Posts Tagged ‘আল-বিরুনী প্রমিথ’


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

peasants-1কৃষি হচ্ছে জীবনজীবিকা, জীবনাচরণ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি মোদ্দাকথা সামগ্রিক জীবনযাপনরীতি। কৃষির সাথে আমাদের সমাজের উৎপাদন, ভোগ, বিতরণ ও বিনিময়ের সম্পর্ক আছে যার ধরনের উপর আমাদের সমাজের বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবেই আমাদের কৃষকদের উপরে নানাবিধ নিষ্পেষণ, নির্যাতন ও অত্যাচার চলেছে। কৃষকেরাও মাথা নত হবার নয়। তারা বারবার শত্রুর মোকাবেলা করেছে। বিদ্রোহ করেছে, জীবন দিয়েছে তবু রণে ক্ষান্ত দেয়নি। কৃষকের চিরন্তন জীবনজীবিকার লড়াইয়ের পালা চলতেই থাকে। তাদের নিয়ে আমাদের দেশের শাসকশ্রেণীর পদলেহন করা বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে আমরাও ইনিয়েবিনিয়ে জয়গাঁথা রচনা করি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কৃষক পীড়নে আমরাও কোন না কোনভাবে তাদের কোলাবরেটর। তাই এই জনপদে কৃষক নিপীড়নের ইতিহাস দীর্ঘ তেমনি দ্বান্দ্বিকভাবে তাদের প্রতিরোধবিদ্রোহের ইতিহাসও প্রাচীন।
(বিস্তারিত…)

Advertisements

প্রকাশিত হলো মঙ্গলধ্বনির ৩য় সংখ্যা…

Posted: নভেম্বর 3, 2013 in অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক, দেশ, প্রকৃতি-পরিবেশ, মতাদর্শ, মন্তব্য প্রতিবেদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

 Mongoldhoni-logo-1

মেষ শাবককে খাবার জন্যে নেকড়ের কোনো যুক্তির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চিঁ চিঁ ধ্বনির প্রতিবাদ নেকড়েকে প্রতিহত করতে পারে না। নেকড়েকে রুখতে হলে আকাশ বির্দীণ করা চিৎকার করতে হবে। তেমন চিৎকার একক কন্ঠে সম্ভব নয় সম্মিলিত কন্ঠে প্রবল শক্তির নির্ঘোষে হতে হবে। সেই শক্তির আবাহনের কর্তব্যবোধে ‘মঙ্গলধ্বনি’র সকল আয়োজন। জগতে একা একা কিছুই হয় না একটা কুটোও নড়ানো যায় না। তবু একা চলার সাহস দেখাতেই হবে। যে প্রথম সামনে এগোয় সে অন্যকে উৎসাহিত করে, অনুপ্রাণিত করে। একা ব্যক্তির এই ভূমিকা প্রশংসার, শ্রদ্ধার। ‘মঙ্গলধ্বনি’ প্রশংসা ও শ্রদ্ধার চেয়ে অধিক প্রত্যাশা করে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। আর একত্রিত হয়ে আকাশ বিদীর্ণ করা চিৎকার দেবার শক্তি হয়ে ওঠার। সে শক্তি নেকড়েদের কেবল রুখবেই না চিরতরে মানব সমাজ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। নেকড়ে ও মানুষ এক সমাজে বাস করতে পারে না। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

