Posts Tagged ‘কার্ল মার্ক্স’


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক আমলের একটি সামন্তীয় চেতনার আইনকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছেন। ওই আইনে নারীকে পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ব্যক্তির স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে ফৌজদারি আইনের অধীনস্ত করা হয়েছিল। তা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এ কারণেই ওই আইনটি বাতিল করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ‘ব্যভিচারের’ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

ব্যভিচার’ কি? প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে, সমাজআইনের বিধিভুক্ত যে যৌন সম্পর্কের নির্দেশনা, তার বাইরে যাওয়ার মানেই হলো ‘ব্যভিচার’। একটা শব্দ যে পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এ শব্দটিযা প্রচণ্ডভাবে নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক এবং সামন্তীয় চেতনাধীন। এর দ্বারা কার্যত নারীর যৌন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়। বিয়ের পর নারী তার স্বামীর বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারবে না, এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কার্যত ওই ‘ব্যভিচারের’ জুজু দেখিয়ে নারীকে পুরুষের ‘যৌনদাসীতে’ পরিণত করা হয়। ওই ‘ব্যভিচার’এর শাস্তি দিতে যে আইন করা হয়েছে, তা কমিউনিস্ট কেন, কোনো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যক্তিও মেনে নেবেন না নিশ্চয়! (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: অজয় রায়

১৮৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে বার্লিনে প্রকাশিত হয় কার্ল মার্ক্সের পুঁজি: রাজনৈতিক অর্থনীতির এক সমালোচনা (ক্যাপিটাল)-এর প্রথম খণ্ড।[] যেখানে পুঁজিবাদী সমাজের গতিশীলতার বিধি উদ্ঘাটন করা হয়। এই বইয়ের প্রকাশনা রাজনৈতিক অর্থনীতি ও সমাজ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সন্ধিক্ষণ হিসাবে চিহ্নিত। কারণ, বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি শোষণকারী দেশে পুঁজিবাদী বিকাশের প্রণালী বোঝার জন্য বস্তুবাদী দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির এটাই ছিল প্রথম সফল প্রয়োগ। মার্ক্সের মৃত্যুর পরে তাঁর আজীবনের সহকর্মী ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সম্পাদনায় ক্যাপিটালএর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খণ্ডও প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৮৮৫ ও ১৮৯৪ সালে। আর এই বই বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়। (বিস্তারিত…)


রাশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক শিক্ষা

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংস্কৃতি, সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি হলো – নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে একমাত্র সর্বহারাশ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শ; অর্থাৎ কমিউনিজমের মতাদর্শের দ্বারা। অন্য কোনো শ্রেণীর সংস্কৃতি ও মতাদর্শের দ্বারা এই সংস্কৃতি পরিচালিত হতে পারে না। এক কথায়, নয়াগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হলো সর্বহারাশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং সামন্তবাদবিরোধী সংস্কৃতি।”

মাও সেতুঙ, নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

মার্ক্সবাদ হাজার হাজার সত্যের সমষ্টি, কিন্তু এগুলো সবই কেন্দ্রীভূত হয় একটিমাত্র বাক্যে – ‘বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত’। হাজার হাজার বছর ধরে এটা বলে আসা হচ্ছিলো যে, দাবিয়ে রাখাটা ন্যায়সঙ্গত, শোষণ করাটা ন্যায়সঙ্গত এবং বিদ্রোহ করা অন্যায়। এই পুরনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মার্ক্সবাদের উদ্ভবের পরই উল্টে গেলো। এটা একটা মহান অবদান। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সর্বহারাশ্রেণী এই সত্যকে শিখেছে এবং মার্ক্স এই উপসংহার টেনেছেন। আর তারপর এই সত্য থেকেই আসে প্রতিরোধ, সংগ্রাম, সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই।”

মাও সেতুঙ, স্তালিনএর ষাটতম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ইয়োনানে সর্বস্তরের জনগণের সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণ থেকে (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

The philosophers have always interpreted the world in various ways; the point, however, is to change it. (Marx, Theses On Feuerbach: Thesis 11, 1845) 

এক.

যে কোনো মতাদর্শ কিংবা দার্শনিক তত্ত্বেরই একটা বস্তুগত ভিত্তি থাকে। যে কোনো নির্দিষ্ট দেশকালের নিরিখে, নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক ব্যবস্থার মধ্য থেকেই একেকটা মতাদর্শ জন্ম নেয়। সমাজে নতুন বস্তুগত পরিস্থিতি নতুন ধারণা এবং তত্ত্বের জন্ম দেয়। এটাই মার্ক্সবাদের শিক্ষা। মার্ক্সবাদের নিজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

naxal-movement-321আজকের পৃথিবীতে সকল সংস্কৃতি, সকল সাহিত্য ও সকল শিল্পই বিশেষ শ্রেণীর সম্পত্তি এবং বিশেষ রাজনৈতিক লাইন প্রচার করাই তার কাজ। শিল্পের জন্য শিল্প, শ্রেণী স্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থিত বা রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন ও স্বাধীন শিল্প বলে আসলে কিছুই নেই। প্রলেতারীয় সাহিত্য ও শিল্প হচ্ছে সমগ্র প্রলেতারীয় বিপ্লবী লক্ষ্যেরই একটি অংশ; লেনিনের ভাষায় তা হচ্ছে বিপ্লবী যন্ত্রেরই দাঁত এবং চাকা। (শিল্প ও সাহিত্য প্রসঙ্গে মাওয়ের ইয়েনানে প্রদত্ত ভাষণ থেকে গৃহিত) (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: অজয় রায়

Communist_International-098একশো পঞ্চাশ বছর পূর্তী হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং মেনস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডব্লিউএমএ), যা প্রথম আন্তর্জাতিক হিসাবেও পরিচিত। ১৮৬৪ সালে লন্ডনে কার্ল মার্কসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক শ্রেণীর এই সংগঠন।[] যা ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত শ্রমিক আন্দোলনগুলির সমন্বয় সাধন করে। শ্রমিকধর্মঘটে সমর্থন যোগায় এবং ফ্রান্সপ্রুশিয়া যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবিরোধী প্রচার চালায়। আর শ্রমিক শ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি ও সমাজবাদের আদর্শের প্রসারে ভূমিকা নেয়। এর মধ্যেই ১৮৭১ সালে প্যারি কমিউনের মাধ্যমে সর্বহারার প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: নেসার আহমেদ

cht-movementপার্বত্য চট্টগ্রামে এখন সামরিকায়নের মাত্রা বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গ্রামের জনগোষ্টিকে উচ্ছেদ করে সামরিক ক্যাম্প বসানোর সংবাদ আসছে। আতঙ্কে ভুগছেন তারা। জনগোষ্টি হিসাবে তাদের পরিচয় হলো তারা পাহাড়ি জাতিসত্তার মানুষ। বেড়ে গেছে সেটেলার কতৃক পাহাড়ি জাতিসত্তার মানুষের ওপর নিপীড়ন। নারী নিপীড়নের হার। যার মধ্যে ধর্ষণ অন্যতম। পাহাড়ি জাতিসত্তার শিশুরাও রেহাই পাচ্ছেন না, সেই আগ্রসন থেকে। বাড়ছে সেটেলারদের সংখ্যা। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে। আইন তার খোলস ছেড়ে বেরিয়েছি। যা নিপীড়িত পাহাড়ি জনগোষ্টি প্রশ্নে নির্বিকার। বরং ক্ষেত্র বিশেষ প্রতিবাদী পাহাড়ি নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। (বিস্তারিত…)