Posts Tagged ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’


লিখেছেন: এম.এম. হাওলাদার

.

মায়ের কোলে রাখলে মাথা

কার ইশারায় খবরদারি?

মায়ের ভাষায় বলতে মানা

কোন নিয়মে হুকুম জারি?

.

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি,

শহীদ মিনার কাঁদছে কেন?

রফিকসালামবরকতেরা

প্রাণ দিয়েছেন বৃথাই যেন! (বিস্তারিত…)

Advertisements

লিখেছেন: ম হাসান

ইতিহাস প্রায়শ গল্পে পরিণত হয় কিংবা কিংবদন্তীতে এবং এতে এক ধরণের সরলীকীকরণের ঝুঁকি থাকে অথবা বলা যায় ইতিহাস তখন তার বাস্তব অস্তিত্বের বহুমাত্রিকতা হারায়। বিশেষত যে দেশে শিক্ষিতের হার নিতান্ত সামান্য সেখানে সেটা আরো স্বাভাবিক, কারণ গল্প মনে রাখা এবং ছড়িয়ে দেয়া সহজ। একটা বহুল প্রচলিত উক্তি আছে যে, ইতিহাসের শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না ()

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভাষাবিতর্ক নিয়ে ভাবতে গিয়ে এই কথাগুলোই বিশেষভাবে মনে এলো। প্রথমত, এই ভাষাবিতর্ক অবধারিতভাবে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেহেতু জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশই কোন ধরণের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত, তাদের পক্ষে এমন উচ্চতর প্রসঙ্গে বিতর্কে অংশগ্রহণ অভাবনীয়। (তবে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তাদের মতামত জানতে ইচ্ছুক এবং জানবার চেষ্টা করছি। সেই কাজ শেষ হলে তা নিয়ে পরবর্তীতে লিখবার আশা রাখি।)

এটা বুঝবার জন্যে বুদ্ধিজীবী হবার প্রয়োজন পড়ে না যে, একটি ভাষাভাষী অঞ্চলের কথ্য ভাষার নানান রূপ থাকে বলেই একটি মান ভাষার প্রয়োজন পড়ে এবং এমনটা পৃথিবীর সব ভাষাতেই বর্তমান। আমরা যখন বলি, পৃথিবীর সব ভাষা‘, তখনও এক অর্থে বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মান বা প্রমিত ভাষার প্রতিই নির্দেশ করি, তাদের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর প্রতি নয়। কিন্তু এতে করে ঐ সমস্ত ভূখণ্ডের আঞ্চলিক ভাষাগুলি খারিজ বা অস্তিত্বহীন হয়ে যায় না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

If you talk to a man in a language he understands, that goes to his head. If you talk to him in his language, that goes to his heart.” – Nelson Mandela

দুই’শ বছর ধরে ব্রিটিশদের পায়ের নিচে থেকে সাদা চামড়ার পাড় ভক্ত এই আমরা নেলসন ম্যান্ডেলার মর্ম বুঝতে কোনদিনই সক্ষম ছিলাম না। স্কুলে থাকতে বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত নষ্ট হবার পথে পা বাড়ায়নি ততক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষায় যদি ‘তোমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব’ নামক রচনা আসে তবে তাতে হয়ত হাতেগোনা দুই একজন নেলসন ম্যান্ডেলার কথা লিখবে। ব্যাস এই পর্যন্তই, আর হয়ত আমাদের গাত্রবর্ন কৃষ্ণ বলেই ভদ্রলোককে আমরা নিদেনপক্ষে ঘৃণা করিনা। এমতাবস্থায় তার উপরিউক্ত উক্তিটির মর্ম এই জনপদের মানুষ বুঝবে এমনটা প্রত্যাশা করা আর ক্রিকেট খেলার কোন বড় আসরে দক্ষিন আফ্রিকা জিতবে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার (!) মাঝে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু তারপরেও উক্তিটির কথা চলে আসে, ২১ ফেব্রুয়ারী নামক একটি দিনকে আমরা অস্বীকার করে যেতে পারিনা বলেই।