garments-10সম্রাট অশোকের সময়কার একটি প্রচলিত মিথ ছিলো এমনসম্রাট একদিন বিশাল আকৃতির একটা ষণ্ডকে চিকন দড়ির চিকন ছোটখাটো একটা খুঁটির সাথে বাঁধা দেখে জিজ্ঞেস করলেন ‘তুমি এই সামান্য দড়ি ছিড়ে সামান্য খুঁটি উপড়ে মুক্ত হতে পারোনা?’ ষন্ডের উত্তরবিলক্ষণ পারি। এরচে ১০ গুণ শক্ত হলেও পারি, কিন্তু পারবোনা, কারণ এটাই নিয়ম।’ এই নিয়মকে একবিংশ শতাব্দীতে টেকনোলজিকাল এডভান্সমেন্টের যুগে, আরবানাইজড প্রগরেসমেন্টের জমানায় ‘সিস্টেম’ বলে। এই সিস্টেমে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে পাড়ার মুচি পর্যন্ত পাঁড় ধান্দাবাজ। অনেক ছয় কে নয় করে দেওয়া যায়। চিটেগুড়ের দোকানদার হয় এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর মালিক, ভূষিমালের আড়ৎদার হয় আইটি এক্সপার্ট। এই সিস্টেমে ইয়া বিশাল সব অট্টালিকা হয়, আলিশান দালান হয় সাথে সাথে মেট্রোপলিটন সিটির বীভৎসতাও চোখের সামনে চলে আসে। এই বৈপরীত্য দেখে কুখ্যাত দেং জিয়াও পিং এর ‘কালো বিড়াল’ তত্ত্বের কথা মনে পড়ে। তিনি বলতেন, ‘বিড়াল সাদা না কালো তা দেখার দরকার নেই, শিকার করতে পারলেই হলো।’ তারই ছোঁয়া আজ বাংলাদেশে দেখি। নানাবিধ বৈদেশিক বাপেদের বদান্যতায়, টাকার গন্ধে নিমেষের মাঝে বাংলাদেশ বিশেষত ঢাকা বনে গেছে সম্পদ বানাবার ওয়ান্ডারল্যান্ড। কুৎসিত, কদাকার সব চিত্র সামনে প্রায়শই চলে আসলেও কোন অসুবিধা হচ্ছেনা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

পুড়ে যাওয়া বৌদ্ধ বিহার যেন রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধ্বজা ধরে আছে...টেকনোলজির উল্লম্ফনের এই হাইটেক যুগে দু’দন্ড কোথাও বসে বা থেমে আমরা কেউ কিছু চিন্তা করবো তার বিশেষ কোন উপায় নেই। বর্তমানে উদাসীনতার, নিস্পৃহতার উদাহরণ খুঁজতে আলবেয়ার কামুর উপন্যাসের নায়ক পর্যন্ত যেতে হয়না। সো কল্ড হাইলি ইম্প্রেসিভ, কনজিউমার সোসাইটির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আত্মকেন্দ্রিকতার হাইহিল পরিধান করে সর্বত্র চলতে হয়, এই সত্যটি আরবানাইজড সিটিতে বেড়ে উঠা সিভিলাইজড তষ্কর, তার ছেলেপেলেরা থেকে শুরু করে গ্রাম্য যেসব চাষাড়েরা শহরে আসে টাকার গন্ধে সবাই জানে। পুঁই শাক নায্য দামে বিক্রি করতে না পারা চাষার বউও তাই মিনি প্যাক শ্যাম্পুর নাগাল পাচ্ছে। তাছাড়া ‘কিছুতেই কিছু যায় আসেনা’ অ্যাটিটিউডটাই যেহেতু হাল ফ্যাশনের ‘স্মার্টনেসের’ সর্বোচ্চ স্তর সেহেতু ম্যানিপুলেটিভ চরিত্রের উচ্চতর বিকাশের জন্য প্রয়োজনবোধে চারপাশের অবস্থা ইচ্ছামত চিত্রায়িত করবার বাসনায় সুবিধামত জুম ইন, জুম আউট করাটা পূর্বের থেকেও অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই বুঝি রাত বারোটা থেকে সার্টিফাইড বুদ্ধিচোরেরা টকশো নামক আর্বানাইজড সার্কাসে এসে দেঁতো হাসিতে, মাখামাখা গলায় গণতন্ত্র, সেকুলারিজম, সুশাসনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ইত্যাদি কপচে শরীর, মন উভয়ই গরম করা কচকচে টাকার নোটের গন্ধ শুঁকে শুঁকে মদ্যপ, অসভ্যের মত বারবার ইন্টেলেকচুয়ালদের শুঁড়িখানায় প্রবেশ করেন। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

