Posts Tagged ‘কামরুল ইসলাম ঝড়ো’


মূল: অ্যালান এডগার

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

আমি সেই সময়টায় জনবসতি থেকে বহুদূর স্কটিশ হাইল্যান্ডের কেয়ার্নগর্ম পাহাড়ী এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলাম। দেখলাম একদল মানুষরূপী প্রাণী আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বুঝতে পারলাম ওরা ভিন গ্রহের। ওদের প্রত্যেকেরই কান স্টার ট্রেকের মি. স্পকের মতো খাড়া খাড়া। ওরা যখন আমার সামনে এসে পড়ল, তখন তাদের একজন বলে উঠল, “শুভেচ্ছা, আর্থলিং!” পৃথিবীর বাসিন্দাদেরকে ওরা ‘আর্থলিং’ বলে। আরেকটা বিষয় হলো, কোনো সাধারণ মানুষ তাদের মতো করে কথা বলে না। “আমরা মহাকাশ থেকে তোমাদের জন্য অভিবাদন নিয়ে এসেছি!’’ সৌভাগ্যবশত আমি প্রতিটি কথাই বুঝতে পারলাম, কারণ পৃথবীতে যে ছয় হাজার ভাষায় কথা বলা হয়, তারা তার একটা ভাষাই শিখেছে আর সেটাই আমি জানি। (বিস্তারিত…)

Advertisements

মূল: হেদার বল

অনুবাদ: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

[হেদার বল একজন অত্যন্ত সমাজসচেতন লেখিকা। তিনি ১৯৩৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি তাঁর বিখ্যাত ‘ম্যাডনেস’ গল্পের অনুবাদ]

—————————————

সম্প্রতি আমার এক ডাক্তারকে দেখাতে গিয়েছিলাম। তিনি তার অভ্যর্থনা ডেস্কেই বসলেন। তার পাশে রাখা চেয়ারটায় আমি বসলাম। আমার আগেকার স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পরীক্ষার রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্রগুলো তাঁর সামনেই ছিল। ডাক্তারের এক চোখ আমার দিকে এবং অন্যটি ওই কাগজপত্রের ওপর।

আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তা বলুন, এখন কী সমস্যা?”

বললাম, “আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

তিনি একটা পাতা উল্টালেন। বোধ হলো তিনি খুঁজছেন আমার আগে কখনও পাগল হবার ইতিহাস আছে কিনা। “তাই,” তিনি তাঁর আসনটার পেছন দিকে সরে বসলেন। জানতে চাইলেন, “কী কারণে আপনার এরকম মনে হচ্ছে? পৃথিবীর কোন জিনিসটা আপনাকে পাগল বানাচ্ছে?” আমি তাকে বললাম যে, পৃথিবীর সব কিছুর জন্যই আমার এরকম মনে হচ্ছে। তিনি অস্বস্তিবোধ নিয়ে ডেস্ক থেকে উঠে তার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। “একটু নির্দিষ্ট করে বলবেন কি?”

হ্যাঁ,” আমি বললাম, “মানুষ মানুষকে মারছে, একভাবে না হয় অন্যভাবে, দূষণ, অপুষ্টি…” (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: কামরুল ইসলাম ঝড়ো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোভিয়েত সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া গিয়েছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধের পর রাশিয়ার সামাজিক বিপ্লব এবং তাদের কর্মযজ্ঞ দেখে তিনি অভিভূত হন। এ সময় তিনি লেখেন: “… আপাতত রাশিয়ায় এসেছিনা এলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত। এখানে এরা যা কাণ্ড করছে তার ভালোমন্দ বিচার করবার পূর্বে সর্বপ্রথমেই মনে হয়, কী অসম্ভব সাহস। সনাতন বলে পদার্থটা মানুষের অস্থিমজ্জায় মনেপ্রাণে হাজারখানা হয়ে আঁকড়ে আছে; তার কত দিকে কত মহল, কত দরজায় কত পাহারা, কত যুগ থেকে কত ট্যাক্‌সো আদায় করে তার তহবিল হয়ে উঠেছে পর্বতপ্রমাণ। এরা তাকে একেবারে জটে ধরে টান মেরেছে; ভয় ভাবনা সংশয় কিছু মনে নেই। সনাতনের গদি দিয়েছে ঝাঁটিয়ে, নূতনের জন্যে একেবারে নূতন আসন বানিয়ে দিলে। পশ্চিম মহাদেশ বিজ্ঞানের জাদুবলে দুঃসাধ্য সাধন করে, দেখে মনে মনে তারিফ করি। কিন্তু এখানে যে প্রকাণ্ড ব্যাপার চলছে সেটা দেখে আমি সব চেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছি। শুধু যদি একটা ভীষণ ভাঙচুরের কাণ্ড হত তাতে তেমন আশ্চর্য হতুম নাকেননা নাস্তানাবুদ করবার শক্তি এদের যথেষ্ট আছেকিন্তু দেখতে পাচ্ছি, বহুদূরব্যাপী একটা ক্ষেত্র নিয়ে এরা একটা নূতন জগৎ গড়ে তুলতে কোমর বেঁধে লেগে গেছে। দেরি সইছে না; কেননা জগৎ জুড়ে এদের প্রতিকূলতা, সবাই এদের বিরোধী—যত শীঘ্র পারে এদের খাড়া হয়ে দাঁড়াতে হবেহাতে হাতে প্রমাণ করে দিতে হবে, এরা যেটা চাচ্ছে সেটা ভুল নয়, ফাঁকি নয়। হাজার বছরের বিরুদ্ধে দশপনেরো বছর জিতবে বলে পণ করেছে। অন্য দেশের তুলনায় এদের অর্থের জোর অতি সামান্য, প্রতিজ্ঞার জোর দুর্ধর্ষ।” (বিস্তারিত…)