Posts Tagged ‘কমরেড চারু মজুমদার’


লিখেছেন: সব্যসাচী গোস্বামী

যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না সে বিপ্লবী হতে পারে না।”

সে অনেক বছর আগের কথা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন মহান শিক্ষক আমাদের বোকাবুড়োর গল্প শুনিয়েছিলেন। সে গল্প শুনে এদেশে এক বোকাবুড়ো শুরু করেছিলেন পাহাড় সরানোর কাজ। তাঁর ডাকে হাজার হাজার দেবদূত এসেছিলেন এ কাজে অংশ নিতে। তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন কখনো পুলিশের গুলিতে; কখনো জেলের অন্ধুকুঠুরিতে; কখনো শাসক দলের গুন্ডা বাহিনীর হাতে। কেউ কেউ জীবনের দীর্ঘদিন কাটিয়েছিলেন কারান্তরালে। তাদের মধ্যে আজ কেউ কেউ পাহাড় সরানোর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। আজ তাঁরা গাইতিকোদাল নিয়ে ‘হেই সামালো’ হেঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন পাহাড় সরানোর কাজ।

ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বয়স নয় নয় করেও বিরানব্বইচুরানব্বই বছর হয়ে গেলো। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নকশালবাড়ির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্রযুবদের মধ্যে যে আলোড়ন তুলেছিল, তা এক কথায় বললেঅভূতপূর্ব। আত্মত্যাগের এ যেন এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সেই বোকাবুড়ো। কি ছিল তাঁর আবেদনে, যা শুনে হাজার হাজার ছাত্রযুব ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে, ঘরবাড়ি, পরিবারপরিজন ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই পাহাড় সরানোর মহাযজ্ঞে। (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: মনজুরুল হক

পুলিশ হেফাজতে কমরেড চারু মজুমদারের শেষ ছবি

পুলিশ হেফাজতে কমরেড চারু মজুমদারের শেষ ছবি

কমরেড সিএমএর দৃষ্টিভঙ্গীটা গ্রহণ করাই হল আজকের দিনে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা। ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনে সিএম ই প্রথম নেতা যিনি দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষককে নেতৃত্বে উন্নীত করার কথা বলেন।

দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের নেতৃত্বে উন্নীত করতে না পারলে যত বড় বিপ্লবী সম্ভাবনাই থাকুক না কেন শ্রেণী সংগ্রাম ব্যর্থ হতে বাধ্য। এই সব কৃষকদের স্কোয়াডকে গণতান্ত্রিক অধিকার দিলেই তাদের বিপ্লবী উদ্যোগ বাড়বে। এই অধিকার দিতে বাধা দেয় আমাদের মধ্যে সংশোধনী চিন্তাধারা। ক্ষমতা দখলের রাজনীতিই পারে তাদের চিন্তাজগতে আলোড়ন আনতে। গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের নেতৃত্ব বিপ্লবী কমিটি প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই বিপ্লবী কমিটির নেতৃত্বে ব্যাপক কৃষক জনতাকে সংগ্রামে সামিল করা। এই দুটি কাজ সফলভাবে করতে পারলে ঘাঁটি এলাকা গড়ার সমস্যার সমাধান হবে। (বিস্তারিত…)


 image003 (2) (বিস্তারিত…)

বাংলাদেশ :: কর্পো-মিলিটোক্রেসির সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, নয়া ঔপনিবেশিক অভয়ারণ্য

Posted: জুলাই 5, 2012 in অর্থনীতি, দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

বিদ্রোহএক.

