Posts Tagged ‘কমিউনিস্ট আন্দোলন’


লিখেছেন: অভয়ারণ্য কবীর

প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর দীর্ঘদিন ধরেই নকশালবাড়ি আন্দোলন ও কমরেড চারু মজুমদারের উপর বিভিন্নভাবে আক্রমণ চালিয়ে আসছেনতিনি ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বরাবরই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন, রাজনৈতিক লাইনের নিরিখে মূল্যায়ন করেননিযদিও বদরুদ্দীন উমর লেনিনস্তালিনের নাম ব্যবহার করে শোধনবাদী রাজনীতির চর্চা করেন; তথাপি তিনি ও তাঁর সংগঠন (মুক্তি কাউন্সিল) বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে লেখায় বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গীতে ভ্রান্তি নিয়ে আলাপ করা হবেকেননা এই ভ্রান্ত দৃষ্টি দিয়েই তাঁর সম্পাদিত ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার জুন ২০১৮ সংখ্যায় তিনি নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা ভাস্কর নন্দীর (যিনি পরবর্তীতে নকশালবাড়ির বিপ্লবী পথ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) স্মরণে লেখা একটি প্রবন্ধে কমরেড চারু মজুমদারকে (সিএম) যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমণ করেছেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিপ্লবী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে, কথিত নির্ভুল বিপ্লবের তত্ত্বের সাগরে গা ভাসিয়ে . সিএমকে মূল্যায়ন করেছেন নিছক বিলোপবাদী দৃষ্টিতে (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: আনু মুহাম্মদ

[এই লেখাটি ১৯৮৬ সালে ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। লেখাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে মঙ্গলধ্বনি’তে প্রকাশ করা হলো। লেখাটি মঙ্গলধ্বনি’র কাছে পাঠাতে সহযোগিতা করেছেন মাসুদ রানা ও আসাদুজ্জামান আল মুন্না।সম্পাদক]

পুঁজিবাদের উদ্ভব এবং বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকশ্রেণীর উদ্ভব এবং বিকাশ ঘটে। আবার তা থেকে জন্ম নেয় শ্রমিকশ্রেণীর রাজনৈতিক মতাদর্শ, জন্ম হয় তার হাতিয়ার শ্রমিকশ্রেণীর পার্টির। ১৮৪৮ সালে যখন ইউরোপে পুঁজিবাদ দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত; শ্রমিকশ্রেণীও একইভাবে যখন একটি শক্তি হিসেবে উদ্ভূত সেই সময়ই কার্ল মার্কস এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস কমিউনিস্টি ইশতেহারের মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক আন্দোলন করে মজুরী বৃদ্ধি করাই শ্রমিকশ্রেণীর ঐতিহাসিক দায়িত্ব নয়, তার মুক্তির পথ নয়। সমাজ বিকাশের ধারায় অগ্রসর মতাদর্শ ধারণ করে তাকে শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাই উৎখাত করতে হবে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার পত্তন ঘটানোর দায়িত্ব তাঁদেরই। তাঁদের এবং মানব জাতির এটাই হচ্ছে মুক্তির পথ। এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সমাজ বিপ্লব ঘটাতে প্রয়োজন হবে তাঁদেরই একটি সুসংগঠিত পার্টির। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আহ্‌নাফ আতিফ অনিক

শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমর তার সম্পাদিত সংস্কৃতি পত্রিকার অক্টোবরনভেম্বর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শত বার্ষিকী বিশেষ সংখ্যায়, ‘সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামের পথ’ শিরোনামে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মূল্যায়নধর্মী একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। ই প্রবন্ধে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দেখেছেন। তার এই লেখাটি ছোট হলেও এটিই তার বর্তমান অবস্থানকে নির্দেশ করছে। তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সফলতাব্যর্থতাকে কিভাবে দেখছেন, তা এই লেখায় স্বল্প পরিসরে হলেও সামগ্রিকভাবেই এসেছে। কিন্তু ই লেখায় তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনকে মূল্যায়ন করেছেন এক যান্ত্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়নের দ্বারা। নিঃসন্দেহে বদরুদ্দীন উমর এদেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আর জন্যই তার অসা যুক্তির লেখাটিকে সংগ্রাম করাকে বিপ্লবী কর্তব্য বলেই মনে করি। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

