Posts Tagged ‘গল্প’


লিখেছেন: সারোয়ার তুষার

বহুদিন পর উঁহু, সম্ভবত এই প্রথম বস কোনো কাজের কাজ দিয়েছে বলে মনে হলো তার। চাকরিতে জয়েন করার পর এ পর্যন্ত যেসব অ্যাসাইনমেন্ট তূর্য পেয়েছে, সেসব শুধুমাত্র জঘন্যই না, অনেকটা ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব দ্য বিগ ব্রাদার’ টাইপ। তারপরেও করতে হতো। করতে হয়। অন্নসংস্থান বলে কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর কি করবো, কি করবো এই যখন অবস্থা তূর্যের, তখন বন্ধুস্বজন অনেকেই সাংবাদিকতায় ঢোকার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই অর্থে আটটাপাঁচটা ডিউটি নাই, ফ্রিডম আছে। আর তার যেহেতু লেখালেখির বাতিক আছে, সেই সুযোগও নাকি পাওয়া যাবে। শিক্ষকতায় ঢুকতে পারলে নাকি সবচেয়ে ভালো হতো অবারিত স্বাধীনতা, আবার জাতির বিবেকও নাকি হওয়া যায়! শুনেই তূর্যের ভিড়মি খাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল, আরঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো যাক, তাহলে সাংবাদিকতাই ভালো। শিক্ষক হয়ে জাতির বিবেক মারার মত রুঢ় পরিহাস তো অন্তত করতে হবে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

এক.

তার আসল নাম ছিল ‘বিপদ তাড়ন’। সকলে কিন্তু তাকে ‘বিপদ’ বলে ডাকতো। কেউ কেউ আবার পিছনে তাকে ‘আপদ’ বলেও ব্যঙ্গ করতোসে যেদিন জন্মায়, সেদিনই তার বাবার কোম্পানির লকআউট উঠে যায়। লকআউটের সাত মাস বড় কঠিন দিন গেছে। কোম্পানির গেটের তালা আবার খুলে যাওয়ায় সবার মনে একটু স্বস্তি হয়েছিল কেন না, তখন তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। জোড়া খুশির খবরে আনন্দিত হয়ে ঠাকুমাই নাতির নাম রেখেছিল ‘বিপদ তাড়ন’। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: দোলা আহমেদ

pain-art-2প্রাচীন এক মফস্বল শহর। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে উত্তাল পদ্মা। শহরের বুক চিরে চলে গেছে ইছামতি নদী। আজ অবশ্য কোন নদীই আর তেমন উত্তাল নয়। ইছামতিকে তো এখন আর খালও বলা যাবে না। বদ্ধ জলাশয় ছাড়া আর কিছু না। পোড়া বাড়ি যেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে ঠিক তেমনই। পদ্মা সারা বছর থাকে এক রাশ বালু বুকে নিয়ে শুধু আষাঢ়শ্রাবণ মাসে ফিরে পায় তার ফেলে আসা হারানো যৌবনের কিছুটা ছোঁয়া। প্রাচীন শহরের আর সেই প্রাচীন রূপ নাই। নাই কোন খেলার মাঠ। নাই কোন ফলের বাগান। কৃষি জমিও এখন আর তেমন নাই। এখন শুধু চারিদিকে বড় বড় বিল্ডিং আর শপিং মল, বড় বড় দোকানপাট। সব কিছু যেন অনেক দ্রুত পাল্টে গেছে। মানুষরাও তার সাথে পাল্লা দিয়ে পাল্টাচ্ছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মোঃ মাসুদ

sedin-chilo-chuti-1কোথায় যেন পড়েছিলাম, ভুলে গেছি – “সংগীত সর্বোত্তম অনুকরণকারী শিল্প, এতে জীবনের প্রকাশ প্রত্যক্ষ।” কিন্তু আমার মনে হয় এ কথাটা গল্পের ক্ষেত্রেই বেশি খাটে। সঙ্গীত মানুষের মধ্যে নৈতিক সহানুভূতি বৃদ্ধি করে, চিত্ত শুদ্ধ করে; জীবন বাস্তবতায় চলার পথ দেখায় না। কিন্তু গল্প চলার পথ দেখায় এবং শেখায়। চরিত্র, ভাবনা আর উপস্থাপনার নৈপুণ্যে গল্প জীবনের সামান্য থেকে অসামান্য সত্যকে প্রকাশ করতে পারে। কবি ও ছোট গল্পকার স্বপন মাঝির ‘সেদিন ছিল ছুটি’ গল্পগ্রন্থটি পড়ার পর আমার উল্লেখিত ধারণাটি যেন আরও প্রাণ পেল।

নয়টি গল্প নিয়ে উল্লেখিত গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অঙ্কুর প্রকাশনী। ভূমিকা লিখেছেন মহসিন শস্ত্রপাণি। ভূমিকাতে তিনি যা বলেছেন, তা যেন ব্যক্তি স্বপনএরই কথা। কিন্তু তার গল্পের যে প্রয়াস “বাস্তব সত্যকে শৈল্পিক সত্যে উন্নীতকরণ তা উঠে আসেনি। স্বপন মাঝির গল্পগুলিতে ঘটনার উপস্থাপনা মুখ্য হলেও চরিত্র ও ভাবনার যে ছন্দ গল্পের পরতে পরতে তা বিলক্ষণ সামাজিক সংবিৎ সৃষ্টির প্রয়াস। গ্রন্থটির প্রথম গল্প ‘সেদিন ছিল ছুটি’ মূল ভাবনায় ঐশ্বর্যসম্ভোগের মাঝে বসে দুর্ভোগের যে চিত্র তিনি অঙ্কন করেছেন, তাতে শিল্প নৈবেদ্যর ঘাটতি বা কমতি নেই, আছে লৌকিক সত্য আর গল্পের সত্যের পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়ার এক অনবদ্য শৈল্পিক চেষ্টা। (বিস্তারিত…)