বাপদাদার আমলে, নিজের ছোটবেলায় ভালো ছেলের সংজ্ঞা ছিলো : তারা সিগারেট, মদ, বিড়ি কিছু খায়না, বাবামা, মাস্টারমশাই, গুরুজনদের কথা মান্য করে চলে, কোনকিছুর প্রতিবাদ করেনা, কখনো ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার কথা ভাবেনা। এখন তা কিছুটা বদলে হয়েছে অনেকটা এমন : তারা কখনো দু’দন্ড বসে কিছু চিন্তা করেনা, কোন কিছুতেই প্রশ্ন করেনা, বনের মোষ তাড়ানো তো দূরের কথা ঘরে মোষ ঢুকলেও তাড়ায়না, বিনা বাক্যব্যয়ে বুদ্ধিবৃত্তির খাসীকরণ গ্রহণ করে, একপাল শুয়োরের সাথে নরককূন্ডে বসবাস, সহাবস্থানে দ্ব্যর্থহীনভাবে তাকে শুয়োরের খোয়াড় না বলে কাঁপা কাঁপা গলায় আবেগগ্রস্ত কবির ভাষায় বলে, ‘আমি এই দেশকে নিয়ে অনেক গর্বিত’, ‘আমি অনেক আশাবাদী আমার সুজলাসুফলা দেশকে নিয়ে’, ‘এই দেশ একদিন সারা বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবেই’ব্লা ব্লা ব্লা। বলাই বাহুল্য এসব কথা কর্পোরেট দস্যুদের শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া কিছু প্রলাপ বিশেষ ব্যতীত আর কিছু নয়। নাহলে যখনই সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মূর্খ বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত ফুটবলের বাংলা করেছে– ‘চর্মনির্মিত গোলাকার বস্তুবিশেষ যা পদাঘাতে স্থানান্তরিত হয়’, তখনই তার জাতি গঠনের পথ পিছিয়েছে সহস্রাব্দী বছর। আমাদের ভাবনাচিন্তার আভিজাত্যে এর ফলে যতই ঘা লাগুক না কেন বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এ এক তর্কাতীত সত্য। (বিস্তারিত…)


কমরেড চারু মজুমদার

ভারতের বুকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ। ১৯৬৭ সালের বসন্তে ভারতে গণযুদ্ধের সূচনা করেন কমরেড চারু মজুমদার। গড়ে ওঠে মাও চিন্তাধারার পার্টি সিপিআই (এমএল)। এই পার্টি ও গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে চারু মজুমদারকে লড়তে হয়েছিল সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে, চালাতে হয়েছিল এক ক্ষুরধার সংগ্রাম মধ্যপন্থার বিরুদ্ধে। তিনি বলেনঃ

“…পার্টির মধ্যে দুই লাইনের লড়াই রয়েছে এবং থাকবে। ভুল লাইনগুলোর নিশ্চয়ই আমরা বিরোধিতা করবো এবং পরাজিত করবো। কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে মধ্যপন্থার বিরুদ্ধে। মধ্যপন্থা এক ধরণের সংশোধনবাদ, মধ্যপন্থা সংশোধনবাদের জঘন্যতম রূপ। অতীতে সংশোধনবাদ বিপ্লবীদের হাতে বারবার পরাজিত হয়েছে এবং প্রতিবারই মধ্যপন্থা এই লড়াইয়ে জয়ের ফলকে কব্জা করেছে এবং পার্টিকে সংশোধনবাদের পথে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের ঘৃণা করতে হবে মধ্যপন্থাকে। নির্বাচন বয়কটের প্রশ্নে নাগি রেড্ডি বলেছিল, ‘হ্যাঁ, আমরাও এটা মানি কিন্তু বয়কট বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের এবং বিশেষ সময়ে প্রজোয্য। যেখানে কোনো লড়াই নেই, সেখানে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।এই হলো নাগি রেড্ডির লাইন, এই হলো মধ্যপন্থা। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়েছি এবং নাগি রেড্ডিকে আমাদের সংগঠন থেকে দূর করে দিয়েছি। সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছিল, ‘সোভিয়েত নেতারা সংশোধনবাদী কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী হবে কী করে? একচেটিয়া পুঁজির সে বিকাশ কোথায়?’ এরা হচ্ছে মধ্যপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি এবং লড়ে আমাদের পার্টি থেকে তাদের বের করে দিয়েছি। তখন মধ্যপন্থীরা তুললো ট্রেড ইউনিয়নের প্রশ্ন এবং যখন কৃষকের ওপর নিভর করে সশস্ত্র শ্রেণীসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে তখন আওয়াজ তুলল শ্রমিকশ্রেণী ভিত্তিক পার্টি। এইসব প্রশ্নে অসিত সেন কোম্পানীর সঙ্গে আমরা লড়েছি এবং তাদের পার্টি থেকে দূর করে দিয়েছি। তাই আমাদের শুধু সঠিক ও বেঠিক লাইনের মধ্যে পার্থক্য দেখলেই চলবে না, মধ্যপন্থীর অবস্থানকেও আমাদের বার করতে হবে ও তাকে চূর্ণ করতে হবে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার

ষাঁটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মনি সিংহমোজাফ্ফরদের রুশপন্থী সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ আন্তরিক বিপ্লবীদের বিদ্রোহের প্রক্রিয়ায় গঠিত ইপিসিপি (এমএল) এবং এর ধারাবাহিকতার অন্যান্য দল ও উপদলগুলো নিজেদের সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি হিসেবে দাবী করার পরও ১৯৬৭ সাল থেকেই কমরেড সিরাজ সিকদার এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী–মাওসেতুঙ চিন্তানুসারী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই উদ্যোগের মূলে ইপিসিপি (এমএল) ও এর থেকে বিভক্ত অন্যান্য দলউপদলগুলো জন্মের শুরু থেকেই যে সংশোধনবাদী লাইন গ্রহণ অনুসরণ করে তার বিরোধিতা করা এবং এর বিপরীতে একটি সত্যিকার মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা।

. সে সময় ইপিসিপি (এমএল) আন্তর্জাতিকভাবে ক্রুশ্চেভের নেতৃত্বে রুশ পার্টির আধুনিক সংশোধনবাদী এবং দেশীয় ক্ষেত্রে মনিখোকামোজাফ্ফর চক্রের লাইনের বিরোধিতা করলেও সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগ্রাম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ এরাই ইতিপূর্বে মনিখোকামোজাফ্ফরদের নেতৃত্বে তাদের সংশোধনবাদী, সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী ও বিলোপবাদী লাইন অনুশীলন করেছিল, পার্লামেন্টারী রাজনীতি তথা নির্বাচনকেন্দ্রীক রাজনীতির অনুসারী ছিল। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিভক্তির সময় মার্কসবাদীলেনিনবাদী বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি, অনুশীলনের সঠিক ও সার্বিক সারসংকলন এবং আত্মসমালোচনা করতে ব্যর্থ হয়। বরং অভ্যন্তরীন লাইনের ক্ষেত্রে তারা ওই সকল প্রকাশ্য গণসংগঠনবাদী, সংস্কারবাদীঅর্থনীতিবাদী অনুশীলনেই (৭০ এর পূর্ব পর্যন্ত) নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে।

মস্কোপন্থী সংস্কারবাদীদের থেকে বিভক্ত হওয়ার পরও এরা পেটি বুর্জোয়া সংস্কারবাদী ভাসানী ন্যাপের কাঠামোর অধীনে সংস্কারবাদী ও বিভ্রান্তিকর প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতায় নিজেদের নিয়োজিত রাখে। হক, তোয়াহা’র মত নেতৃস্থানীয় ‘কমিউনিস্ট’রাও ইসলামী সমাজতন্ত্রের মত বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ্যেই প্রচার করে এবং এভাবে শ্রমিক শ্রেণীর একটি বলশেভিক ধরণের বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টি গড়ে তুলতে তারা ব্যর্থ হয়। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: শিহাব ইশতিয়াক সৈকত

সহায়তায়: শাহেরীন আরাফাত

শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার

শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার বা তাঁর হাতে গড়া ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’র নাম আমরা অনেকেই জানি। কমরেড সিরাজ সিকদার এবং সর্বহারা পার্টি, এই দু’টি নাম পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও কবি। একজন চিন্তাশীল এবং আদর্শবাদী ছাত্র নেতা হিসেবেও তাঁর মূল্যায়ন থাকা উচিৎ। উনার সম্পর্কে নিজের কিছু অনুভূতি প্রকাশ করতেই এই লেখার অবতারণা।

