Posts Tagged ‘গণজাগরণ’


লিখেছেন: তৃষা বড়ুয়া

gonojagoron-program-12গণজাগরণ মঞ্চ থেকে প্রচার করা হয়েছে,

বছর ঘুরে আবারও আমাদের সামনে এসে হাজির হচ্ছে সেই ৫ ফেব্রুয়ারি। গত একবছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব নিকাশ করা আবারও জরুরি। বর্ষপূর্তির ক্ষণে নিজেদেরকে আবারও উদ্দীপ্ত করার প্রত্যয় আর এযাবৎকালের অর্জনগুলোকে মূল্যায়ণ করাও খুব প্রয়োজন। সুতরাং, গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বিশ্ব ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব গণজাগরণের দিনটিকে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সকল মানুষের এই বিষ্ময়কর ঐক্যবদ্ধ জাগরণকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা ৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘গণজাগরণ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করছি। আমরা এই বর্ষপূর্তিকে শুধু পালন করব না, আমাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম যাতে আগামী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা যায়, এজন্য এবারের বর্ষপূর্তির আয়োজনে আমরা বিশেষ করে শিশুকিশোরদের অংশগ্রহনের জন্যও বেশ কিছু আয়োজন রেখেছি।” (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আহমদ জসিম

shahbagh-3আবারও তারুণ্য জেগেছে, বহুকাল পরে হলেও জেগেছে। ৯০এর পর এমন জাগরণ আর আমাদের চোখে পড়েনি। ৯০এ স্বৈরাশাসককে উৎখাত করতে, এবার জাগলো ইতিহাসের একটা অমিমাংশিত হিসেবের নিষ্পত্তি করতে একটা জাতির অস্তিত্বকালীন সময়ে পুরো জাতির সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, যারা করেছে মানবতার চরম লঙ্ঘন তাদের যথাযথ পাওনা মিটিয়ে দিতে। একটা জাতির বিকাশের স্বার্থের সাথে তার ইতিহাসের দায় মিটানোর স্বার্থ এক ও অভিন্ন। ঠিক এই প্রতিশ্রুতি দিয়েইতো বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তরুণ সমাজ এই আশাতেই বুক বেঁধে বর্তমান সরকারকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

বিক্ষুব্ধ আরব

যুগ যুগ বছর ধরে নিষ্পেশনের শিকার আরবের সাধারণ জনগণ। সাধারণের কাছে বিদ্যমান শাসনের নামে শোষণব্যবস্থার পরিবর্তন যেন অসাধ্য হয়ে পড়েছিল। আর তাই তারা একেই নিজেদের ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। দারিদ্র, বেকারত্ব, রাজতন্ত্র ও একনায়কদের অত্যাচারঅবিচার ও সাম্রাজ্যবাদের তেলের রাজনীতিতে তাদের পিঠ যেন ক্রমেই দেয়ালে লেপ্টে যাচ্ছিল আর শাসকেরা জনগণের স্বার্থকে পদদলিত করে গড়েছে সম্পদের পাহাড়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিকই ফুঁসছিল মধ্যপ্রাচ্য।

যে পশ্চিমাবিশ্ব গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী হিসেবে নিজেদের জাহির করে গণতন্ত্রের দোহায় দিয়ে যুদ্ধ করে, তারা কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরতন্ত্র/রাজতন্ত্রের ব্যাপারে টু শব্দটিও করেনি, কারণ তাদের দরকার তাদের কথায় চলা তথাকথিত গণতান্ত্রিক পুতুল সরকার, স্বেচ্ছাচারী একনায়ক, অথবা রাজতন্ত্র। লিবিয়াতে সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গণতন্ত্র ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে পুরো বিশ্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ন্যাটো বাহিনীর মাধ্যমে, যার লক্ষ্য তাদের একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতা আসীন করা। সকল দেশেই ঐ অশুভ শক্তির কূটচাল বিদ্যমান। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

