Posts Tagged ‘গণহত্যা’


লিখেছেন: আব্দুল্লাহ আল শামছ্ বিল্লাহ

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

রাফায়েল ল্যামকিন। এই ভদ্রলোকের বাড়ি ছিল পোল্যান্ডে। পেশায় ছিলেন আইনজীবী। এই ভদ্রলোক প্রথম genocide বা গণহত্যা শব্দটির প্রবর্তন করেন। সময়টা ছিল ১৯৪৪ সাল। উল্লেখ্য তখন পর্যন্ত গণহত্যা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় নি। তিনি দুটি শব্দ থেকে এই শব্দটি তৈরি করেন। একটি হলো গ্রিক শব্দ genos যার অর্থ পরিবার বা গোত্র বা দল। আরেকটি শব্দ হলো ল্যাটিন শব্দ cide যার অর্থ মেরে ফেলা। এই শব্দটি তিনি তার লেখা বই Axis Rule in Occupied Europe: Laws of Occupation – Analysis of Government – Proposals for Redress অন্তর্ভুক্ত করেন। এই শব্দটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সাধারণত গণহত্যা বলতে কোনো জাতিকে পুরোপুরি মেরে ফেলা বা ধ্বংস করা নয় বরং সেই জাতির কোনো অংশকে মেরে ফেলা বা মেরে ফেলতে চাওয়াকেই বোঝায়। এটার উদ্দেশ্য হতে হবে বিভিন্ন জাতির নিজস্বতা, জীবনধারা ধ্বংস করার বা ঐ নির্দিষ্ট জাতিকে মুছে ফেলার একটা সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি। এটা হতে পারে কোনো জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, জাতীয়তাবোধ, ধর্ম ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে; রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পার্থক্য সৃষ্টি করা বা ঐ জাতির কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, আত্মমর্যাদা, এমনকি ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব জীবনধারা পর্যন্ত ধ্বংস করা। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: অজয় রায়

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে সেদেশের সেনাবাহিনী, পুলিস ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী শক্তি। রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫শে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন।[] যেখানে শরণার্থী শিবিরগুলিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। রোহিঙ্গারা ভারতে এবং মালয়েশিয়াতেও যাওয়ার চেষ্টা করছেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: গুরুপ্রসাদ কর

gaza-35গাজায় আবার ইজরায়েলের বর্বর বিমান হানা শুরু হয়েছে। মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। গত ৫ দিনে প্রায় ১৪০ জন মানুষ মারা গেছেন, হাজারেরও বেশি মানুষ আহত। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বেছে বেছে স্বাস্থকেন্দ্র ও মসজিদে বিমান হানা চলছে। আহত মানুষেরা যাতে চিকিৎসা না পেতে পারে তার জন্য ৭০%-এর বেশি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থলপথে ও জলপথে আক্রমণের জোর প্রস্তুতি চলছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

হামাসের রাজনৈতিকমতাদর্শিক উত্তরণ

free-palestine-2১৯৬৭ সালের আরবইজরায়েল যুদ্ধের ২০ বছর পর ১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদা, বা গণআন্দোলনের গর্ভে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা হিসেবে গাজায় জন্ম হামাসের। হামাসের উত্থানের প্রথম দিকে পশ্চিমা শক্তিসমূহ বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল, তাদের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কূটকৌশলে। কিন্তু তাতেও তারা নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে পারেনি হামাসকে। ফিলিস্তিনি নিপীড়িত জাতিসত্তার লড়াইসংগ্রামটা মুখ্য হয়ে ওঠায় হামাসকে আর তাদের ইচ্ছেমতো চালিত করাটা সম্ভব হয়নি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

