙ্গলধ্বনি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনএই চারটি সংগঠনের ঝিনাইদহ শাখার আয়োজনে ঝিনাইদহের পায়রা চত্বরে আজ শনিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০১৬ সকাল ১১.৩০টায় একটি মানব বন্ধন ও সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীএর যুগ্ম আহ্বায়ক প্রসেনজিত বিশ্বাস বক্তব্য প্রদানকালে পুলিশের বিশেষ শাখা (স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ)-এর কর্মকর্তারা এসে মাইক বন্ধ করে দেন আমাদের লিফলেটে সরকারবিরোধী বক্তব্য থাকা এবং সমাবেশে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রদানের অজুহাতে। এরপর তারা আর মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হতে দেন নি। স্বাধীন বাংলাদেশে সভাসমাবেশের উপর পুলিশী নিষেধাজ্ঞা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়, এ ধরনের ঘটনা এই দেশকে ক্রমাগত একটি পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করছে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল শামছ বিল্লাহ

tea-garden6512চা, অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। বাংলাদেশের এমন কোন প্রান্ত পাওয়া যাবে না যেখানে এই পানীয়টির চল নেই। নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এটি। ক্লাসের ফাঁকে, অতিথি আপ্যায়নে, অফিসে, আড্ডায় বা বিকালের নাস্তায় এটি লাগবেই।

১৮৪০ সালে, চট্টগ্রাম থেকে এখানে চা চাষের ইতিহাস শুরু হয়। বর্তমানে ১৬৪টিi বাগানে চা এবং আরও কিছু বাগানে অর্গানিক চা চাষ হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৬০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা উৎপাদিত হয়, যা বিশ্বে চা উৎপাদনে ১১তম। উৎপাদিত চা দেশীয় চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, যাতে প্রায় ০.৮১ ভাগ জিডিপি অর্জিত হয় এই চা শিল্প থেকে। প্রায় ৫ লাখ লোক চা শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। যার মধ্যে প্রায় ১,৫০,০০০ শ্রমিকই আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। মূলত যেসব স্থানে চা বাগান রয়েছে, সেসব অঞ্চলে কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হলো এই চা বাগান। এছাড়াও চাবাগানের অপূর্ব মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

tea-workers-7ব্রিটিশরা তখন রেল বসাচ্ছে। বাংলার পলিমাটিতে রেল বসাচ্ছে কারণ এখানে পাকাসড়ক রেলের চেয়েও ব্যয়সাপেক্ষ। রেল লাইন নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী সংযোজন। বাংলারচাষাভূষোরা সার সার দাঁড়িয়ে রেল বসানো দেখে। সেই কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকাংশই বাংলার বাইরে থেকে আনা হয়। প্রধানত বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উড়িস্যা এবং অন্ধ্রপদেশ থেকে এই শ্রমিকদের আনা হয়। রেল বসানো শেষ হলে সেই শ্রমিকদের একটা বড় অংশ দেশে নাফিরে এই বাংলাতেই থেকে যায়। আরও কিছু পরে সেই শ্রমিকদের সাথে আরো ‘বাইরের’ শ্রমিক এনে পাঠিয়ে দেয় হয় সিলেটঅসম অঞ্চলে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবু তাহের মোল্লা

tea-worker-1-লক্ষ্মী নুনিয়া একজন স্থায়ী চা শ্রমিক। সিলেট টি কোং লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণাধীন মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর চা বাগানে তিনি কর্মরত ছিলেন। ৭ বছরের শিশু সন্তানের মাতা স্বামী পরিত্যক্তা সহজ সরল যুবতী লক্ষ্মী নুনিয়া বেঁচে থাকার সংগ্রামে বাবার ঘরে আশ্রিত হয়ে শুরু করেন তার কর্মজীবন। প্রায় ৫ বছর পূর্বে তিনি স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার ভবিষ্যত তহবিল নং ১১৪৮। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী হওয়ার ১ বছরের মধ্যে তার বাসগৃহ পাওয়ার কথা। কিন্তু একে একে পাঁচটি বছর চলে গেলেও তার কপালে বাসগৃহ জোটেনি। ৭ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে অনেক লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে পিতৃগৃহে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বরাবর বাসগৃহ নির্মাণের জন্য লিখিতভাবে ও মৌখিকভাবে বহুবার আবেদন নিবেদন করেছেন কিন্তু কোন ফল পাননি। এ অবস্থায় গত ৩১ আগস্ট ’২০১২ইং তারিখে তিনি শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে বাগানের ম্যানেজারের কার্যালয়ে গিয়ে বাসগৃহ নির্মাণ করে দেবার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ম্যানেজার তাতে উত্তেজিত হয়ে বলেন বহুত শিয়ানা মহিলা এর পিছনে অন্য কেউ আছে।’ এরপর তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। পরদিন বাগান ম্যানেজার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে চাকুরীচ্যুতি (Termination)করা হয়েছে মর্মে অবগত করা হয়। চাকুরীচ্যুতির আদেশ হাতে নিয়ে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। চাকুরীচ্যুতির আদেশপত্রে ম্যানেজার কোন কারণ উল্লেখ করেননি, শ্রমিক যাতে আইনের আশ্রয় নিতে না পারেন। (বিস্তারিত…)