অনিমাদের ঘুম ভাঙ্গে আরো একটা দিন নিষ্পেশিত হতে এই নষ্ট সমাজে...দম আটকে আসার যোগাড় হচ্ছে অনিমার।

প্রচন্ড গরম পড়েছে এবার। বৃষ্টির কোন নাম গন্ধও নেই। প্রতিদিন ১৫ ঘন্টা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হেঁটে যাবার সময় গাছের একটা পাতাও নড়তে দেখেনা সে। মাস্তান, পুলিশের ইশারা – ইঙ্গিতে রাস্তার একটা ধুলোকনাও তার সহমর্মী হয়না। তার উপর চারপাশ আরো গুমোট, দম পর্যন্ত ফেলার উপায় থাকেনা।

এমন অবস্থায় শেষ ২০ মিনিট ধরে তার উপর বিশালাকায় একটা শরীর উঠে আছে। সে চড়ছে তো চড়ছেই। প্রতিবার তার ভুড়ি উঠানামার দৃশ্য দেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছে অনিমা। প্রতি সেকেন্ডেই অপেক্ষা, ভাবেএই বুঝি শেষ হলো, এরপর বস তার ইয়েটা কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকি দিয়ে প্যান্ট ঠিক করতে করতে উঠে পড়বে, হাতে প্রয়োজনীয় টাকা বা জিনিস গছিয়ে দিয়ে আনন্দে চলে যাবে। কমলা দিদির কাছে আগে থেকেই ট্রেনিং নিয়ে রেখেছে সব। কিন্তু কতক্ষন ধরে এই লীলাখেলা চলে জিজ্ঞেস করেনি। তাহলে দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করাটা সহজ হতো। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

Patriotism is when love of your own people comes first; nationalism, when hate for people other than your own comes first.” – Charles De Gaulle

পাহাড়ের কোলে একটি পাহাড়ি কুটিরবরাবরের মত এবারো সারাবিশ্বে ৯ আগষ্ট পালিত হতে যাচ্ছে “বিশ্ব আদিবাসী দিবস”। যথারীতি নানাবিধ রঙ্গে ভরা এই বঙ্গদেশেও দিবসটি তথাকথিতভাবে ‘পালিত’ হবে। কিন্তু মনে করার কোন কারন নেই উপরিউক্ত কোটেশনটির মর্ম বুঝতে এই দেশের হিপোক্রেট শাসকশ্রেনী এবং তথাকথিত ‘দেশপ্রেমিক’ বাঙ্গালি সক্ষম, তারা কেউই সক্ষম নয়। যেই দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ফুটবলের বাংলা করে ‘চর্মনির্মিত গোলাকার বস্তুবিশেষ পদাঘাতে যা স্থানান্তরিত হয়’ এবং প্রবল জাত্যাভিমানে বলীয়ান হয়ে ক্রিকেট খেলায় বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় সেঞ্চুরী করলে কিংবা ৫ উইকেট পেলে কদাচিত স্ট্যান্ডিং ওভেশন জানায় তাদের কাছে কোটেশনটির মর্ম অনুধাবন করার প্রত্যাশা করা আর মাইক টাইসনের কাছে গান্ধীবাদী আদর্শ ফেরী করে বেড়ানো একই কথা, উভয়েই অর্থহীন। তারচেয়ে দেখা যাক ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’ এদেশের শাসকশ্রেনী এবং জনগণের কাছে আদপেই কোন তাৎপর্য্য বহন করে কিনা। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

তোমাকে পড়েছিলাম নাজিম,অর্থের জোরে নির্ধারিত হয় সামাজিক সম্পর্ক...

