Posts Tagged ‘ইসলাম’


atheism-1লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

নিজের মতবাদ বা স্বোপার্জিত সত্যের জন্য জীবন বরবাদ করে ফেলা জ্ঞানীগুণীদের মধ্যে সক্রাতেসের নাম সর্বাগ্রে। এদের মধ্যে যিশু জেনো গ্যালেলিও হাইপেশিয়াসহ আরো অনেকেই আছেন। আমাদের দেশে সম্প্রতি জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা বেড়েছে বা বাড়ছে এরই প্রমাণ একে একে হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার রাজিব বা হালে অভিজিত রায়ের হত্যা। সক্রাতেস প্রথাগত সমাজের সঙ্গে তর্ক করে বুঝতে চেয়েছিলেন যে, সমাজ কতটুকু পিছিয়ে আছে। আসলে সক্রাতেসের সব তর্কের পেছনেই আছে মানুষের মঙ্গল চিন্তা। প্লাতনের মাধ্যমে যেই সক্রাতেসকে আমরা বুঝি, তিনি আগাগোড়াই একজন ইন্টেলেকচুয়াল বা বিদ্বজ্জন। সব বিষয়আশয় নিয়েই তিনি চিন্তাভাবনা করেছেন। কিন্তু গতানুগতিকতার স্রোত থেকে এরপর আলাদা করেছেন নিজেকে। কিন্তু অন্যসব মানুষ সক্রাতেসের মতো চিন্তায় এগিয়ে যেতে পারেননি। ফলে সক্রাতেস ক্রমাগত তাদের কাছে আলাদা হতে হতে তাদের অপরে পরিণত হন। তিনি একা হয়ে যান। তার চিন্তাজগতের আশপাশে সাধারণ মানুষ নেই। যদিও তিনি সাধারণের জন্যই চিন্তা করেছেন। এমনকি আমজনতার অধিকারের কথা ভেবে সারাজনম ব্যয় করা কার্ল মার্কসের প্রলেতারিয়েতরাও মার্কসবাদী নয়। (বিস্তারিত…)

Advertisements

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নয়া উদারবাদী যুগে শাসনপ্রনালী ও কথকতা” নামের প্রকাশিতব্য সংকলনের প্রবন্ধ

লিখেছেন: বখতিয়ার আহমেদ

book-cover-1[সংকলকের ভূমিকা: আমাদের সমাজে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নানান অভিঘাতকে নির্মোহ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করে থাকেন বখতিয়ার আহমেদ। রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক যে গরীব কৃষকশ্রমিকের টাকায় যে জ্ঞানচর্চা করেন; তা একটিবারের জন্যও ভুলে যান না। সমাজে ক্ষমতাশালী কোনো অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন না তিনি। করেন না বলেই রাষ্ট্রআইনকানুননিও লিবারাল বাজারের আধিপত্যকে নৃবৈজ্ঞানিক অবস্থান থেকে নির্মোহ বিশ্লেষণ করতে পারেন তিনি।

বখতিয়ার আহমেদের কাছে প্রথমে লেখা চেয়েছিলাম এই সঙ্কলনের জন্য। পরে সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং কাজের ব্যাপারে তার পারফেকশান আর ধীর গতির (দুটোই আমার কাছে ইতিবাচক। সেকারণেই তিনি যা বলেন/লেখেন তা জরুরি হয়ে ওঠে। হুটহাট বলেন না বলেই।) কথা মাথায় রেখে ফন্দি আঁটি কোনোভাবে একটি বক্তৃতা করিয়ে নেয়া যায় কিনা তাঁকে দিয়ে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: জাহেদ সরওয়ার