২১ ফেব্রুয়ারী নিরীহ ঘরানার ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ নয়, তাকে এমনটা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরাও সাগ্রহে মেনে নিয়েছি। ২১ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভাষাভিত্তিক বিদ্রোহ, প্রতিবাদ। কিন্তু এখন কি দেখা যাচ্ছে? ৪ দশক ধরেই এর বৈপ্লবিক দিকটি আপামর জনসাধারণের নিকট বিস্মৃত, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর মর্ম প্রতিটি দিনে ভুলুন্ঠিত। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি ২১ ফেব্রুয়ারীতে অনানুষ্ঠানিক কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত ‘প্রভাতফেরী’ দেখা যেত, দেখা যেত ভাইয়ের বোনের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিবেদন। কিন্তু আমাদের আর তর সইলোনা, রাত বারোটা বেজে এক মিনিটে সৈন্য সামন্তদের নিয়ে রাষ্ট্রের কুশীলবদের রাষ্ট্রীয় পদানুযায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়ে দাঁড়িয়েছে আনুষ্ঠানিকতা। প্রভাতফেরীর ধব্বংসাবশেষ টুকরা টাকরা হয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এদিকে ওদিকে। আমরা হাত তালি দিয়েই যাচ্ছি তো দিয়েই যাচ্ছি, প্রভাতফেরী নয় তালেবরদের পুষ্পস্তবক অর্পণেই আমরা খুশী! (বিস্তারিত…)

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস

Posted: ফেব্রুয়ারি 20, 2012 in দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

কর্পোরেট কালো থাবায় স্বকীয় বাঙলা ভাষার নাভীশ্বাস এবং ভাষার আধুনিক টার্মোলজি :: রাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদ

লিখেছেন: মালবিকা টুডু

মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা; তবে ভৌগোলিক অবস্থান, কাল ভেদে তা পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগেও ভাষার উন্মেষ ঘটেছিল, আবার হাজার বছর পরেও ভাষা থাকবে; তবে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে তার স্বরূপ পরিবর্তিত হয়, সেই সাথে পরিবর্তন আসে সাহিত্যসংস্কৃতি, জীবন আচারেও। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যেখানেই মানুষ আছে, সেখানেই ভাষা আছে; আদিম ভাষা বলে কিছু নেই, সব মনুষ্য ভাষাই সমান জটিল এবং মহাবিশ্বের যেকোন ধারণা প্রকাশে সমভাবে সক্ষম; যেকোন ভাষার শব্দভাণ্ডারকে নতুন ধারণা প্রকাশের সুবিধার্থে যৌক্তিক উপায়ে নতুন শব্দ গ্রহণ করিয়ে সমৃদ্ধ করা সম্ভব; সব ভাষাই সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয; মানুষের ভাষায় ভাষায় যে পার্থক্য, তার কোন জৈবিক কারণ নেই; যেকোন সুস্থ স্বাভাবিক মানব সন্তান পৃথিবীর যেকোন ভৌগলিক, সামাজিক, জাতিগত বা অর্থনৈতিক পরিবেশে যেকোন ভাষা শিখতে সক্ষম।

ভাষার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তার সৃষ্টিশীলতা; ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে জাতি, এমনকি জাতিরাষ্ট্র; উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র’র কথাই বলা চলে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র ভাষাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে; পরবর্তীতে এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। তবে এই আন্দোলনের বীজ বোনা হয় ১৯৪৭ সালে, যখন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়াউদ্দীন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করেন। ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা” প্রবন্ধে, সেখানে তিনি লেখেন– “কংগ্রেসের নির্দিষ্ট হিন্দীর অনুকরণে উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গণ্য হইলে তাহা শুধু পাশ্চাদগমনই হইবে।…….. বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে।” দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, কিন্তু পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা, বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে যে বিশাল পার্থক্য ছিল, সেই পার্থক্যকে শাসকশ্রেণী কখনোই লঘু করার চেষ্টাটুকুও করেনি তাদের শ্রেণী চরিত্রের কারণেই। (বিস্তারিত…)