তুমি লিখে গিয়েছিলে

বিংশ শতাব্দীতে

মানুষের শোকের আয়ু

বড় জোর এক বছর।”

তুমি একবিংশতে নেই

তাই পারোনি দেখে যেতে,

একবিংশ শতাব্দীতে

মানুষের শোকের আয়ু

বড় জোর এক দিন কি দুই দিন। (বিস্তারিত…)

বাংলাদেশ :: কর্পো-মিলিটোক্রেসির সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, নয়া ঔপনিবেশিক অভয়ারণ্য

Posted: জুলাই 5, 2012 in অর্থনীতি, দেশ, মন্তব্য প্রতিবেদন
ট্যাগসমূহ:, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

বিদ্রোহএক.

বাপদাদার আমলে, নিজের ছোটবেলায় ভালো ছেলের সংজ্ঞা ছিলো : তারা সিগারেট, মদ, বিড়ি কিছু খায়না, বাবামা, মাস্টারমশাই, গুরুজনদের কথা মান্য করে চলে, কোনকিছুর প্রতিবাদ করেনা, কখনো ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার কথা ভাবেনা। এখন তা কিছুটা বদলে হয়েছে অনেকটা এমন : তারা কখনো দু’দন্ড বসে কিছু চিন্তা করেনা, কোন কিছুতেই প্রশ্ন করেনা, বনের মোষ তাড়ানো তো দূরের কথা ঘরে মোষ ঢুকলেও তাড়ায়না, বিনা বাক্যব্যয়ে বুদ্ধিবৃত্তির খাসীকরণ গ্রহণ করে, একপাল শুয়োরের সাথে নরককূন্ডে বসবাস, সহাবস্থানে দ্ব্যর্থহীনভাবে তাকে শুয়োরের খোয়াড় না বলে কাঁপা কাঁপা গলায় আবেগগ্রস্ত কবির ভাষায় বলে, ‘আমি এই দেশকে নিয়ে অনেক গর্বিত’, ‘আমি অনেক আশাবাদী আমার সুজলাসুফলা দেশকে নিয়ে’, ‘এই দেশ একদিন সারা বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবেই’ব্লা ব্লা ব্লা। বলাই বাহুল্য এসব কথা কর্পোরেট দস্যুদের শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া কিছু প্রলাপ বিশেষ ব্যতীত আর কিছু নয়। নাহলে যখনই সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মূর্খ বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত ফুটবলের বাংলা করেছে– ‘চর্মনির্মিত গোলাকার বস্তুবিশেষ যা পদাঘাতে স্থানান্তরিত হয়’, তখনই তার জাতি গঠনের পথ পিছিয়েছে সহস্রাব্দী বছর। আমাদের ভাবনাচিন্তার আভিজাত্যে এর ফলে যতই ঘা লাগুক না কেন বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এ এক তর্কাতীত সত্য। (বিস্তারিত…)


লিখেছেন: আলবিরুনী প্রমিথ

বুঝতে পারি আমাদের চোখ অন্ধ

যখন সেই চোখগুলো খুলে কিছু দেখে,

এই মৃত্যু উপত্যকায় মৃত্যু নিয়ে মাতম

আমাদের মধ্যবিত্তীয় মৃত্যুবিলাসের প্রহসন।

একের পর এক অপঘাতে যেই জাতি নিশ্চুপ

তাদের কন্ঠই হরতালের মৃত্যুগুলোতে সোচ্চার

তখন যে বজ্রকন্ঠের উদাত্ত ডাক নিরাপদ, তাই।

অন্ধের দেশে আয়না ফেরি করা তখনই নিরাপদ, (বিস্তারিত…)


তারা ঘরে ফেরেনা

স্বপ্ন স্তিমিত হয়ে আসে, ক্রমশঃ

মানুষগুলো পায়ে হেঁটে আর

রাস্তায় চলতে ভালোবাসেনা ।

কেউ ঘরে ফেরে মুক্তির খোঁজে,

ফেরারীরা ঠিক ঠিক জানে তাদের

না ফেরায় কারো কিছু যায় আসেনা ।

অতঃপর একসময়

ভোর হয়ে আসে,

বাইরে থেকে আসা

আওয়াজগুলো মিলিয়ে যায়। (বিস্তারিত…)