gaza-35আরব বিশ্ব বহুদিন ধরে পশ্চিমাবিশ্বের জ্বালানির স্থায়ী জোগানদার। তেলের খনির ওপর ভাসমান আরববিশ্ব তাই পশ্চিমাদের জন্য অপরিহার্য। মাঝখানে লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলাসহ আরো কিছু দেশের তেলের জোগান তারা হাত করতে পেরেছিল। কিন্তু লাতিন আমেরিকায় ফিদেল কাস্ত্রো ও হুগো চাভেজের নেতৃত্বে দখলদার বিরোধী চেতনা জোরদার হলে পশ্চিমাবিশ্ব সেখান থেকে একপ্রকার পাত্তাড়ি গোটায়। যদিও হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর আবার ভেনেজুয়েলা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। অস্থির করে তুলেছে চাভেজপরবর্তী মাদুরো সরকারকে। বলা হয়ে থাকে, ভেনেজুয়েলায় সৌদি আরবের চেয়ে বহুগুণ তেলের মজুদ আছে। তবে আরববিশ্বকে তারা হাতে রেখেছে বিভিন্ন কৌশলে। আরববিশ্ব একসময় ব্রিটেন, ফ্রান্সের যৌথ উপনিবেশ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে আরবে পশ্চিমা উপনিবেশের অবসান হয়ে নতুন নতুন রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জোরেশোরে শুরু হয় বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদে মার্কিন নেতৃত্ব। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আবিদুল ইসলাম

Gaza-1গাজায় মুসলমান মরছে বললে সমস্যা কি?’ শিরোনামে বন্ধু যিশু মহমমদের একটি লেখা অনলাইন পত্রিকা ‘মঙ্গলধ্বনি’তে প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটিতে তিনি যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন সে বিষয়ে পরে এসে প্রথমেই শিরোনামে প্রশ্নটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সে বিষয়ে মূল আলোচনা সেরে নেয়া জরুরি। তার প্রশ্ন তোলার ধরন থেকে অনিবার্যরূপে যে সিদ্ধান্তটি বেরিয়ে আসছে তাহলো: গাজায় ‘মুসলমান মরছে’ এ কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আঞ্জুমান রোজী

কবি, প্রাবন্ধিক ভজন সরকারের “বিভক্তির সাতকাহন” গ্রন্থ এবং তার মুক্তচিন্তার আলোকে আমার এই আলোকপাত।

কালের স্রোতে ভেসে গেছে অনেক কিছু, আবার মহাকালের পাটাতনে রয়েও গেছে অনেক সত্য সুন্দরের প্রতিধ্বনি; তা স্বত্বেও বদলেছে অনেক কিছু। বদলেছে পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস। শুধু বদলায়নি ধর্মীয় অনুশাসনের অনুভূতি। বর্বর যুগে ধর্ম এসেছিল মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে অসভ্য মানুষকে সভ্য করার তাগিদে। মানুষের মনে ধর্মীয় বিশ্বাস আর ধর্মের নামে অলৌকিক ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল জীবনের পরিমিতি বোধ, যা থেকে মানুষ পেতে পারে নিরবচ্ছিন্ন সুখ আর অসীম আত্মার পরিতৃপ্তি। বর্তমান যুগে শিক্ষা মানুষকে সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে শুধু মানবতারই ঝাণ্ডা উড়ে। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

A revolution is not a dinner party, or writing an essay, or painting a picture, or doing embroidery.’ – Mao Tse -Tung