মোহাম্মাদ বৌয়াজিজি উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট দেশ তিউনিসিয়ার উচ্চ শিক্ষিত যুবক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রী নেওয়া অন্যদের মত তারও কাজ জোটেনি পড়া লেখা শেষে। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ফল বিক্রি করতো সে, সেখানেও এসে বখরা দাবি করত রাষ্ট্রীয় পাহারাদাররা। দুঃশাসনের প্রবল অন্ধকারে ডুবে ছিল বৌয়াজিজির স্বদেশ দীর্ঘ ২৩টি বছর। কোনো প্রমিথিউস আগুন এনে দেয়নি যখন, মোহাম্মদ বৌয়াজিজি নিজেই একদিন আগুন হয়ে জ্বলে উঠলো শেষে।

গণজাগরণ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে

রাজধানী তিউনিস থেকে বেশ দূরের সিরি বৌজিদ শহরে দুঃশাসনের পাহারাদারদের নিপীড়নের অপমানে ২৫ বছরের এই তরুন যখন নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দিল ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বরে তখন তিউনিসিয়া, মিশর, সিরিয়া, সুদান, ইয়েমেন, জর্দানের স্বৈরশাসকরা কেউ ভুলেও কল্পনা করেনি, এই আগুনের তীব্র আঁচ এসে লাগবে তাদের সকলের তখতে তাউসে,পুড়ে ভস্ম হবে কারো কারো দীর্ঘ দুঃশাসন। মোহাম্মদ বৌয়াজিজির জ্বলন্ত শরীর থেকে জন্ম নেয়া দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ প্রথমে ছড়াল তাঁর নিজের দেশ তিউনিসিয়ায়। চার সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা প্রবল গনআন্দোলনের মুখে ২৩ বছরের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটলো। স্বৈরশাসক বেন আলী সপরিবারের পালাতে বাধ্য হল। তিউনিসিয়ার তরুনরা গনবিদ্রোহের যে উপমা তৈরী করল, আর উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের একনায়ক কবলিত রাষ্ট্রসমুহের তরুনরা সেই উপমা যে দৃঢ়তায় ধারন করল, তা নিঃসন্দেহে স্থান করে নিয়েছে মানুষের জেগে উঠার অমলিন ইতিহাসে। কিন্তু এরপর? অর্থ্যাৎ কারা সেখানে ক্ষমতায় এলো? তারা কি পারবে বৌয়াজিজির মত বেকার তরুনদের হাতে কাজ তুলে দিতে? সেই প্রশ্নের গভীরে তলিয়ে দেখতে হবে আরব বিশ্বের আন্দোলন এবং বাংলাদেশের করণীয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: হাসান তারিক চৌধুরী

মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রকামী সাধারণ

পশ্চিমের পন্ডিতেরা বহুকাল ধরে আমাদের গণতন্ত্র শিখিয়ে আসছে। বিশেষ করে যতদিন সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন বলবৎ ছিল, ততদিন এই সবক দেয়ার মাত্রা অসহনীয় হলেও সংখ্যার দিক থেকে কমতি ছিলনা। আমেরিকার সরেস ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃত্তি পাওয়া এদেশী কালো চামড়ার চিন্তাবিদরাও তখন ‘সাহেবী গণতন্ত্রের (!)’ গুণগান গাইতে কোন কার্পণ্য করেননি। তাদের দেয়া তত্ত্ব অনুযায়ী সমাজতন্ত্রহীন তথাকথিত এককেন্দ্রীক বিশ্বের ‘চিত্রকল্প’ তখন বহু তাগড়া বামপন্থীকেই বিভ্রান্ত করেছিল। তারা এও বলেছিলেন, স্নায়ুযুদ্ধ মুক্ত এককেন্দ্রীক বিশ্বে যুদ্ধবলে কোন শব্দই থাকবে না। ‘সাম্রাজ্যবাদ’ শব্দটির অস্তিত্ব শুধু অভিধানেই থাকবে। গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা আর মানবাধিকারের সুবাতাস বইবে এ পৃথিবীতে। জাতিগত সংঘাতের ফলে যেটুকু সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়েছিলো, তা সমাধানে তাদের আবিষ্কার ছিল, ‘দূর্বলকে পিষে খাবার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি।’ (বিস্তারিত…)