সিরাজ সিকদার, এক অকুতোভয় দেশপ্রেমিক, যার অস্তিত্বে জড়িয়ে আছে স্বদেশ, অথবা তার অস্তিত্ব ছড়িয়ে আছে স্বদেশের প্রতিটি কোণায়। তিনি অনুধাবন করতে সমর্থ হয়েছিলেন যে, মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য বিপ্লবের কোন বিকল্প নেই। শরিয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জে ১৯৪৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী এই বিপ্লবী ১৯৭৫ সালের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দি ও পরদিন ওই উর্দি পরা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশে বিচার বহির্ভুত হত্যা, ‘ক্রসফায়ার’ কালচারের এক কলুষিত অধ্যায়, যার ধারকেরা এখনো এটি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

সিরাজুল হক সিকদার ১৯৫৯ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক ও ১৯৬১ সালে ব্রজ মোহন কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। তৎকালীন সময়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যত কর্মজীবনের কথা ভেবে রাজনীতি থেকে দূরে থাকত, কারণ অঘোষিতভাবে ইউনিভার্সিটিতে তখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এসময়েই সিরাজ সিকদার ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তখন তিনি লিয়াকত হলের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন (মেনন গ্রুপ)। তিনি ১৯৬৭ সালে বুয়েট থেকে ১ম বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন। ডিগ্রী লাভের পর পরই তিনি সরকারী চাকরীতে (সি অ্যান্ড বি বিভাগের প্রকৌশলী হিসেবে) যোগ দান করেন, কিন্তু মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তিনি চাকরী থেকে ইস্তফা দিয়ে টেকনাফ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি বেসরকারী কোম্পানীতে যোগদান করেন। কিন্তু এর মাঝেই বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: মনজুরুল হক

কমরেড চারু মজুমদার

নকশাল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হিসেবে চারু মজুমদার ছিলেন ভারতের জীবন্ত কিংবদন্তী। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কলকাতার পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে, ২৮ জুলাই পুলিশ হেফাজতেই তিনি মারা যান। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ওজন ছিল মাত্র ৯৬ পাউন্ড। মত্যুর ৩৯ বছর পরও তাঁর দেখানো মাওবাদী সশস্ত্র সংগ্রামে কাঁপছে ভারত। আজ ২৮ জুলাই চারু মজুমদারের মৃত্যুর ৩৮ বছর পার হলো। তাঁর মৃত্যু নিয়ে সামনের সময় আরো কথা উঠবে, চলবে আরো আলোচনা।

মারা যাবার আগে তিনি ভুগছিলেন মায়োকার্ডিয়াল ইসকিমিয়া উইথ অ্যানজাইনাতে। ব্যাপারটা হচ্ছে হার্টে ব্লাড সাপ্লাই কমে যাওয়া। দুবার হার্ট অ্যাটাকও হয়ে গেছে। প্রথম ব্যথা হয় দার্জিলিংয়ে পার্টির মিটিংয়ে গিয়ে। হেঁটে ওপরে ওঠার সময় বুকে অসম্ভব ব্যথা হয়। মিটিং সেরে শিলিগুড়িতে ফিরে আসেন। কালু ডাক্তার ইনজেকশন দেন, সারা রাত ছটফট করেছিলেন। ইনভেস্টিগেশনের জন্য তাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিল চারু মজুমদারের ছোট ছেলে অভিজিৎ। শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত তাকে দেখেন, সেই সময় ভীষণ ব্যথা হয় বুকে। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়, হার্ট অ্যাটাক। এক মাস ভর্তি ছিলেন ফ্রি বেডে। ডাক্তাররা বলে রেস্ট্রিক্টেড লাইফ লিড করতে হবে এবং সিগারেট ছাড়তে হবে। ন্যাশনাল মেডিক্যালে চেক আপও করানো হয়। তারপর থেকে অ্যানজাইনার পেইনটা উঠত। তখন কন্ট্রোল করা যেত না। (বিস্তারিত…)