ইদানিং এই অধম কিছুই ঠিকভাবে ঠাহর করে উঠতে পারেনা। যেমন উপরে মাও সেতুঙ এর কোটেশনের দিকেই তাকানো যাক, উক্তিটায় স্পষ্ট করে বলা আছে বিপ্লব ডিনার পার্টি, রচনা লেখা, ছবি আঁকা কিংবা এমব্রয়ডারি করার কোনটাই নয়। এখানে ‘বিপ্লব’এর পরিবর্তে ধরে নেই ‘আন্দোলন’ শব্দটাই আছে; কারণ ‘বিপ্লব’ শব্দখানায় বাঙ্গালীর সবসময়েই আতঙ্ক, ঘেন্না, বিদ্বেষ ইত্যাদি কাজ করে। নিজেদের চিন্তার অ্যারিস্টোক্রেসিতে তারা বিদ্যাসাগর নিয়ে নর্তনকুর্দন করে, মাস্টার দা’ সূর্য্যসেন যেন সবসময়ে চাপা পড়ে থাকেন সে জন্যে। তারা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল নিয়ে ফ্যাসিস্ট নির্যাতন সমতূল্য সভা–সেমিনারে অনুষ্ঠিত আলোচনা, বক্তৃতা সবই শুনবে, তাও কেবল সুকান্ত ভট্টাচার্য নিয়ে যেন কথাবার্তা বিশেষ না হয় সেই কারণে। স্মরনীয়া – বরনীয়া নারীদের মধ্যে তারা তাদের মগজে বেগম রোকেয়া নিদেনপক্ষে সুফিয়া কামাল’কে গ্রহণ করতে রাজী আছেন, তাও যেন বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিপ্লবী কল্পনা দত্ত কিংবা তেভাগা আন্দোলনের সময় যৌনাঙ্গে গরম ডিম প্রবিষ্ট করানোর মত নির্যাতন সহ্য করা বিপ্লবী ইলা মিত্র যেন কখনো আলোচনায় না আসে। যাক গে এই জনপদের দ্বিপদ স্তন্যপায়ীদের হিপোক্রেসির কথা, লিস্টটা শুধু লম্বাই হতে থাকবে।

কিন্তু মূল প্রসঙ্গে এসে দেখি যে ইদানিং অনুষ্ঠিতব্য আন্দোলনগুলো আন্দোলনের মত মনে হয়না। এখন প্রতিটি আন্দোলনকে মনে হয় প্রতি বছরে ফেব্রুয়ারী মাসে বইমেলাকে স্বাগত জানানোর জন্য ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ নামক উৎকট এক উৎসবের মত। এই যে দেখুন না সামনে আসছে ১ মার্চ বাংলাদেশে সকল ভারতীয় পণ্য বয়কট করার উৎসব এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে! তা’ এই উৎসবের হেতু কি? বিএসএফ কর্তৃক ক্রমাগত বাংলাদেশীদের হত্যার প্রতিবাদে সেদিন সকল ভারতীয় পন্য বয়কট করা হবে; আহা কি চমৎকার দেখা গেলো! আগে তাও এসব নিয়ে প্রেসক্লাবে, শাহবাগে, টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে মিছিল, সমাবেশ হতো। রাতেরবেলা ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখে বেলা করে ঘুম থেকে উঠা বাঙ্গালী মধ্যবিত্তরা সেজেগুজে শুক্রবার বিকালে প্রেসক্লাবে এসে মনোযোগ দিয়ে আবাল পাবলিকের সস্তা সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি দিতে পারঙ্গম নেতাদের বচনামৃত শুনতো। চোখমুখ কুঁচকে ভেবে আবারো নিশ্চিত হতো ‘মালাউনদের’ সবই খারাপ, এমনকি আগের রাতে যেই ভারতীয় ‘নীল ছবি’ দেখেছিলো সেখানের মেয়েটার ‘মাই’ দুইটাও বেঢপ, কুৎসিত আকারের সেটা মনে করে নিজের হাত কামড়াতো! কিন্তু এখন আন্দোলনের নামে, প্রতিবাদের নামে এই ধরণের উৎসব এই ভোগবাদী, টেকনোলজিক্যাল উল্লম্ফনের আমলের নতুন অস্ত্র ‘ফেসবুক’ নামক সামাজিক নেটওয়ার্কের কল্যাণে অনায়াসেই সম্ভব। বিশ্বাস না করে যাবেন কোথায়? মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী দেখিয়েই ছেড়েছে, তাদের দক্ষতার ব্যাপারে যেই ‘হোমো সেপিয়ান্স’ সন্দেহ পোষণ করেছে, তার গালেই এরা ঠাস করে চড় দিয়েছে, তারপর ঝেড়েছে হাল ফ্যাশনের রাজনৈতিক সংলাপ ‘আপনে আমাত্তে বেশী বুঝেন?’ (বিস্তারিত…)