পুলিশ হেফাজতে কমরেড চারু মজুমদারের শেষ ছবি

পুলিশ হেফাজতে কমরেড চারু মজুমদারের শেষ ছবি

কমরেড সিএমএর দৃষ্টিভঙ্গীটা গ্রহণ করাই হল আজকের দিনে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা। ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনে সিএম ই প্রথম নেতা যিনি দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষককে নেতৃত্বে উন্নীত করার কথা বলেন।

দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের নেতৃত্বে উন্নীত করতে না পারলে যত বড় বিপ্লবী সম্ভাবনাই থাকুক না কেন শ্রেণী সংগ্রাম ব্যর্থ হতে বাধ্য। এই সব কৃষকদের স্কোয়াডকে গণতান্ত্রিক অধিকার দিলেই তাদের বিপ্লবী উদ্যোগ বাড়বে। এই অধিকার দিতে বাধা দেয় আমাদের মধ্যে সংশোধনী চিন্তাধারা। ক্ষমতা দখলের রাজনীতিই পারে তাদের চিন্তাজগতে আলোড়ন আনতে। গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের নেতৃত্ব বিপ্লবী কমিটি প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই বিপ্লবী কমিটির নেতৃত্বে ব্যাপক কৃষক জনতাকে সংগ্রামে সামিল করা। এই দুটি কাজ সফলভাবে করতে পারলে ঘাঁটি এলাকা গড়ার সমস্যার সমাধান হবে। (বিস্তারিত…)

তাহের হত্যা, ৭ নভেম্বর :: অসমাপ্ত বিপ্লব

Posted: নভেম্বর 6, 2012 in দেশ, মতাদর্শ
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: শাহেরীন আরাফাত

কর্নেল আবু তাহের

কর্নেল আবু তাহের

৭ নভেম্বর, বাংলার ইতিহাসের এক অনন্য দিন। কারো মতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সূচনা, আবার কারো মতে তা বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বিএনপি’র পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, এই দিনে সিপাহিজনতার উত্থানের মধ্য দিয়ে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, ফলে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং সার্বভৌমত্বস্বাধীনতা রক্ষা পায়। ৭ নভেম্বর বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করলেও এই বিপ্লব সংঘটনের অপরাধেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম ও তাঁর রাজনৈতিক দল জাসদের নেতৃবৃন্দকে এক প্রহসনের বিচারের মুখোমুখি করা হয়, কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, ঐ দিনের ঘটনাক্রম ছিল পাকিস্তান আমল বা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বুর্জোয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকে একদমই ভিন্ন। সেদিন সমাজতন্ত্রের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্যরা একটি ভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে আসে। আর সেক্ষেত্রে রাশিয়ায় কমরেড ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের দিনটিকেই (৭ নভেম্বর) বেছে নেয়া হয় বাংলাদেশে বিপ্লবের জন্য। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ, চাটুকার ঘেরা তৎকালীন সরকার, রাষ্ট্রদ্রোহীতার দায়ে জাসদের (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) নিষিদ্ধকরণ ও দমন নিপীড়ণের স্বার্থে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীসমর্থকদের হত্যা এবং মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে কতগুলো অভ্যুত্থান আর রক্তপাতের বিরুদ্ধে ছিল তাদের তীব্র ঘৃণা; আর এরই ফলশ্রুতিতে জাতীয় জীবনে পরিপূর্ণ মুক্তির লক্ষ্যে তাদের এই প্রচেষ্টা। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এখনকার শোষকের ভাগীদার জাসদ আর তৎকালীন জাসদকে এক করাটা পুরোদস্তুর বোকামী হবে। তবে কর্নেল তাহেরের কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে দলটির মূল্যায়ণ অতীব জরুরী, যা আমরা আলোচনার পরের অংশে করব। (বিস্তারিত…)


অনুবাদ: সিয়াম সারোয়ার জামিল

(১ম পর্বের পর)

সংগ্রামের জন্য একটি অস্ত্র

দার্শনিকেরা শুধুমাত্র বিভিন্ন উপায়ে বিশ্বকে ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু মূল কথা হলো তাকে বদলে দেওয়া।(কার্ল মার্কস, ১৮৪৫)