gaza-35আরব বিশ্ব বহুদিন ধরে পশ্চিমাবিশ্বের জ্বালানির স্থায়ী জোগানদার। তেলের খনির ওপর ভাসমান আরববিশ্ব তাই পশ্চিমাদের জন্য অপরিহার্য। মাঝখানে লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলাসহ আরো কিছু দেশের তেলের জোগান তারা হাত করতে পেরেছিল। কিন্তু লাতিন আমেরিকায় ফিদেল কাস্ত্রো ও হুগো চাভেজের নেতৃত্বে দখলদার বিরোধী চেতনা জোরদার হলে পশ্চিমাবিশ্ব সেখান থেকে একপ্রকার পাত্তাড়ি গোটায়। যদিও হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর আবার ভেনেজুয়েলা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। অস্থির করে তুলেছে চাভেজপরবর্তী মাদুরো সরকারকে। বলা হয়ে থাকে, ভেনেজুয়েলায় সৌদি আরবের চেয়ে বহুগুণ তেলের মজুদ আছে। তবে আরববিশ্বকে তারা হাতে রেখেছে বিভিন্ন কৌশলে। আরববিশ্ব একসময় ব্রিটেন, ফ্রান্সের যৌথ উপনিবেশ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে আরবে পশ্চিমা উপনিবেশের অবসান হয়ে নতুন নতুন রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জোরেশোরে শুরু হয় বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদে মার্কিন নেতৃত্ব। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

savar-disaster-15গত ২৪ এপ্রিল, বুধবার বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষত গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য এক ঘোরতর বিপর্যয়ের দিন। সাভারের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘রানা প্লাজা’ নামে এক বহুতল ভবন দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ধসে পড়ে। এই ভবনে থাকা পাঁচটি গার্মেন্টসের কয়েক হাজার শ্রমিক এর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে চাপা পড়েন। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের অধিক শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। (বিস্তারিত…)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :: শাহবাগে সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ

Posted: ডিসেম্বর 9, 2012 in দেশ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

propod-logo

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শাহবাগে সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ

তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ডে নিহত, নিখোঁজ ও আহত শ্রমিকদের ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ এবং প্রত্যেক নিহতদের পরিবারের জন্য ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি

গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকান্ডে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকাল ৪.৩০ টার সময় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কয়েকটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠন।

জাগরণের পাঠশালা, প্রপদ, ছাত্র গণমঞ্চ, বিপ্লবী ছাত্রযুব আন্দোলন, গণমুক্তির গানের দল, মার্কসবাদের প্রথম পাঠ, শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগার, মঙ্গলধ্বনি, বিজ্ঞানচেতনা পরিষদ, ল্যাম্পপোস্ট, শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গের আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ম. নুরুন্নবী। (বিস্তারিত…)


মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদ, ভারত ও তাদের দালাল শাসকশ্রেণীর রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে শ্রমিককৃষকজনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে

শ্রমিকশ্রেণী এক হও! শ্রমিক হত্যার বদলা নাও!

শ্রমিককৃষকের সাথে ছাত্রবুদ্ধিজীবীসংস্কৃতিকর্মী একাত্ম হও!

আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনে আগুনে পুড়িয়ে শ্রমিক হত্যা, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরন, বকেয়া বেতন পরিশোধ, মালিককে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ও আহত শ্রমিকদের তালিকা ঠিকানাসহ প্রকাশের দাবীতে

::::::বিক্ষোভ সমাবেশ:::::::

৮ ডিসেম্বর, শনিবার, বিকাল ৪.০০ টা,

জাতীয় যাদুঘর প্রাঙ্গন, শাহবাগ।

উপস্থিত হোন! অন্যদের উপস্থিত হতে অনুপ্রেরণা দিন! শ্রমিক হত্যার বদলা নিতে শ্রমিকদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হোন!

Somabesh-3

.

গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশনের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত শ্রমিক নিহত হয়েছে। সরকার ও গণমাধ্যমগুলো ১৩০জন শ্রমিক নিহত হয়েছে জানালেও স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি অন্তত দেড় হাজার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, উক্ত কারখানার মালিক কর্ণফুলি ইন্সিওরেন্স থেকে ক্ষতিপূরণের চেক গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এসব কোন দুর্ঘটনা নয়। বরং, মালিক শ্রেণীর পরিকল্পিত নৃশংস শ্রমিক গণহত্যা। আর এতে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে মালিক সমিতি বিজিএমইএসহ রাষ্ট্র ও সরকার। (বিস্তারিত…)

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মৃত্যু – নানা কথা নানা ব্যথা

Posted: নভেম্বর 29, 2012 in আন্তর্জাতিক, দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: বন্ধুবাংলা

নিঃসন্দেহে শ্রমিক কর্মচারীদের ঐক্য পরিষদের বানারে স্কপ’ ছিল স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তি। বিভিন্ন ইস্যুতে স্কপে ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নে বামপন্থীরা নীতি নির্ধারকের ভূমিকায় ছিল। কিন্তু তাঁদের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলে পর্যায়ক্রমে ভোগ করেছিল বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তির দলগুলো। লীগ ও বিএনপি, জামাত এমনকি স্বৈরাচার এরশাদও আছে এই ভোগের তালিকায়। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর এভাবেই বামপন্থীরা বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতায়ণ , এবং তাঁদের ক্ষমতা সুসংহত ও সুসঙ্গত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং এখনো হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাঁদের অর্জন যেমন শূন্য, তেমনি শ্রমিকদের অর্জনও শূন্য।

৯০ এর পর বামপন্থীরা আর কোন শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। যদিও স্বৈরাচারের ঢালাও বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলো আরও পূর্ণমাত্রায় চালু রেখেছিল। মিল কারখানা বন্ধ করে পানির দামে বিক্রি করা হলো। ঢালাও বেসরকারিকরণ এজেন্ডার সাথে বরাবরেরে মত অন্যান্য এজেন্ডা যেমন, শ্রম আইনের সংস্কার, বিভিন্ন খাতের শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, গার্মেন্টসে ট্রেড ইউনিয়ন চালু সহ নানা এজেন্ডা ছিল এবং কিছু এদিকওদিক বাদে এখনো সেই এজেন্ডা সমূহের বাস্তব অবস্থা বিরাজমান। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

বাংলাদেশে গার্মেন্ট ‘শিল্পে’র গোড়াপত্তন প্রায় বত্রিশ বছর আগে। এই বত্রিশ বছরে গার্মেন্ট কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। প্রায় কুড়ি থেকে ত্রিশ লাখ শ্রমিক এই বিশাল সেক্টরে শ্রম দিচ্ছে। সব সরকারই বেশ ফুলিয়েফাঁপিয়ে এই সেক্টরের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খতিয়ান দিয়ে কৃতিত্ব জাহির করেছে এবং করছে। পরিসংখ্যান দিয়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ চললেও বাংলাদেশ চলে না। এই পোশাক শিল্পের আয় দেশের জাতীয় বাজেটের ‘কত অংশ, দেশের কী কী উপকার করছে, দেশের অর্থনীতিতে কতো পার্সেন্ট অবদান রাখছে ব্যাপারগুলো অর্থহীন। ওটা বানরের পিঠা ভাগ করার মতো চালাকি বিশেষ। এতো বড়ো একটা সেক্টরে শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে, মারামারিকাটাকাটি থাকবে, চুরিচামারি থাকবে, ধাপ্পাবাজিফেরেপবাজি থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এই গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে কী হয়নি? শ্রমিকের রক্ত চুষে নেওয়া, নারী শ্রমিককে ভোগ করা, ধর্ষণ করা, খুন করা, পুড়িয়ে মারা, পায়ে দলে মারা, পিষে মারা, ছাঁটাই করে মারা, জেলে ভরা, হাতপা গুঁড়ো করে দেওয়া, এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া, ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলা কী হয়নি? এবং এসবই হয়েছে ওই তথাকথিত বৈদেশিক মুদ্রা আর তথাকথিত অর্থনীতির চাকা চরার ধাপ্পা দিয়ে। (বিস্তারিত…)