মধ্য ফেব্রুয়ারীতে, The Manifest der Kommunistischen Parteiকমিউনিস্ট লীগের অফিসিয়াল কর্মসূচী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর কিছু দিনের মধ্যেই প্যারিসে অভূত্থান ঘটে, ফরাসি রাজা ক্ষমতাচ্যুত হনকয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভিয়েনা এবং বার্লিনে বিপ্লব কমিউনিস্টদের প্রত্যাশানুযায়ী ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেআন্দোলনের মুখে সরকারগুলো বিপদে পড়ে যায়, যারপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন মহাদেশের জুড়ে আরো প্রসালাভ করে

কার্ল মার্কস

মার্কস ও এঙ্গেলসের ম্যানিফ্যাস্টো সাদরে গৃহিত হলো। ইউরোপে সংগঠিত কমিউনিস্টদের ছোট দলটির কাছেএখন ছিল যুদ্ধ করার মতো বড় হাতিয়ার। ম্যানিফেস্টোটি জার্মান ভাষা থেকে দ্রুত ইংরেজি, ফরাসি, পোলিশ এবং ডেনিশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়

মন অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন বেলজিয়ান পুলিশ কার্ল মার্কসকে গ্রেফতার করেতাঁকে খুঁজতে গিয়ে গৃহহীনতার অভিযোগে গ্রেফতার হন মার্কসের স্ত্রী জেনি মার্কসও। মার্কস দম্পত্তিকে বেলজিয়াম থেকে বহিষ্কারকরে প্যারিসে পাঠানো হয়। মার্কস ও এঙ্গেলস আবার কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি দাঁড় করান এবং জার্মান শ্রমিক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। খুব দ্রুত সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৪০০ তে উন্নীতহয়। ফলে সকলের দৃষ্টি ছিল জার্মানির দিকে। এঙ্গেলস লিখেন, সবকিছু ভাল ভাবেই চলছে, দাঙ্গা সর্বত্র…..(বিস্তারিত…)


অনুবাদ: সিয়াম সারোয়ার জামিল

কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর দেড়শবছর পূর্তি উপলক্ষে এই ঐতিহাসিক নিবন্ধটি চৌদ্দ বছর আগে লিখিত হয়েছিল। এরপর এটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে।

এটি কমিউনিস্ট আন্দোলনের শুরুর দিকে কমিউনিষ্ট তাত্ত্বিকতা এবং দু:সাহসী বিপ্লবের গল্প। বিপ্লবের এই তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অনুশীলন তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে নতুনদের উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বটা আমাদের সবাইকেই হাতে তুলে নিতে হবে।

(সম্ভবতঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এটি অনূদিত হলোপ্রকাশক)

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

ব্রাসেলসে আটক কার্ল মার্কস

১৮৪৮ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারীতে লন্ডনের বিশপগেটে অবস্থিত একটি ছোট মুদ্রণ যন্ত্রে কমিউনিস্ট ইশতেহার ছাপা হয়েছিল। জার্মান ভাষায় লিখিত এই পুস্তিকাটির নাম দেত্তয়া হয় Manifest der Kommunistischen Partei”

প্রকাশের পরই ইউরোপে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। নানা রকম জটিলতা সৃষ্টিসরকারি দমনের পরও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ঐসময় বিপ্লবী কর্মীদের ছোট একটি দল একটি বড় রকমের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিল, যা তাদের আন্দোলনকে বিপ্লবী রূপ দান করবে।

এই বইয়ের একটি লাইনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছিল:

ইউরোপে ভূত নেমেছেকমিউনিজমের ভূত, যা ইউরোপ চষে বেড়াচ্ছে। ইউরোপের ক্ষমতাবানরা জোট বাঁধতে শুরু করেছিলযাতে সাম্যবাদ ই্উরোপে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এটি কমিউনিষ্টদের পৃথিবীর সামনে আসার জন্য উপযুক্ত সময় ছিল। একইসাথে নতুনদের সামনে পার্টির মাধ্যমে একটি ম্যানিফ্যাস্টোতে তাদের নীতি, তাদের লক্ষ্য, তাদের রাজনৈতিক ধারা প্রকাশের সুযোগ এসেছিল।” (বিস্তারিত…)